Sunday, April 26, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

রুদ্রনীলকে খোঁচা সোহমের?‌ চারিত্রিক দিক থেকে সঠিক হতে হবে হিরণকে!

জনতার উন্মাদনা কি রাজনীতিবিদ সোহমের তুলনায় অভিনেতা সোহমের জন্যই বেশি? প্রশ্নোত্তরে করিমপুরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সোহম চক্রবর্তী। করিমপুরে এবারের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সোহম চক্রবর্তী। এর আগে ২০২১-এ চন্ডীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জিতে বিধায়ক হয়েছেন। একান্ত সাক্ষাৎকার করিমপুরের তারকা প্রার্থীর।

প্রশ্ন: সারাদিনব্যাপী প্রচার অভিযান। আপনাকে ঘিরে মানুষের যে উন্মাদনা, কী বলবেন তা নিয়ে?
উত্তর: করিমপুরে কালীবাড়িতে পুজো দিয়ে, মায়ের আশীর্বাদ, বয়জ্যেষ্ঠদের আশীর্বাদ নিয়ে, প্রচার শুরু করেছি। এই উন্মাদনা না থাকলেই বরং টেনশন বেড়ে যায়! আমজনতার উন্মাদনা, আমার প্রতি তাদের ভালোবাসা, আবেগের প্রতিফলন। এই উন্মাদনা আমার কনফিডেন্স বাড়িয়ে দেয়। তাঁদের প্রত্যাশা দেখে অবশ্য দায়িত্ববোধও বেড়ে যায় অনেকখানি। এ এক চ্যালেঞ্জও বটে, যা ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে ওভারকাম করে দেখিয়েছি।

প্রশ্ন: তবে উন্মাদনা কি রাজনীতিবিদ সোহমের তুলনায় অভিনেতা সোহমের জন্যই বেশি?
উত্তর: অভিনেতা সোহমকে সামনে দেখার উত্তেজনা তো থাকবেই। তবে এ কিন্তু অনেকাংশে বিরোধীদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়ার মতো! বিরোধীরা ব্যক্তিগতস্তরে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করেন। বলেন, একজন অভিনেতাকে তো আর কাজের সময় দেখতে পাওয়া যাবে না! যখন কোনও ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, প্রফেসর বা অ্যাডভোকেট রাজনীতিতে যুক্ত হন, তখন তো এমন প্রশ্ন ওঠে না। তাহলে অভিনেতাদেরই বারবার টার্গেট করা হয় কেন?

সোহম বলেন, মমতা বন্দোপাধ্যায় বাংলার মানুষের আবেগের নামান্তর। ফলে প্রার্থী হিসেবে যে কেন্দ্রেই দেওয়া হোক না কেন, আত্মবিশ্বাস রয়েছে। চতুর্থবারের জন্য মমতা বন্দোপাধ্যায়কে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী করুন।
প্রশ্ন: চণ্ডীপুর থেকে করিমপুর— নতুন কেন্দ্রের প্রার্থী হলেন। দাবার ঘুঁটি কি আবার নতুন করে সাজাতে হবে?
উত্তর: তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী হওয়া মানে দাবার ঘুঁটি সবসময় সাজানোই থাকে! চণ্ডীপুর হোক বা করিমপুর, কোচবিহার হোক বা কাকদ্বীপ— তৃণমূলের কর্মীরা সব জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে। বলাবাহুল্য, মমতা বন্দোপাধ্যায় বাংলার মানুষের আবেগের নামান্তর। ফলে প্রার্থী হিসেবে যে কেন্দ্রেই দেওয়া হোক না কেন, আত্মবিশ্বাস রয়েছে। আমাদের নেত্রী আপনাদের জন্য কী কী করছেন, বিরোধীদের বলা কোনও কথারই যে বাস্তবে প্রতিফলন ঘটেনি, তা আপনারা বুঝুন। চতুর্থবারের জন্য মমতা বন্দোপাধ্যায়কে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী করুন।

প্রশ্ন: এই কেন্দ্রের প্রবীণ প্রার্থী বিমলেন্দু সিংহ রায় টিকিট পেলেন না। কেন্দ্র বদল, প্রার্থী বদলের এই নতুন সমীকরণকে কীভাবে দেখছেন?
উত্তর: যেখানেই যাই না কেন, সিম্বল একটাই— ঘাসের উপর জোড়াফুল। মুখ একটাই, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমরা ‘মোহরা’, আমরা কেবল নেত্রীর লড়াকু সৈনিক। স্বয়ং নেত্রী ও সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তাই শিরধার্য। তা নিয়ে মত দেওয়ার অধিকার আমার নেই।
প্রশ্ন: স্থানবিশেষে কেন্দ্র বদল, প্রার্থী বদলের ফলে যে দলীয় কোন্দল হচ্ছে, তা কি অস্বীকার করতে পারেন?
উত্তর: একে কোন্দল বলা যায় না। কোথাও গিয়ে এক মান অভিমানের পালা চলে। তৃণমূল কংগ্রেস একটা বৃহৎ পরিবার। বিজেপি, যারা কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করেছে, দাবি করে যে, কেবল ভারতবর্ষ নয়। বিশ্বের মধ্যে সবথেকে বড় দল তাদেরই। সেই বৃহৎ দল আজ তৃণমূল কংগ্রেসকে ভয় পাচ্ছে!

প্রশ্ন: আপনার একসময়ের বন্ধু ও সতীর্থ রুদ্রনীল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এখন তৃণমূল সরকারের দৌলতে অপরাধী ও পুলিশ এক টেবিলে বসে চা খান। কী বলবেন?
উত্তর: ওঁর কোথায় এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে, জানা নেই। আমি ভিন্ন মত পোষণ করি। যেখানে যখনই দুষ্কৃতিদের তাণ্ডব হয়েছে, অসামাজিক কার্যকলাপ হয়েছে, আমাদের প্রশাসন সর্বদা সজাগ থেকেছে। তাছাড়া অপরাধীদের কোনও নির্দিষ্ট রঙ হয় না। মানুষ ব্যক্তিগত চাহিদা থেকে অপরাধ করে। মা-মাটি-মানুষের সরকার কখনওই অপরাধীদের মদত দেয়নি। রুদ্রদার এমনটা মনে হলে উনি বলতেই পারেন। আমি মনে করি, তিনি একজন বড়মাপের শিল্পী, বড় অভিনেতা।

প্রশ্ন: রাজনীতিবিদ হিসেবে তাঁকে কেমন মনে হয়?
উত্তর: রুদ্রনীল ঘোষকে রাজনীতি শিখতে হবে। প্রত্যেকেই শিখছি। যখন ক্যামেরার সামনে দাঁড়াব অভিনয় করতে, আমরা খুব ভালো বন্ধু। প্রচুর ছবিও করেছি একসঙ্গে, হয়তো আগামী দিনেও করব। কিন্তু রাজনীতি করতে গেলে মানুষের পালস্‌-টা বুঝতে হয়। এক শেয়াল ডাকলো বলে আমিও হুক্কা হুয়া ডাকলাম— এটা ঠিক নয়। তুমি তো রথে রথে চলছ! তা না করে মাটিতে নামো। পাবলিকের কাছে তো তোমার অ্যাক্সেপ্টেন্স রয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলো, তারা কী বলছে জানো।

প্রশ্ন: আরও এক সতীর্থ, হিরণ চট্টোপাধ্যায়। খড়গপুর সদর থেকে শ্যামপুরে প্রার্থী হয়েছেন। সম্প্রতি তাঁর বিয়ে নিয়ে বিতর্ক হল। রাজনীতিবিদের চারিত্রিক গুণাবলি বা ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্ক কি কর্মক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে?
উত্তর: কেবল রাজনীতিবিদ হিসেবে নয়। মানুষ হিসেবেও চারিত্রিক দিক থেকে সঠিক হতে হবে। রাজনীতি করতে গেলে তো মানুষেরই প্রতিনিধিত্ব করা। সেখানে ব্যক্তিগত কিছু এথিক্স-প্রিন্সিপ্যাল রাখতে হবেই। কোনওরকমভাবেই ‘ক্যারিড আওয়ে’ হয়ে গেলে চলবে না। নিজেকে ধরে রাখাটাই যথার্থতার পরিচয়।

প্রশ্ন: বিরোধীদের মতে, ‘নির্বাচনের প্রাক্কালে কালিমালিপ্ত সোহম’! প্রায় ৬৮ লক্ষ টাকার ঋণ খেলাপির অভিযোগ, তাও আবার প্রাক্তন দলীয় যুবনেতা শাহিদ ইমামের। প্রার্থী হিসেবে এসবের কতটা প্রভাব পড়বে?
উত্তর: কালিমালিপ্ত করার প্রচেষ্টাই ওদের একমাত্র লক্ষ্য। সোহম কী কী করেছে চণ্ডীপুরে, কী কী করতে পারেনি বা করেনি- সেটা নিয়ে বলো, আমি উত্তর দেব। আর যে ঘটনা এ মুহূর্তে বিচারাধীন, তা নিয়ে মন্তব্য করা উচিত নয়। বিরোধীদের এটুকুই বলব, একজন সহনাগরিক হিসেবে, সবটা জেনে তবেই একজনের সম্পর্কে মন্তব্য করুন। ব্যক্তিগত স্তরে কালিমালিপ্ত করার বদলে রাজনীতির ময়দানে রাজনৈতিকভাবে নামুন। বাকি উত্তর আগামিদিনে আমার উকিল দেবেন।

প্রশ্ন: কৃষ্ণনগরের দলীয় বৈঠকে মহুয়া মৈত্র কী পরামর্শ দিলেন?
উত্তর: সমস্ত জেলা নেতৃত্বদের নিয়ে মিটিং হয়েছিল। মহুয়া মৈত্র করিমপুরে ২০১৬-র নির্বাচিত বিধানসভার সদস্য। সেই সময় আমি প্রচার করতে এসেছিলাম মহুয়ার হয়ে। ’১৯-এর উপনির্বাচনে যখন বিমলেন্দুবাবু দাঁড়ান এই কেন্দ্রে, তখনও প্রচার করতে এসেছিলাম। তাছাড়া আর্টিস্ট হিসেবে শো করতেও এসেছি নানা সময়ে। মহুয়ার পরামর্শ তো সবসময় থাকেই। কেবল করিমপুর কেন, গোটা নদিয়া জেলাই ওর তালুর মধ্যে। সে জন্য আমরাও ওর থেকে সাপোর্ট চাই, সাজেশন চাই।

প্রশ্ন: আপনাকে ওঁর দেওয়া একটা পরামর্শ যদি বলতে বলি?
উত্তর: একটাই কথা, মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে হবে। সেটা আমি করেছি। আলাদা করে পরামর্শের কিছু নেই। স্ট্র্যাটেজি একটাই, উন্নয়ন সকলের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া। মানুষকে জানানো যে, আমি আছি।

প্রশ্ন: আপনার প্রতিপক্ষ বিজেপির সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ। কীভাবে মোকাবিলা করবেন?
উত্তর: শ্রদ্ধেয় সমরেন্দ্রবাবুর সম্পর্কে যেটুকু খবর পেয়েছি, উনি আত্মনীতিতে বিশ্বাসী। যদি ভুল না করি, ২০১৬-তে উনি সিপিআই(এম)-এর হয়ে লড়েছিলেন। ২১-এ বিজেপির সদস্য হয়ে গেলেন। আমি নই, এখানকার কর্মীরাই বলছেন, উনি এবারেও হেরে হ্যাট্রিক করবেন! নিজের এথিক্স নিজের কাছেই যদি ক্লিয়ার না থাকে, মানুষের পাশে দাঁড়াব কী করে? সমরেন্দ্রবাবু বলেছেন, উনি জিতলে এখানে রেল এনে দেবেন। অবশ্যই, করিমপুরের মানুষের স্বার্থে রেলের দাবি আমাদের প্রত্যেকের। আগামী দিনেও এ দাবি করব। কিন্তু রেল যেভাবে বাঙালিকে বঞ্চনা করে চলেছে, এটাই তার উদাহরণ। সমরেন্দ্রবাবু আগে তো বাংলার মানুষ! তাহলে ১০০ দিনের কাজের টাকাটা আগে এনে দিতেন। আবাসের টাকাটা আনিয়ে দিতেন। বিজেপি গণতান্ত্রিকভাবেই বাংলার মানুষের কাছে পরাজিত হয়েছে। এ কারণে রাজনৈতিকভাবে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে উঠেছে। বাংলার মানুষের মন জয় করতে না পেরে এখন দখলদারির রাজনীতি করছে।

প্রশ্ন: এই যে ১০০ দিনের কাজ, বিভিন্ন ধরনের ভাতা, প্রকল্প রয়েছে, বিরোধীদের অভিযোগ, এগুলো আদতে আইওয়াশ। বড় পরিসরের উন্নয়ন তাদের দ্বারাই সম্ভব!
উত্তর: আসলে বিরোধিতা করার জন্যও সঠিক আইডিওলজি লাগে। সরকারের কাজে কোথায় লুপহোলস রয়েছে, সেগুলো তুলে ধরুন না! সর্বদলীয় বৈঠকে ডাকা হলে তো তাঁরা কখনওই আসেন না। অথচ মমতা বন্দোপাধ্যায় যখন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ১৫০০ টাকা, তফসিলি দিদি-বোনেদের জন্য ১৭০০ টাকার ব্যবস্থা করছেন, তখন এই বিরোধীরাই বলছেন, ‘আমরা এলে ৩০০০ দেব, ৫০০০ দেব!’ এটা যদি উন্নয়ন না হয়, তবে তারা নিজেদের মতো অন্য উন্নয়ন করুন না! আসলে তাদের কাছে ক্ষমতা-প্রতিপত্তি থাকতে পারে, কিন্তু আমাদের কাছে আছে জনতা। ইনকাম ট্যাক্স, ইডি, সিআরপিএফ, সিআইএসএফ, এমনকী জাতীয় নির্বাচন কমিশনকেও তাঁরা কিনে নিয়েছেন। আমরা যদি মানুষ হিসেবে প্রশ্ন করি যে, মানুষই তোমাদের কেন্দ্রীয় সরকারে বসিয়েছে। যদি আমাদের ভোটের কোনও দাম না থাকে, তাহলে আপনারা রিজাইন করুন। আবার ফেয়ার ওয়েতে ভোট হোক। ‘আয়ুষ্মান ভারতে’র পিছনে হাজারটা টার্‌মস অ্যান্ড কন্ডিশনস। মোবাইল, ফ্রিজ, টিভি, রেফ্রিজারেটর, ল্যাপটপ থাকলে মানুষ এ সুবিধা পাবে না। তবে কি পথে বসা মানুষকে সুবিধা দিয়ে দেখাবেন যে তাঁরা মহৎ কাজ করছেন?

প্রশ্ন: টলিপাড়া থেকে প্রার্থীর সংখ্যা এবার খুব কম। অনেকেই প্রার্থী হবেন শোনা গেলেও শেষমেষ তাদের প্রার্থী করা হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী কি ভরসা হারিয়েছেন টলিপাড়ার উপর থেকে?
উত্তর: আমি এর উত্তর দেওয়ার কেউ নই। একান্তই মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্ত।
প্রশ্ন: আপনি একাধারে অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ। তাই আপনাকে এ প্রশ্ন করা।
উত্তর: রাজনীতিবিদ নই, শিখছি বলা চলে। এই সরকারের আমলে শিল্পীরা সম্মান পেয়েছেন। আগের ৩৪ বছরের অপশাসনকে বাদ দিয়ে অরাজনৈতিকভাবেও যদি উত্তর দিই, সে সময়ে ইন্ডাস্ট্রির জন্য কিছুই করা হয়নি। সবেই তখন চাইল্ড অ্যাক্টরের গণ্ডি ছাড়িয়ে বড় হয়েছি। চেষ্টা করছি, হিরো হব। সিরিয়ালে চান্স পাবো। দেখেছিলাম, প্রসেনজিত চট্টোপাধ্যায়, তাপস পাল, চিরঞ্জিত চক্রবর্তীরা লড়াই করছেন। কীসের বিরুদ্ধে জানেন? টেকনিশিয়ান স্টুডিওটা বেচে দেওয়া হচ্ছিল। আমি নিজে ভলেন্টিয়ার হিসেবে প্রচুর কাজ করেছি কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে। বুদ্ধদেববাবু সে সময় মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। সম্মান জানিয়েই বলছি, আমরা অভিনেতারা, যারা সারাদিন পরিশ্রম করতাম, আমাদের একটা পর্যায়ের পর আর আসতে দেওয়া হত না। আটকে দেওয়া হত। হয়তো তা-ই প্রোটোকল ছিল। কিন্তু যখন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভাল শুরু করেছেন, সমস্ত শিল্পীদের জন্য অবাধ দ্বার। এছাড়াও শিল্পীদের জন্য একের পর এক সম্মান— বঙ্গভূষণ, বঙ্গবিভূষণ, মহানায়ক অ্যাওয়ার্ড। এ সমস্তই তো আমাদের নেত্রী দিয়েছেন। শিল্পীরা তাই ওঁর প্রতি আস্থাশীল। তাই তিনি যখনই কোনও মিটিং-মিছিল অথবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করেছেন, সমস্ত শিল্পীমহল ওঁর পাশে দাঁড়িয়েছে। তাঁরা প্রত্যেকেই টিকিট পাচ্ছেন, এমনটা কেন মনে করছেন আপনারা?

প্রশ্ন: প্রত্যেকে টিকিট পাচ্ছেন, এমন দাবি আমরা করছি না। হয়তো শিল্পীদের কিছুজনেরও এমন ধারণা ছিল, যে তাঁরা টিকিট পাবেন।
উত্তর: তাঁদের ব্যক্তিগত ধারণা-প্রত্যাশা নিয়ে বলার আমি কেউ নই। আমি তো মনে করতেই পারি আমি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়ে যাব! নেত্রী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিচার করে যাকে টিকিট দেওয়ার কথা মনে করেছেন, সেই সিদ্ধান্ত আমরা মাথা পেতে নিয়েছি।

প্রশ্ন: আপনার দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চাই, লড়াই কি গতবারের তুলনায় এবারে একটু কঠিন? সে কারণেই ফুলটাইম পলিটিশিয়ানদের উপর আস্তা রাখছেন নেত্রী?
উত্তর: লড়াই সবসময় কঠিন। লড়াইকে যদি সহজ ভেবে নাও, প্রতিপক্ষকে সহজ ভেবে নাও, তবে তা সবথেকে বড় ভুল। আমি কিন্তু নিজের ব্যক্তিগত জীবনে একটা মশাকেও তুচ্ছ মনে করি না। ওভারকনফিডেন্সে ভোগাটা কখনওই উচিৎ নয়।

প্রশ্ন: দুই বা তারও বেশি দলের মধ্যে লড়াই, বিরোধীদের দিক থেকে মৌখিক আক্রমণ তো আসেই। ভাষা প্রয়োগের ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখা কতটা জরুরি বলে মনে করেন?
উত্তর: বিরোধিতা করো রাজনৈতিকভাবে, ব্যক্তিগতভাবে নয়। রাজনীতিতে তোমার কী কী ড্রব্যাক আছে আমি তুলে ধরবো। আমার ড্রব্যাক তুমি তুলে ধরো। ব্যক্তিগত পরিসরে বলার অধিকার তোমার, আমার কারওর নেই। বিজেপির র‍্যালি, মঞ্চে প্রায়শই আমাদের নেত্রীকে ব্যক্তিগতস্তরে অপমান করা হয়। বাংলার মনিষীদের কুরুচিকর অপমান করে যায় ওরা। আবার বলে, বাংলায় গণতন্ত্র নেই! এখন আমরা যদি বলি, ‘একটু বদলা চাই, বদল তো হবেই’, তাহলে তো আর গণতন্ত্রই থাকবে না! সোশাল মিডিয়ার কটাক্ষও একটি বড় বিষয়। যারা ভোটে দাঁড়াচ্ছে, সকলেই মানুষ। ভুল হতেই পারে। তাদের শুধরানোর জন্য যে-ভাষা প্রয়োগ করা হচ্ছে, সেখানে শালীনতার স্বাধীনতা অতিক্রম করে যাচ্ছে। কোথায় কী বলতে হয়, সেই শিক্ষাটা জরুরি।

প্রশ্ন: তৃণমূলের দলীয় নেতারাও একাধিকবার অশালীন শব্দ ব্যবহার করেছেন, মঞ্চে হোক বা অন্যান্য পরিসরে।
উত্তর: আমাদের দলের যে শৃঙ্খলা কমিটি আছে, তারা নিশ্চয়ই তাঁদেরকে সচেতন করেছেন। আমার সামনে এমন ঘটেনি, তাই বলতে পারবো না। যে নীতি নিয়ে আমাদের দল প্রতিষ্ঠিত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সী মহাশয়, অন্যান্য সিনিয়র নেতৃত্বরা রয়েছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই দেখছেন। এক ভুলের যেন পুনরাবৃত্তি না হয়, দল সবসময়েই সে চেষ্টা করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles