৪৮ ঘণ্টা পর ইডেনে শুরু ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম টেস্ট। তার আগে কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে ইডেন গার্ডেন্সকে। দিল্লিতে বিস্ফোরণের পর অত্যন্ত সতর্ক কলকাতা পুলিশ। কোনও ঝুঁকির পথে হাঁটতে চান না তাঁরা। তাই নিরাপত্তা বলয় আরও আঁটোসাঁটো করা হল। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে মঙ্গলবার সিএবি কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা। তার আগে লালবাজার থেকে ইডেন পরিদর্শনে যায় একটি প্রতিনিধি দল। শুধু ইডেন চত্বর নয়, দুই দল যে হোটেলে থাকবে, সেখানেও বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। যে রাস্তা দিয়ে ক্রিকেটাররা যাতায়াত করবেন, তাতেও থাকবে বিশেষ নজরদারি। ম্যাচের পাঁচদিন ইডেনে থাকবে বাড়তি নিরাপত্তা। এর আগে একাধিকবার ফেন্সিং টপকে মাঠে ক্রিকেটারদের কাছে পৌঁছে যেতে দেখা যায় সমর্থকদের। এবার যাতে তার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। দর্শকদের তল্লাশি ব্যবস্থা আরও কঠোর হবে। পুলিশ কর্মীদের সবসময় গ্যালারির দিকে নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ছাড়াও থাকতে পারে প্রাইভেট সিকিউরিটি। যেকোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচেই কড়া নিরাপত্তা থাকে। কিন্তু এবার মুম্বইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে। সোমবার রাতে প্রবল বিস্ফোরণে কাঁপে দিল্লি। লালকেল্লার সামনে পরপর তিনটি গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। ঘটনায় প্রাথমিকভাবে ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। পরে সেই সংখ্যা আরও বাড়ে। আহত বহু। দিল্লিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পরেই হাই অ্যালার্ট জারি হয়েছে কলকাতায়। শহরের সমস্ত থানাকে সতর্ক করেছে লালবাজার। এই পরিস্থিতিতে কলকাতায় ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের নিরাপত্তা বাড়ছে। শুক্রবার থেকে ইডেনে শুরু দুই দলের প্রথম টেস্ট। ভারত রবিবার রাতেই কলকাতায় পা রেখেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা দল সোমবার সন্ধেয় শহরে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার কালীঘাট মন্দিরে যাওয়ার কথা ছিল গৌতম গম্ভীরের। সেটাও স্থগিত রাখা হয়। শহরের বিভিন্ন জায়গায় নাকা চেকিং হচ্ছে। দর্শনীয় স্থানে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকছে। হোটেলে সবার নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বিদেশিদের।

সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়ে ছিলেন, পিচ নিয়ে ভারতীয় দলের পক্ষে কোনও অনুরোধ আসেনি। অথচ মঙ্গলবার উল্টো সুর শোনা গেল পিচ কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়ের মুখে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে কেমন পিচ চান, তা সুজনকে আগে জানিয়ে দেন ভারতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীর। যদিও এ দিন পিচ দেখে খুব একটা খুশি হননি ভারতীয় দলের কোচ। ইডেনে প্রায় ৩ ঘণ্টা অনুশীলন করে ভারতীয় দল। অনুশীলন শেষে গম্ভীর, অধিনায়ক শুভমন গিল, ব্যাটিং কোচ সিতাংশু কোটাক এবং বোলিং কোচ মর্নি মর্কেল একসঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ পিচ পর্যবেক্ষণ করেন। মর্কেল এবং শুভমন পিচের একাধিক জায়গায় হাত দিয়ে দেখেন। তার পর ডাকা হয় সুজনকে। তাঁর সঙ্গে প্রায় ১৫ মিনিট কথা বলেন গম্ভীর-শুভমনেরা। সে সময় তাঁদের দেখে কিছুটা অসন্তুষ্ট মনে হয়েছে। দেখে মনে হয়েছে, ভারতীয় শিবিরের পক্ষ থেকে যেমন পিচ আশা করা হয়েছিল, ইডেনের পিচ তেমন নয়। তা জানিয়েও দেওয়া হয় ইডেনের পিচ কিউরেটরকে।

পরে সুজন মেনে নিয়েছেন, ভারতীয় দল আরও বেশি স্পিন সহায়ক পিচ চেয়েছিল। সুজন বলেছেন, ‘‘হোম টিমের সঙ্গে যে ধরনের কথা হয়, তেমনই কথা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার পিচে যেমন সব সময় বাউন্স থাকে, ভারতীয় শিবিরও একটু স্পিন সহায়ক পিচ চেয়েছিল। খুব বেশি নয়। যেমন হয়েছে, তার চেয়ে আর একটু বেশি।’’ অতিরিক্ত স্পিন সহায়ক হলে কি ভারতীয় দল সমস্যায় পড়তে পারে? সুজন বলেছেন, ‘‘এটা আমি কী করে বলব। যারা খেলবে, তারা বলতে পারবে। আমাদের কাজ পিচ তৈরি করা। ভাল পিচ দেওয়ার চেষ্টা করি আমরা। আশা করছি, ব্যাট-বলের ভাল লড়াই দেখতে পাবেন দর্শকেরা।’’ভারতীয় দলে রবীন্দ্র জাডেজা, কুলদীপ যাদব, অক্ষর পটেল, ওয়াশিংটন সুন্দরের মতো স্পিনার রয়েছে। অন্য দিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটারেরা স্পিন বল খেলার ক্ষেত্রে খুব দক্ষ নন। সম্ভবত সে কারণেই ভারতীয় দলের পক্ষ থেকে আরও বেশি স্পিন সহায়ক পিচ চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু ইডেনের পিচ পরীক্ষা করে খুশি হননি গম্ভীর-শুভমনেরা। সিএবি সূত্রে জানা গিয়েছে, এক সপ্তাহ ধরে মূল পিচে জল দেওয়া হয়নি। পিচের রং কিছুটা বাদামি। উপরের অংশ বেশ শুকনো এবং শক্ত। কোনও কোনও জায়গায় সামান্য ঘাস রয়েছে। সেগুলিও প্রায় শুকিয়ে গিয়েছে। পিচের আশপাশে মঙ্গলবারও জল দেওয়া হয়েছে। মূল পিচে জল দেওয়া হচ্ছে না। গম্ভীর-শুভমনের সঙ্গে কথা বলার পর সৌরভ এবং সিএবির অন্য কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে দেখা গিয়েছে সুজনকে। সৌরভ এবং সুজন দু’জনেই দাবি করেছেন, পিচ যথেষ্ট ভাল। ম্যাচ যত এগোবে, বল তত ঘুরবে। স্পিনারেরা সাহায্য পাবে। সুজন জানিয়েছেন, ইডেনের পিচে সকলেই কিছু না কিছু সাহায্য পাবেন। তিনি বলেছেন, ‘‘পিচ ভালই হবে। স্পোর্টিং হবে। খেলা যত এগোবে, স্পিনারেরা তত সাহায্য পাবে। পিচে ভাল বাউন্সও থাকবে। ব্যাটার-বোলার সকলেই কিছু না কিছু সাহায্য পাবে এই পিচে।’’ এ দিন ভারতীয় দলের অনুশীলন বাধ্যতামূলক ছিল না। তবু অধিকাংশ ক্রিকেটারই এসেছিলেন অনুশীলনে। শুভমন ৯০ মিনিট নেটে ব্যাটিং করেছেন। অস্ট্রেলিয়ায় সাদা বলের সিরিজ় খেলে দেশে ফেরা অধিনায়ক টেস্টের প্রস্তুতিতে কোনও ফাঁক রাখতে চাইছেন না। অনুশীলন শুরুর আগে গম্ভীর এবং কোটাকের সঙ্গে কিছুক্ষণ করা বলেন শুভমন। জসপ্রীত বমরাহ এবং নীতীশ কুমার রেড্ডির বলে অনুশীলন করেন। নেট বোলারেরাও বল করেছেন শুভমনকে। বোলিং কোচ মর্কেল এবং দলের থ্রোডাউন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও কথা বলেন শুভমন।




