Thursday, April 23, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ছাব্বিশে তৃণমূল-বিজেপি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই!‌ ভোটারের সমীক্ষা বলছে পছন্দের মুখ মমতাই

লড়াই মোটেও একপেশে হচ্ছে না। বাংলায় ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন দেখলেও বিজেপির অন্দরে বেশ কিছু ফাটল জনমত সমীক্ষায় ধরা পড়েছে। ১৯.৯ শতাংশ মানুষ মনে করছেন, দলের ভেতরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বই বিজেপির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। এছাড়া সুযোগ্য রাজ্য নেতৃত্বের অভাব (১৭.২%) এবং বাংলার সংস্কৃতি বুঝতে না পারার অভিযোগও (১২.৫%) গেরুয়া শিবিরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একুশের নির্বাচনে ২২০টি আসন পেয়ে বিশাল জয় হাসিল করেছিল তৃণমূল। বর্তমান সমীক্ষার ফল বলছে, বিরোধী হাওয়ার মধ্যেও তৃণমূল সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বেকারত্ব ও নারী নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে মানুষের ক্ষোভ এবং বিজেপির সাংগঠনিক লড়াই— সব মিলিয়ে ছাব্বিশের লড়াই মোটেও একপেশে হবে না। সি ভোটারের সমীক্ষায় তৃণমূল-বিজেপি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, পছন্দের মুখ মমতাই। সমীক্ষায় বলা হচ্ছে, ২৯৪ আসনের বিধানসভায় ১৮৪ থেকে ১৯৪টি আসন পেয়ে টানা চতুর্থবার সরকারে আসতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্টোদিকে, প্রধান বিরোধী দল বিজেপি পেতে পারে ৯৮ থেকে ১০৮টি আসন। বাম-কংগ্রেস বা অন্যান্য ছোট দলগুলি এই লড়াইয়ে এখনও পর্যন্ত প্রান্তিক শক্তি হিসেবেই চিহ্নিত। রাজ্যের মসনদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তা এখনও অমলিন। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৪৮.৫ শতাংশ মানুষ মমতাকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁদের প্রথম পছন্দ বলে জানিয়েছেন। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে আসা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী জনপ্রিয়তায় অনেকটাই পিছিয়ে, তাঁর পক্ষে রায় দিয়েছেন ৩৩.৪ শতাংশ মানুষ। ভোট শতাংশের হিসেবেও তৃণমূল (৪১.৯%) বিজেপির (৩৪.৯%) থেকে বেশ খানিকটা এগিয়ে। এমনকি ৩৬.৫ শতাংশ মানুষ বর্তমান তৃণমূল বিধায়কদের ওপরই আস্থা রাখার কথা বলেছেন। তৃণমূল সরকারের কাজকে ‘খুব ভাল’ বা ‘ভাল’ বলছেন ৪৩.৩ শতাংশ মানুষ। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। প্রায় ২০.৬ শতাংশ মানুষ সরকারের কাজকে ‘খুব খারাপ’ এবং ১৮.৩ শতাংশ ‘খারাপ’ বলে চিহ্নিত করেছেন। ধর্মীয় ও জাতিগত নিরিখে জনমতের এই বিভাজন স্পষ্ট। মুসলিম ভোটারদের ৪৪.২ শতাংশ মমতা সরকারের কাজে অত্যন্ত সন্তুষ্ট হলেও, উচ্চবর্ণের হিন্দু ও তফশিলি জনজাতিভুক্ত ভোটারদের বড় একটি অংশ (২৬.৬%) প্রশাসনের ওপর ক্ষুব্ধ। এ বারের নির্বাচনে ভোটারদের মনে সবচেয়ে বেশি কাঁটা হয়ে বিঁধছে বেকারত্ব (৩৭.২%)। এর পরেই রয়েছে আরজি কর কাণ্ড-পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা ও নারী নিরাপত্তার প্রশ্ন (১৫.৯%)। এ ছাড়াও মূল্যবৃদ্ধি (১০.৫%) এবং দুর্নীতি (১০.৩%) বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। আশ্চর্যজনকভাবে, মুসলিম ভোটারদের কাছে বেকারত্বের চেয়েও এসআইআর সংক্রান্ত বিষয়গুলি বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আবার, ম্যাট্রিজের জনমত সমীক্ষায় তৃণমূল-বিজেপি জোর টক্করের ইঙ্গিত। সমীক্ষা অনুযায়ী, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে লড়াই এখন আক্ষরিক অর্থেই কাঁটায় কাঁটায়। ম্যাট্রিজ সার্ভে বলছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস ৪৩ শতাংশ ভোট পেয়ে ১৪০ থেকে ১৬০টি আসন জিততে পারে। অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল বিজেপি ৪১ শতাংশ ভোট পেয়ে ১৩০ থেকে ১৫০টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাম-কংগ্রেস ও অন্যান্য দলগুলোর ঝুলিতে যেতে পারে ৮ থেকে ১৬টি আসন (১৬ শতাংশ ভোট)। তৃণমূল বনাম বিজেপি: ম্যাজিক ফিগার কার হাতে?‌ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসনের মধ্যে সরকার গড়তে প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। সমীক্ষা অনুযায়ী:
তৃণমূল কংগ্রেস: ১৪০ – ১৬০ আসন (ভোটের হার ৪৩%)
বিজেপি: ১৩০ – ১৫০ আসন (ভোটের হার ৪১%)
অন্যান্য: ৮ – ১৬ আসন (ভোটের হার ১৬%)

সমীক্ষার মতে, তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ২ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে সামান্য এগিয়ে থাকলেও, এই ব্যবধান এতটাই নগণ্য যে নির্বাচনের আগে যে কোনও সময়ে পাল্টে যেতে পারে সমীকরণ। ১৪৮-এর ‘ম্যাজিক ফিগার’ ছোঁয়ার দৌড়ে দুই পক্ষই এখন সমানে সমান। শেষ পর্যন্ত বাংলার সাধারণ মানুষ কার ওপর আস্থা রাখেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

এই সমীক্ষায় অঞ্চল ধরে ধরে জনমত নেওয়া হয়েছে বলে ম্যাটিজ জানিয়েছে—
দক্ষিণবঙ্গ: তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি
দক্ষিণবঙ্গের ১৮৩টি আসনে (মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, দুই ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি ও দুই মেদিনীপুর) তৃণমূল কংগ্রেসের আধিপত্য বজায় থাকার সম্ভাবনা প্রবল।
আসন: তৃণমূল কংগ্রেস পেতে পারে ৯৫-১০০টি আসন। বিজেপি ৭৫-৮০টি এবং অন্যান্যরা ৪-৮টি।
ভোটের হার: তৃণমূল ৪৪%, বিজেপি ৩৭%, এবং অন্যান্যরা ১৯% ভোট পেতে পারে।

২. রাঢ় অঞ্চল: লড়াইতে এগিয়ে ঘাসফুল
পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, দুই বর্ধমান ও বীরভূম নিয়ে গঠিত রাঢ় অঞ্চলের ৫৭টি আসনেও তৃণমূল এগিয়ে রয়েছে।

আসন: তৃণমূল পেতে পারে ৩৭-৪০টি আসন। বিজেপির ঝুলিতে যেতে পারে ১৭-২০টি আসন।
ভোটের হার: এখানে লড়াই বেশ হাড্ডাহাড্ডি। তৃণমূল ৪৩% এবং বিজেপি ৪২% ভোট পেতে পারে। অর্থাৎ মাত্র ১ শতাংশের ব্যবধানে লড়াই হবে অত্যন্ত তীব্র।

৩. উত্তরবঙ্গ: বিজেপির দাপট অব্যাহত
কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং ও মালদহ সহ উত্তরবঙ্গের ৫৪টি আসনে প্রধান শক্তি হিসেবে উঠে আসছে বিজেপি।
আসন: বিজেপি পেতে পারে ৩০-৩৩টি আসন, যেখানে তৃণমূলের সম্ভাবনা ১৭-২০টি আসনের।
ভোটের হার: বিজেপি ৪৩% এবং তৃণমূল ৪০% ভোট পেতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles