Thursday, April 23, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বিশ্বকাপের ম্যাচেও ইডেন গার্ডেন্সের গোটা স্টেডিয়াম কার্যত জনশূন্য!‌ দর্শকদের ভিড় নেই,কোনও উদ্দীপনা নেই!‌ লজ্জার হাত থেকে রেহাই পাকিস্তানের!

বিশ্বকাপের ম্যাচ চলছে অথচ দর্শকদের ভিড় নেই, কোনও উদ্দীপনা নেই। যতই ভারত না খেলুক, ক্রীড়াপ্রেমী এই শহরে এ ছবি শুধু অনভিপ্রেত নয়, অপ্রত্যাশিতও। সিএবিতে খোঁজ নিয়ে জানা গেল প্রথম ম্যাচের জন্য হাজার তিনেকের কাছাকাছি টিকিট বিক্রি হয়েছে। পরের ম্যাচগুলির পরিস্থিতি আরও খারাপ। হয়তো ছবিটা এমন হত না। যদি এই ম্যাচ আসলে যাঁদের খেলার কথা ছিল সেই বাংলাদেশ বিশ্বকাপ বয়কট না করত। ইডেন গার্ডেন্সে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ। অথচ গোটা স্টেডিয়াম কার্যত জনশূন্য। সেই খাঁ খাঁ মাঠেই শুরু হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম স্কটল্যান্ডের ম্যাচ। প্রথম ম্যাচে টস জিতে শুরুতে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিল স্কটল্যান্ড। অতীতে এই শহরে বাংলাদেশের ম্যাচে হাজার হাজার দর্শকের ভিড় ক্রিকেটদুনিয়া দেখেছে। ওপার থেকে যেমন দর্শক এসেছেন, এপারের বহু মানুষও ওপার বাংলার বাঙালিদের সমর্থন করেছে। সেটা ভেবেই হয়তো আইসিসি বাংলাদেশের ম্যাচগুলি ইডেনে রেখেছিল। কিন্তু বিধি বাম। স্রেফ ইগোর কারণে মেগা টুর্নামেন্ট বয়কট করে সেসব পরিকল্পনা ভেস্তে দিল বিসিবি। যদিও এতে বিশ্বকাপ যতটা না জৌলুস হারিয়েছে, তার চেয়ে বেশি জৌলুস হারাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট। কারণ বাংলাদেশের বদলে যে স্কটল্যান্ড বিশ্বকাপে সুযোগ পাচ্ছে তাদের দর্শক সংখ্যা ততটা বেশি নয় ঠিকই কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে তারা কম কিছু নয়।

অন্তত শেষ ৩ বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সের নিরিখে বাংলাদেশকে টেক্কাই দিয়েছে স্কটিশরা। শেষ তিন বিশ্বকাপে বাংলাদেশ যেখানে মোটে ৭ ম্যাচ জিতেছে, সেখানে স্কটিশরা জিতেছে ৬ ম্যাচ। এর মধ্যে আবার ইংল্যান্ড, আজকের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ে জয়ও রয়েছে। অতীতের সেই গৌরবের ইতিহাসই অনুপ্রেরণা দিচ্ছে স্কটল্যান্ডকে। এদিন টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্কটিশ অধিনায়ক রিচি বেরিংটন। তিনি বলেন, “হঠাৎ এই সুযোগ এসে যাওয়াটা চ্যালেঞ্জিং বটে। তবে আমরা প্রস্তুত। এই সুযোগ কাজে লাগাতে চাই।” চার বছর আগে হোবার্ট ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর স্মৃতিই যে তাঁদের অনুপ্রেরণা, সেটাও বুঝিয়ে দিয়েছেন বেরিংটন। অবশ্য ইডেনে ভালো স্মৃতি ওয়েস্ট ইন্ডিজেরও আছে। ১০ বছর আগে এই মাঠেই বিশ্বসেরা খেতাব উঠেছিল তাঁদের মাথায়। সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তির ব্যাপারে তারা আত্মবিশ্বাসী।

ওদিকে, লজ্জার হাত থেকে কোনও মতে রেহাই পেল পাকিস্তান! বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই হারতে হারতে বাঁচল নেদারল্যান্ডসের কাছে। জয় দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু করল পাকিস্তান। নেদারল্যান্ডসকে হারাতে সলমন আলি আঘার দলকে অবশ্য যথেষ্ট লড়াই করতে হল। প্রথমে ব্যাট করে ১৯.৫ ওভারে ১৪৭ রান করে নেদারল্যান্ডস। জবাবে ১৯.৩ ওভারে ৭ উইকেটে ১৪৮ রান পাকিস্তানের। ব্যর্থ সলমন, বাবর আজ়ম। চাপের মুখে ব্যাট হাতে জেতালেন ফাহিম আশরফ। ভারত ম্যাচ বয়কট করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে পাকিস্তান। তবে প্রথম ম্যাচেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে গেল সলমনের দল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন সলমন। প্রথমে ব্যাট করার সুযোগ সে ভাবে কাজে লাগাতে পারেনি নেদারল্যান্ডস। শুরুতেই আউট হয়ে যান ওপেনার ম্যাক্স ও ডাওদ (৫)। অন্য ওপেনার মাইকেল লেভিট এবং তিন নম্বরে নামা ব্যাস ডে লিড পরিস্থিতি সামলান। লেভিট করেন ১৫ বলে ২৪। লিডের ব্যাট থেকে এসেছে ২৫ বলে ৩০। তবে ইনিংসে সর্বোচ্চ রান অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডসের। পাঁচ নম্বরে নেমে ২৯ বলে ৩৭ রান করেন। এ ছাড়া বলার মতো রান কলিন অ্যাকেরম্যানের ১৪ বলে ২০। পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে সফলতম সলমন মির্জা ২৪ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন। ৭ রানে ২ উইকেট সাইম আয়ুবের। ২৩ বলে ২ রান আবরার আহমেদের। ৩৮ বলে ২ উইকেট মহম্মদ নওয়াজের। প্রত্যাশা অনুযায়ী বল করতে পারলেন না শাহিন আফ্রিদি। ৩ ওভার বল করে ২৮ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছেন পাক জোরে বোলার।

জয়ের জন্য ১৪৮ রান তাড়া করতে নেমে চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। এক সময় ১১৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল সলমনদের ইনিংস। শুরুটা খারাপ করেননি দুই ওপেনার সাহিবজ়াদা ফারহান এবং সাইম। ফারহান করেন ৩১ বলে ৪৭। ৪টি চার এবং ২টি ছয় মারেন তিনি। সাইম করেন ১৩ বলে ২৪। ওপেনিং জুটি ভাঙার পর নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারায় পাকিস্তান। সলমন (১২), বাবর (১৫), উসমান খান (শূন্য), শাদাব খান (৮), মহম্মদ নওয়াজ়েরা (৬) দলকে ভরসা দিতে পারেননি। এক সময় ওভার প্রতি প্রায় ১৩ রান দরকার ছিল পাকিস্তানের। ম্যাচের রং বদলে দেয় পাকিস্তানের ইনিংসের ১৯তম ওভার। লোগান ভ্যান বিকের ওই ওভারে ২৮ রান তুলে ম্যাচ বের করলেন আশরফ। ওই ওভারে ৩টি ছয় এবং ১টি চার মারেন তিনি। তবে দ্বিতীয় বলে তাঁর দেওয়া ক্যাচ ডাওদ ফেলে না দিলে ম্যাচের ফল অন্য রকম হতে পারত। আশরফ শেষ পর্যন্ত ১১ বলে ২৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। ২টি চার এবং ৩টি ছয় এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে। তাঁর সঙ্গে ২২ গজে ছিলেন শাহিন (৯ বলে অপরাজিত ৫)। নেদারল্যান্ডসের সফলতম বোলার পল ভ্যান মিকিরিন ২০ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন। ৩৩ রানে ২ উইকেট আরিয়ান দত্তের। ১টি করে উইকেট পেয়েছেন বিক, কাইল ক্লেইন, রোলফ ভ্যান ডার মেরউই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles