Wednesday, May 13, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘পরিকল্পিত ভাবে ঠান্ডা মাথায় খুন’!‌ খুনিদের এনকাউন্টার চাই!‌ নিজের আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ হত‍্যাকাণ্ডে মন্তব্য শুভেন্দু আধিকারীর

RK NEWZ দলের কর্মীদের শান্ত থাকার বার্তা দিলেন ‘অধিকারী’। শুভেন্দু জানান, এই খুনের সঙ্গে রাজনীতির যোগ থাকতে পারে। তবে তা নিয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করতে চান না তিনি। রাজ‍্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তথ্য পাওয়া গিয়েছে। বেশ কয়েক দিন ধরে রেইকি করে পরিকল্পনামাফিক ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে তাঁর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। বুধবার রাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে পাশে নিয়ে মধ্যমগ্রামের হাসপাতাল থেকে এমনটাই দাবি করলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, মৃতের পরিবারের ও আহতদের চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব নেবে দল। শুভেন্দু জানান, এই খুনের সঙ্গে রাজনীতির যোগ থাকতে পারে। তবে তা নিয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করতে চান না তিনি। রাজ‍্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তথ্য পাওয়া গিয়েছে। শুভেন্দুর দাবি, সঠিক তদন্তের স্বার্থেই ফুটেজের বিষয়ে কোনও তথ্য চাওয়া হয়নি পুলিশের কাছ থেকে। তিনি আরও জানান, তদন্তের জন্য পুলিশের উপরেই ভরসা রাখা হচ্ছে। দোষীরা দ্রুত ধরা পড়বে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আইন হাতে তুলে না নেওয়ার জন্য দলের কর্মী ও সমর্থকদের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন শুভেন্দু। শান্তি বজার রাখার কথা বলেছেন তিনি। বুধবার হাসপাতাল চত্বর থেকে শুভেন্দুর দাবি, “১৫ বছর ধরে রাজ্যে প্রতিহিংসার রাজনীতি চলেছে। বুধবারই খড়দহে বোমা, বরাহনগরে ছুরি ও বসিরহাটে গুলিতে আক্রান্ত হয়েছেন বিজেপি কর্মীরা।’’

শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে খুনের ঘটনার তদন্তে একটি চার চাকার গাড়ি বাজেয়াপ্ত করল পুলিশ। নম্বরপ্লেট অনুযায়ী সেটি শিলিগুড়ির গাড়ি। তবে নম্বরপ্লেটটি ভুয়ো বলে মনে করা হচ্ছে। এমনটাই জানিয়েছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত। বুধবার রাতেই মধ্যমগ্রামের ওই হাসপাতালে যান তিনি। কথা বলেন চন্দ্রনাথের পরিজনদের সঙ্গেও। মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় বুধবার রাতে খুন হয়েছেন শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ। অভিযোগ, তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে পর পর গুলি চালানো হয়। বাইকে করে এসেছিল দুষ্কৃতীরা। খবর পেয়ে রাত ১২টার পর হাসপাতালে পৌঁছোন শুভেন্দু। রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বও একে একে সেখানে যান। পৌঁছোন ডিজি সিদ্ধনাথ‌ও। তাঁদের সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ডিজি জানান, তদন্ত শুরু হয়েছে। অপরাধে ব্যবহৃত একটি চার চাকার গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। নম্বরপ্লেট অনুযায়ী সেটি শিলিগুড়ির গাড়ি। তবে নম্বরপ্লেটটি ভুয়ো বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া, কিছু গুলি এবং ব্যবহৃত কার্তুজ পাওয়া গিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এর চেয়ে বেশি কিছু প্রকাশ্যে বলতে চাননি ডিজি। পুলিশ সূত্রে খবর, আপাতত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অবিলম্বে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা এবং গ্রেফতারিই পুলিশের লক্ষ্য। চন্দ্রনাথের খুনের কথা ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতালের সামনে উত্তেজনা ছড়ায়। বিজেপি কর্মীরা বিক্ষোভ দেখান গভীর রাতেও। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতারি এবং শাস্তির দাবি জানানো হয়। বিজেপি সমর্থকদের একাংশের অভিযোগ, মধ্যমগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক রথীন ঘোষ এই খুন করিয়েছেন। পরিকল্পিত ভাবে চন্দ্রনাথকে হত্যা করা হয়েছে বলেও দাবি তাঁদের। তবে রাজ্য বিজেপির নেতারা শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, আইন অনুযায়ী দুষ্কৃতীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। চন্দ্রনাথের দেহ বারাসতের হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তাঁর গাড়ির চালকও গুলিবিদ্ধ। কলকাতার হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে।

ভারতীয় বায়ুসেনার প্রাক্তন কর্মী চন্দ্রনাথ তৃণমূলের সময় থেকেই ছিলেন শুভেন্দুর সঙ্গী, আপ্তসহায়ক হন ছয় বছর আগে। চন্দ্রনাথের পরিবারের সঙ্গে রাজনীতির সংশ্রব দীর্ঘ দিনের। শুভেন্দুর মতোই তাঁর পরিবারও এক সময় তৃণমূলে ছিল। তাঁর মা হাসি রথ এক সময় পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ‍ ছিলেন। তিনিও এখন বিজেপিতে রয়েছেন। শুভেন্দু অধিকারীর মতোই তাঁর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথও আদতে পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা। জন্ম চণ্ডীপুরে। ১৯৮৪ সালের ১১ আগস্ট। রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনে পড়াশোনার পালা শেষ করে যোগ দিয়েছিলেন ভারতীয় বায়ুসেনার চাকরিতে। যদিও পরিবারের সদস্যেরা জানাচ্ছেন, সৈনিক নয়, সন্ন‍্যাসী হওয়ার ইচ্ছা ছিল তাঁর। ১৮ বছর চাকরি করার পরে বায়ুসেনা থেকে স্বেচ্ছা অবসর নিয়ে চন্দ্রনাথ যোগ দিয়েছিলেন কর্পোরেট সংস্থা ফিউচার গ্রুপে। চন্দ্রনাথের পরিবারের সঙ্গে রাজনীতির সংশ্রব দীর্ঘ দিনের। শুভেন্দুর মতোই তাঁর পরিবারও এক সময় তৃণমূলে ছিল। তাঁর মা হাসি রথ এক সময় পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ‍ ছিলেন। তিনিও এখন বিজেপিতে রয়েছেন। শুভেন্দুর সঙ্গে চন্দ্রনাথের পরিবারের যোগাযোগ নব্বইয়ের দশকের শেষপর্ব থেকে। শুভেন্দু তৃণমূলের যোগ দেওয়ার পরে। ২০২০ সালে শুভেন্দু তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। হাসিও তাঁর সঙ্গেই বিজেপিতে যান। চন্দ্রনাথ অবশ্য তার আগে থেকেই শুভেন্দুর ছায়াসঙ্গী। ২০১৯ সালে শুভেন্দু রাজ‍্যের মন্ত্রী হয়ে জলসম্পদ দফতরের আপ্তসহায়ক হয়েছিলেন চন্দ্রকে। তার পর শুভেন্দু বিজেপিতে গেলে তখন থেকেই ওঁর আপ্তসহায়ক ছিলেন চন্দ্রনাথ। শুভেন্দু বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন তাঁর দফতরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। জল্পনা ছিল, শুভেন্দু যদি মুখ্যমন্ত্রী হন, তা হলে তাঁর আপ্তসহায়কের দায়িত্ব পাবেন চন্দ্রনাথ। কিন্তু বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় সেই জল্পনায় ইতি টেনে দিল বাইক-আরোহী ঘাতক বাহিনীর বুলেট। বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় বাইকে করে এসে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। গাড়িতে চন্দ্রনাথের সঙ্গে আর এক যুবকও ছিলেন। তাঁর নাম বুদ্ধদেব বেরা। তাঁদের দু’জনকেই উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে, চিকিৎসকেরা চন্দ্রনাথকে মৃত ঘোষণা করেন। বুদ্ধদেবকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কলকাতার ইএম বাইপাস সংলগ্ন একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। রাত ১টার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছোন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত। তিনি জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে। শুভেন্দু এবং চন্দ্রনাথের স্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে ডিজির। চন্দ্রনাথের স্ত্রী ডিজিকে বলেছেন, “স্বামীকে তো ফিরে পাব না। কিন্তু কারা এটা করল, আমি জানতে চাই। তাদের এনকাউন্টার চাই।’’ স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রথমে চন্দ্রনাথের গাড়িটি দোহাড়িয়া লেনের ভিতরে ঢোকার সময় উল্টো দিক থেকে একটি গাড়ি তাঁদের রাস্তা আটকায়। এর পর বাইকে করে দুষ্কৃতীরা তাঁদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় বলে অভিযোগ। বাইক আরোহীদের মাথায় হেলমেট ছিল। দু’জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চন্দ্রনাথকে বাঁচানো যায়নি। আশঙ্কাজনক বুদ্ধদেব‌ও। অপরাধে ব্যবহৃত ওই চার চাকার গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেখানে শিলিগুড়ির নম্বরপ্লেট ব্যবহার করা হয়েছে। তবে তা ভুয়ো বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া, কিছু গুলি এবং ব্যবহৃত কার্তুজ পাওয়া গিয়েছে। ঘটনাস্থলে ফরেন্সিক দল ওই গাড়িটিকে খতিয়ে দেখছে। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞেরা পরীক্ষা করছেন। রাস্তায় পড়ে রয়েছে চন্দ্রনাথের গাড়ির ভাঙা কাচের টুকরো। এলাকা ঘিরে রেখেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। হাসপাতালের কর্ণধার প্রতিম সেনগুপ্ত জানান, চন্দ্রনাথের বুকের বাঁ দিকে দু’টি গুলি লেগেছে। সিপিআর দিয়েও বাঁচানো যায়নি। মৃত অবস্থাতেই তাঁকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। চন্দ্রনাথের সঙ্গী বুদ্ধদেবের তিনটি গুলি লেগেছে। বুকের ডান দিকে, একটি পেটে ও একটি ডান হাতে। তাঁর জ্ঞান ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা করে কলকাতার হাসপাতালে তাঁকে স্থানান্তর করা হয়। তাঁর অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। ঘটনার খবর পেয়ে শুভেন্দু অধিকারী মধ্যমগ্রামের ওই হাসপাতালে যান। শঙ্কর ঘোষ, পীযূষ কানোরিয়া, কৌস্তভ বাগচী, রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অনেকেই হাসপাতালে জড়ো হয়েছেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে বিজেপি কর্মীরা ভিড় জমাচ্ছেন মধ‍্যমগ্রামের হাসপাতালে। বিচারের দাবিতে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে হাসপাতাল চত্ত্বরে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং র‌্যাফ নামানো হয়েছে। মধ্যরাতে ময়নাতদন্তের জন্য চন্দ্রনাথের মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। রাতেই মধ্যমগ্রামের হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান শুভেন্দু অধিকারী-সহ বিজেপির একাধিক নেতানেত্রী। চন্দ্রনাথের মৃত্যুর ঘটনায় শোকাহত পরিবার এবং প্রতিবেশীরা। এই মুহূর্তে তাঁর বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। চন্দ্রনাথের বাড়ি পৌঁছেছেন শুভেন্দুর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী। প্রতিবেশীরা বলেন, “হঠাৎ টিভিতে খবর দেখি চন্দ্রকে গুলি করা হয়েছে। তৎক্ষণাৎ আমরা অবাক হয়েছি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁকে খুন করা হয়েছে। দ্রুত দোষীদের ধরে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। তা না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যাব।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles