RK NEWZ প্রথম দফার ভোট মিটতেই আবার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়াল বিরোধীরা। ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ চেয়ে রাজ্যসভায় নোটিস জমা দিলেন বিরোধী সাংসদরা। মোট ৭৩ জন বিরোধী সাংসদের স্বাক্ষর রয়েছে অপসারণের দাবিতে নোটিসে। বিরোধীদের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ুর নির্বাচন চলাকালীন দূরদর্শনকে ব্যবহার করে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণের নামে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজনৈতিক ভাষণ দিয়েছেন। কমিশন তারপরও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয়, এই মর্মে মোট নয়টি অভিযোগ করা হয়েছে বিরোধী সাংসদের তরফে। রাজ্যসভার সেক্রেটারি জেনারেলের কাছে এই নোটিস জমা দিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সাগরিকা ঘোষ। ডেরেক ও’ব্রায়েনকে ‘গেট লস্ট’ বলার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে নোটিসে। সংসদে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে তদন্ত চলাকালীন তাঁকে সব নির্বাচনী কাজ থেকে বিরত রাখার আর্জি জানানো হয়েছে। এর আগে ১২ মার্চও জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ চেয়ে নোটিস জমা দিয়েছিল বিরোধীরা। লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে ১৯৩ জন সাংসদ ওই আবেদনে স্বাক্ষর করেছিলেন। যদিও সংসদের দুই কক্ষেই সেই ইমপিচমেন্ট নোটিস খারিজ করে দেওয়া হয়। এবার ফের জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ চেয়ে নোটিস দিল বিরোধীরা।
কী কী অভিযোগ আনা হয়েছে-
১. আদর্শ আচরণ বিধি (Model Code of Conduct) প্রয়োগে পক্ষপাত-
বিরোধীদের অভিযোগ, শাসক দলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কমিশনের তরফে। সেখানেই বিরোধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
২. নির্বাচন কমিশনের সোশ্যাল মিডিয়ায় পক্ষপাতমূলক পোস্ট-
একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছে নির্বাচন কমিশন।
৩. প্রশাসনিক গাফিলতি-
কেরলমে অফিসিয়াল ডকুমেন্টে ভুলভাবে রাজনৈতিক দলের সিল ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা।
৪. বিরোধী দলের সঙ্গে অশোভন আচরণ-
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক মাত্র ৫-৭ মিনিটে শেষ হয়ে গিয়েছিল জ্ঞানেশ কুমারের। প্রতিনিধিদের “get lost” বলা হয়েছে বলে অভিযোগও আনা হয়েছে।
৫. পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক ভোটার বাদ-
অভিযোগে এসআইআর ইস্যুও তুলে ধরা হয়েছে। এসআইআরে প্রায় ৯০ লক্ষ ভোটার নাম বাদ গিয়েছে। প্রায় ৩৪ লক্ষ ভোটার ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি (logical discrepancy)-র নামে বেআইনি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে।
৬. নির্দিষ্ট অভিযোগে কোনও পদক্ষেপ না নেওয়া-
রিটার্নিং অফিসার ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের পক্ষপাতের অভিযোগে নীরবতা বজায় রেখেছে কমিশন।
৭. অন্য রাজ্যেও একই বিতর্কিত পদ্ধতি প্রয়োগ-
শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, উত্তর প্রদেশেও ২ কোটির বেশি ভোটার বাদ গিয়েছে। ২২টি রাজ্যে একই প্রক্রিয়া চালুর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
৮. সুপ্রিম কোর্টের বারবার হস্তক্ষেপ-
১৪২ অনুচ্ছেদ (Article 142) ব্যবহার করে শীর্ষ আদালতকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কাজ নিয়ে বিশ্বাসের অভাব (trust deficit) মন্তব্য করেছে শীর্ষ আদালত।
৯. তামিলনাড়ুতে ক্ষমতার অপব্যবহার-
তামিলনাড়ুতেও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে কমিশন। নির্বাচন সম্পর্কিত নয়, এমন কর্মকর্তাদের বদলি করেছে। সংবিধানের সীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা।
বিরোধীদের অভিযোগ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের আচরণ নিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্রের পরিপন্থী। নির্বাচন প্রক্রিয়ার উপর বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই দাবিতেই তারা জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ দাবি করেছেন।
দ্বিতীয় দফার ভোটের তিন দিন আগে ফের অ্যাকশনে ইডি। রেশন দুর্নীতি মামলায় ফের জোরদার তদন্ত। হাবড়ায় চার জায়গায় ইডির হানা। দক্ষিণ হাবড়ার সুভাষ রোডে চাল ব্যবসায়ী রাজীব সাহা ও পার্থ সাহার বাড়িতে হানা দেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আধিকারিকরা। অন্যদিকে আরও দুই জায়গাতেও হানা দিয়েছে ইডি। জয়গাজির নেতাজি রোডে চাল ব্যবসায়ী সমীর চন্দ্রের বাড়িতেও হানা দেয় ইডি। পাশাপাশি হাবরার শ্রীনগরে আর এক চাল ব্যবসায়ীর সাগর সাহার বাড়িতেও হানা দেয় ইডি। হাবড়া-সহ মোট ৯ ব্যবসীয়র বাড়িতে চলছে তদন্ত। এছাড়াও একাধিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন অফিস, সংস্থা সহ মোট ১৭ জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। কোভিডকালে ১৭১ ট্রাক গম ধরা পড়েছিল তার রেশ ধরেই নতুন করে তদন্তে গতি এসেছে। অভিযোগ, পাচার করা হচ্ছিল ৫ হাজার টনের বেশি গম। সেই সময় শুল্ক দফতর প্রত্যেকটি ট্রাককে আটক করে। পরবর্তীতে রাজ্য পুলিশের থেকে তদন্তভার নেয় ইডি। সূত্রের খবর, ওই সময় ধরা পড়ে প্রায় ১৬ কোটি টাকার গম। অভিযোগ এফসিআই থেকে যে গম পাঠানো হয় সেই গম হিসাবে কারচুপি করে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছিল বাংলাদেশে। ওই কেসে এক্সপোর্টার হিসাবে যাঁদের নাম উঠে এসেছিল তাতেই এই চার ব্যক্তির নাম ছিল বলে জানা যাচ্ছে। পুরো কাণ্ডে প্রত্যেকেই মোটা টাকা কামিয়েছে বলে অভিযোগ। সেই এক্সপোর্টারদের চিহ্নিত করেই তাঁদের বাড়ি অফিস, বিভিন্ন সংস্থায় তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। কালে ইডির আধিকারিকদের সঙ্গেই ময়দানে দেখা যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের। তাঁরা গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বভাবতই এলাকায় চাপনউতোর তৈরি হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২৯ এপ্রিল ভোট রয়েছে হাবড়ায়। এবারও হাবড়ার প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। অতীতে রেশন দুর্নীতি মামলায় তাঁর গ্রেফতারি নিয়ে বিস্তর চাপানউতোর হয়েছে রাজনৈতিক আঙিনায়। যদিও শেষ পর্যন্ত এবারও তাঁর উপরেই ভরসা রেখেছে দল। এদিকে তিনি মন্ত্রী থাকাকালীন সময়েই এই এই গম এক্সপোর্টের জল গড়িয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে। ফলে ভোটের মুখে ফের এই কেসের তদন্ত যে বিশেষভাবে তাৎপর্যন্তপূর্ণ। সে কারণেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আঙিনাতেও চাপানউতোর শুরু।





