সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির তৃতীয় ম্যাচে পঞ্জাবের কাছে ১১২ রানে হেরে গেল বাংলা। কাজে এল না অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণের ৬৬ বলে ১৩০ রানের অপরাজিত ইনিংস। জঘন্য ব্যাটিং-বোলিংয়ের মাশুল দিল বাংলা। প্রথমে ব্যাট করে পাঞ্জাব করে ৫ উইকেটে ৩১০। জবাবে বাংলার ইনিংস শেষ হয় ৯ উইকেটে ১৯৮ রানে। হিমাচল প্রদেশের বিরুদ্ধে ৪ এবং হরিয়ানার বিরুদ্ধে ৬ রান করে আউট হয়েছিলেন অভিষেক শর্মা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজের আগে তাঁর ফর্ম নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির প্রথম দু’ম্যাচে রান পাননি অভিষেক শর্মা। ফর্মে ফেরার জন্য পঞ্জাব অধিনায়র বেছে নিলেন বাংলাকে। মহম্মদ সামি, আকাশ দীপদের বিরুদ্ধে ব্যাট হাতে ২৫ বছরের ব্যাটার খেললেন ৫২ বলে ১৪৮ রানের ইনিংস। বাংলার কোনও বোলারই অভিষেকের আগ্রাসী ব্যাটিং থামাতে পারেননি। ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ৩১০ রান তুলেছে পাঞ্জাব। হিমাচল প্রদেশের বিরুদ্ধে ৪ এবং হরিয়ানার বিরুদ্ধে ৬ রান করে আউট হয়েছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ের আগে অভিষেকের ফর্ম নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। দেশের অন্যতম সেরা বোলিং আক্রমণকে সামনে পেয়ে সব উদ্বেগ উড়িয়ে দিলেন পঞ্জাবের অধিনায়ক। সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির প্রথম দু’ম্যাচ জিতে রবিবার মাঠে নামে আত্মবিশ্বাসী বাংলা। শামি, আকাশদের আত্মবিশ্বাসের কোনও মর্যাদাই দিলেন না অভিষেক! ওপেন করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ছিলেন। প্রথম দু’ম্যাচের ব্যর্থতা ঢাকতে এ দিন যেন মরিয়া হয়েই হায়দরাবাদের ২২ গজে গিয়েছিলেন অভিষেক। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সুযোগ কাজে লাগালেন পূর্ণ মাত্রায়। ১২ বলে অর্ধশতরান করে নজির গড়েছেন অভিষেক। পুরুষদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্রুততম অর্ধশতরানের তালিকায় অভিষেক থাকলেন তৃতীয় স্থানে। তালিকায় শীর্ষে নেপালের দীপেন্দ্র সিংহ আইরি। ২০২৩ সালের এশিয়ান গেমসে মঙ্গোলিয়ার বিরুদ্ধে ৯ বলে ৫০ রান করেন। দ্বিতীয় স্থানে আশুতোষ শর্মা। ২০২৩-২৪ মরসুমের সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে রেলের হয়ে অরুণাচল প্রদেশের বিরুদ্ধে ১১ বলে অর্ধশতরান করেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১২ বলে অর্ধশতরান করার নজির যুবরাজ সিংহ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেল এবং আফগানিস্তানের হজরাতুল্লা জাজাইয়ের।
৩২ বলে ১০০ রান পূর্ণ করেন অভিষেক। শেষ পর্যন্ত করেন ৫২ বলে ১৪৮। ইনিংসে রয়েছে ৮টি চার এবং ১৬টি ছক্কা। ভারতীয় দলের দুই বোলার সামি, আকাশদের বল মাঠের বাইরে পাঠিয়েছেন অনায়াসে। রেয়াত করেননি সক্ষম চৌধুরী, শাহবাজ আহমেদ, ঋত্বিক চট্টোপাধ্যায়, করণলালদের মতো বাংলার অন্য বোলারদেরও। অভিষেকের ৩২ বলে শতরান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভারতীয়দের মধ্যে চতুর্থ দ্রুততম। তালিকায় যুগ্ম ভাবে শীর্ষে ২০২৪ সালে উর্ভিল পটেলের এবং অভিষেকেরই করা ২৮ বলে শতরান। তৃতীয় স্থানে রয়েছে এ বছর উর্ভিলের করা ৩১ বলে শতরান। পাঞ্জাবের অপর ওপেনার প্রভশিমরন সিং ৮টি চার এবং ৪টি ছক্কার সাহায্যে করেন ৩৫ বলে ৭০ রান। প্রথম উইকেটের জুটিতে ১২.৩ ওভারে পঞ্জাব করে ২০৫ রান। রমনদীপ সিংহ করেন ১৫ বলে ৩৯। ২টি চার এবং ৪টি ছয় মেরেছেন। সনভীর সিংহ করেন ৯ বলে ২২। ২টি করে চার এবং ছক্কা এসেছে ব্যাট থেকে। বাংলার কোনও বোলারই নিজের সুমান অনুযায়ী বল করতে পারেননি। সামি ৪ ওভারে ৬১ রান দিয়ে ১ উইকেট পেয়েছেন। আকাশ ৪ ওভারে ৫৫ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন। সক্ষমের ২ ওভারে ৩৫ রানে ১ উইকেট। ঋত্বিক ৪ ওভারে খরচ করেছেন ৬৭ রান। ১ ওভারে ২১ রান দিয়েছেন করণ। ২ ওভারে ২৭ রান দিয়েছেন শাহবাজ। ৩ ওভারে ৪১ রান দিয়ে ১ উইকেট প্রদীপ্ত প্রামাণিকের।




