Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

স্বেচ্ছাচারিতা!‌ গনতন্ত্রকে হত্যা?‌ জ্ঞানেশ কুমারকে সাসপেন্ডের আর্জি!ফর্ম ৬ নিয়েই নয়ছয়? সর্বসম্মতিক্রমে না হলে SIR-এ স্থগিতাদেশ!

একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে ৭ দিনে জবাব দিতে হবে কেন্দ্র-কমিশনকে

RK NEWZ সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন একটি বহু-সদস্যের স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। যে কোনও সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে হবে হয় সর্বসম্মতিক্রমে, নয়তো সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে। জানিয়ে দিয়েছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ। সর্বসম্মতিক্রমে না হলে এসআইআর (বিশেষ নিবিড় সংশোধন)-এ স্থগিতাদেশ! জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দায়ের একটি মামলায় এমনটাই পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে শীর্ষ বেঞ্চ স্পষ্ট করে, “যদি দেখা যায় নির্বাচন কমিশনের নেওয়া কোনও সিদ্ধান্ত আইনের নীতি মেনে হয়নি, তবে সুপ্রিম কোর্ট নির্দ্বিধায় তা বাতিল করবে। মূল নথি পেশ করা হলে ভোটার তালিকার ‘ফর্ম ৬’ কে বা কারা সংশোধন করেছেন, তাও খতিয়ে দেখা হবে।”একইসঙ্গে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, ফর্ম ৬-এ কোনও বদলের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এক্ষেত্রে যদি কোনও বদল হয়ে থাকে, তবে তা কার নির্দেশ করা হয়েছে, জানতে চেয়ে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে নোটিস দিল প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে তাদের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এসআইআর, নির্বাচন কমিশন ও জ্ঞানেশের কুমার সংক্রান্ত মামলাগুলি ওঠে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদনে ভিত্তিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ ওঠে। দাবি করা হয়, বাকি দুই কমিশনারের আপত্তিতে আমল না দিয়ে একের পর এক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন ভোটারের নাম তোলার জন্য ফর্ম ৬-এ বিশেষ বদল করা হয়। যা জানতেন না বাকি দু’জন। সংবাদপত্রের ওই প্রতিবেদনকে হাতিয়ার করে মামলা দায়ের হয় শীর্ষ আদালতে। মামলাগুলির সুরাহা না-হওয়া পর্যন্ত জ্ঞানেশকে সাসপেন্ডের আর্জিতেও একটি জনস্বার্থ মামলা রুজু হয়। তিন বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, কোনও সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত কোনও নির্দেশ দিতে পারে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “কোনও সংবাদপত্রের প্রতিবেদন ১০০ শতাংশ ঠিকও হতে পারে, আবার আংশিক ঠিকও হতে পারে, আবার ভুলও হতে পারে। আমরা এর ভিত্তিতে কোনও নির্দেশ দিতে পারি না।” যদিও কেন্দ্র ও কমিশনকে জবাব তলব করার কথা জানায় সুপ্রিম কোর্ট। আদালত বক্তব্য, “আমরা অবশ্যই তাদের (কমিশনের) জবাব চাইব। যদি আমরা দেখি যে কোনও ক্ষেত্রে আইন মানা হয়নি, তাহলে আমরা তা বাতিল করে দিতে পারি।” প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের বক্তব্য, গোটা বিষয়টির সত্যাসত্য বিচার করে তবেই বড়সড় সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব, তার আগে নয়। ভোটার তালিকা থেকে মৃত, নিখোঁজ ও অবৈধ ভোটারদের বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে পরিচালিত হয় ‘এসআইআর’ কার্যক্রম। এর আওতায় ‘ফর্ম ৬’-এর মাধ্যমে নতুন ভোটার নিবন্ধনের অনলাইন প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন একটি ‘আপত্তিকর’ অতিরিক্ত শর্ত দেয়। এর জেরেই তালিকা থেকে অসংখ্য ভোটার বাদ পড়েন বা ভোটাধিকার হারান। প্রশ্ন উঠছে, আদালতের অনুমতি ছাড়া এমন শর্ত কীভাবে আরোপ করা যায়! উল্লেখ্য, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, নতুন শর্ত চাপানো হয় জ্ঞানেশ কুমারের একক সিদ্ধান্তে। সহকারী দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি উড়িয়ে। ‘ফর্ম ৬’ হল ‘ভোটার নিবন্ধন বিধিমালা, ১৯৬০’-এর অধীনে নির্ধারিত একটি বিধিবদ্ধ ফর্ম। আইনি অনুমতি ছাড়া এর সংশোধন বা পরিবর্তন সম্ভবই নয়। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি অভিযোগ প্রমাণিত হলে পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যের গোটা ভোট প্রক্রিয়া বাতিল হতে পারে? বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, যাবতীয় অভিযোগ প্রমাণ হলে তাও হতে পারে। আইনি জট ও সমালোচনার মুখে সুর চড়িয়েছে নির্বাচন কমিশনও। কমিশনের তরফে এক বার্তায় দাবি করা হয়েছে, যে কোনও গণতান্ত্রিক বা বহু-সদস্যের প্রতিষ্ঠানে কাজের জায়গায় ভিন্ন মত বা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকা স্বাভাবিক একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। কমিশনের গৃহীত সমস্ত সিদ্ধান্তের পূর্ণ আইনি বৈধতা রয়েছে এবং তা নির্দিষ্ট সংবিধিবদ্ধ আইন মেনেই কার্যকর করা হয়েছে। এখন আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শীর্ষ আদালতে কমিশন ও কেন্দ্র কী নথি পেশ করে, তার ওপরই নির্ভর করছে দেশের সর্বোচ্চ নির্বাচনী সংস্থার ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ।

ফর্ম ৬ নিয়েই নয়ছয়? কথায় বলে, ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না’। নির্বাচন কমিশনের ক্ষেত্রেও কি তা-ই হল? নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের মামলায় ৬ নম্বর ফর্মের বিষয়টি বিশেষ ভাবে উত্থাপিত হয় শুনানিতে। তাতে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছে শীর্ষ আদালত। তা শুনে অনেকেরই অভিমত, কমিশনের ফ্রিজে থাকা মাছের উপর থেকে শাকের আঁটিটি সরিয়ে দিয়েছে আদালত। কেঁচোর চেয়েও বড় কেউটে সামনে এল। দেশের প্রধান বিচারপতির এজলাসে যে ছবিটা ধরা পড়ল, তাতে কমিশনের পুরো দাবিটাই প্রশ্নের মুখে পড়ে গেল। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে— ফর্ম ৬-এ কোনও রকম রদবদল বা নতুন শর্ত যোগের কোনও অনুমতি আদালত কখনওই দেয়নি! প্রসঙ্গত, ‘ফর্ম ৬’ হল ‘রেজিস্ট্রেশন অফ ইলেক্টর্স রুলস, ১৯৬০’-এর অধীনে একটি নির্ধারিত বিধিবদ্ধ ফর্ম। আইনি সংস্কার ও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ছাড়া এতে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন আনার সংস্থান নেই। অথচ ভুয়ো, মৃত ও নিখোঁজ ভোটার বাদ দেওয়ার অজুহাতে অনলাইন প্রক্রিয়ায় এই ‘বিতর্কিত’ ও ‘অতিরিক্ত’ শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। এর ফলে বহু বৈধ নাগরিক ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার মুখোমুখি হন কিংবা ভোটাধিকার হারান। সার্বিক ভাবে জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে জাতীয় রাজনীতি আলোড়িত, মহালয়ার দিন মহাআন্দোলনের প্রস্তুতি চলছে দিল্লিতে, তখন সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ তাতে নতুন গতি দেবে বলেই অভিমত রাজনৈতিক মহলের।

এক নজরে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ
লিখিত জবাব তলব : এই বিষয়ে কেন্দ্র এবং নির্বাচন কমিশন— উভয়ের কাছ থেকেই এক সপ্তাহের মধ্যে লিখিত জবাব তলব করা হয়েছে।

সংবিধান ও কমিশনের প্রকৃতি : সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন একটি বহু-সদস্যের স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। তাই সেখানে যে কোনও সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে হবে হয় সর্বসম্মতিক্রমে, নয়তো সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে।

সংবাদমাধ্যমের খবরের ওপর মন্তব্য : সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ১০০ শতাংশ সত্য হতে পারে, আবার আংশিক সত্য কিংবা ভুলও হতে পারে। কেবল খবরের ওপর ভিত্তি করে আজই কোনও অন্তর্বর্তী আদেশ জারি করা সম্ভব নয়; আগে কমিশনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানা প্রয়োজন।

আইন অমান্য করলে বাতিলের হুঁশিয়ারি : যদি দেখা যায় নির্বাচন কমিশনের নেওয়া কোনও সিদ্ধান্ত আইনের নীতি মেনে হয়নি, তবে শীর্ষ আদালত নির্দ্বিধায় তা বাতিল করবে।

মূল নথি পরীক্ষা : মূল নথি পেশ করা হলে ভোটার তালিকার ‘ফর্ম ৬’ কে বা কারা সংশোধন করেছেন, তাও খতিয়ে দেখা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles