Friday, April 24, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ইডি বনাম মমতা!‌ নামলেন নামালেনও?‌ অভিযানে নেমে রাস্তায় নামিয়ে দিলেন দলকে?‌

রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বৃহস্পতিবার বলেছেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ভাবমূর্তির কফিনে নিজেই শেষ পেরেক পুঁতে দিলেন! তিনি যা করছেন, তাকে অনৈতিক না বলাই ভাল। এটা সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত এবং ফৌজদারি অপরাধ। সরকারি সংস্থার তদন্তের কাজে মুখ‍্যমন্ত্রী সরাসরি বাধা দিয়েছেন। ইডির হাত থেকে মুখ‍্যমন্ত্রী ফাইল নিয়ে, হার্ড ডিস্ক নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছেন। দুর্নীতিতে লিপ্ত থাকার কথা নিজেই প্রমাণ করে দিয়েছেন।’’ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মমতার কাজকে সরাসরি ‘অনৈতিক’ বলেই ব্যাখ্যা করেছিলেন। মুখ‍্যমন্ত্রী মমতা যা ঘটিয়েছেন, তা গোটা ভারতে ‘নজিরবিহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন শমীক। কিন্তু মুখ‍্যমন্ত্রী ফাইল-হার্ডডিস্ক নিয়ে চলে যাওয়ার ফলে ইডি তদন্ত ভেস্তে গেল, এমন মন্তব্য তিনি ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ ভাবে এড়িয়ে গিয়েছেন।

শুক্রবার ফের তিনি রাস্তায় নামছেন। মিছিল করবেন যাদবপুর থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত। তৃণমূল তথা রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি এবং সংস্থার সল্টলেকের দফতরে ইডির অভিযান। পাল্টা অভিযান চালালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। নেত্রী অবতীর্ণ হলেন রাজনৈতিক উত্থানেরও ‘পুঁজি’নিয়ে। নামিয়ে দিলেন গোটা তৃণমূলকেই। বিরোধী নেত্রী থাকাকালীন যাদবপুর কেন্দ্র থেকেই ১৯৮৪ সালে প্রথম সাংসদ হয়েছিলেন মমতা। মিছিল যেখানে শেষ হবে, সেই হাজরা মোড়ের একটি দিক ভবানীপুর বিধানসভার অন্তর্গত। যা মুখ্যমন্ত্রী মমতার বিধানসভা কেন্দ্র। সল্টলেকের আইপ্যাক দফতর থেকে বেরিয়েই মমতা ঘোষণা। এসআইআর করতে দেবেন না। বিজেপি তথা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধিতায় ক্রমাগত সুর চড়িয়েছিলেন মমতা। নেমেছিলেন রাস্তাতেও। প্রতীকের বাড়ি এবং আইপ্যাকের দফতরে ইডির হানার পর আবার বিরোধিতার সুর। আরও বড় গলায় সুর বাঁধলেন তৃণমূলের নেত্রী। দলের সংগঠন এবং কার্যকলাপে আইপ্যাকের ‘নিয়ন্ত্রণ’ নিয়ে জেলাস্তরের অনেক তৃণমূল নেতাই একান্ত আলোচনায় ক্ষোভ গোপন করেন না। প্রতীকের বাড়িতে ইডি হানায় সেই সমস্ত নেতাদের অনেকেই ঘনিষ্ঠমহলে উচ্ছ্বাস দেখিয়েছিলেন। এসআইআরের জন্য আন্দোলনে নেমে কেন্দ্রীয় সরকার তথা বিজেপিকে সেই প্রতিপক্ষ ধরে নিয়ে মমতা বিধানসভা নির্বাচনের জন্য তৈরি হচ্ছিলেন।

লাউডন স্ট্রিটে প্রতীকের বাড়িতে ইডি তল্লাশির মধ্যেই বেলা ১২টা নাগাদ সেখানে পৌঁছোন মমতা। মিনিট দশেকের মধ্যেই একটি সবুজ রঙের ফাইল, হার্ড ডিস্ক এবং একটি মোবাইল ফোন নিয়ে বেরিয়ে এসে মমতা দাবি করেন, বিধানসভা ভোটের প্রার্থীতালিকা বাজেয়াপ্ত করতে এসেছে ইডি। মমতা আক্রমণ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। লাউডন স্ট্রিট থেকে মমতা সোজা চলে যান সল্টলেকের আইপ্যাক দফতরে। পৌঁছে দেখেন প্রবেশ এবং প্রস্থানের দু’টি দরজাই ‘সিল’ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। মেজাজ নিয়েই বেসমেন্টে গাড়ি থামিয়ে লিফ্‌ট বেয়ে চলে যান ১২ তলায় আইপ্যাকের অফিসে। মমতার নিরাপত্তারক্ষীরা ফাইলের গোছা এনে তাঁর গাড়ির পিছনের আসনে ডাঁই করে রাখেন। সে গাড়ি ঘিরে থাকে বিধাননগর কমিশনারেটের বাহিনী। প্রায় এক ঘণ্টা পরে মমতা বেসমেন্টে ফিরে এসে বলেন, ‘‘ভোটের স্ট্র্যাটেজি ছিনতাই করেছে! আমাদের কাগজ, তথ্য সব লুট করেছে! লড়াই করার সাহস হচ্ছে না। তাই এখন লুট করতে নেমেছে। হার্ড ডিস্ক, অর্থনৈতিক কাগজ, পার্টির কাগজ নিয়ে নিয়েছে। টেবিলগুলো সব ফাঁকা পড়ে রয়েছে। বিজেপির মতো এত বড় ডাকাত দেখিনি।’’

সকালে নিরুপদ্রবে আইপ্যাকের অফিসে ঢুকলেও বেরোনোর সময়ে স্থানীয় তৃণমূলকর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় ইডি আধিকারিকদের। শুনতে হয়, ‘বিজেপির দালাল’, ‘গো ব্যাক’ স্লোগান। মুখ‍্যমন্ত্রী প্রতীকের বাড়ি বা আইপ‍্যাকের দফতর থেকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ কিছু নিয়ে যাননি। তেমন হলে তিনি সে কথা প্রকাশ‍্যে জানাতেন না। সেই ছবিও তৈরি হতে দিতেন না। তৃণমূল তথা রাজ্য সরকারেরর পরামর্শদাতা সংস্থার দফতরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা হানা দিল আর মুখ‍্যমন্ত্রী কিছু করলেন না, এই বার্তা ছড়িয়ে গেলে মমতার ‘রাজনৈতিক ক্ষতি’ হত। রাজ‍্য জুড়ে তৃণমূল কর্মীদেরও মনোবল ভেঙে যেত। তাই মুখ্যমন্ত্রী কিছু ছবি তৈরি করেছেন। এমন একটা ভাষ্য তৈরি করেছেন যে, ইডি ‘তেমনকিছু’ করতে পারেনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles