Friday, May 1, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

দু কোটি চাকরি হয়েছে বলে দাবি মমতার!‌ লাইনে দাঁড়িয়ে ওরা কারা?‌ ডাক্তারি ছাত্রও!‌ এম, এমবিএ, পিএইচডি পাশ করা যুবকেরা ১৫০০ টাকা ভাতার জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে

‘সরকার দিচ্ছে। পেলে ক্ষতি কী?’ কার্যত ‘বেকার ভাতা’ পেতে রাজ্যের শিক্ষিত যুবাদের এই ভিড় কীসের ছবি তুলে ধরে? রাজ্যের বেকার যুবকদের জন্য নতুন যুবসাথী প্রকল্প। মমতা সরকারের এই প্রকল্পের আওতায়, যোগ্য প্রার্থীরা প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের ফর্ম পূরণের জন্য রাজ্যজুড়ে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। কেউ এমএ পাশ। কেউ গবেষণা করছেন। ডাক্তারি কোর্স শেষে কেউ ইন্টার্ন। এমনকী, বেসরকারি সংস্থার কর্মীও রয়েছেন। সদ্য ঘোষিত ‘বাংলার যুবসাথী’ (Banglar Yuva Sathi) প্রকল্পের সুবিধে নিতে রবিবার শুরু হয়েছে ফর্ম বিতরণ। এমন বহু শিক্ষিত যুবক–যুবতীদের শিলিগুড়ি থেকে সুন্দরবনে লাইনে দাঁড়িয়ে ফর্ম তুলতে দেখা গিয়েছে। মাধ্যমিক পাশ করা ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সিরা বেকার হলেই এই সুবিধে পাবেন। আগামী পাঁচ বছর প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে এই প্রকল্প থেকে দেওয়া হবে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ইতিমধ্যেই যে মহিলাদের নাম নথিভুক্ত রয়েছে, তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধে নিতে পারবেন না। যুবসাথীর সঙ্গে কন্যাশ্রী–সহ রাজ্যের অন্য শিক্ষা–সংক্রান্ত প্রকল্পের বিরোধ নেই।

১৩ বছর আগে পলিটেকনিক কলেজ থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেও চাকরি পাননি ঝাড়গ্রামের এক ছাত্র বলছেন, ‘প্রতিটি আইটিআই কলেজ সরকার নিয়ন্ত্রিত হলে স্থায়ী কাজের ব্যবস্থা হতো। তা হলে এই লাইনে দাঁড়াতে হতো না।’ মেদিনীপুর শহরের লাইন থেকে এমএ পাশ করা এক ছাত্রী বলেন, ‘চাকরি নেই, পরীক্ষা নেই, বয়স বাড়ছে।’ ডেন্টালে ইন্টার্ন করা অসহায় ছাত্রী বলেন, ‘চাকরি পাবে কি না তার কোনও গ্যারান্টি নেই। আমরা জেনারেল ক্যাটিগরির। আরও পড়াশোনা করতে বিভিন্ন রকম ফর্ম ফিলআপ করতে টাকার প্রয়োজন।’ কলকাতার নামী ডেন্টাল মেডিক্যাল কলেজের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র বলছেন, ‘এই দেড় হাজার টাকায় আমার টিফিন খরচ হয়ে যাবে।’ ‘২০২৩–এ মাস্টার্সে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট, বিএড করা অসহায়ের কথায়, চাকরি কোথায়? বিভিন্ন পরীক্ষার ফি-ই এক হাজার টাকার বেশি। এই টাকা কাজে লাগবে। যুবসাথীর ১৫০০ টাকা দিয়ে ফোনের ইএমআই দেবেন। যত দিন না চাকরি পাওয়া যাচ্ছে, তত দিন আর্থিক সাহায্যের দরকার হয়। বিশ্বভারতী থেকে পিএইচডি করা ছাত্রের ভাষা। পশ্চিমবঙ্গে গত কতগুলি ভোটের হিসাবে স্পষ্ট, লক্ষ্মীর ভান্ডারের দৌলতে মহিলা ভোট মমতার দিকেই রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের অনেকের বক্তব্য, বোনেদের পরে এ বার ভাতার মাধ্যমে ভাইদেরও ছুঁতে চাইছেন দিদি। সাধারণ ভাবে যুবসাথী পুরুষ-মহিলা সকলের জন্য হলেও লাইনে প্রথম দু’দিনে পুরুষের সংখ্যাই বেশি। বয়সের মানদণ্ড বলে দিচ্ছে, মূলত তরুণ প্রজন্মের জন্যই এই প্রকল্প। যে বয়সের মধ্যে সাধারণ ভাবে স্থিতাবস্থা বিরোধিতার ঝোঁক থাকে সর্বোচ্চ। এ-ও প্রণিধানযোগ্য যে, এ বারের ভোটে তৃণমূলকে লড়াই করতে হবে ১৫ বছর সরকার চালানোর পরে স্বাভাবিক ভাবে তৈরি হওয়া স্থিতাবস্থা বিরোধিতা মোকাবিলা করেই। অর্থাৎ, স্থিতাবস্থার ‘বোঝা’ ঘাড়ে নিয়েই মমতা তথা তৃণমূলকে ভোটের ময়দানে নামতে হবে।

প্রশাসনিক মহলের আলোচনা হল এসআইআর। কেন? আধিকারিকদের একাংশের বক্তব্য, ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে যুবসাথী প্রকল্পে আবেদন নেওয়ার শিবির। আর ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআরের ভিত্তিতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে। নবান্ন এবং নব মহাকরণের অনেকের বক্তব্য, সরকার এমন একটা প্রক্রিয়া বার করতে চাইছে, যার ফলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম থাকবে, তাঁদের অ্যাকাউন্টেই যাতে যুবসাথীর অর্থ যায়। না হলে ‘উদ্দেশ্য’ সাধিত হবে না।বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘বেকার যুবকদের রবিবার সকাল থেকে উনি লাইনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। ২০২৩–এ ১৭ লক্ষ যুবক এমন ফর্ম ফিল–আপ করেছিলেন। কিন্তু কেউ টাকা পাননি। ২০২১–এ উনি ডাবল ডাবল চাকরি দেওয়ার কথা বলেছিলেন। হয়নি।’ সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর কথায়, ‘সরকার যে চাকরি দিতে ব্যর্থ, এটাই তার প্রমাণ। ভোট এসেছে, তাই টাকা দেওয়া হচ্ছে। ১৫০০ টাকার বদলে ১৫০০০ টাকার চাকরি পেলে মানুষের লাভ হতো।’ সরকারের হিসেব বলছে, প্রায় ৩০ লক্ষ যুবক–যুবতী এই প্রকল্পের সুবিধে পেতে পারেন। আগস্ট থেকে এই প্রকল্প চালুর কথা থাকলেও পরে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করে জানান, মার্চ থেকেই প্রকল্পের সুবিধে পাওয়া যাবে। ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে তার ফর্ম বিলি। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটের আগে রাজ্যের যুবকদের মন পেতেই এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে। ভোটের আগে এ হেন প্রকল্পকে প্রত্যাশিত ভাবেই কটাক্ষ করেছে বিজেপি। পদ্মশিবিরের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালের কথায়, ‘‘ভাতার জন্য এই বিশাল লাইন দেখিয়ে দিচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গকে কোন অবস্থায় নিয়ে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী! ভাবলেও বাঙালি হিসাবে লজ্জা হচ্ছে।’’ সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর কথায়, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী তো প্রায়ই বলেন, ডবল-ডবল চাকরি হয়েছে। ২ কোটি নাকি চাকরি দিয়েছেন উনি! যুবসাথীর লাইনে তা হলে কারা?’’ পাল্টা তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলছেন, ‘‘বিজেপি মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়েছিল নোটবন্দির নামে। বিজেপি মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়েছে এসআইআরের নামে। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকল্পে যুবক-যুবতীরা স্বপ্ন দেখে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন।’’ কিন্তু কর্মসংস্থানের সঙ্কট?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles