বিরিয়ানির দোকানে দুই মত্ত খরিদ্দারের গোলমালে অশান্ত হাওড়ার টিকিয়াপাড়ার এলাকা। রবিবার রাতে ইটবৃষ্টি, বোমাবাজির অভিযোগ এলাকায়। ভাঙচুর করা হয় কয়েকটি বাড়িতে। অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। বিরিয়ানি নিয়ে বচসা থেকে টিকিয়াপাড়ায় দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ, মুহুর্মুহু বোমাবাজিতে আতঙ্ক ছড়ায় এলাকায়। ‘জীবনে ভাত, ডাল আর বিরিয়ানির তফাৎটা বুঝতে শেখো…’ এক সিনেমায় বলেছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। খুব ভেবেচিন্তে বাঙালি পেটুকদের কথা মাথায় রেখেইসংলাপ লেখা হয়েছিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিরিয়ানি, বিশেষ করে কলকাতা বিরিয়ানি প্রত্যেক বাঙালির কাছে একটা ইমোশন। সেই ইমোশনে আঘাত লাগলে ঠিক কতদূর পর্যন্ত কেউ যেতে পারে, তা প্রমাণ করল টিকিয়াপাড়ার ঘটনা। রবি রাতে বিরিয়ানি কেনা নিয়ে বচসা হয় টিকিয়াপাড়ার একটি দোকানের সামনে। ক্রমেই তর্ক-বিতর্কতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। রাতভর চলে বোমাবাজি। ২ জন জখম হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরে পুলিশ এলাকায় পৌঁছয়, নামানো হয় ব়্যাফও। বোমাবাজির নেপথ্যে কারণ শুনে তাজ্জব স্থানীয়রা। বিরিয়ানি নিয়ে এমন পরিস্থিতি হতে পারে, কল্পনাও করতে পারছেন না তাঁরা। অনেকেই বলছেন, বিরিয়ানিই তো, তার জন্য বোমাবাজি! বিরিয়ানি কেনা নিয়ে এলাকারই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ঝামেলা বাধে। হুমকি-পাল্টা হুমকিতে পরিস্থিতি বিগড়ে যায়। হাতের বাইরে চলে গেলে এলাকারই কেউ পুলিশে খবর দেন। কারা এই ঘটনায় যুক্ত, তা এখনও জানা যায়নি। বিরিয়ানির দোকানের তরফেও কিছু বলা হয়নি। শেষ পাওয়া খবর পর্যন্ত, এনিয়ে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। বিরিয়ানি নিয়ে এমন আরেক ঘটনা কিছুদিন আগে সামনে এসেছিল। এক যুবক বিরিয়ানি বেশি খেয়ে নেওয়ার জন্য স্ত্রীর মাথা দেওয়ালে ঠুকে দেন। পরে তরুণী গিয়ে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন এবং সেনিয়ে তদন্তে নেমে চমকে যান আধিকারিকরা। বিরিয়ানি এত বড় কোনও ঝামেলার কারণ হতে পারে, তা বুঝে উঠতে পারছিলেন না। ডাল-ভাত নেসেসিটি আর বিরিয়ানি লাক্সারি। এই লাক্সারি জিনিসপত্র ক্ষণিকের তাই এতে আঘাত হানলেই কী চরম তার পরিণতি হতে পারে, টিকিয়াপাড়ার ঘটনা তার প্রমাণ।
সারা বছরের বিভিন্ন কূটকচালির মধ্যে গোটা ভারত একটি ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ ছিল, আর তাহল বিরিয়ানি। ফেলে আসা বছরে পেটুক মহারাজদের পাকস্থলি কীসে মজে রইল একনজরে চেখে দেখা যাক। দুপুর বা রাতের ভরপেট খাওয়ার জন্য ভারতবাসীর পছন্দের তালিকায় ছিল বিরিয়ানি থেকে মধ্যরাতের বার্গার পার্টি। তেমনই বিকেলের জলখাবারে চিরাচরিত চা-সামোসা। এছাড়াও চকোলেট কেক এত সহজে কেউ ছেড়ে দেবে, তা কী করে ভাবা যায়! দেশের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ফুড ডেলিভারি অ্যাপের হিসাব অনুযায়ী, তাদের কাছে বিদায়ী বছরে যেসব খাবারের অর্ডার এসেছে তার একটি তালিকা প্রকাশ হয়েছে। ২০২৫ সালে এই সংস্থার কাছেই ৯.৩ কোটি প্লেট বিরিয়ানি অর্ডার করা হয়েছে অনলাইনে। যার অর্থ দেশে প্রতি মিনিটে ১৯৪ প্লেট বিরিয়ানি অর্ডার হয়েছে এবং প্রতি সেকেন্ডে ৩.২৫ প্লেট। এতে রাজ করেছে চিকেন বিরিয়ানি। মাটনের সঙ্গে পাল্লা দৌড়ে চিকেনের অর্ডার হয়েছে ৫.৭৭ কোটি। ফের অর্ডার করার দৌড়েও এগিয়ে রয়েছে মুরগি। বিরিয়ানির পরে সর্বাধিক অর্ডার হয়েছে বার্গার। ২০২৫ সালে এই কোম্পানিতেই ৪.৪২ কোটি বার্গার অর্ডার হয়েছে। তারপরেই রয়েছে পিৎজা। ৪.০১ কোটি অর্ডার হয়েছে। ভেজ ধোসার অর্ডার হয়েছে ২.৬২ কোটি। দুপুর ৩টে থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে জলখাবার ও মুখরোচকের শীর্ষে দেখা যাচ্ছে, বার্গার রয়েছে। যার মধ্যে প্রথম স্থানে চিকেন বার্গার বিক্রি হয়েছে ৬৩ লক্ষ এবং ভেজ বার্গার ৪২ লক্ষ। তারপরে রয়েছে চিকেন রোল (৪.১ মিলিয়ন), ভেজ পিৎজা (৩.৬ মিলিয়ন) এবং চিকেন নাগেটস (২.৯ মিলিয়ন)।
চা-সামোসা এবারেই বেশ শক্তিশালী জায়গায় রয়েছে। সামোসা বিক্রি হয়েছে ৩.৪২ মিলিয়ন এবং আদ্রক চা অর্ডার হয়েছে ২.৯ মিলিয়ন। কেকের মধ্যে আদরের উঁচুতলায় ছিল চকোলেট কেক। চকোলেট কেকের অর্ডার সংখ্যা ৬.৯ মিলিয়ন এবং গুলাব জামুন ৪.৫ মিলিয়ন। দেশী মিষ্টির মধ্যে কাজু বরফি ২০ লক্ষ এবং বেসন লাড্ডু ১৯ লক্ষ অর্ডার হয়েছে। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বিক্রি হওয়া খাদ্যতালিকা
ব্রেকফাস্ট- ইডলি ১১ মিলিয়ন, ভেজ ধোসা ৯.৬ মিলিয়ন, পুরি-সবজি ১.২৬ মিলিয়ন ও আলু পরোটা ১.২৫ মিলিয়ন।
রাত ১২টা থেকে ২টো পর্যন্ত- চিকেন বার্গার, চিকেন বিরিয়ানি, ভেজ বার্গার, ভেজ পিৎজার সঙ্গে যুগলবন্দি বেঁধেছে চকোলেট ওয়াফেলস, চকোলেট কেক ও হোয়াইট চকোলেট কেক। উৎসবকালীন খাবারের মধ্যে গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে অর্ডার হয়েছে ২.২৮ মোদক। নবরাত্রিতে ৯৯,২০০ প্লেট সাবুদানা খিচুড়ি, একলক্ষের বেশি ব্রত থালি। ৭০,০০০ সাবুদানা বড়া। অষ্টমীতে ঘণ্টায় ২.২ লক্ষ অর্ডার এসেছে এই ফুড ডেলিভারি সংস্থায়। স্বাধীনতা দিবসে চিকেন বিরিয়ানির গলায় ঝুলেছে শ্রেষ্ঠত্বের পদক। রাখিতে প্রতি মিনিটে ডিনার অর্ডার হয়েছে ৪,৬৫০। দেওয়ালিতে ১.৭ মিলিয়ন কেজি মিষ্টি, ড্রাই ফ্রুটস ও ডেজার্টস অর্ডার করেছে দেশবাসী। সবশেষের তথ্যটি শুনলে আরও অবাক হতে হবে যে, ডেলিভারি পার্টনাররা বিদায়ী বছরে গ্রাহকের দরজায় খাবার পৌঁছে দিতে ১২৪ কোটি কিলোমিটার দৌড়েছেন। যা কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী যাত্রাপথের ৩৪০,০০০ বার।





