অভিনেতা রাহুল অরুণোদয়ের অকালমৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউই। প্রশ্ন উঠছে আউটডোর শুটিংয়ের নিরাপত্তা নিয়ে। দিঘার অদূরে তালসারিতে রবিবার শুটিং করতে গিয়েছিলেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। পরদিন তাঁর নিথর দেহ ফেরে বিজয়গড়ের বাড়িতে। সমুদ্রের জলে ডুবে অভিনেতার মৃত্যু ঘিরে উঠছে অনেক প্রশ্ন। দুর্ঘটনা ঘিরে নানা ধরনের বয়ান উঠে আসছে। শুটিংয়ে নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলেছেন রাহুলের অনুরাগী এবং সহকর্মীরা। ওড়িশা পুলিশ সূত্রের দাবি, তালসারিতে শুটিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কোনও অনুমতি ছিল না। তা সত্ত্বেও কী ভাবে শুটিং হল? ঘটনার পর থেকেই অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী শুটিং স্পটে রাহুলের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ এবং নিরপেক্ষ পুলিশি তদন্ত দাবি করেছেন। টলিপাড়ার একাংশ শুটিংয়ে নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন। অনেকের কাছেই এখন বড় প্রশ্ন, ধারাবাহিকের শুটিং করতে গেলে আদৌ কী কী নিয়ম মানতে হয়?
এক প্রযোজক বললেন, “পুলিশের অনুমতি তো নিতেই হয়। এমন কোনও এলাকায় শুটিং হচ্ছে, যে জায়গাটা কোনও পুরসভা বা কোনও ট্রাস্টি বোর্ডের অধীনে। সে ক্ষেত্রে তাদেরও অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হয়। তবে ধারাবাহিকের ক্ষেত্রে এক মাস আগে থেকে তো সবকিছু তৈরি হয়ে থাকে না। অনেক সময় এমনও হয়, চিত্রনাট্য লেখা হয়েছে এক দিন আগে। পরের দিনই হয়তো আউটডোর শুটিংয়ে বেরিয়ে যেতে হবে। তখন অনেক সময় পুলিশকে বাড়তি কিছু টাকা দিয়ে বিশেষ অনুমতি করিয়ে নেওয়া হয়। আর যে লোকালয়ে শুটিং হচ্ছে সেখানে সাধারণ কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলে রেখে দিই, যাতে ভি়ড় সামলানো সহজ হয়। জলে শুটিং হলে দু’এক জন ডুবুরিকে অল্প পারিশ্রমিকে রাখা হয়।” ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস বলেন, “ধারাবাহিকের প্রযোজনা সংস্থার তরফে আমাদের শুধু জানানো হয় বাইরে শুটিং করতে যাওয়া হচ্ছে। এ বার কী চিত্রনাট্য, কোথায় শুটিং হবে সেটা সমুদ্রের মাঝে না পাহাড়ের চূড়ায়, সেটা জানানো হয় না। প্রযোজনা সংস্থারাই দাবি করে থাকে, এটা বাইরের কাউকে বলা সম্ভব নয়। এইটুকুও তো আগে আমাদের জানানো হত না। আমি অনেক চেঁচামেচি করে তার পর এখন জানায় আমাদের। এ ছাড়া আমাদের কোনও তথ্য জানানো হয় না। কোনও দিন কোনও উত্তর পাইনি। বলা হয়েছে চিত্রনাট্যের ব্যাপার। বাইরে জানানো হবে না। প্রশ্ন করলে তো ফেডারেশনকেই তোপ দেওয়া হয়। বলা হয় শেষ মুহূর্তে সব ঠিক হয়েছে, জানানো সম্ভব নয়। অবিশ্বাস্য সব যুক্তি খাড়া করা হয় এ সব প্রশ্ন তুললে।”





