Thursday, April 23, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

আর্থিক দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলার তদন্ত!‌ আই-প্যাকের নাম নিয়ে ‘তোলাবাজি’?‌পশ্চিমবঙ্গে সমস্ত কাজ বন্ধ করে দিল আই-প্যাক! ‘আমার আই-প্যাক’: মমতা

RK NEWZ আর্থিক দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলার তদন্তের জন্য এ বার ভোটকুশলী সংস্থা ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (আই-প্যাক)-এর ডিরেক্টর ঋষি রাজ সিংহকে তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সোমবার দিল্লির সদর দফতরে তাঁকে হাজির হতে বলা হয়েছে। রবিবার সংবাদসংস্থা এএনআই ইডি-র সূত্র উদ্ধৃত করে এমনটাই জানিয়েছে। ঋষি আইআইটি কানপুরের প্রাক্তনী। ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে এইচএসবিসি, ক্রেডিট সুইস-এর মতো ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কিংয়ের নামজাদা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। আই-প্যাকের সূচনাকাল থেকেই ওই সংস্থার সঙ্গে ঋষি রয়েছেন। সিটিজেন্স ফর অ্যাকাউন্টেবল গভর্নেন্স (সিএজি) থেকে তৈরি হওয়া আই-প্যাকের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ঋষি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরামর্শদাতা হিসাবে কাজ করেছেন। ২০২১ সালে বিধানসভা ভোট, ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল এবং ২০১৯ সালে অন্ধ্রপ্রদেশে ওয়াইএসআরসিপি-র ভোটকুশলী হিসাবে কাজ করেছেন। এর আগে আই-প্যাকের অন্যতম পরিচালক তথা সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্দেলকে হেফাজতে নিয়েছে কেন্দ্রীয় আর্থিক তদন্তকারী সংস্থাটি। দিল্লি পুলিশের দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে এই তদন্ত চলছে বলে আদালতে জানিয়েছিল ইডি। গত সোমবার আই-প্যাকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বিনেশকে হেফাজতে চেয়ে তারা জানায় সংশ্লিষ্ট সংস্থার ৩৩ শতাংশের অংশীদার তিনি। অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ)-এর অধীনে একটি মামলায় তিনি তদন্তের অধীনে রয়েছেন। তা ছাড়া কয়লাকাণ্ডে তৃণমূলের ভোট পরামর্শদাতা ওই সংস্থাটির কলকাতার দফতর এবং সংস্থার অন্যতম কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাসভবনে অভিযান চালিয়েছিল ইডি। গত সপ্তাহেই প্রতীকের ভাই এবং স্ত্রীকে তলব করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। বিনেশের গ্রেফতারি থেকে আই-প্যাকের কর্তাদের এই তলবকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেছে তৃণমূল। পশ্চিমবঙ্গের শাসকদলের দাবি, বিধানসভা নির্বাচনে নিজেদের স্বার্থে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে কাজে লাগাচ্ছে বিজেপি। অন্য দিকে, আই-প্যাকের তরফে পশ্চিমবঙ্গের কর্মীদের ২০ দিন ছুটিতে পাঠিয়ে দেওয়ার খবর মেলে রবিবারই। ইমেল করে জানানো হয়েছে, আগামী ১১ মে-র পর আবার কর্মীদের সঙ্গে সংস্থার তরফে যোগাযোগ করা হবে। তারা লেখে, ‘‘আইনকে আমরা শ্রদ্ধা করি এবং গোটা প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছি। নির্দিষ্ট সময়ে বিচার মিলবে, আমরা নিশ্চিত।’’ তৃণমূল অবশ্য দাবি করেছে, আই-প্যাক তাদের সঙ্গেই কাজ করছে এবং ভোটের সময়েও কাজ করবে।

একসময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘প্যাক-ফ্যাক বুঝি না’: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ডিসেম্বর ২০২৪। ‘আমার আই-প্যাক’: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফেব্রুয়ারি ২০২৫। পশ্চিমবঙ্গে সমস্ত কাজ বন্ধ করে দিল তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাক। নির্দিষ্ট কিছু আইনি ‘বাধ্যবাধকতা’র কথা উল্লেখ করে সংস্থার কর্মচারীদের ইমেল করে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে সমস্ত কাজ বন্ধ করে দিল তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি বা আই-প্যাক। নির্দিষ্ট কিছু আইনি ‘বাধ্যবাধকতা’র কথা উল্লেখ করে সংস্থার কর্মচারীদের ইমেলে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোটকুশলী সংস্থার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, আইনি ‘বাধ্যবাধকতা’র কারণে পশ্চিমবঙ্গে কাজ আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কর্মচারীদের ২০ দিনের সাময়িক ছুটিতে পাঠানো হচ্ছে। ১১ মে-র পর আবার তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ আলোচনা করা হবে। ইমেলে আই-প্যাক কর্মীদের বলা হয়েছে, ‘‘আইনকে আমরা শ্রদ্ধা করি এবং গোটা প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছি। নির্দিষ্ট সময়ে বিচার মিলবে, আমরা নিশ্চিত।’’ এ প্রসঙ্গে যে কোনও প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন আইপ্যাক কর্মীরা। তাঁদের ধৈর্য ধরতে বলা হয়েছে। আই-প্যাকের এই সিদ্ধান্ত রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে শাসকদল তৃণমূলকে বিপাকে ফেলল বলেই মনে করা হচ্ছে। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল রাজ্যের ২৯৪টি আসনে দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে। ভোটের ফল জানা যাবে ৪ মে। আই-প্যাক যে ২০ দিনের বিরতির কথা বলেছে, তা শেষ হতে হতে রাজ্যে ভোটপর্ব মিটে যাবে। নতুন সরকারও গঠন হয়ে যাবে। সূত্রের খবর, শনিবার মধ্যরাতে আই-প্যাক কর্মীদের কাছে এই ইমেল এসেছে। তবে এ বিষয়ে সংস্থা বা তৃণমূলের তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি। তৃণমূলের একটি সূত্রের দাবি, আই-প্যাকের একটি অংশ এ রাজ্যে কাজ জারি রাখবে। তা বাড়ি থেকে হোক বা অন্য কোনও ভাবে। তবে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে মাঠে-ময়দানে আই-প্যাকের যে কর্মীরা রয়েছেন, তাঁরা কী ভাবে কাজ করবেন, স্পষ্ট নয়। আরও একটি সূত্রের খবর, সল্টলেক সেক্টর ফাইভের যে বহুতলে আই-প্যাকের দফতর, সেখানে শনিবার বিভিন্ন বিধানসভায় কর্মরত কর্মীদের ডেকে পাঠিয়েছিলেন কর্তৃপক্ষ। আই-প্যাকের দফতরে বেশ ভিড় হয়েছিল। সেই সময়েই অনেকে মনে করেছিলেন, কিছু একটা হতে চলেছে। কারও কারও ধারণা ছিল, ভোটের আগে শেষ মুহূর্তে নির্দেশ দেওয়ার জন্য কর্মীদের দফতরে ডাকা হয়েছে। কিন্তু তার পরেই মধ্যরাতে এই ইমেল আসে, যা অনেককেই স্তম্ভিত করে দিয়েছে। পরবর্তী ধাপে তৃণমূল কী ভাবে কাজ এগোবে, পরামর্শদাতা সংস্থাই বা হাত গুটিয়ে ২০ দিন বসে থাকবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এর আগে আই-প্যাকের কলকাতার দফতর এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে হানা দিয়েছিল ইডি। তল্লাশি চলাকালীন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে পৌঁছে যান। অভিযোগ, বেশ কিছু নথি তিনি তল্লাশির মাঝপথে তুলে নিয়ে বেরিয়ে যান। মমতার অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করছে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি। প্রতীকের বাড়ি এবং আই-প্যাকের দফতর থেকে তাঁর দলের নির্বাচন সংক্রান্ত পরিকল্পনা, গুরুত্বপূর্ণ এবং গোপন নথি ‘চুরি’ করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। এই মামলার জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। আপাতত মামলাটি শীর্ষ আদালতে বিচারাধীন। তার মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে কাজ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিল আই-প্যাক। কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্তের সূত্রে গত সোমবার নয়াদিল্লিতে আই-প্যাকের অন্যতম পরিচালক ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্দেলকে গ্রেফতার করে ইডি। তিনি এখন কেন্দ্রীয় সংস্থার হেফাজতেই রয়েছেন। তাঁর গ্রেফতারির নিন্দায় সরব হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘‘এটা গণতন্ত্র নয়, ভীতি প্রদর্শন।’’ এ বার সেই আই-প্যাকই রাজ্যে কাজ বন্ধ করে দিল। নির্বাচনী প্রচারে রবিবার মমতার প্রথম সভা রয়েছে তারকেশ্বরে। অভিষেক প্রথম জনসভা করবেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরে। তার পর দুই সর্বোচ্চ নেতৃত্বের আরও কর্মসূচি রয়েছে। অভিষেক যাবেন নন্দীগ্রামেও। আই-প্যাকের কাজকর্ম বন্ধ হওয়া নিয়ে মমতা-অভিষেক প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে কোনও মন্তব্য করেন কি না, সে দিকেও নজর থাকবে। এখন কয়েকশো লোক কাজ করেন আই-প্যাকের সল্টলেকের অফিসে। অধিকাংশেরই বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। সেটা যেন কলসেন্টার, ডেটা অ্যানালিসিস, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের এক মিলনস্থল। ‘প্যাক-ফ্যাক বুঝি না’: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ডিসেম্বর ২০২৪। ‘আমার আই-প্যাক’: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফেব্রুয়ারি ২০২৫। ইংরেজিতে বলে ‘কনসালট্যান্ট’। অর্থের বিনিময়ে তাঁরা পরামর্শ দেন। ব্যবসা-বাণিজ্যে খুব প্রচলিত। প্রযুক্তিতে তো বটেই। ‘কোয়েস্ট মল’ খোলার আগে সঞ্জীব গোয়েন্‌কা পরামর্শদাতাদের নিয়োগ করেন। তিনি একা নন, আইটিসি, ইমামি, এমনকি সেঞ্চুরি প্লাইউডের সঞ্জয় অগ্রবালও অর্থের বিনিময়ে পরামর্শ নেন। রাজনীতিও জীবনের বাইরে নয়। প্রথম আবির্ভাব মার্কিন মুলুকে। তিরিশের দশকে। জনসংযোগ, প্রচারকৌশল, বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা, ভাবমূর্তি নির্মাণ— এ সব কাজে ব্যবহার হয়েছিল। জন এফ কেনেডি, বারাক ওবামার মতো দাপুটে রাষ্ট্রপতিও পরামর্শদাতাদের সাহায্য নিয়েছিলেন। এঁদের দর বাড়ল বাইরেও। এমনকি, ট্রাম্প যে ট্রাম্প, যিনি বলতেন, তাঁর ভাবমূর্তি অন্য কেউ নির্মাণ করবেন, তা তিনি হতে দেবেন না, কয়েক মাস পরে তিনিও ভোল পাল্টে পরামর্শদাতাদের নিয়োগ করেছিলেন। ২০১৬ নির্বাচনী প্রচারের সময়।

এই পরামর্শদাতারা কী নিয়ে এলেন মক্কেলদের জন্য? ‘ডেটা ম্যানেজমেন্ট’। ওবামার ২০০৮ সালের নির্বাচনে স্বেচ্ছাসেবকদের হাতে তাঁদের পাড়ার ভোটার তালিকা ধরিয়ে দিয়ে বলা হল, গিয়ে কথা বলো। কী বুঝলে জানাও। এটা চলতে থাকল নিয়মিত। কম্পিউটারে বিপুল পরিমাণ তথ্যের বিশ্লেষণ হয়ে যেত কেন্দ্রীয় ভাবে রাতারাতি। সেই অনুযায়ী কৌশল। সামাজিক মাধ্যম থেকে পছন্দ-অপছন্দ সংক্রান্ত তথ্য বেছে ওবামার সম্ভাব্য ভোটার খুঁজে বার করা। তাঁদের কোন অংশকে কী ভাবে উদ্বুদ্ধ করা যায়, সেই হিসাব কষা। ভারতে এই প্রবণতা এল নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে। ২০১১ সালের শেষে। মোদী তখন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে কাজ শুরু করলেন প্রশান্ত কিশোর। আফ্রিকায় রাষ্ট্রপুঞ্জের কাজে ‘ডেটা’ বিশ্লেষণের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য নীতি নির্ধারণের অভিজ্ঞতা ছিল প্রশান্তের। গুজরাতে প্রথমে মোদীর বক্তৃতার খসড়া করে দেওয়া, প্রচারে সামাজিক মাধ্যমের প্রয়োগ ইত্যাদি দিয়ে কাজ শুরু। ২০১৩-’১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসাবে মোদীর প্রচারের গুরুদায়িত্ব। তত দিনে ডেটা, ব্র্যান্ডিং, প্রচারের মতো নানা ক্ষেত্রের প্রায় ১,২০০ পেশাদার বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন তাঁর সঙ্গে। একদিকে হিন্দুত্ববাদীদের মূল জনভিত্তির কাছে মোদীর আবেদন বাড়ানো, অন্যদিকে তার বাইরের লোকজনের কাছে শিল্পবান্ধব, উন্নয়নমুখী, দুর্নীতিমুক্ত ও কঠিন মানসিকতার নেতা-প্রশাসক হিসাবে মোদীর ভাবমূর্তি নির্মাণ। সামাজিক মাধ্যমে কংগ্রেসের ব্যর্থতা তুলে ধরা। ‘চায়ে পে চর্চা’ বা ‘অব কি বার মোদী সরকার’-এর মতো প্রচার কর্মসূচি ছিল প্রশান্তেরই মস্তিষ্কপ্রসূত। মোদীর সাফল্য থেকেই অন্যদের নজরে আসেন প্রশান্ত। কিন্তু সে বছরেই বিজেপি-তে অমিত শাহের সঙ্গে তাঁর সংঘাত বাধে। পুরনো টিম ভেঙে যায়। তার কয়েক মাস পর প্রশান্ত তৈরি করেন ‘ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি’। ওরফে আই-প্যাক। শুরু হয় বিজেপিবিরোধী শিবিরের সঙ্গে কাজ। নীতীশ কুমারের জনতা দল (ইউনাইটেড), কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি।

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে দলের অভাবনীয় বিপর্যয়ের পরে তাদের ডেকে আনে তৃণমূল। নেত্রী বুঝেছিলেন, পেশাদার পরামর্শের প্রয়োজন আছে। আবির্ভাবেই সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিল আই-প্যাক। প্রথম বড় প্রকল্প ‘দিদিকে বলো’। সেটাই হিট! এর মাধ্যমে গোটা রাজ্য থেকে নানা অভাব-অভিযোগ সরাসরি পৌঁছোতে থাকল শীর্ষনেতৃত্বের কাছে। সে সবের তালিকা বানানো হল। দ্রুত কিছু সমস্যার সমাধান হয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে গেল সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সরকারের প্রতি আস্থা ফেরা শুরু হল একাংশের মানুষের। পাশাপাশি শুরু হল স্থানীয় নেতাদের ওপর নজরদারি। ‘স্বচ্ছ’ ভাবমূর্তির প্রার্থীর খোঁজ। বিরোধীদলের বিক্ষুব্ধ নেতাদের সন্ধান। রাজনীতিবিদেরা অনেকটাই আবেগে চলেন। কিন্তু পরামর্শদাতারা চলেন সংখ্যায়। ফলে দলের শীর্ষনেতৃত্বের কাছে জনসমর্থনের অনেক স্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠল। ক্রমশ ‘দুয়ারে সরকার’, ‘লক্ষীর ভান্ডার’, ‘বাংলা নিজের মেয়েকে চায়’। খেলা ঘুরিয়ে দিল তৃণমূল। জমি পুনরুদ্ধার করে ফেলল ২০২১ সালের বিধানসভা এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে।

আই-প্যাকের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অধীনে চারটি ইউনিট। ফিল্ড ইউনিটের কাজ হল নেতাদের উপর নজরদারি করা। ‘পলিটিক্যাল ইন্টেলিজেন্স’ ইউনিটের কাজ বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে স্থানীয় সমস্যা ও সমীকরণগুলো বোঝা। মিডিয়া ইউনিটের কাজ সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তাঁদের নানা চাহিদা মেটানোর চেষ্টা। ডিজিটাল ইউনিটের কাজ ব্লকে ব্লকে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ। এই চারস্তরীয় তথ্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ভাবে তৈরি হয় ‘ক্যাম্পেন স্ট্র্যাটেজি’, প্রার্থী চয়ন ইত্যাদি। রাজ্য থেকে বিধানসভা স্তর পর্যন্ত। ওই সময় আই-প্যাকে কাজ করেছেন, এমন বেশ কয়েক জনের সঙ্গে কথা বলেছে আনন্দবাজার ডট কম। তাঁদের বক্তব্য, ২০১৯ সালের আগে জেলার নেতারা কোথায় কী করছেন, সে বিষয়ে কোনও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে আসত না। ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারেও দল অনেক পিছিয়ে ছিল। বিভিন্ন বিষয়ে প্রায়শই দলের কোনও কেন্দ্রীয় অবস্থান থাকত না। নেতারা যে যাঁর মতো বলতেন। বিভিন্ন এলাকায় প্রচারে কোনও সমন্বয়ও ছিল না। এই সব কিছুই কেন্দ্রীয় ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা শুরু হয়। বিভিন্ন বিষয়ে দলের অবস্থান হোয়াট্‌সঅ্যাপে চলে যায় ব্লক স্তর পর্যন্ত। যাতে সকলেই একসুরে কথা বলেন। একই সূত্রে বাঁধা হয়ে যান সহস্র ক্যাডার। সমস্ত রকম দলীয় বার্তা চলে যায় এক বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক, এমনকি শিক্ষানবিশ এবং ইউটিউবারদের কাছেও। ব্লক বা পৌর স্তরের অনুষ্ঠানে যাতে সব গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকে, তাই আগাম ফোন যায় স্থানীয় নেতাদের কাছে। উপরের বার্তা যেমন তলায় নামে, তেমনই নীচের খবরও উপরে যায়। ব্লক বা পুর অঞ্চলের খবর সোজা চলে আসে শীর্ষনেতৃত্বের কাছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য একবার ফোন পেয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর থেকে। প্রশ্ন করা হয়েছিল ভেড়ি দখলে তাঁর ভূমিকা নিয়ে। পরে তিনি সহকর্মীদের কাছে ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেছিলেন, নিশ্চয়ই তাঁর বিরোধী গোষ্ঠীর কেউ আই-প্যাকের কাছে তাঁর নামে রিপোর্ট করে দিয়েছেন! এক আই-প্যাক কর্মী বলছিলেন, “নিজেদের দাপট ধরে রাখতে অনেক সময়েই স্থানীয় নেতারা পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র শীর্ষনেতৃত্বের কাছে তুলে ধরতেন না। সেই ব্যাপারটা বন্ধ হয়।” তিনি নিজে বাম সমর্থক, কিন্তু তৃণমূলের হয়ে কাজ করতে অসুবিধা হয় না। তাঁর যুক্তি, সাংবাদিকেরাও তো যখন যেখানে চাকরি করেন, সেখানে নিজেদের রাজনৈতিক বিশ্বাস পিছনে রেখে প্রতিষ্ঠানের চাহিদামতোই কাজ করেন।

২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের সাফল্যের পরে প্রশান্ত কিশোর আই-প্যাক ছাড়েন। বিহারে নিজের রাজনৈতিক দল বানান। কিন্তু তৃণমূল আর আই-প্যাককে ছাড়েনি। বাংলার এসআইআর পর্বে আই-প্যাকের গুরুত্ব কতটা বেড়েছে, তার নিদর্শন দলনেত্রী মমতা নিজে দিয়েছেন। ৮ জানুয়ারি, ২০২৬। সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং দফতরে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তল্লাশি শুরু হলে খোদ মুখ্যমন্ত্রী সেখানে হাজির হয়ে তাঁর প্রয়োজনীয় ফাইল বার করে নিয়ে আসেন। অভিযোগ করেন, বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের কৌশল এবং প্রার্থী তালিকা চুরির উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করা হচ্ছিল। বর্তমানে কয়েকশো লোক কাজ করেন আই-প্যাকের সল্টলেক সেক্টর ফাইভের বিশাল অফিসে। অধিকাংশেরই বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। সেটা যেন একই সঙ্গে কলসেন্টার, ডেটা অ্যানালিসিস, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের মত বিবিধ কর্মক্ষেত্রের এক মিলনস্থল। কেউ ছিলেন সাংবাদিক, কেউ আইআইটি বা আইআইএম ডিগ্রিধারী, কেউ ডেটা বিশেষজ্ঞ। কারও দক্ষতা ব্র্যান্ড পরিচিতি নির্মাণে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক আই-প্যাকের এক শীর্ষকর্তা জানিয়েছেন, তাঁদের মূল কাজ মানুষের চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিকল্পনার মেলবন্ধন। বিভিন্ন সমস্যার স্বরূপ ও সম্ভাব্য সমাধানগুলি তুলে ধরা। এই কাজের জন্য প্রতি জেলা ও বিধানসভা স্তরে আছেন তাঁদের ফিল্ড ও পলিটিক্যাল ইন্টেলিজেন্স বিভাগের কর্মচারীরা। তাঁরা সমন্বয় করছেন আই-প্যাকের কেন্দ্রীয় দফতর ও অভিষেকের দফতরের সঙ্গে জেলা ও বিধানসভা স্তরের নেতাদের মধ্যে, পরিকল্পনার সঠিক রূপায়ণের জন্য। এ ছাড়া রয়েছে নানা ধরনের ‘মাইক্রো ম্যানেজমেন্ট’। কোন বুথে কাকে দলে টানা গেলে বা কোন সমস্যার দ্রুত সমাধান করলে কিছু ভোট ঘুরে যেতে পারে। কোন বিষয়ে বিরোধী প্রচার নিয়ে তৎক্ষণাৎ জবাব দিতে হবে। সাংবাদিকতা ছেড়ে-আসা এক আই-প্যাক কর্মী বলছিলেন, “মাইনে ভালই। কেউ তো আর আগের চাকরির থেকে কম মাইনেতে যোগ দেয় না।” তবে কাজের প্রবল চাপ। এখন তো দিবারাত্রির ঠিক নেই। ভোর ৫টাতেও ফোন আসতে পারে কোনও সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য, আবার রাত ২টোর সময়েও।

রাজনীতিতে কি পেশাদারিত্ব আগে ছিল না? বাম দলগুলিতে তো দীর্ঘদিন ধরেই সর্ব ক্ষণের কর্মী রাখার চল আছে। লেনিনের ভাষায়, তাঁরা হলেন ‘পেশাদার বিপ্লবী’। তাঁরা আর কোনও পেশায় থাকেন না। তাঁরা দলেরই কাজ করেন, দল থেকেই খরচ সামলানোর যৎসামান্য টাকা পান। তবে তাঁরা দলের চাকরি করেন না। কারণ, তাঁরা আদর্শগত ভাবে দলের সঙ্গে যুক্ত। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘেও কিছু ‘পূর্ণকালীন সংগঠক’ আছেন। তাঁদের বলা হয় ‘প্রচারক’। প্রচারকেরা বামপন্থী দলের হোলটাইমারদের মতোই তাঁদের জীবনযাপনের খরচের জন্য সংগঠনের উপর নির্ভরশীল। তবে তাঁরা সংখ্যায় কম। এ রাজ্যে মেরেকেটে জনাপঞ্চাশ। সঙ্ঘ মাঝেমাঝে বিজেপিকে এমন প্রচারক ধার দেয়। তুলনায় রাজ্যে সিপিএমে সবসময়ের কর্মীর সংখ্যা হাজারের উপর। কংগ্রেস ঘরানার দলে যাঁরা নেতৃস্থানীয়, তাঁদের সাধারণত অন্য পেশা বা আয়ের উৎস থাকে। তৃণমূলও মূলত সে রকমই। কিন্তু আই-প্যাকের কাজ অন্য রকম। সেখানে যাঁরা চাকরি করেন, তাঁরা রাজনীতি করতে আসেননি। তাঁরা এসেছেন রাজনীতিবিদদের ভোটে জিততে সাহায্য করতে। যেমন ‘বস্টন কনসালটেন্সি গ্রুপ’ বা ‘বিসিজি’। কিছু দিন ইমামিকে সর্ষের তেল বিক্রি করতে সাহায্য করে। তার পরে চলে যায় অন্যত্র, অন্য কোনওখানে। কাউকে কলম, মলম বা গাড়ি বিক্রিতে পরামর্শ দিতে। রাজনীতির ক্ষেত্রে এই পরামর্শ হয় ভোটারদের মনমেজাজ নিয়ে নানারকম সমীক্ষা করা ও প্রচারের বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত নানা বিষয়ে।

বিজেপি তথা সঙ্ঘ পরিবারের অনেকে মনে করেন, এ সব কাজ ভাড়াটে পেশাদারি সংস্থার হাতে ছেড়ে দেওয়ার চেয়ে নিজেদের আদর্শে উদ্বুদ্ধদের দিয়েই করানো ভাল। প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তো তা মনে করেনই। তাই তাঁদের ভরসা মূলত দলের ভিতরের আইটি সেল, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও তৃণমূল স্তরে সঙ্ঘ পরিবারের বিপুল বিস্তৃত নেটওয়ার্কের স্বয়ংসেবকদের উপর। এ ছাড়া আদর্শগত মিল থাকা পেশাদারদের নিয়ে বানানো কিছু পরামর্শদাতা সংস্থার সঙ্গে কাজ করেন তাঁরা। যেমন, ‘নেশন উইথ নমো’। এঁরা মূলত বুথভিত্তিক নানা তথ্য সংগ্রহ করে ভোটারদের মনোভাব বিশ্লেষণ করে সেই তথ্য দলের শীর্ষনেতৃত্বকে দেন এবং দলীয় বার্তা ডিজিটাল মাধ্যমে বুথ স্তর অবধি পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেন। রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক ক্ষেত্রে এঁদের কোনও ভূমিকা থাকে না। এই ধরনের পেশাদারি কাঠামো দলের অভ্যন্তরে তৈরি করার কাজ অনেকটা এগিয়েছে তৃণমূলও। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরপরই আই-প্যাক ছেড়ে কিছু কর্মী সরাসরি তৃণমূলে যোগ দেন। দলীয় কর্মী নয়, বেতনভুক কর্মচারী হিসাবে। অভিষেকের দফতরে। পদমর্যাদায় অ্যাসোসিয়েট, সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট, মিডিয়া কো অর্ডিনেটর, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যানালিস্ট ইত্যাদি। তৈরি হয় দলের নিজস্ব আইটি সেল। আই-প্যাকের এক কর্মী জানাচ্ছেন, ২০২১ সালের নির্বাচনের আগে পর্যন্ত আই-প্যাকের দু’জন ‘পয়েন্ট পার্সন’ অভিষেকের দফতরে বসতেন মূলত ‘ডিজিটাল হ্যান্ডলিং’ এবং মিডিয়া সমন্বয়ের জন্য। কিন্তু ২০২১ সালের অগস্ট-সেপ্টেম্বর থেকে অভিষেকের দফতরেই একাধিক পূর্ণসময়ের পেশাদার রাখা হয়েছে। ফলে আই-প্যাক কর্মীদের আর সেখানে বসতে হয় না। ওই কর্মীর বক্তব্য, “আই-প্যাকের মতো একটা কাঠামো এখন খানিকটা দলের মধ্যেই গড়ে নেওয়া হয়েছে।”

‘দিদির দূত’ নামক অ্যাপের মাধ্যমে ভোটার তালিকার হালহকিকত জানতেও একেবারে বুথ স্তর থেকে কেন্দ্রীয় স্তর অবধি সমন্বয় করা হয়। আই-প্যাকের পরিষেবা ছাড়া যে এসআইআর প্রক্রিয়ার মোকাবিলা করা অনেক কঠিন হত, তা মানছেন অনেক তৃণমূল নেতাই। এক তরুণ কর্মীর বক্তব্য, জেলার একটি পুর এলাকায় জঞ্জাল ও নিকাশিব্যবস্থা সংক্রান্ত ক্ষোভ ওয়ার্ড স্তরের সমস্যার বিষয়ে আই-প্যাকের সমীক্ষার জন্যই ধরা পড়েছিল। তাঁর আরও অভিমত, নেতাদের উপর নজরদারির ব্যাপারটা চাউর হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় স্তরে দুর্নীতি কমেছে। প্রসঙ্গত, কোনও কোনও তৃণমূল নেতাও এই মতামত সমর্থন করেন, অন্তত আংশিক ভাবে। আবার অন্য এক তৃণমূল নেতার মতে, সরকারি কাজে নজরদারির জন্য মাইনে-করা বেসরকারি কর্মচারী রাখতে হলে বুঝতে হবে প্রশাসন ও শাসকদল, দুইয়ের মধ্যেই দক্ষতা ও সদিচ্ছার ঘাটতি আছে।

চাকরিজীবীদের নিয়ে তৈরি একটি পেশাদার সংস্থা রাজ্য রাজনীতিতে কেন এত প্রভাবশালী হয়ে উঠল? কারণ, রাজ্যের শাসকদলের সাংগঠনিক কাঠামো তাদের প্রভাবে আমূল বদলে গিয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তারা এর আগে নানা দলের সঙ্গে কাজ করেছে। কিন্তু তৃণমূলের মতো এতটা গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক আর কারও সঙ্গেই তাদের তৈরি হয়নি। তৃণমূল আই-প্যাককে শুধু নির্বাচনী কৌশল প্রণয়ন ও জনমানসে ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তোলার কাজেই ব্যবহার করেনি, সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের জন্যেও তাদের সহায়তা নিয়েছে দল। বস্তুত, আই-প্যাকের প্রভাব সম্পর্কে জনমানসে, বিশেষত রাজনৈতিক বৃত্তে, ধারণা কতটা প্রবল, তার আন্দাজ পাওয়া গিয়েছিল, গত বছর মার্চের একটি ঘটনায়। দলীয় এক ভার্চুয়াল বৈঠকে স্বয়ং অভিষেক জানিয়েছিলেন, তাঁর কাছে খবর আছে, তাঁর এবং আই-প্যাকের নাম নিয়ে অনেকে ‘তোলাবাজি’ করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles