বয়স কেবল সংখ্যা—বারবার প্রমাণ করেছেন তিনি। ছ’বছর পর টাটা স্টিল চেস ইন্ডিয়ায় ফিরে প্রথম দিনেই শীর্ষস্থান দখল করে আপ্তবাক্য আরও একবার বুঝিয়ে দিলেন প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বিশ্বনাথন আনন্দ! ছ’বছর পর টাটা স্টিল চেস ইন্ডিয়ায় ফিরে প্রথম দিনেই শীর্ষস্থান দখল করে আপ্তবাক্য আরও একবার বুঝিয়ে দিলেন প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বিশ্বনাথন আনন্দ। কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে র্যাপিড বিভাগে তিন রাউন্ড শেষে তাঁর সংগ্রহ ২.৫ পয়েন্ট। সমান পয়েন্টে যুগ্ম শীর্ষে আমেরিকার হান্স নিম্যান। টুর্নামেন্টের প্রথম দিন আনন্দ শুরু করেন মার্কিন গ্র্যান্ডমাস্টার ওয়েসলি সো-র বিরুদ্ধে জয় দিয়ে। সময়ের চাপে প্রতিপক্ষের ভুল কাজে লাগিয়ে পুরো পয়েন্ট তুলে নেন পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। দ্বিতীয় রাউন্ডে চীনের ওয়েই ই-র বিরুদ্ধে ড্র। তৃতীয় রাউন্ডে কালো ঘুঁটি নিয়ে ভারতের অরবিন্দ চিদাম্বরমকে হারিয়ে দিন শেষ দাপটের সঙ্গে। রুক এন্ডগেমে নিখুঁত হিসাব আর কৌশলই হয়ে ওঠে জয়ের মূল চাবিকাঠি। তিন ম্যাচে স্পষ্ট—তরুণদের ভিড়ে অভিজ্ঞতা এখনও বড় অস্ত্র। প্রতিটি মুভ ধীরে, ঠান্ডা মাথায় ছকেছেন আনন্দ। হান্স নিম্যানও প্রথম দিন সমান শক্তিশালী পারফরম্যান্স পেশ করেন। উদ্বোধনী রাউন্ডে হারান প্রাক্তন বিশ্ব র্যাপিড চ্যাম্পিয়ন ভলোদার মুরজিনকে। দ্বিতীয় রাউন্ডে ভারতের বিদিত গুজরাঠির সঙ্গে ড্র। তৃতীয় রাউন্ডে আর প্রজ্ঞানন্দকে সময়ের চাপে কোণঠাসা করে ছিনিয়ে নেন জয়। যার সুবাদে আনন্দের সঙ্গে যুগ্ম শীর্ষে থেকেই দিন শেষ করেন তিনি। দু’জনের ঠিক পিছনে দুই পয়েন্টে রয়েছেন ওয়েসলি ও বিদিত। নিহাল সারিন আর প্রজ্ঞানন্দের সংগ্রহ ১.৫ পয়েন্ট। লড়াইয়ে বিশ্বনাথন আনন্দ। কলকাতায় অনুষ্ঠিত টাটা স্টিল দাবার র্যাপিড বিভাগে জয়ী হয়েছেন এবং প্রথম দিন শেষে হ্যান্স নিয়েমানের সাথে যৌথভাবে শীর্ষে বিশ্বনাথন আনন্দ। ধারাবাহিক সাফল্য ও দাবার জগতে তাঁর প্রভাব অব্যাহত। তিনি পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবং ভারতের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার। টাটা স্টিল দাবা কলকাতায় অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টের র্যাপিড বিভাগে তিনি দুটি ম্যাচ জিতে যৌথভাবে শীর্ষে। ২৫ জুন ক্ল্যাশ অফ জেনারেশনস তাসকানিতে ফাউস্টিনো ওরোকে ২-০ গোলে হারিয়ে এই প্রদর্শনী ম্যাচ জিতেছিলেন।২০০০, ২০০৭, ২০০৮, ২০১০ এবং ২০১২ সালে পাঁচবার বিশ্ব দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ জেতেন। ১৯৮৮ সালে তিনি ভারতের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার হন এবং দাবাকে ভারতে জনপ্রিয় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিশ্ব র্যাপিড দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ এবং দাবা বিশ্বকাপও জিতেছেন।

আলিপুরের ধনধান্য অডিটোরিয়ামে টাটা স্টিল চেস ইন্ডিয়া। দেশ বিদেশের একাধিক বিখ্যাত দাবাড়ু এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে বিশ্বনাথন আনন্দ। প্রায় ৬ বছর পর আবার কলকাতায় খেলতে নামছেন প্রাক্তন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কলকাতার একটি পাঁচতলা হোটেলে এই টুর্নামেন্টের ড্র অনুষ্ঠিত হল। বয়সে অনেক ছোট প্রতিযোগীদের মোকাবিলা করতে হবে আনন্দকে। একাধিক শিষ্যের চ্যালেঞ্জ আনন্দকে সামলাতে হবে৷

পুরুষদের সূচি-বিশ্বনাথান আনন্দ বনাম ওয়েসলি সো, উই ই বনাম নিহাল সারিন, অরবিন্দ চিথাম্বরম বনাম রমেশবাবু প্রজ্ঞানন্দ, অর্জুন এরিগাইসি বনাম বিদিথ গুজরাটি, হান্স নিয়েমান বনাম ভোলোদার মুরজিন। বর্তমানে দুরন্ত ছন্দে আছেন প্রজ্ঞানন্দ-অর্জুনরা। কনিষ্ঠদের সঙ্গে লড়াইটা উপভোগ করতে চান আনন্দ। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, কলকাতায় ফের খেলতেন নামতে পেরে তার অত্যন্ত ভালো লাগছে। মহিলাদের বিভাগে খেলবেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দিব্যা দেশমুখ৷ এছাড়াও থাকছেন আর বৈশালী, দ্রনোভালি হারিকা৷

মহিলা বিভাগে কারিসা ইয়িপ এগিয়ে মেয়েদের বিভাগে প্রথম দিনের শেষে এককভাবে শীর্ষে আমেরিকার কারিসা ইয়িপ। তিন রাউন্ডে তাঁর পয়েন্ট ২.৫। ভারতীয়দের মধ্যে নজর কাড়লেন বন্তিকা আগরওয়াল দুটি জয় তুলে নিয়ে তিনি রয়েছেন দুই পয়েন্টে। দিনের অন্যতম লম্বা ম্যাচ জমে ওঠে দ্রোণাবল্লি হারিকা ও দিব্যা দেশমুখের মধ্যে—১১৪ চালের ম্যারাথন ড্র। মহিলা বিভাগে ইয়িপের ঠিক পিছনে দুই পয়েন্ট নিয়ে রয়েছেন নানা জাগনিদজে, কাটেরিনা লাগনো এবং বন্তিকা।ওপেন এবং মহিলা বিভাগে র্যাপিড এবং ব্লিৎজে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্ট৷ উভয় ক্ষেত্রেই সমান পুরস্কার মূল্য থাকছে এবারের প্রতিযোগিতায়৷ টুর্নামেন্ট ডিরেক্টর হিসাবে থাকছেন সর্বভারতীয় দাবা সংস্থার সহসভাপতি দিব্যেন্দু বড়ুয়া৷





