উত্তরবঙ্গে তৈরি হচ্ছে ক্রিকেট স্টেডিয়াম। উত্তরকন্যা থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ঘোষণা করলেন উত্তরবঙ্গে ক্রিকেট স্টেডিয়াম তৈরি হবে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করলেন, স্টেডিয়ামের নামকরণ হবে রিচা ঘোষের নামে। স্টেডিয়াম তৈরি হলে উত্তরবঙ্গ থেকে আরও খেলোয়াড়রা উঠে আসবেন ভবিষ্যতে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা আপনাদের সকলকে কৃতজ্ঞতা, অভিনন্দন জানাই রিচার জন্য। ওর মাত্র ২২ বছর বয়স, ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এখানকার সমস্ত নাগরিকরা মিলে সংবর্ধনা দিয়েছে, তাঁকে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছেও দিয়েছে। আমরাও সিএবির পক্ষ থেকে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে ওঁকে সংবর্ধনা দিয়েছি। ওর উদ্দেশ্যে আমরা এখানে একটা ক্রিকেট স্টেডিয়াম করতে চাই। এখানে চাঁদমারি বাগানে প্রায় ২৭ একর জমি আছে। আমি মেয়রকে বলব, ওটা ক্রিকেট স্টেডিয়াম করার জন্য। এই ক্রিকেট স্টেডিয়ামটা রিচা ক্রিকেট স্টেডিয়াম করে দেওয়া হোক। এতে মানুষ ওর পারফরম্যান্সটা মনে রাখবে এবং অনেকে ভবিষ্যতে অনুপ্রাণিত হবে। ক্রীড়া দপ্তর এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয় ডিএসপির চাকরি। বিশ্বকাপজয়ী বঙ্গসন্তানের হাতে তুলে দেওয়া হয় সোনার চেন। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের তরফ থেকে দেওয়া হয় সোনার ব্যাট-বল এবং ৩৪ লক্ষ টাকার চেক। মেয়েদের বিশ্বকাপ ফাইনালে ৩৪ রান করেছিলেন রিচা। সেই কারণেই সৌরভ গাঙ্গুলির নেতৃত্বে এই অভিনব উদ্যোগ সিএবির। এছাড়াও দেওয়া হয় একটি ক্রিস্টালের স্মারক, উত্তরীয়, ফুলের স্তবক এবং মিষ্টি। ক্রীড়ামন্ত্রী থাকাকালীন বুলা চৌধুরী, সাইনি আব্রাহামকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছিলেন মমতা। অলিম্পিকের সময় স্পোর্টস পলিসি করেছিলেন। প্রথম বঙ্গতনয়া হিসেবে রিচার বিশ্বকাপ জয়ে উচ্ছ্বসিত মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ঝুলনরা জীবন পাত করেছে এই দিনটার জন্য। একটুর জন্য পারেনি। রিচারা পেরেছে। ওদের কর্মের ফল এটা। ওকে এই জায়গা তৈরি করে দেওয়ার জন্য শ্যামা দেবীকে অভিনন্দন। রিচা সহ ভারতীয় দলকে শুভেচ্ছা। বাবা-মা, বন্ধু-বান্ধব, কোচের সাহায্য না থাকলে এই জায়গায় পৌঁছতে পারত না। গৌতম দেবের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। শিলিগুড়িতে বড় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। রিচার বয়স অল্প। আমি মনে করি সাফল্যের রহস্য প্রকাশ্যে আনতে নেই। অনেকের টেকনিক্যাল পয়েন্ট থাকে। নিজস্বতা থাকে। এবার যে প্রক্রিয়া কাজে লাগিয়েছে, পরের বার অন্য প্রক্রিয়া হতে পারে। আমি চাই মেয়েরা আরও এগিয়ে যাক। আমরা রিচার থেকে প্রত্যাশা রাখব, কিন্তু ওকে চাপ দেব না। রিচা বিশ্বসেরা হয়েছে। আশা করি ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাবে। মানসিক শক্তি রাখতে হবে। দুর্গমকে জয় করতে হবে। লড়তে হবে, খেলতে হবে, জিততে হবে।’
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার কথা শুনে আবেগতাড়িত রিচার বাবা মানবেন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘‘আমি বলার ভাষা পাচ্ছি না। দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে চলেছে। শুধুমাত্র রিচা নয়, নতুন প্রজন্মের যাঁরা খেলছেন, স্বপ্ন দেখছেন, তাঁদের জন্য এটা অনেক বড় পাওনা। ধন্যবাদ জানাব মুখ্যমন্ত্রী-সহ রাজ্য সরকারকে। যাঁরা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের সকলকেই ধন্যবাদ জানাতে চাই।’’ খেলার মধ্যে রয়েছেন, এমন কারও নামে দেশে কখনও কোনও স্টেডিয়াম হয়নি। ভাইচুং ভুটিয়ার নামে নামকরণ হয়েছে তিনি অবসর নেওয়ার পর। রিচার নামে স্টেডিয়াম তৈরির ঘোষণা করে সেই প্রবণতারও ব্যতিক্রম ঘটালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। রিচার নামে উত্তরবঙ্গেই স্টেডিয়াম তৈরির ঘোষণা করে বিজেপির বঞ্চনার অভিযোগকে মুখ্যমন্ত্রী উড়িয়ে দিলেন।




