Friday, April 24, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

পিকের পার্টনার থেকে আইপ্যাক-র মাথা পিজে, কে এই প্রতীক জৈন? আইপ্যাক-‌এর মূলত কাজ কি?‌ জনমানসে তৃণমূলের ভাবমূর্তি পরিবর্তন করেন মিস্টার‌‘‌কুল’‌

আইপ্যাক মূলত আধুনিক প্রযুক্তি, ডেটা অ্যানালাইসিস, এবং সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইনকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নির্বাচনের রণকৌশল তৈরি করে। পশ্চিমবঙ্গে শুধু তৃণমূল কংগ্রেস নয়, অতীতে অরবিন্দ কেজরীবাল থেকে খোদ নরেন্দ্র মোদীর রাজনৈতিক প্রচারেও মাঠে নামতে দেখা যায় ‘সাবেক’ আইপ্যাককে। ভারতের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এক অত্যন্ত প্রভাবশালী নাম ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি। সংক্ষেপে আইপ্যাক I-PAC নামে পরিচিত। এটি কোনও রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা। ২০১৩-১৪ সাল নাগাদ ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর ওরফে পিকে এবং একদল তরুণ পেশাদারদের হাত ধরে এই সংস্থার যাত্রা শুরু। আইপ্যাক মূলত আধুনিক প্রযুক্তি, ডেটা অ্যানালাইসিস, এবং সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইনকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নির্বাচনের রণকৌশল তৈরি করে। পশ্চিমবঙ্গে শুধু তৃণমূল কংগ্রেস নয়, অতীতে অরবিন্দ কেজরীবাল থেকে খোদ নরেন্দ্র মোদীর রাজনৈতিক প্রচারেও মাঠে নামতে দেখা যায় ‘সাবেক’ আইপ্যাককে। ২০১৯ সালে বাংলায় পদ্ম শিবিরের ব্যাপক উত্থানের মাঝেই তৃণমূলের হাত ধরতে দেখা যায় আইপ্যাককে। পরবর্তীতে জনমানসে তৃণমূলের ভাবমূর্তি পরিবর্তন করতে একের পর এক কর্মসূচি নিতে দেখা যায় আইপ্যাককে। তৃণমূলের জন্য ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচির সূচনা করে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অভিযোগ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়। ২০২১ সালের হাই-ভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনে আইপ্যাকের মস্তিষ্কপ্রসূত ‘বাংলার মেয়ে’ স্লোগান এবং ‘দুয়ারে সরকার’-এর মতো প্রকল্পগুলি তৃণমূলকে বিপুল জয় পেতে সাহায্য করে। দলের অন্দরে স্বচ্ছতা আনা এবং তরুণ প্রজন্মের নেতাদের সামনে নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও আইপ্যাকের বরাবরই বড় ভূমিকা ছিল বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। তৃণমূলের প্রার্থী চয়ন থেকে শুরু করে প্রচারের ভাষা, রণকৌশল তৈরি, সবকিছুতেই আইপ্যাকের পরিকল্পনার ছাপ দেখা যায়।

আরজি কর আন্দোলন যখন তৃণমূলের অনেক রথী-মহারথীর ঘাম ছুটিয়ে দিয়েছিল, তখন প্রতীক ধৈর্যের কথা বলেছিলেন। ১৩ বছর আগে আরও তরুণ এবং নবীন প্রতীক ধৈর্যের পাঠ দিয়েছিলেন খোদ নরেন্দ্র মোদীকে। তখন অবশ্য মোদী প্রধানমন্ত্রী নন। গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী। ২০১৪ সালে মোদীর প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার নির্বাচনে তাঁর পরামর্শদাতা দলের অন্যতম ‘মুখ’ ছিলেন প্রশান্ত কিশোর। আর প্রতীক? প্রশান্তের ‘ছায়াসঙ্গী’। ২০০৭ সালের একটি সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক কর্ণ থাপরের মুখে গুজরাত দাঙ্গা সংক্রান্ত ‘অপ্রিয়’ প্রশ্ন শুনে ক্রুদ্ধ এবং ক্ষুব্ধ মোদী আসন ছেড়ে সটান উঠে গিয়েছিলেন। এ কথা বলে যে, বন্ধুত্ব থাকুক। কিন্তু সাক্ষাৎকার নয়। প্রতীকের ঘনিষ্ঠারা জানেন, গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী মোদীর সেই উঠে পড়ার ‘ক্লিপিং’ দেখিয়েই ভারতের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রীকে ধৈর্যের পাঠ দেওয়ার অন্যতম পরামর্শদাতা ছিলেন এই প্রতীক। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে ২০১৩ সালে মোট ১৭ বার বিজেপির ‘প্রধানমন্ত্রী মুখ’ মোদীকে ওই অংশের ফুটেজ দেখিয়ে এবং দর্শকের মনে তাঁর সেই শরীরী ভাষার ‘নেতিবাচক প্রভাব’ বুঝিয়ে সহনশীলতার পাঠ দেওয়া হয়েছিল। যার পুরোধা ছিলেন প্রতীক। প্রতীক নিজে অবশ্য সে কথা কখনও মুখ ফুটে বলেননি। আইপ্যাকের দায়িত্বভার ‘পিকে’-র হাত থেকে মসৃণ ভাবে ‘পিজে’র হাতে যায়। দ্বিতীয় প্রজন্মের এলেম প্রমাণিত। পশ্চিমবঙ্গের শাসক তৃণমূলের নীতিনির্ধারণ, সংগঠন পরিচালনা এমনকি, সরকারি কর্মসূচির নকশা আঁকার ক্ষেত্রেও নির্ণায়ক ভূমিকা নিচ্ছেন। তৃণমূলকে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের বৈতরণী পার করাতে ‘মেঘনাদ’-এর ভূমিকা নিয়েছিলেন।

শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ নয়, ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে আইপ্যাক এক নতুন ঘরানার জন্ম দিয়েছে। ২০১৪-এর লোকসভা নির্বাচনেও বড় ছাপ রাখে প্রশান্ত কিশোরের টিম। যদিও আইপ্যাক তখনও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আসেনি। সেই সময় Citizens for Accountable Governance CAG নামে প্রশান্ত কিশোরের নেতৃত্বাধীন এই টিমই ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদীর ‘চায়ে পে চর্চা’ এবং ‘থ্রি-ডি র‍্যালি’-র মতো আইকনিক প্রচারের পরিকল্পনা করেছিল। এমনকী কংগ্রেসের সঙ্গেও কাজের ইতিহাস রয়েছে। রাজ্যস্তরে আইপ্যাক অন্ধ্রপ্রদেশে ওয়াই.এস. জগন্মোহন রেড্ডি (YSRCP), দিল্লিতে অরবিন্দ কেজরীবাল (AAP), বিহারে নীতীশ কুমার (JDU) এবং তামিলনাড়ুতে এম.কে. স্ট্যালিন (DMK)-এর হয়ে কাজ করে তাদের ক্ষমতায় আসতে বড় ভূমিকা রেখেছে। যদিও প্রশান্ত কিশোর এখন অতীত। নিজেই খুলেছেন রাজনৈতিক দল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশের মতে, আইপ্যাক আসার আগে ভারতে নির্বাচন মূলত কর্মী-ভিত্তিক ছিল। আইপ্যাক প্রমাণ করেছে যে, ডেটা সায়েন্স এবং সঠিক বিপণন কৌশলের মাধ্যমে জনমতকে প্রভাবিত করা সম্ভব। আইপ্যাক মূলত তিনটি স্তরে কাজ করে। বুথ স্তরে মানুষের অভাব-অভিযোগ এবং স্থানীয় ইস্যুগুলো বোঝার জন্য বড় আকারে সমীক্ষা করা। জোর দেওয়া হয় ফিল্ড সার্ভেতে। জোর দেওয়া হয় সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারে। রয়েছে আইটি সেল। ফেসবুক, টুইটার (X) এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যে দলের হয়ে তাঁরা প্রচার করছে তাঁদের আঙ্গিকে বিরোধীদের আক্রমণ করা এবং নিজেদের প্রচার ছড়িয়ে দেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়। ভোটের সময় স্লোগান ও ইস্তেহার তৈরি করারও কাজ করে। জনগণের আবেগকে স্পর্শ করে এমন স্লোগান তৈরি করে। ‘খেলা হবের’ মতো স্লোগান যেমন এখনও চর্চায় বঙ্গ রাজনীতির আঙিনায়। এখন আইপ্যাকের দায়িত্বে প্রতীক জৈন। প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি বা আইপ্যাক তৈরি করেন। সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ডিরেক্টর পদে রয়েছেন প্রতীক। বিগত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আইপ্যাকের সঙ্গে যুক্ত। বিহার, পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, অন্ধ্র প্রদেশের নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন প্রতীক জৈন। পিকের পার্টনার থেকে I-PAC-র মাথা, কে এই প্রতীক জৈন? অ্যাকশন মোডে ইডি। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট হানা দিল আইপ্যাক কর্ণধার ও সহ প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের বাড়িতে। তাঁর বাড়িতে ইডি হানার খবর পেয়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছে যান। কে এই প্রতীক জৈন? তৃণমূলের সঙ্গেই বা তাঁর কী সম্পর্ক? প্রতীক জৈনের লিঙ্কডইন প্রোফাইল থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে বম্বের ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজিতে সুযোগ পান প্রতীক জৈন। সেখান থেকে বি.টেক করেছেন প্রতীক জৈন। মেটালার্জিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড মেটেরিয়াল সায়েন্স নিয়ে বি.টেক করেছেন তিনি। প্রতীক জৈনের কর্মজীবন শুরু হয় অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কে ইন্টার্ন হিসাবে। মুম্বইয়ে অ্যাক্সিস মিউচুয়াল ফান্ডে দুই মাসের জন্য ইন্টার্নশিপ করেন তিনি। এরপরে ২০১২ সালে ডেলয়েটে (Deloitte Touche Tohmatsu India Pvt ltd) অ্যানালিস্ট হিসাবে কাজ শুরু করেন। এক বছর তিন মাস সেখানে কাজ করেন তিনি। তারপর কাজ শুরু করেন সিটিজেনস ফর অ্য়াকাউন্টেবল গভার্নেন্স সংস্থায়। এটি তাঁর নিজের তৈরি সংস্থা। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৫ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত কাজ করেন। এরপরে প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি বা আইপ্যাক তৈরি করেন। সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ডিরেক্টর পদে রয়েছেন প্রতীক। বিগত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আইপ্যাকের সঙ্গে যুক্ত। বিহার, পঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, অন্ধ্র প্রদেশের নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন প্রতীক জৈন। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটকুশলী হিসাবে কাজ করেছিল আইপ্যাক।

বছর ছত্রিশের যুবক? আইপ্যাকের কর্ণধার। উল্কাসদৃশ উত্থান? যাঁর সম্পর্কে মমতা বলেছেন, ‘‘প্রতীক আমার পার্টির ইনচার্জ।’’ আরজি কর আন্দোলনে তখন উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর দিকের একটি দুপুর। সল্টলেকের সেক্টর ফাইভের বহুতলে তাঁর দফতরে কার্যত গলদঘর্ম অবস্থা। কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিকল। কর্মীরা ইতস্তত ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তিনি তাঁর নির্ধারিত ঘরটিতে। কর্মীরা গরমে অতিষ্ট। কিন্তু তিনি ‘ঠান্ডা’। যাকে বলে ‘কুল’। শাসক তৃণমূল তখন বেনজির নাগরিক আন্দোলনের গণস্রোতে হাবুডুবি। কিন্তু তিনি ঠান্ডা। ‘কুল’। কী বুঝছেন? সোফায় গা এলিয়ে আরও তিনি ঠান্ডা গলায় বলেছিলেন, ‘‘সিচুয়েশন থোড়া গরম হ্যায়। লেকিন ঠিক হো যায়েগা!’’ কবে? তিনি হেসেছিলেন। তার পর বলেছিলেন, ‘‘দেখতে রহিয়ে না! পেশেন্স রখনা হোগা!’’ ধৈর্য রেখেছিলেন তিনি। আরজি করের উত্তাল নাগরিক আন্দোলন স্থিমিত হয়ে গিয়েছিল। ক্রমে ক্রমে তা মিলিয়েও গিয়েছে রাজ্য এবং দেশের রাজনীতি থেকে। তৃণমূল আবার রাজনীতিতে ফিরেছে ‘স্বমহিমা’ নিয়ে। বরফের চাঁই চাপিয়ে রাখার মতো ঠান্ডা মাথার দীর্ঘ এবং সুঠাম চেহারার সেই যুবকের নাম প্রতীক জৈন। তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার।

আরজি কর আন্দোলন যখন তৃণমূলের অনেক রথী-মহারথীর ঘাম ছুটিয়ে দিয়েছিল, তখন প্রতীক ধৈর্যের কথা বলেছিলেন। ১৩ বছর আগে আরও তরুণ এবং নবীন প্রতীক ধৈর্যের পাঠ দিয়েছিলেন খোদ নরেন্দ্র মোদীকে। তখন অবশ্য মোদী প্রধানমন্ত্রী নন। গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী। ২০১৪ সালে মোদীর প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার নির্বাচনে তাঁর পরামর্শদাতা দলের অন্যতম ‘মুখ’ ছিলেন প্রশান্ত কিশোর। আর প্রতীক? প্রশান্তের ‘ছায়াসঙ্গী’। ২০০৭ সালের একটি সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক কর্ণ থাপরের মুখে গুজরাত দাঙ্গা সংক্রান্ত ‘অপ্রিয়’ প্রশ্ন শুনে ক্রুদ্ধ এবং ক্ষুব্ধ মোদী আসন ছেড়ে সটান উঠে গিয়েছিলেন। এ কথা বলে যে, বন্ধুত্ব থাকুক। কিন্তু সাক্ষাৎকার নয়। প্রতীকের ঘনিষ্ঠারা জানেন, গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী মোদীর সেই উঠে পড়ার ‘ক্লিপিং’ দেখিয়েই ভারতের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রীকে ধৈর্যের পাঠ দেওয়ার অন্যতম পরামর্শদাতা ছিলেন এই প্রতীক। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে ২০১৩ সালে মোট ১৭ বার বিজেপির ‘প্রধানমন্ত্রী মুখ’ মোদীকে ওই অংশের ফুটেজ দেখিয়ে এবং দর্শকের মনে তাঁর সেই শরীরী ভাষার ‘নেতিবাচক প্রভাব’ বুঝিয়ে সহনশীলতার পাঠ দেওয়া হয়েছিল। যার পুরোধা ছিলেন প্রতীক।

প্রতীক নিজে সে কথা কখনও মুখ ফুটে বলেননি। আইপ্যাকের দায়িত্বভার ‘পিকে’-র হাত থেকে মসৃণ ভাবে ‘পিজে’র হাতে যাওয়ায় কারও বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে, দ্বিতীয় প্রজন্মের এলেম প্রমাণিত। পশ্চিমবঙ্গের শাসক তৃণমূলের নীতিনির্ধারণ, সংগঠন পরিচালনা এমনকি, সরকারি কর্মসূচির নকশা আঁকার ক্ষেত্রেও নির্ণায়ক ভূমিকা নিচ্ছেন তিনি। তৃণমূলকে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের বৈতরণী পার করাতে ‘মেঘনাদ’-এর ভূমিকা নিয়েছিলেন। ঝাড়খণ্ডের ভূমিপুত্র প্রতীক ২০০৮ সালে বম্বে আইআইটিতে ভর্তি হয়েছিলেন। সেখান থেকে বি-টেক পাশ করেন। সেখানে তাঁর বিষয় ছিল মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মেটিরিয়াল সায়েন্স। শিক্ষানবিশ হিসাবে প্রথম চাকরি একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে। তার পরে ডাটা বিশ্লেষক হিসাবে ২০১২ সালে কাজ শুরু করেছিলেন ব্রিটিশ সংস্থা ‘ডেলয়েট’-এ। সে চাকরি ছেড়ে ‘সিটিজেন্স ফর অ্যাকাউন্টেবল গভর্নেন্স’ নামে একটি সংস্থা তৈরি করেন প্রতীক। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৫ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ওই সংস্থাই ছিল প্রতীকের কাজের জগৎ। সেই সংস্থার হয়েই মোদীর পরামর্শদাতা টিমে ছিলেন তিনি। মোদী প্রধানমন্ত্রী হয়ে যাওয়ার পরে প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আইপ্যাক তৈরি করেন। সংস্থার ‘সহ-প্রতিষ্ঠাতা’। ‘কথা কম, কাজ বেশি’ মন্ত্রে বিশ্বাসী প্রতীক গোটা দেশের রাজনীতিকে নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁর দফতরের দেওয়ালে ঝুলছে ভারত এবং পশ্চিমবঙ্গের মানচিত্র। রাজ্য, জেলা, জনবিন্যাস তাঁর ঠোঁটস্থ। তথ্যপঞ্জি তাঁর কাছে জলভাত। সঙ্গে সারা রাজ্যের সমস্ত এলাকার খোঁজখবর। তৃণমূলের বিভিন্ন নেতা বা মন্ত্রী সম্পর্কে মূল্যায়নও রয়েছে তাঁরা তথ্যভান্ডারে। আশ্চর্য নয় যে তাঁর উপর যুগপৎ আস্থা রাখেন মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গত কয়েক বছরে তৃণমূলের প্রবীণ নেতাদের অনেকেই আইপ্যাকের ব্যাপারে কখনও সখনও ‘নেতিবাচক’ মন্তব্য করেছেন। এমনকি, গত বছর মমতাও বিধানসভায় তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে বলেছিলেন, ‘‘প্যাক-ফ্যাকের কথা শুনে কেউ কাজ করবেন না!’’ কিন্তু তার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পরিস্থিতিতে নাটকীয় বদল ঘটে। নেতাজি ইন্ডোরের একটি সভায় মমতা ‘প্যাক-ফ্যাক’ বলা সংস্থাকেই ‘আমার আইপ্যাক’ বলে সম্বোধন করেন। তার পর থেকে প্রতীককে কাজ করার ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বময় নেত্রী। একাধিক বার নবান্নে গিয়ে মতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রতীক। তাঁর নেতৃত্বাধীন পরামর্শদাতা সংস্থার আরও বিস্তৃত হয়েছে। প্রচুর নিয়োগ হয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে সারা রাজ্য জুড়ে কাজ করছে আইপ্যাক। তৃণমূল এবং রাজ্য সরকারের সঙ্গে। বস্তুত, দল এবং সরকারের নৈমিত্তিক যোগাযোগের ‘সেতু’ হিসাবেই কাজ করেন প্রতীক। বিধানসভা ভোটের আগে সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান-সহ বিভিন্ন প্রচারমূলক ছবি, চলচ্ছবি নির্মাণই হোক বা কোন কোন প্রকল্পে জোর দিতে হবে, সে বিষয়ে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া অথবা নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে ঝাড়াইবাছাই প্রক্রিয়া— প্রতীক এবং আইপ্যাকের অস্তিত্ব, প্রভাব এবং মতামত অসীম। ব্যক্তিগত ভাবে প্রতীক কখনও সামনে আসতে পছন্দ করেন না। বরং কৃতিত্বের জন্য এগিয়ে দেন তাঁর সহকর্মীদের। তৃণমূলের অন্দরে তাঁর ‘ঘনিষ্ঠ’ কেউ আছেন, এমন শোনা যায় না। তবে কিনা, পেশাদারদের ‘ঘনিষ্ঠ’ কেউ হয়ও না। যদিও ব্যক্তিগত ভাবে কাউকে কাউকে পছন্দ করেন প্রতীক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles