Wednesday, May 13, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

মমতা ইস্তফা না-দিলে কোনও সংকট তৈরি হবে না!‌ কেন পদত্যাগ করব? ইস্তফার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে? জবরদস্তি মমতার

RK NEWZ মমতা যদি আনুষ্ঠানিক ভাবে ইস্তফা না-দেন, তা হলে কী হবে? কী বলছে সংবিধানের নিয়মাবলি? এমন পরিস্থিতির কথা নির্দিষ্ট উল্লেখ করে সংবিধানে কিছু বলা নেই। কারণ, কোনও মুখ্যমন্ত্রী ভোটে পরাস্ত হয়েও যে রাজ্যপালের কাছে ইস্তফা দেবেন না, এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হবে বলে কেউ মনে করেননি। তবে সংবিধান বিশেষজ্ঞেরা বেশ কিছু ধারণার কথা বলছেন। যা অতীতে কোনও না কোনও রাজ্যে ঘটেছে। কিন্তু ভোটে হেরে যাওয়ার পরেও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফা না-দেওয়ার নজির দেশে নেই। ফলে মমতা শেষ পর্যন্ত ইস্তফা না-দিলে ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন নজির তৈরি হবে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৭মে, বৃহস্পতিবার। ইস্তফা না-দিলে আনুষ্ঠানিক ভাবে ওই দিন পর্যন্ত মমতাই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন। কিন্তু ৭ তারিখ পেরোলেই তাঁর মুখ্যমন্ত্রীর পদ থাকবে না। ইস্তফা না-দিলেও নামের আগে জুড়ে যাবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। ভোটে হারলে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফা দেওয়াটা ‘নিয়ম’ নয়। এটি সাধারণ ভাবে রেওয়াজ, রীতি বা সাংবিধানিক শিষ্টাচার। যেমন ১৫ বছর আগে ২০১১ সালের ১৩ মে দুপুর ১টা নাগাদ ভোটের ফল স্পষ্ট হওয়ার পরেই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য রাজভবনে গিয়ে তৎকালীন রাজ্যপাল এমকে নারায়ণনের সঙ্গে দেখা করে ইস্তফাপত্র তুলে দিয়েছিলেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি রাজভবন থেকে সরকারি গাড়ি ছেড়ে দিয়ে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের পার্টি অফিসে গিয়েছিলেন দলের গাড়ি চেপে। বিজেপি নতুন সরকার গঠন করবে। কিন্তু কবে সেই সরকারের শপথ হবে তা মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত তারা আনুষ্ঠানিক ভাবে জানায়নি। তবে সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তৃতা থেকে একটি ইঙ্গিত মিলেছে যে, বিজেপি আগামী শনিবার, ৯ তারিখ রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন শপথগ্রহণের কর্মসূচি করতে পারে। রাজ্য বিজেপির বিভিন্ন সূত্র থেকেও তেমনই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বুধবার রাতে কলকাতায় আসার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। রাতেই তিনি বিজেপির পরিষদীয় দলের সঙ্গে বৈঠক করে নেতার নাম ঘোষণা করতে পারেন। যিনি পরিষদীয় দলের নেতা হবেন, তিনিই হবেন পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী। তিনিই রাজ্যপালের কাছে গিয়ে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আর্জি জানাবেন। তার পর হবে শপথগ্রহণ। যদি ৮ মে শপথগ্রহণ হয় এক রকম। তা হলে ৭ তারিখে সরকারের মেয়াদ শেষ এবং ৮ তারিখে শপথগ্রহণের মধ্যে কোনও ফাঁক থাকবে না। তা না—হয়ে ৯ তারিখ বা তার পরের কোনও দিনে শপথগ্রহণ হলে মধ্যবর্তী স্বল্পসময় রাজ্যপাল পুরো বিষয়টি তত্ত্বাবধান করবেন। এবং তা হবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে।

কলকাতা হাই কোর্টের এক অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, মধ্যবর্তী সময়ে অনেক ক্ষেত্রে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে ‘তদারকি’ (কেয়ারটেকার) মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে রাজ্যপাল কাজ চালানোর অনুরোধ করেন। তেমন কেউ না হলে তিনি নিজে এক-দু’দিন তদারকি করতে পারেন। রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করারও সংস্থান রয়েছে। কিন্তু সাধারণত এত কম সময়ের জন্য ‘সংকট’ না-হলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা না-ও হতে পারে। তবে সবটাই নির্ভর করছে বিজেপি পরিষদীয় দল শপথের দিনক্ষণ কবে চূড়ান্ত করে তার উপরে। কিন্তু মমতা ইস্তফা না-দিলে কোনও সংকট তৈরি হবে না। কারণ, বিধানসভার মেয়াদ শেষের সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর মুখ্যমন্ত্রিত্বের মেয়াদও শেষ হয়ে যাবে। তবে প্রচলিত ‘রীতি’ না-মানায় তাঁর ভাবমূর্তির উপর কোনও প্রভাব পড়ে কি না, তা সময় বলবে।

ভোটের ফল মোটামুটি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তখনই কৌতূহল তৈরি হয়েছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কখন লোকভবনে যাবেন? কখন মুখ্যমন্ত্রিত্বে ইস্তফা দেবেন? কারণ, সেটাই রীতি। মমতার আগের ক্ষমতাচ্যুত মুখ্যমন্ত্রীরা তেমনই করে এসেছেন। বস্তুত, মমতা যখন সোমবার রাতে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল থেকে বেরোলেন, অনেকেই তখন ভেবেছিলেন, এর পরে তিনি লোকসভবনে গিয়ে রাজ্যপালের হাতে ইস্তফাপত্র তুলে দেবেন। কিন্তু মমতার কনভয় চলে যায় কালীঘাটে তাঁর বাড়ির পথে। কৌতূহল তখনও ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার বিকালে মমতা সরাসরি জানিয়ে দিলেন, তিনি ইস্তফা দেবেন না! কারণ, তিনি হারেননি। তাই লোকভবনে যাওয়ার প্রশ্নই নেই। মমতা বলেছেন, ‘‘কেন পদত্যাগ করব? ‌আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে?’’

রাজ্যে পরিবর্তন আসতেই প্রস্থান শুরু অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের, মুখ্যমন্ত্রীর মুখ‍্য উপদেষ্টা পদ থেকে ইস্তফা আলাপন-হরিকৃষ্ণদের। সূত্র জানাচ্ছে মঙ্গলবারই মুখ্যমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল সচিবের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন আর এক প্রাক্তন আমলা মনোজ পন্থ। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পরে এ বার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ‍্য উপদেষ্টা পদ থেকে ইস্তফা দিলেন দুই অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক, আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। নবান্নের একটি সূত্র মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছে। আলাপন এবং হরিকৃষ্ণ দু’জনেই একদা রাজ্যের মুখ্যসচিব পদে ছিলেন। অবসরের পরে ওই দুই আমলাকে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ‍্য উপদেষ্টা হিসাবে বিশেষ পদ দেওয়া হয়েছিল। অন্য একটি সূত্র জানাচ্ছে মঙ্গলবারই মুখ্যমন্ত্রীর প্রিন্সিপাল সচিবের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন আর এক প্রাক্তন আমলা মনোজ পন্থ। যদিও নবান্ন থেকে এ সংক্রান্ত কোনও খবর জানা যায়নি। মমতা ঘোষণা করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে তিনি ইস্তফা দেবেন না। নবান্ন সূত্রের খবর ওই ঘোষণার আগেই বিশেষ পদাধিকার প্রাপ্ত দুই প্রাক্তন আমলা পদত্যাগ করেছেন। প্রসঙ্গত, সোমবার বিধানসভা ভোটের গণনায় তৃণমূলের পরাজয়ের পরেই পদত্যাগ করছেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) কিশোর দত্ত। মঙ্গলবার তিনি রাজ্যপাল আরএন রবির কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন। রাজ্য সরকারের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সাধারণ ভাবে শাসকের আস্থাভাজন আমলাদেরই অবসরের পরে এমন বিশেষ দায়িত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছার উপরেই তাঁদের কার্যকালের মেয়াদ নির্ভরশীল। আলাপন এবং হরিকৃষ্ণ দু’জনের রাজ্যের মুখ্যসচিবের গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী মমতার আস্থাভাজন হিসাবেও পরিচিত ছিলেন। ২০২৩ সালে মুখ্যসচিব পদ থেকে হরিকৃষ্ণের অবসরের সময় তাঁর মেয়াদ আরও ছ’মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্য। সে সময় তাঁর মেয়াদ যাতে না-বাড়ে, তার জন্য তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দিল্লি গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে অনুরোধ করেছিলেন। অন্য দিকে, ২০২১ সালে কেন্দ্রের তরফে বদলির চিঠি পাঠানো হয়েছিল তৎকালীন মুখ্যসচিব আলাপনকে। কিন্তু রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছিল, আলাপনবাবুকে মুখ্যসচিবের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া যাবে না। কেন্দ্রের ওই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের জন্যও লিখিত আবেদন জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তবে তাতেও বিশেষ লাভ হয়নি। শেষ পর্যন্ত আলাপনের অবসরের আগের দিন মমতা ঘোষণা করেন, মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা পদে কাজ করবেন।

পদত্যাগ করলেন রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত, ইস্তফাপত্র পাঠালেন রাজ্যপালের কাছে
২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়। ওই বছরেরই ডিসেম্বর মাসে এজি পদে নিয়োগ করা হয় কিশোর দত্তকে। তার পর থেকে একটানা এই পদেই ছিলেন কিশোর। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ২০৬টি আসন পেয়ে জয়ী হয়েছে বিজেপি। ৮১টি আসন গিয়েছে তৃণমূলের ঝুলিতে। বামজোট এবং কংগ্রেস দু’টি করে আসন পেয়েছে। সাধারণত, সরকার বদলালে তার দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে যায়। রাজ্যের যে মামলাগুলি আদালতে বিচারাধীন, সেগুলির ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে পারে নতুন সরকারের। তা ছাড়া, নতুন সরকারের নতুন নীতি থাকে। তা মেনে কাজ কাজ করতে হয় অ্যাডভোকেট জেনারেলদের। সেই যুক্তিতে বিধিবদ্ধ নিয়ম না-থাকলেও সাধারণত সরকার বদলালে অ্যাডভোকেট জেনারেলরা পদত্যাগ করেন। অ্যাডভোকেট জেনারেল কে হবেন, সে ব্যাপারে রাজ্য সরকার নামের সুপারিশ পাঠায় রাজভবনে। তার পর রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান হিসাবে রাজ্যপাল তাঁকে নিয়োগ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles