দীর্ঘ দিন পর দেশের মাটিতে এক দিনের ম্যাচ। সেই পরীক্ষায় লেটার মার্কস নিয়ে পাশ করলেন বিরাট কোহলি। ১২০ বলে ১৩৫ রান করলেন ১১টি চার এবং ৭টি ছয়ের সাহায্যে একটু কম নম্বর পেলেও সসম্মানে উত্তীর্ণ রোহিত শর্মা। তিনি ৫১ বলে ৫৭ রান করলেন। মারলেন ৫টি চার এবং ৩টি ছয়। ধোনির ঘরের মাঠে এল ৮৩ নম্বর সেঞ্চুরি, ফের বিরাট হয়ে উঠলেন কোহলি। ক্রিকেট রোম্যান্সের নতুন এক অধ্যায় তিনি। ক্রিকেট যদি ধর্ম হয়, তিনি তাহলে তার সাক্ষাৎ সাধক। তিনি বিরাট কোহলি। ঘাম-রক্তের জাতীয় দলের ‘হেডস্যর’ গৌতম গম্ভীরই চান না বিরাট কোহলি খেলুন। কিন্তু সেই বিরাট কোহলিই ভুল প্রমাণ করেন তাঁর নিন্দুকদের। গৌতম গম্ভীরকে বাধ্য করলেন ভাবতে। কোহলি এখনও বিরাট ছায়া বিস্তার করতে পারেন দেশের ক্রিকেটে। মহেন্দ্র সিং ধোনির ঘরের মাঠে কোহলি খেললেন আরও একটা বিরাট ইনিংস। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরির পরে ফের শতরান হাঁকালেন। প্রোটিয়া ব্রিগেডের বিরুদ্ধে বাউন্ডারি মেরে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছন। ওয়ানডে ফরম্যাটে ৫২ নম্বর শতরান হয়ে গেল কোহলির। একটি ফরম্যাটে সর্বাধিক। শতরানের পরে বিরাট লাফে ফুটে বেরোচ্ছিল আগের ঔদ্ধত্য।
কোহলির মতো ক্রিকেটারদের জন্যই হয়তো বলা হয়, ফর্ম ইজ টেম্পোরারি বাট ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট।

টুথ পিকের মতো ব্যাট নড়াচড়া করছিলেন। দেহের ভারসাম্য দুর্দান্ত। ছক্কা মেরে হাফ সেঞ্চুরি করলেন। যশস্বী জয়সওয়াল শুরুতেই ফিরে যাওয়ার পরে রোহিত শর্মাকে সঙ্গে নিয়ে ১৩৬ রান জুড়লেন। আপার কাটে ছক্কা মেরে সেঞ্চুরিয়নের শচীন তেণ্ডুলকরকে ফেরালেন। রোহিত শর্মার সঙ্গে সেই পুরো জুটি দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিংকে অত্যন্ত সাধারণ পর্যায়ে নামিয়ে আনলেন। কেরিয়ারের এই পড়ন্ত বেলাতেও তিনি দেশের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড। দক্ষিণ আফ্রিকার এই বোলারদের সামলাতেই ইডেন-গুয়াহাটিতে ভারতীয় ব্যাটারদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলার জোগাড়। ভারতীয় ক্রিকেটের দুই ‘বুড়ো ঘোড়া’ দুঃস্বপ্ন হয়ে ধরা দিলেন প্রোটিয়া ব্রিগেডের কাছে। রোহিত শর্মা ৫৭ রান করে থেমে গেলেন। বিরাট কোহলি সেঞ্চুরি করলেন। ৮৩ নম্বর সেঞ্চুরি। ২০২৭ বিশ্বকাপের জন্য কোহলির নাম থাকছে? ২৮০ দিন পর কোহলির শতরান। রোহিতই বা কম যান কিসে! শেষ বার সিডনিতে ম্যাচ জেতানো শতরান করেছিলেন। এ বার দেশের মাটিতে ওপেন করতে নেমে সেখান থেকেই শুরু করলেন। আগ্রাসী ব্যাট করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে শুরু থেকেই চাপে ফেলে দিলেন। যশস্বী জয়সওয়াল ফিরে যাওয়ার পর যোগ দিলেন কোহলি। দু’জনের জুটি ফিরিয়ে দিল সেই পুরনো দিন, যখন রোহিত এবং কোহলি মাঠে নামলেই একটা আলোড়ন তৈরি হত। এখন তাঁদের দেখার জন্য হাপিত্যেশ করে বসে থাকতে হয়। তাই কেরিয়ারের শেষ বেলায় দুই ক্রিকেটারের ইনিংস হয়তো এটাও বোঝাল, ভাল জিনিস কমই ভাল। প্রশ্নটা এখন রোহিত, কোহলির ফর্ম নিয়ে নয়। গুরু গৌতম গম্ভীর এবং নির্বাচক অজিত আগরকরকে নিয়ে। প্রথম ম্যাচের আগেই শোনা যাচ্ছিল, সিরিজ় শেষে দু’জনের ভবিষ্যৎ নিয়ে ‘বৈঠক’ করা হবে। রবিবারের ইনিংস প্রমাণ করে দিল, এই বৈঠক না হলেও চলে। গোটা সিরিজ়ে আর কিছু না করলেও দুই ক্রিকেটারের বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার কথা নয়। অভিজ্ঞতার একটা দাম তো রয়েছে। গম্ভীর, আগরকরেরা যদি সেটাও পাত্তা না দিতে চান, তা হলে আদৌ ভারতীয় ক্রিকেটের উন্নতির কথা তাঁরা ভাবছেন কি না সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য।




