২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের সময়ে এই ১৫২টি আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৩ কোটি ৭৮ লক্ষ ১৫ হাজার ২৮৮ জন। তাঁদের মধ্যে ভোট দিয়েছিলেন ৩ কোটি ১৪ লক্ষ ৫৮ হাজার ১৪২ জন। পাঁচ বছর পেরিয়ে, এসআইআর-এর পরে প্রথম দফার এই আসনগুলিতে ভোটার হয়েছেন ৩ কোটি ৬০ লক্ষ ৭৭ হাজার ২৭৪ জন। তাঁদের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ভোট দিয়েছেন ৩ কোটি ৩৬ লক্ষ ২২ হাজার ১৬৮ জন। গত বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় এ বছরে এই ১৫২টি আসনে মোট ১৭ লক্ষ ৩৮ হাজার ০১৪ জন ভোটার কমেছে। তবে ২০২১ সালের ভোটের তুলনায় এ বারের নির্বাচনে ভোটদাতা বৃদ্ধি পেয়েছে ২১ লক্ষ ৬৪ হাজার ২৬ জন। কমিশনের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রথম দফায় ভোটদানের হার সবচেয়ে বেশি কোচবিহারে। সেখানে ৯৬.২০ শতাংশ ভোট পড়েছে। দার্জিলিং এবং কালিম্পং বাদে বাকি ১৪টি জেলাতেই ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। ভোটদাতার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বাঁকুড়ায়। সেখানে ২৭ লক্ষেরও বেশি ভোটার ভোট দিয়েছেন। প্রথম দফায় যে পরিমাণ ভোট পড়েছে, তা পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে সর্বকালীন রেকর্ড। অনেকেই মনে করছেন, ভোটদানের এই ‘অস্বাভাবিক’ হার বৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে এসআইআর। তবে এই এসআইআর শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষকে সুবিধা করে দেবে? এই ভোটারস্রোত কি শাসক তৃণমূলের পালে হাওয়া দেবে, নাকি বিজেপির? যুযুধান দুই পক্ষ তৃণমূল এবং বিজেপি ইতিমধ্যে ভোটদানের এই হারকে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করতে শুরু করেছে। উভয় পক্ষই দাবি করছে, তারা ১০০-র বেশি আসন জিতবে প্রথম দফার ভোট থেকে। ভোটদানের ‘রেকর্ড’ হার নিয়ে জোরালো আলোচনা, ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ চলছে সব শিবিরে। তবে শেষ পর্যন্ত এই ভোটদানের হার কাকে সুবিধা করে দিল, তা পরিষ্কার হবে ৪ মে, গণনার দিন। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটদানের চূড়ান্ত হার জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। ১৬ জেলার ১৫২ আসনে মোট ৩ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটার ভোটদান করেছেন। অর্থাৎ, ৯৩.১৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। ভোটার তালিকা অনুযায়ী গত বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় এই আসনগুলিতে ১৭ লক্ষ ভোটার কমলেও এ বার ভোটদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ২১ লক্ষেরও বেশি। এই তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, সাধারণত ভোট দেন না (নানা কারণে), বা দিতে পারেন না (নানা কারণে), এমন বহু মানুষ এ বার প্রথম দফায় ভোট দিয়েছেন। নতুন ভোটারেরা (প্রায় ৭ লক্ষ) প্রচুর ভোট দিয়েছেন ধরে নিলেও এই ইঙ্গিত স্পষ্ট।





