RK NEWZ ৩০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটেই বরাবর থেকেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এটাই তাঁর পৈতৃক বাড়ি। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া পর্যন্ত, তাঁর সেই বাড়িতে খুব বেশি বদল হয়নি। তবে বদলে গিয়েছিল হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের পরিবেশ। এখনও ইস্তফা দেননি। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামের পাশে ‘প্রাক্তন’ শব্দের ব্যবহার শুধুই সময়ের অপেক্ষা। দুই শতাধিক আসন পেয়ে পশ্চিমবঙ্গে জয়ী হয়েছে বিজেপি। এমনকী মমতার ঘরের কেন্দ্র ভবানীপুরেও ১৫ হাজার ভোটে হারতে হয়েছে তাঁকে। মমতার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, তারই মধ্যে তাঁর বাড়ির সামনে থেকে সরল নিরাপত্তা। ৩০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটেই বরাবর থেকেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এটাই তাঁর পৈতৃক বাড়ি। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া পর্যন্ত, তাঁর সেই বাড়িতে খুব বেশি বদল হয়নি। তবে বদলে গিয়েছিল হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের পরিবেশ। প্রথম দিকে তেমন কোনও বদল হলেও, ২০১৬-র পর মমতার বাড়ির নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। পরে তাঁর বাড়ির সামনের রাস্তাটা কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। মেইন রোড থেকে ঢুকতে গেলেও গার্ডরেল পেরতে হত। ওই এলাকার বাসিন্দাদের ঢুকতে গেলে জানাতে হত যে তিনি ওই এলাকায় থাকেন। অন্যান্যদেরও জানাতে গত যে ওই রাস্তায় তাঁরা কী কারণে যাচ্ছেন। এবার গার্ডরেল উঠে যাওয়ার পর যাতায়াতে আর কোনও বাধা থাকছে না। তবে গলির মুখে যে পুলিশি নিরাপত্তা রয়েছে, তা বহাল থাকছে। একাধিক বার মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে সন্দেহভাজন ব্যক্তির ঢুকে পড়ার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। অস্ত্র নিয়ে ঢোকার অভিযোগও উঠেছিল। বিভিন্ন সময়ে ওই ব্যক্তিরা গ্রেফতারও হয়েছেন। কয়েক মাসে আগেও অপরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি কালীঘাট রোডে তাঁর বাড়ির এলাকায় সিসিটিভির মুখ ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ ওঠে। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির দিকে যাওয়ার গলির মুখে ‘সিজ়ারস ব্যারিকেড’ ছিল, তা সরিয়ে দেওয়া হল মঙ্গল সকালে। বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের ঠিক পরের দিন সকালে দেখা গেল, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটেপ গলির মুখে নিরাপত্তারক্ষী রয়েছেন। কিন্তু তাঁরা কাউকে আটকাচ্ছেন না। ‘সিজ়ারস ব্যারিকেড’-ও খোলা। দক্ষিণ কলকতার ‘কড়াকড়ি গলি’ এখন অবাধ।
তিনি এখন প্রাক্তন। যদিও ইস্তফা দেননি এখনও। কিন্তু, বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া ঝড়ে পর্যুদস্ত হয়েছে তাঁর দল। তিনি নিজেই ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে পরাজিত হয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন বিধায়কও নন, মুখ্যমন্ত্রীও নন। আইন বলছে, সরকার পতন নিশ্চিত হলেই মুখ্যমন্ত্রীদের ইস্তফা দিতে হয়। সেক্ষেত্রে এখনও ইস্তফা না দিয়ে কি রীতি ভাঙলেন মমতা? এই নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু রাজ্য-রাজনীতিতে। ২০১১ সাল। ঠিক সেইবারও পরিবর্তনের হাওয়া উঠেছিল বাংলায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের সরকার গঠন হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গে। সেইবারও দেখা গিয়েছিল, ভোট গণনা বা ফলঘোষণার দিনই মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। ২০২৬ সালে আরও একটা পরিবর্তন। গতকাল ভোটগণনার কিছু সময়ের পর বিজেপির জয় নিশ্চিত হতেই বুদ্ধদেবের মতোই ইস্তফা দিতে যাওয়ার কথা ছিল মমতারও। কিন্তু, দেখা গেল তিনি ছুটলেন শাখাওয়াত মেমোরিয়ালের গণনাকেন্দ্রে। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি অভিযোগ করলেন, ভোট লুঠ করা হয়েছে। আজ এখনও ইস্তফা দেননি মমতা। কেন মমতা ইস্তফা দিলেন না, সেই নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তাহলে কি অন্য কোনও পথে হাঁটার পরিকল্পনা রয়েছে? তিনি কি আদালতের দ্বারস্থ হবেন তিনি? কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, বিজেপির জয় অনৈতিক। ১০০ আসন চুরি করা হয়েছে। সেই অভিযোগ তুলে আদালতে যেতে পারেন তিনি। রাজনৈতিক সমালোচকরা বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি পরাজয় মানতে পারছেন না? এদিকে, আজ বিকেলেই বৈঠকে বসতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই বৈঠকেও ইস্তফা বা তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে জানাতে পারেন বলে চর্চা চলছে। রীতি মেনে ইস্তফা না দিলে কি রাজভবন কোনও পদক্ষেপ করতে পারে? যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করবে, তাদের আমন্ত্রণ জানাবেন রাজ্যপাল। কিন্তু, তার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি ইস্তফা না দেন, তাঁর বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা যায়, সেই নিয়েও চিন্তা-ভাবনা করছে রাজভবন।





