RK NEWZ গতকাল রাজ্যে পালাবদল ঘটেছে। বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যায় জিতে সরকার গঠন করতে চলেছে বিজেপি। এবার সোশ্যাল মিডিয়াতে মুখ খুললেন শতদ্রু। সোমবার ফেসবুকে স্টোরি দিয়ে শতদ্রু লেখেন,“আমার টিমের কাছে জোর করে অ্যাক্সেস কার্ড চাওয়া হয়েছিল। তারা দিতে না চাওয়ায় তাদের ঘরবন্দি করে রাখা হয়েছিল। আপনারা স্রেফ আমার ইভেন্ট নষ্ট করেননি, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন। আমাকে নিয়ে চক্রান্ত করেছেন। আপনাদের জন্য সব সমর্থকেরা হতাশ হয়েছে। আপনাদের জন্যেই আমি ৩৮ দিন জেলে ছিলাম। সবকিছুর হিসেব হবে। আমার সময় এসেছে। ভগবান সব দেখছেন।” দুটি ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন,“আমার আর্তনাদ কেউ শোনেনি। পাশে উনি (অরূপ) মজা নিচ্ছিলেন। বারবার বলেছিলাম এখানে ছবি তোলাবেন না। কিন্তু দাদাগিরি করে তুলেছিল। এবার দ্যাখ কেমন লাগে। সব হিসেব দিতে হবে।”

১৩ ডিসেম্বর দুপুর ১২টা নাগাদ মেসির মাঠে আসার কথা থাকলেও সকাল থেকেই ছিল অনেক কর্মসূচি। লেকটাউনে নিজের স্ট্যাচুর উদ্বোধন করেছিলেন মেসি। এরপরেই বাচ্চাদের সঙ্গে একটি ফুটবল প্র্যাকটিস হওয়ার কথা থাকলেও সেটি বাতিল হয়ে গিয়েছিল। সাড়ে ১২টা নাগাদ মেসি যুবভারতীতে প্রবেশ করতেই ঘটল আসল চমক। মেসি, সুয়ারেজ ও দি’পল-কে ঘিরে ধরলেন তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও তাঁর দলবল। প্রায় কয়েকশো লোকের জটলা তখন মেসিকে ঘিরে। বারবার শতদ্রু সরে গিয়ে দর্শককে দেখার অনুরোধ করলেও রাজি হননি কেউই। এর ফলে বঞ্চিত হলেন দর্শকরা। হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটে একঝলকও মেসিকে দেখতে পাননি সমর্থকরা। কেউ এসেছিলেন টাকা ধার করে টিকিট কিনে। কারও আবার সেদিন ছিল বিয়ে। বিয়ে পিছিয়ে সল্টলেক স্টেডিয়ামে এসেছিলেন ওই তরুণ, কিন্তু যুবভারতীর ৬০ হাজারি দর্শকের কপালে সেদিন ছিল স্রেফ শূন্যতা। এরপরেই যেন জনগণের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। যুবভারতী স্টেডিয়ামের মাঠে নেমে পড়েন সমর্থকরা। বাকেট চেয়ার খুলে ফেলা থেকে বারপোস্টের জাল ছেঁড়া – বাদ যায়নি কিছুই। অনেককে মাঠের কার্পেট তুলে নিয়ে বাড়ি চলে যেতে দেখা যায়। এই সব ঘটনা নিয়ে নিন্দা করা হয় গোটা দেশে। সমাজমাধ্যমে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ শুরু করেন সাধারণ মানুষ। এমনকি বিদেশের সংবাদপত্রেও নিন্দিত হয় কলকাতার গোট ট্যুর। দুপুরের মধ্যেই এয়ারপোর্ট থেকে গ্রেফতার করা হয় শতদ্রু দত্তকে।
মাস ছয়েক আগেকার ছবি। কলকাতায় এলেন লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ ও রড্রিগো দি’পল। ১৩ ডিসেম্বর ব্যবসায়ী শতদ্রু দত্তের আমন্ত্রণে কলকাতার যুবভারতী স্টেডিয়ামে শো করার কথা ছিল মেসির। শুরু থেকেই উত্তেজনা ছিল এই হাই ভোল্টেজ ইভেন্ট নিয়ে। টিকিটের সর্বোচ্চ দাম ১৮ হাজার রাখা হলেও কালোবাজারির ফলে সেই টিকিটের দাম ছাড়িয়ে গিয়েছিল ৭০ হাজার পর্যন্ত। কলকাতা, মুম্বই, দিল্লি ও হায়দরাবাদ – এই চার জায়গা নিয়ে আয়োজন করা হয়েছিল ‘গোট ট্যুর’। কিন্তু কী ভাবা হয়েছিল, আর কী হল! বাকি ৩ জায়গায় ভাল শো হলেও চূড়ান্ত ফ্লপ হয়েছিল কলকাতার শো। জেলে গিয়েছিলেন আয়োজক শতদ্রু দত্ত। এবার রাজ্যের পালাবদলের পর মুখ খুললেন শতদ্রু।





