স্কটল্যান্ড: ১৫২ (বেরিংটন ৪৯, মাইকেল জোনস ৩৩)
ইংল্যান্ড: ১৫৫-৫ (ব্যান্টন ৬৩, বেথেল ৩২)
ইংল্যান্ড পাঁচ উইকেটে জয়ী
অবাক করল ইডেন। শনিবার ইংল্যান্ড বনাম স্কটল্যান্ড ম্যাচ মাঠে বসে দেখলেন ৩৪ হাজার দর্শক। ভারতের ম্যাচ তো নয়ই, দু’টি দলের একটি ইংল্যান্ড হলেও অন্য দলটি স্কটল্যান্ড। ফলে ৬৭ হাজারের ইডেনে এই দর্শকসংখ্যা তাক লাগানোর মতোই। বাংলার ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা সিএবি সরকারি ভাবে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত যা হিসাব দিয়েছে, তাতে ইংল্যান্ড-স্কটল্যান্ড ম্যাচের দর্শকসংখ্যা ৩৪,০১৯। এখনও পর্যন্ত এ বারের বিশ্বকাপে যে ক’টি ম্যাচের দর্শক উপস্থিতির সরকারি হিসাব পাওয়া গিয়েছে তাতে ভারতের ম্যাচ বাদ দিলে সবচেয়ে বেশি দর্শক হয়েছে শনিবারের ইডেন ম্যাচেই। মূলত তিনটি কারণে শনিবারের ম্যাচে এত দর্শক হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রথমত, শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় অনেকেই খেলা দেখতে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। দ্বিতীয়ত, বিকেল ৩টে থেকে খেলা। ফলে খেলা শেষ হতে মোটামুটি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা। তখন ইডেন বা ধর্মতলা থেকে দর্শকদের বাড়ি ফেরাটা কোনও সমস্যাই নয়। কলকাতার মধ্যে কোনও জায়গা হলে অনায়াসেই ওই সময়ে পৌঁছে যাওয়া যায়। এমনকি মফস্বল থেকে আসা দর্শকদেরও ফেরা অসুবিধার নয়। কারণ, তখন হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে যেকোনও শাখায় ট্রেন পাওয়া যায়। শেষ যে কারণটি জানা যাচ্ছে, তা হল, স্কটল্যান্ডের পরিবর্তে এই ম্যাচে বাংলাদেশের খেলার কথা ছিল। সে ক্ষেত্রে ইংল্যান্ড বনাম বাংলাদেশ অবশ্যই আকর্ষণীয় ম্যাচ। অনেকেই বাংলাদেশের ম্যাচ হিসাবে আগে থেকে টিকিট কেটে রেখেছিলেন। বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তার পরিবর্তে স্কটল্যান্ড সুযোগ পায়। বাংলাদেশ খেলতে না এলেও অফেরৎযোগ্য সেই টিকিট দর্শকদের কাছে থেকেই যায়। ফলে খানিকটা বাধ্য হয়েই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে ইডেনে গিয়েছেন তাঁরা। কেউ কেউ বলছেন, যতই হোক, বিশ্বকাপের ম্যাচ মাঠে বসে দেখেছি— এটা তো গর্ব করে বলতে পারব। ইডেনে এ বারের বিশ্বকাপে এটি তৃতীয় ম্যাচ। ৭ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধনী দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ় বনাম স্কটল্যান্ড ম্যাচে ১৮,১১৪ জন দর্শক হয়েছিল। এরপর ৯ ফেব্রুয়ারি স্কটল্যান্ড বনাম ইটালি ম্যাচে ইডেনে লোক হয়েছিল ৬,৯২৮। মনে রাখতে হবে সে দিন সোমবার ছিল এবং খেলা ছিল সকাল ১১টায়। তার উপর দল দু’টি নিয়ে আগ্রহ না থাকাই স্বাভাবিক। ভারতের ম্যাচ বাদ দিলে শনিবার ইডেনের ম্যাচ দর্শকসংখ্যায় সকলের উপরে। এর পর রয়েছে চেন্নাইয়ে আফগানিস্তান বনাম নিউ জ়িল্যান্ড ম্যাচ (২৪,৯৯১), মুম্বইয়ে ইংল্যান্ড বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ম্যাচ (২১,৫৭৭), চেন্নাইয়ে নিউ জ়িল্যান্ড বনাম আমিরশাহি ম্যাচ (১৯,৬২৩), মুম্বইয়ে ইংল্যান্ড-নেপাল ম্যাচ (১৯,৩৬৯), চেন্নাইয়ে নেদারল্যান্ডস-আমেরিকা (১৮,৯৫৫)।

বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত ইংরেজদের পারফর্ম আহামরি নয়। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ড নেপালের সঙ্গে কোনওক্রমে জিতেছে। দ্বিতীয় ম্যাচে তারা হেরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। শনিবার তৃতীয় ম্যাচেও জয় এল বহু কষ্টে। তবে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই ৫ উইকেটের জয় বিশ্বকাপের পরের রাউন্ডে যাওয়াটা সুগম করে দিল হ্যারি ব্রুকদের। ইডেনে টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইংরেজরা। প্রথমে ব্যাট করে স্কটল্যান্ড তোলে ১৫২ রান। ইনিংসের শুরু থেকেই নিয়মিত সময়ের ব্যবধানে উইকেট খোয়াই স্কটিশরা। একমাত্র অধিনায়ক বেরিংটন এবং মাইকেল জোনস ছাড়া আর কেউ সেভাবে প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। বেরিংটন ৩২ বলে ৪৯ এবং জোনস ২০ বলে ৩৩ রান করেন। ইংল্যান্ডের হয়ে আদিল রশিদ ৩ উইকেট পান। মাত্র ১৫৩ রানের টার্গেট। ইডেনের পিচে টুকটাক ঘূর্ণি থাকলেও ইংল্যান্ডের ব্যাটিং বিভাগের পক্ষে এই রান তোলাটা চাপের ব্যাপার হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু ইংরেজরা সহজ কাজটা সহজে করতে পারলেন না। মাত্র ১৩ রানে দুই ওপেনারকে হারিয়ে ভালোরকম চাপে পড়ে যায় তাঁরা। শুরুর দিকে সেভাবে রানও উঠছিল না। ফলে পাহাড়প্রমাণ চাপে পড়ে যায় ইংল্যান্ডের ব্যাটিং বিভাগ। যদিও এরপর প্রতিরোধ শুরু করেন জেকব বেথেল এবং টম ব্যান্টন। তাঁদের জুটিতে ৬৬ রান তুলে সমীকরণ সহজ করে দেয়। বেথেল ৩৩ রানে আউট হলেও ব্যান্টন অনবদ্য হাফসেঞ্চুরি করেন। বেথেলের উইকেটের পর দ্রুত ফিরে যান অধিনায়ক ব্রুকও। ফলে ফের চাপে পড়ে ইংল্যান্ড। স্যাম কারান শেষদিকে ২০ বলে ২৮ রানের ইনিংস না খেললে শনিবারের ইডেনে অঘটন ঘটতেই পারত। শেষ পর্যন্ত তেমন কিছু হয়নি। ইংল্যান্ড ম্যাচটি জিতল ৫ উইকেটে। স্কটল্যান্ড এই বিশ্বকাপে এসেছে বাংলাদেশের বদলি হিসাবে। সেভাবে কোনওরকম প্রস্তুতি ছাড়াই। তারপরও যেভাবে একের পর এক ম্যাচ তারা লড়াই করছে, সেটা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে কষ্টার্জিত হলেও এদিনের জয় ইংল্যান্ডের জন্য স্বস্তির। এই জয়ের ফলে পরের রাউন্ডের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেল ইংরেজরা।





