সব মামলায় জামিন পেয়ে জেল থেকে মুক্তি পেতে চলেছেন সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন। ১২ বছর ১১ মাস জেলে। ১৩ বছর পর জেল থেকে ছাড়া পাচ্ছেন সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন। বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার রায় ঘোষণা করে, তাঁকে রাজ্য পুলিশের হাতে থাকা দুটি মামলায় জামিন দিয়েছে। ফলে তাঁর জেল থেকে বেরোনোর কোন আইনি বাধা রইল না। তবে জামিনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত আরোপ করেছে আদালত। বৃহস্পতিবার সম্ভবত জেল থেকে ছাড়া পাবেন রাজ্যে চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে প্রধান অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেন। হাই কোর্টের বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার রায় ঘোষণা করে, তাঁকে রাজ্য পুলিশের হাতে থাকা দুটি মামলায় জামিন দিয়েছে। ফলে তাঁর জেল থেকে বেরোনোর কোন আইনি বাধা রইল না। তবে জামিনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত আরোপ করেছে আদালত। বৃহস্পতিবার সম্ভবত জেল থেকে ছাড়া পাবেন রাজ্যে চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে প্রধান অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেন।
সিবিআইয়ের মামলা ছিল ৭৬ টি। কেন্দ্রীয় এজেন্সির সব মামলায় আগেই জামিন পান সুদীপ্ত সেন। বারাসাতে দু’টি মামলায় জেলবন্দি ছিলেন সারদা কর্তা। এই দুই মামলাতেই জামিন মঞ্জুর করেছে বিচারপতি রাজর্ষী ভরদ্বাজ ডিভিশন বেঞ্চ। সারদাকর্তার জামিন প্রসঙ্গে বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ বলেন, ‘‘কারও জামিন হওয়া বা না-হওয়া আইন-আদালতের বিষয়। জামিন পাওয়া আইনের মধ্যেই পড়ে। সুদীপ্ত সেন জামিনের আবেদন করেছিলেন। আদালত সে আবেদন মঞ্জুর করেছে। সুতরাং এটা নিয়ে আপাতত আলাদা করে কোনও ব্যাখ্যা বা মন্তব্যের কিছু নেই।’’ ২০১৩ সালে সারদাকাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পরে দেবযানীকে নিয়ে কাশ্মীরের সোনমার্গে গা ঢাকা দিয়েছিলেন সংস্থার কর্ণধার সুদীপ্ত। ওই বছরই কাশ্মীর থেকে গ্রেফতার করা হয় তাঁদের। তখন থেকে দু’জনই জেলে রয়েছেন। ২০২৩ সালে অবশ্য কয়েক ঘণ্টার প্যারোলে ছাড়া পেয়েছিলেন দেবযানী। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন থানায় প্রতারিতেরা অভিযোগ জানান সারদা অর্থলগ্নি সংস্থার বিরুদ্ধে। পরে তদন্তভার হাতে নিয়ে সিবিআইও মামলা রুজু করে। পাশাপাশি ইডি এবং সেবি-ও সুদীপ্তের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে।
বর্তমানে সুদীপ্ত সেনের ৬৪ বছর বয়স। একাধিক শারীরিক জটিলতা রয়েছে তাঁর। সম্প্রতি ব্রেন স্ট্রোক হয়েছিল, সেখান থেকে বেঁচে ফিরেছেন তিনি। সর্বোচ্চ কারাদণ্ডের দ্বিগুণ সময় জেলে কাটিয়ে ফেলেছেন সুদীপ্তর। তাঁর আইনজীবী এই দীর্ঘায়িত কারাবাসকে “শাস্তিমূলক” হিসেবে অভিহিত করেছেন। ১০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন পাচ্ছেন তিনি। একাধিক শর্তে জামিন দেওয়া হয়েছে। কী কী শর্ত দেওয়া হল সুদীপ্তকে?
আবেদনকারীকে তাঁর পাসপোর্ট জমা দিতে হবে (যদি না তা ইতিমধ্যে অন্য কোনও সংস্থার হেফাজতে থাকে)।
আদালতের আগাম লিখিত অনুমতি ছাড়া সুদীপ্ত সেন রাজ্যের বাইরে যেতে পারবেন না।
বারাসত থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি-র কাছে তাঁর স্থায়ী বসবাসের ঠিকানা জানাতে হবে। বিচার বিভাগীয় আদালত ও সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি-কে আগাম না জানিয়ে তিনি বসবাসের স্থান পরিবর্তন করতে পারবেন না।
কোনও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কালেক্টিভ ইনভেস্টমেন্ট স্কিম, অথবা মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং সংস্থার প্রচার, পরিচালনা, বা সেগুলির এজেন্ট বা পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করা নিষিদ্ধ।
প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জনসাধারণের কাছ থেকে কোনও ধরনের আমানত সংগ্রহ বা গ্রহণ করতে পারবেন না। এই শর্তের যে কোনও লঙ্ঘনের ফলে তাঁর জামিন অবিলম্বে বাতিল করা হবে।
আবেদনকারী মামলার তথ্যের সঙ্গে যোগ আছে, এমন কোনও ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না।
কাউকে প্রভাবিত করতে পারবেন না বা ভয় দেখাতে পারবেন না।





