Friday, May 1, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

১০ মাসের শিশুর অঙ্গদানে বাঁচল পাঁচজন!‌ নজির সৃষ্টি করল আলিন শেরিন আব্রাহাম!‌ সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল

অঙ্গদানের যে কোনও ধরাবাঁধা বয়স নেই, সেই বার্তাই দিয়েছে কেরলের পাঠানমথিট্টার মল্লাপ্পালির বাসিন্দা ছোট্ট আলিন। মাত্র দশ মাস আগে সে পৃথিবীতে এসেছিল। কেরলের সেই শিশুর অঙ্গদানে নতুন জীবন পেল পাঁচ জন। যারা এই নবজীবন পেয়েছে তাদের মধ্যে আছে ৬ মাস বয়সি এক শিশু। কেরল তথা গোটা দেশে অঙ্গদানের নয়া নজির সৃষ্টি করল আলিন শেরিন আব্রাহাম। সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে এই সংবাদ। একসঙ্গে বেদনা ও আনন্দে হতবাক নেটপাড়া। অঙ্গদানের যে কোনও ধরাবাঁধা বয়স নেই, সেই বার্তাই দিয়েছে কেরলের পাঠানমথিট্টার মল্লাপ্পালির বাসিন্দা ছোট্ট আলিন। গত ৫ ফেব্রুয়ারি মা এবং দাদুদের সঙ্গে কোট্টায়াম থেকে তিরুভাল্লা যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয় দশ মাসের শিশু। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মায়ের মতোই তাকেও হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। শুক্রবার তার ‘ব্রেন ডেথ’ হয়। তীব্র শোকের মধ্যেও আলিনের অঙ্গদান করার সিদ্ধান্ত নেন বাবা অরুণ আব্রাহাম এবং মা শেরিন আন জন। এরনাকুলামের হাসপাতালে তার যকৃৎ (লিভার), কিডনি, চোখের মণি, হার্টের ভাল্ভও দান করা হয়। যকৃৎ পেয়েছে তিরুঅনন্তপুরমের কেআইএমএস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৬ মাস বয়সি একটি শিশু। ওই হাসপাতালেরই একটি শিশুকে দেওয়া হচ্ছে আলিনের কিডনি। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর সোশাল মিডিয়ায় আলিনের মা-বাবাকে কুর্নিশ জানাচ্ছে নেটিজেনরা। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীণা জর্জও। নেটিজেনরা বলছেন, আলিন মা-বাবা প্রমাণ করলেন শোকের চেয়েও বড় মানবিকতা। কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, আলিনকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

পাথানামথিত্তার একটি গির্জার বাইরে আলিনের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। কেরল পুলিশের তরফে দেওয়া হয় গার্ড অফ অনার। উপস্থিত ছিলেন কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীনা জর্জ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুরেশ গোপী। ৫ ফেব্রুয়ারি মা এবং দাদু-ঠাকুমার সঙ্গে গাড়িতে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ১০ মাসের ওই একরত্তি। উল্টো দিক থেকে আসা একটি গাড়ি আলনদের গাড়িতে ধাক্কা মারে। গুরুতর আহত অবস্থায় আলিন এবং তার সঙ্গে থাকা সকলকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তার মা এবং দাদু-দিদা সুস্থ হয়ে উঠলেও তার শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়ে যাওয়া হয় কোচিতে। যদিও চিকিৎসকদের চেষ্টা ব্যর্থ করে ১২ ফেব্রুয়ারি মৃত্যু হয়। আলিনের মৃত্যুর পরেই অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নেন তার বাবা-মা। কোচি থেকে অঙ্গ নিয়ে যাওয়া হয় ২৩০ কিলোমিটার দূরের তিরুঅনন্তপুরমে। রাতে কপ্টার ওড়ানোর অনুমতি না-মেলায় বিশেষ বন্দোবস্ত করে মাত্র ৩ ঘণ্টা ২০ মিনিটে কোচি থেকে তিরুঅনন্তপুরমে পৌঁছোয় অ্যাম্বুল্যান্স। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, আলিনের যকৃৎ ছ’মাসের এক শিশুর শরীরে প্রতিস্থাপিত করা হয়েছে। কিডনি প্রতিস্থাপিত করা হয়েছে ১০ বছরের এক শিশুর দেহে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles