RK NEWZ ৯৩ শতাংশ মহিলা প্রথম দফায় ভোট দিয়েছেন! প্রথম দফার নির্বাচন মোটের উপর শান্তিপূর্ণ হয়েছে। নির্বাচন কমিশন শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত যে পরিসংখ্যান দিয়েছে, তাতে ভোট পড়েছে ৯২.৮৮ শতাংশ। নিজের বিশ্লেষণ প্রকাশ করলেন শাহ। প্রায় ৯৩ শতাংশ ভোট পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার ১৫২টি আসনে। তা নিয়ে বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত বিশ্লেষণ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গত কয়েক দিন ধরে তিনি পশ্চিমবঙ্গেই আছেন। বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ঘুরে প্রচার চালাচ্ছেন। শুক্রবার সকালে নিউ টাউনের হোটেল থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে শাহ জানিয়ে দিলেন তাঁদের বিশ্লেষণের কথা। প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যে অন্তত ১১০টি আসনে বিজেপি জয় নিশ্চিত করে ফেলেছে বলে তিনি দাবি করেছেন। আরও বেশি আসনও আসতে পারে তাঁর দলের ঝুলিতে। শাহ আত্মবিশ্বাসী, পশ্চিমবঙ্গে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। প্রথম দফার নির্বাচন মোটের উপর শান্তিপূর্ণ হয়েছে। কয়েকটি জায়গায় বিক্ষিপ্ত অশান্তির অভিযোগ এসেছিল। পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত যে পরিসংখ্যান দিয়েছে, তাতে ভোট পড়েছে ৯২.৮৮ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এই ভোটদানের হার নজিরবিহীন বলে কেউ কেউ দাবি করছেন। ভোটারদের অভিনন্দন জানিয়েছেন শাহ। দাবি, ভোট দিয়ে নিজেদের এবং পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে ফেলেছেন মানুষ। দ্বিতীয় দফার ভোটে বিজেপির জয়ের ব্যবধান আরও বাড়বে। তাঁর কথায়, ‘‘গভীর রাত পর্যন্ত আমরা বিশ্লেষণ করেছি। ১৫২টির মধ্যে ১১০টির বেশি আসনে বিজেপি জিততে চলেছে। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আমরা সরকার গড়ব। প্রথম দফায় ভোট দিয়েছেন যাঁরা, তাঁদের অনেক অভিনন্দন এবং ধন্যবাদ। ভয় থেকে ভরসার দিকে যাত্রা খুব ভাল ভাবে আপনারা শুরু করেছেন। দ্বিতীয় দফার ভোটারেরা এই যাত্রা এগিয়ে নিয়ে যাবেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান, নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য পুলিশকে অভিনন্দন। কারণ, বহু যুগ পরে পশ্চিমবঙ্গের ভোটে কোনও মৃত্যু হয়নি।’’ প্রথম দফার নির্বাচন মোটের উপর শান্তিপূর্ণ হয়েছে। কয়েকটি জায়গায় বিক্ষিপ্ত অশান্তির অভিযোগ এসেছিল। পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত যে পরিসংখ্যান দিয়েছে, তাতে ভোট পড়েছে ৯২.৮৮ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এই ভোটদানের হার নজিরবিহীন বলে কেউ কেউ দাবি করছেন। ভোটারদের অভিনন্দন জানিয়েছেন শাহ। দাবি, ভোট দিয়ে নিজেদের এবং পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে ফেলেছেন মানুষ। দ্বিতীয় দফার ভোটে বিজেপির জয়ের ব্যবধান আরও বাড়বে। তাঁর কথায়, ‘‘গভীর রাত পর্যন্ত আমরা বিশ্লেষণ করেছি। ১৫২টির মধ্যে ১১০টির বেশি আসনে বিজেপি জিততে চলেছে। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আমরা সরকার গড়ব। প্রথম দফায় ভোট দিয়েছেন যাঁরা, তাঁদের অনেক অভিনন্দন এবং ধন্যবাদ। ভয় থেকে ভরসার দিকে যাত্রা খুব ভাল ভাবে আপনারা শুরু করেছেন। দ্বিতীয় দফার ভোটারেরা এই যাত্রা এগিয়ে নিয়ে যাবেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান, নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য পুলিশকে অভিনন্দন। কারণ, বহু যুগ পরে পশ্চিমবঙ্গের ভোটে কোনও মৃত্যু হয়নি।’’ শাহ জানিয়েছেন, এ রাজ্যে ভোটের প্রচারে তাঁরা বিপুল সাড়া পেয়েছেন প্রথম থেকেই। তবু তাঁদের কিছু আশঙ্কা ছিল। প্রথম দফার ভোটের চিত্র দেখে সেই আশঙ্কা দূর হয়ে গিয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘আমাদের আশঙ্কা ছিল, কর্মসূচিতে যে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে, তা ভোটযন্ত্র পর্যন্ত পৌঁছোবে তো? সেই আশঙ্কা দূর হয়েছে। ভোটযন্ত্রে মানুষের রায় নথিবদ্ধ হয়ে গিয়েছে।’’ পশ্চিমবঙ্গে স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে মনে করছেন শাহ। তাঁর বক্তব্য, এই প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা আগেও ছিল। তবে এর আগে ভয় দেখিয়ে এবং কারচুপি করে তৃণমূল জিতেছিল। এ বার কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশের তৎপরতায় তা সম্ভব হচ্ছে না। ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হবে। শাহ জানিয়েছেন, ৫ মে-র পর অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গে বিজেপির শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। তাঁর কথায়, ‘‘প্রথম দফাতেই বাংলার মানুষ ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে ফেলেছেন। নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে সারা দেশে উন্নয়নের যে যাত্রা চলছে, পশ্চিমবঙ্গও তাতে শামিল হতে চলেছে।’’ বিজেপি ক্ষমতায় এলে মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, সে বিষয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন শাহ। বলেছেন, ‘‘৫ তারিখের পর আদ্যোপান্ত বাঙালি, যিনি পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং বাংলা মাধ্যম স্কুলে পড়াশোনা করেছেন, তেমনই এক জন রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন। বাইরের কেউ নয়।’’ তৃণমূলের দুর্নীতিকেও কটাক্ষ করেছেন শাহ। বলেছেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে তৃণমূল। বিজেপি ক্ষমতায় এলে তা বদলে যাবে। আর কোনও কাজের জন্য কাটমানি দিতে হবে না।’’ শাহের আশ্বাস, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হবে। মমতাকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘‘যে মহিলা মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সন্ধ্যা ৭টার পর মেয়েদের বাইরে বেরোনো উচিত নয়, তাঁর শাসন করার অধিকার নেই বলে আমি মনে করি। বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাত ১টাতেও নির্ভয়ে মেয়েরা স্কুটিতে ঘুরতে পারবেন। কোনও গুন্ডা তাঁদের তাড়া করবে না। লোকসভায় মহিলাদের সংরক্ষণের বিরোধিতা করার জবাবও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়ে যাবেন।’’ শাহ জানিয়েছেন, নারীসুরক্ষার বার্তা দিতে প্রতীকী ভাবেই আরজি কর হাসপাতালে নির্যাতিতার মা কিংবা সন্দেশখালির নির্যাতিতাকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। তাঁরা আইনসভায় বসে কঠোর ভাবে নারী নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে আইন বানাবেন। রাজ্যে পরিবর্তনের মাধ্যমে দুর্নীতি, সিন্ডিকেট-রাজ দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সর্বশেষ বড় ভোট ২০২৪ সালের লোকসভা। সেই ভোটের ফলাফল বলেছিল, মমতাতেই আস্থা রেখেছে রাজ্যের মহিলা ভোটের সর্বাধিক অংশ। আবার এ-ও বাস্তব যে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের দেড় মাসের মধ্যেই আরজি কর নিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন মহিলারা। বিজেপি এবং তৃণমূল যুযুধান দুই শিবিরে প্রথম দফার ভোটের হিসাব কষা জারি রয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরের আলোচনায় উল্লেখযোগ্য ‘সূচক’ হয়ে উঠেছে মহিলাদের ভোটদানের রেকর্ড। সেই সূত্রেই রয়েছে প্রশ্ন, এত মহিলা ঘর থেকে বেরিয়ে বুথে দাঁড়ালেন, ভোট দিলেন। এই ভোট কি সব লক্ষ্মীর ভান্ডারের? না কি এই ভোট ‘রাতদখলের’? অর্থাৎ, প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার? ভোটের মাধ্যমে রাত দখলের ভোট? গত ১৭ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সব ভোটেই মহিলা সমর্থনের সিংহভাগ পেয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একটা সময়ে বিহারে লালুপ্রসাদ যাদবের দল আরজেডির জয়ের নেপথ্যের কারণ বোঝাতে ‘এমএমওয়াই’ সমীকরণের কথা বলা হত। অর্থাৎ, মুসলিম, মহিলা এবং যাদবদের সমর্থনেই পটনার মসনদে ‘হ্যারিকেন’ জ্বালিয়ে রাখতেন লালু। মমতার ক্ষেত্রেও জোড়া ‘এম’ সমীকরণের কথা পশ্চিমবাংলার রাজনীতিতে সর্বজনবিদিত। ‘মহিলা’ এবং ‘মুসলিম’। বৃহস্পতিবার যে পরিমাণ মহিলা ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তাঁদের মনের তল পেতেই আপাতত অঙ্ক কষছে তৃণমূল। নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রথম দফার পূর্ণাঙ্গ হিসাব, পুরুষ এবং মহিলাদের ভোটদানের অনুপাত কত, সেই পরিসংখ্যান জানায়নি। তবে তৃণমূল যে হিসাব কষেছে, তাতে মহিলা ভোটের হার প্রায় ৯৩ শতাংশ! তুলনায় পুরুষদের ভোটের হার শতকরা ৯১ ভাগ। অর্থাৎ, পুরুষদের চেয়ে মহিলাদের ভোটদানের হার ২ শতাংশের মতো বেশি। যদিও সংখ্যার ক্ষেত্রে তা প্রায় সমান সমান। মহিলা ভোট যে মমতার দিক থেকে সরে গিয়েছে, তেমন কোনও নজির বিগত কোনও ভোটেই দেখা যায়নি। সর্বশেষ বড় ভোট ২০২৪ সালের লোকসভা। সেই ভোটের ফলাফলও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে, মমতাতেই আস্থা রেখেছে রাজ্যের মহিলা ভোটের সর্বাধিক অংশ। আবার এ-ও বাস্তব যে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের দেড় মাসের মধ্যেই আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনার অভিঘাতে দিনের পর দিন রাজপথে ক্রোধান্বিত, ক্ষুব্ধ মহিলাদের গণস্রোত নেমে এসেছিল। রাতদখলের মেজাজের মধ্যে সরকার বিরোধিতার ঝাঁজও টের পাওয়া গিয়েছিল। যদিও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মিলিয়ে গিয়েছে। তৃণমূলের অনেকের বক্তব্য, আরজি করের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনেকেই রাস্তায় নেমেছিলেন বটে। কিন্তু তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল নির্দিষ্ট ঘটনার প্রতিবাদ করা। মমতার সরকারের বিরোধিতাকে শাণিত করা নয়। শাসকদলের অনেকের এ-ও ব্যাখ্যা যে, আরজি কর পর্বে যে আন্দোলন দেখা গিয়েছিল, তা মূলত সীমাবদ্ধ ছিল কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকায়। সেই ভিড়ে বাম ও বামমনস্ক মহিলাদের জমায়েত এবং সক্রিয়তা ছিল। যে অংশের সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক নেই। ফলে রাতদখলের মেজাজ ভোটের বাক্সে প্রতিফলিত হয়েছে এবং তা বিজেপির দিকে গিয়েছে এমনটা অনেকেই মানতে রাজি নন। ভোটের লাইনে মহিলাদের ঢল নামাকে শুধুই লক্ষ্মীর ভান্ডারের প্রেক্ষিতে নয়। একান্ত আলোচনায় তৃণমূলের মধ্যে মহিলা ভোটদানের হার নিয়ে দু’টি দিক উঠে আসছে। একাংশের বক্তব্য, বেশ কিছু জেলায় সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা অনেকটাই ঠেকানো গিয়েছে। মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর দিনাজপুর মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলায় মহিলারা সমর্থন জানিয়েছেন মমতার প্রতিই। আবার ‘রক্ষণশীল’ নেতাদের কারও কারও বক্তব্য, বিজেপি যে ভাবে হিন্দু ভোটকে একত্রিত করার কৌশল নিয়ে এগিয়েছে, তাতে হিন্দু মহিলাদের মধ্যে তৃণমূলের সমর্থন হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বেশ কিছু জেলায়। মেরুকরণের আবহ তীব্র, এমন এলাকায় এবং হিন্দুরা সংখ্যালঘু এমন বিধানসভা কেন্দ্রে হিন্দু মহিলাদের ভোটের সিংহভাগই যে তৃণমূলের বাক্সে পড়েছে, তা নিয়ে নিশ্চিত নন অনেকে। এর উল্টো অভিমতও রয়েছে। সেই অংশের বক্তব্য, গত তিন মাস ধরে স্থানীয় স্তরে সাংগঠনিক প্রচারের কর্মসূচিতে যে পরিমাণ হিন্দু মহিলাদের কাছে পৌঁছোনো গিয়েছে, তা এক লহমায় মুছে যাবে, এমন হওয়ার কথা নয়। ১৫ বছরের স্থিতাবস্থা বিরোধিতার স্বাভাবিকতা মেনে নিচ্ছেন তৃণমূলের অনেকে। কিন্তু সে সব মেনেও তাঁদের বক্তব্য, দিদিই এখনও মহিলাদের কাছে ‘মসিহা’।





