চাপ বজায় রাখতে পারল না বাংলা। টসে জিতে তিন পেসারে নেমেছিল বাংলা। শুরুতে উইকেটও তুলে নিয়েছিল। তবু গোটা দিনে সেই চাপ বজায় রাখতে পারল না বাংলা। কল্যাণীতে রঞ্জি ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম দিনের শেষে তাই লড়াইয়ে থাকল দুই দলই। রিকি ভুইয়ের ইনিংসে পাল্টা প্রতিরোধ গড়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ। প্রথম দিনের শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৬৪ রান তুলেছে তারা। দ্বিতীয় দিনে তিনশোর মধ্যে বিপক্ষকে বেঁধে রাখতে না পারলে চাপে পড়তে পারে বাংলা। কারণ পাঁচ দিনের খেলায় বড় স্কোর উঠে গেলে পরের দিকে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। বাংলার পেসত্রয়ী মুকেশ কুমার, আকাশ দীপ এবং মহম্মদ সামি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিপক্ষকে ধাক্কা দিয়েছে। ফলে পুরোপুরি ম্যাচ থেকে কখনওই হারিয়ে যায়নি বাংলা। ১৮ ওভার বল করে ৫০ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন মুকেশ, যাঁর এই ম্যাচে খেলা নিয়েই প্রশ্ন ছিল। তাঁকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে বুদ্ধি করে ব্যবহার করেছেন অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ। অন্ধ্রের তিন প্রধান ক্রিকেটার শ্রীকর ভরত (৪৭), শেখ রশিদ (৪৬) এবং নীতীশ কুমার রেড্ডিকে (৩৩) আউট করেছেন মুকেশ। ৩৮ রানের মাথায় ক্যাচ পড়ে ভরতের। তিনি ওপেনিংয়ে ৫৮ রানের জুটি অভিষেক রেড্ডির (১৮) সঙ্গে। অর্ধশতরানের আগেই ফিরে যান ভরত। এর পর রশিদের সঙ্গে জুটি গড়েন রিকি। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর রশিদকে ফেরান মুকেশ। ১৪৭ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে এক সময়ে চাপে ছিল অন্ধ্র। তখন দলের হাল ধরে রিকি পঞ্চম উইকেট নীতীশের সঙ্গে ১০৮ রানের জুটি গড়েন। বাংলা পর পর দু’টি উইকেট ফেলে দেয়। ৭৭তম ওভারের শেষ বলে আকাশ দীপ (২/৬৪) আউট করেন রিকিকে। তিন বল পরে মুকেশ তুলে নেন নীতীশকে। সামি আউট করেন জ্ঞানেশ্বরকে।
ভারতীয় বোর্ড ক্রিকেটারদের বার্ষিক চুক্তিতে ব্যাপক রদবদল নিয়ে আসতে চলেছে। চুক্তি থেকে যে ‘এ প্লাস’ গ্রেড তুলে দেওয়া হচ্ছে, সেটা আগেই শোনা যাচ্ছিল। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা দুজনেই এর আগে সেই গ্রেডে ছিলেন। তবে বিরাট আর রোহিত এখন আর দুটো ফরম্যাটে খেলেন না। টেস্ট আর টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছেন। বার্ষিক চুক্তিতে বিরাট আর রোহিতকে কোন গ্রেডে রাখা হবে, সেটা নিয়ে জল্পনা চলছিল। ভারতীয় বোর্ডের সূত্রের যা খবর, তাতে এই দু’জন মহাতারকাকে ‘এ’ গ্রেডেও রাখা হচ্ছে না। দুজনেই থাকবেন ‘বি’-তে। ভারতীয় ক্রিকেটের দুই মহাতারকাকে কোন গ্রেডে রাখা হবে, সেটা নিয়ে বোর্ড কর্তাদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় দুই ক্রিকেটারকে রাখা হবে ‘বি’ গ্রেডে।
গ্রেড ‘এ’
শুভমান গিল, জশপ্রীত বুমরা, রবীন্দ্র জাদেজা।
গ্রেড ‘বি’
রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, সূর্যকুমার যাদব, ওয়াশিংটন সুন্দর, কেএল রাহুল, হার্দিক পাণ্ডিয়া, মহম্মদ সিরাজ, ঋষভপন্থ, কুফলদীপ যাদব, যশস্বী জয়সওয়াল।
গ্রেড ‘সি’
রুতুরাজ গায়কোয়াড়, অক্ষর প্যাটেল, তিলক বর্মা, রিঙ্কু সিং, শিবম দুবে, সঞ্জু স্যামসন, অর্শদীপ সিং, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, আকাশ দীপ, ধ্রুব জুরেল, হর্ষিত রানা, বরুণ চক্রবর্তী, নীতীশ রেড্ডি, অভিষেক শর্মা, সাই সুদর্শন, রবি বিষ্ণোই।
গ্রেডেশনের দিক থেকে বিরাট-রোহিতকে ছাপিয়ে গিয়েছেন শুভমান গিল। ‘এ’ গ্রেডে থাকছেন শুধু তিনজন ক্রিকেটার। তাঁরা হলেন গিল, জশপ্রীত বুমরাহ আর রবীন্দ্র জাদেজা। গিল এখন টেস্ট আর ওয়ানডে অধিনায়ক। বুমরাহ সব ফরম্যাট খেলছেন। জাদেজা টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিলেও টেস্ট আর ওয়ান ডেতে রয়েছেন। তাই শুধু এই তিনজন ক্রিকেটারকে ‘এ’ গ্রেডে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরকারিভাবে ঘোষণা হতে এখনও কিছুটা সময় বাকি। তবে বিরাট আর রোহিত-দুজনকেই যে ‘বি’ গ্রেডে রাখা হচ্ছে, সেই সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে। টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব রয়েছেন ‘বি’ ক্যাটাগরিতে। যেহেতু তিনি শুধু একটা ফরম্যাট খেলছেন। ওই গ্রুপে রয়েছেন হার্দিক পাণ্ডিয়া, লোকেশ রাহুল, ঋষভ পন্থরা। শ্রেয়স আইয়ারও রয়েছেন ওই একই গ্রুপে। তিরিশ জন ক্রিকেটারকে বোর্ডের বার্ষিক চুক্তিতে রাখা হয়েছে। যে তালিকায় মহম্মদ শামির নাম নেই। বাংলা থেকে শুধুই রয়েছে আকাশ দীপের নাম। আকাশকে রাখা হয়েছে ‘সি’ গ্রুপে। তিলক বর্ম থেকে শুরু করে অক্ষর প্যাটেল, বরুণ চক্রবর্তীরাও সবাই রয়েছেন ‘সি’ গ্রুপেই।
মহিলা ক্রিকেটারের বার্ষিক চুক্তির গ্রেডেশনও ঠিক হয়ে গিয়েছে। সদ্য বিশ্বকাপ জিতেছেন হরমনপ্রীত কউররা। সেখানেও ‘এ’ গ্রেডে রাখা হয়েছে চারজনকে। বাংলা থেকে বি গ্রেডে রয়েছেন শুধু রিচা।
গ্রেড ‘এ’
হরমনপ্রীত কউর, স্মৃতি মান্ধানা, জেমিমা রডরিগেজ, দীপ্তি শর্মা।
গ্রেড ‘বি’
রেণুকা ঠাকুর, শেফালি বর্মা, রিচা ঘোষ ও স্নেহ রানা।
গ্রেড ‘সি’
রাধা যাদব, আমনজোত কউর, প্রতীকা রাওয়াল, ক্রান্তি গৌর, উমা ছেত্রী, অরুন্ধতী রেড্ডি, শ্রী চরণি, যস্তিকা ভাটিয়া, হার্লিন দেওয়ল, কাশভি গৌতম, জি কমলিনী, বৈষ্ণবী শর্মা, ভেজাল হাসাবনিস।





