মেয়েদের বিশ্বকাপ জয়ের সময় সানার জন্মদিন পালন করতে লন্ডনে ছিলেন সৌরভ। এই প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য করেননি। শহরের এক পাঁচতারা হোটেলে অ্যাল ক্রিকেট ডিভাইস কাবুনির উন্মোচন অনুষ্ঠানে ভাইরাল ভিডিও প্রসঙ্গে মুখ খুললেন সৌরভ। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তাঁর মনে হয়েছিল ভারতের মেয়েরা চ্যাম্পিয়ন হতে পারে। সৌরভ বলেন, একটা সাক্ষাৎকারের নির্দিষ্ট অংশ তুলে ধরা হয়েছে। এই নিয়ে ভাবি না। কিছু যায় আসে না। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আমার মনে হয়েছিল ভারতের মেয়েরা চ্যাম্পিয়ন হতে পারে। কারণ আমি ওদের যাত্রা খুব কাছ থেকে দেখেছি। কিন্তু প্রকাশ্যে ভবিষ্যদ্বাণী করা যায় না। ক্রিকেটে আগাম কিছু বলা যায় না। রিচা বলে বলে ছয় মেরেছে। ভারতীয় মেয়েরা আরও উন্নতি করবে। অনেক এগোবে। গত ছয় বছরে মেয়েদের ক্রিকেট অনেক দূর এগিয়েছে। আমি একদম সামনে থেকে দেখেছি। দিল্লি ক্যাপিটালসে ছিলাম। অনেকটা সময় ওদের সঙ্গে কাটিয়েছি। মেয়েদের ক্রিকেট অন্য পর্যায় চলে গিয়েছে। এখান থেকে শুধুই এগোবে। ২৫ বছর আগে এমনই একটি দিনে অধিনায়ক হয়েছিলেন সৌরভ। একই দিনে নতুন একটি উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হলেন। বিশেষ দিনটিতে ফ্ল্যাশব্যাকে ফিরে যান মহারাজ। ইতিহাসের পাতা উল্টে দেখেন। ফিরে যান ১৯৯৬ সালে। লর্ডসে। সৌরভ বলেন, ‘কাকতালীয়ভাবে ২৫ বছর আগে আমি প্রথম অধিনায়ক নির্বাচিত হই। এই দিনেই অধিনায়ক করা হয় আমাকে। টেস্ট জিতি এবং ভারতীয় দলকে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দিই। কোনও কিছুই বদলায়নি। এখনও কোনও না কোনও লিডারশিপ ভূমিকায় আছি। আমরা টেস্ট এবং একদিনের ক্রিকেটের যুগে বেড়ে উঠেছি। পরবর্তীতে টি-২০ এসেছে। ক্রিকেট অনেকটাই বদলে গিয়েছে। অবিশ্বাস্য প্রতিভা রয়েছে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের ক্রিকেটে। তারপর আইপিএল, ডব্লুপিএল এসেছে। পরিকাঠামো আরও উন্নত হয়েছে। ভাল খেলার পুরস্কার পাচ্ছে ক্রিকেটাররা। আমি জানতাম দলে টিকে থাকতে হলে আমাকে ভাল খেলতেই হবে। ১৯৯৬ সালে অভিষেক টেস্টে লর্ডসে শতরান করি। বর্তমানে প্রত্যেক শহর এবং গ্রামে প্রতিভাবান ক্রিকেটার রয়েছে। খেলাটা যেভাবে এগিয়েছে দেখে ভাল লাগে।’ ২৫ বছর আগে আজকের দিনে যেমন অধিনায়ক হয়েছিলেন, তেমনই ১৭ বছর আগে আজই অবসর নেন। নাগপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে শেষ টেস্ট খেলেন। তারপর থেকে একের পর এক কর্মকাণ্ডে নিজেকে জড়িত রেখেছেন। বাইশ গজের বাউন্ডারি লাইন পেরিয়েও পরবর্তী জীবনে একের পর এক ছক্কা হাঁকিয়েছেন। যাই ছুঁয়েছেন, সোনা ফলেছে। সৌরভ গাঙ্গুলির বৃত্তি অনেকটাই বড়। ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক জানান, সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন তিনি। একের পর এক চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন। দাবি করেন, তিন নম্বরে ব্যাট না করলে এই জায়গায় পৌঁছতে পারতেন না। সৌরভ বলেন, ‘অবসরের ১৭ বছর কেটে গেল। তারপর একের পর এক কিছু না কিছু করে চলেছি। ধারাভাষ্য থেকে শুরু করে, প্রশাসনিক কাজকর্ম। তারপর বোর্ডের সভাপতি হই। মেয়েদের আইপিএলের সঙ্গে যুক্ত হই। প্রিটোরিয়া দলের কোচ। টিভিতে বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানও করি। অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করে ১৯৯৬ সালে ইংল্যান্ডে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ছিল। বলে মুভমেন্ট ছিল। কেন আমি পরের দিকে নামতে চাইনি? আমি যদি তিন নম্বরে ব্যাট না করতাম, এখন যেখানে আছি, সেখানে পৌঁছতে পারতাম না। সুযোগ কাজে লাগাতে জানতে হয়। আমার চরিত্রে ‘না’ বলার জায়গা নেই। আমি সব চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করি। স্পোর্টস আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে সুযোগ কাজে লাগাতে হয়। জানতাম ভাল না খেললে আর সুযোগ পাব না। তাই নিজেকে সেই স্ট্যান্ডার্ডে নিয়ে যেতে হয়েছে। সেরাদের সঙ্গে খেললে, নিজের সেরাটাও বেরিয়ে আসে।’ ক্রিকেটের অ্যাল ডিভাইসের উন্মোচনে এসে সৌরভ জানান, এই পদ্ধতি উন্নতমানের। মেয়েদের ক্রিকেটের উন্নতিতেও সাহায্য করবে। ক্রিকেটারদের টেকনিক্যাল দিকগুলো শোধরাতে সাহায্য করবে।
মহম্মদ সামির হয়ে এবার ব্যাট ধরলেন সৌরভ গাঙ্গুলি। অস্ট্রেলিয়া সিরিজ থেকে বাদ পড়েছিলেন। এবার ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজেও সুযোগ পাননি। এমনকী সম্পূর্ণ ফিট থাকা সত্ত্বেও। রঞ্জি ট্রফিতেও ছন্দ রয়েছেন। গুজরাটের বিরুদ্ধে বাংলার জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। তাসত্ত্বেও ব্রাত্য। সামির নাম বিবেচনা করেননি অজিত আগরকররা। কয়েকদিন আগে বোর্ডের প্রধান নির্বাচককে একহাত নেন বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা। সরাসরি কিছু না বললেও, আকার-ইঙ্গিতে সৌরভ জানিয়ে দিলেন সামির দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে সুযোগ পাওয়া উচিত ছিল। কলকাতার এক পাঁচতারা হোটেলে একটি অ্যাল ডিভাইসের উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসে এমন জানান বোর্ডের প্রাক্তন সভাপতি। সৌরভ বলেন, ‘সামি ফিট। খুব ভাল বল করছেন। রঞ্জিতে বাংলাকে একটা ম্যাচে জিতিয়েছে। আশা করছি নির্বাচকরা সেটা দেখছে। জানি না ওর সঙ্গে নির্বাচকদের যোগাযোগ আছে কিনা। সামির তিন ফরম্যাটেই খেলা উচিত। না খেলার আমি কোনও কারণ দেখছি না। ওর দক্ষতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই।’ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বর্তমানে টেস্টে একনম্বর দল। সম্প্রতি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিরিজ জিতেছে। কিন্তু দেশের মাটিতে ভারতকেই ফেভারিট ধরছেন সৌরভ। প্রাক্তন অধিনায়ক স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ঘরের মাঠে ভারতকে হারানো সহজ নয়। সৌরভ বলেন, ‘দেশের মাটিতে ভারত সবসময় ফেভারিট। ভারতের স্পিন আক্রমণ ভাল। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দারুণ সিরিজ খেলেছে। শুভমন গিল, কেএল রাহুল, যশস্বী জয়সওয়াল, ঋষভ পন্থরা দুর্দান্ত। ভারতীয় দলে অসংখ্য প্রতিভা। জানি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা ভাল খেলেছে। তবে দেশের মাটিতে ভারত সম্পূর্ণ ভিন্ন দল। তাই টিম ইন্ডিয়া ফেভারিট।’ শুক্রবার থেকে ইডেনে শুরু ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম টেস্ট। ক্রিকেটের নন্দনকাননে কি ব়্যাঙ্ক টার্নার অপেক্ষা করছে প্রোটিয়াদের জন্য? সৌরভ জানান, এখনও টিম ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে এমন কোনও চাহিদা আসেনি। এখনও পর্যন্ত পিচ দেখে যথেষ্ঠ ভাল মনে হয়েছে। সৌরভ বলেন, ‘ভারতীয় দলের পক্ষ থেকে পিচ নিয়ে কোনও চাহিদা পেশ করা হয়নি। তাই বলতে পারব না। পিচ যথেষ্ট ভাল দেখাচ্ছে।’ দারুণ ছন্দে আছেন ধ্রুব জুরেল। সৌরভ মনে করেন, তরুণ উইকেটকিপার ব্যাটারের প্রথম টেস্টে সুযোগ পাওয়া সহজ হবে না। কারণ দলে তারকার সমাহার। কোনও জায়গা খালি নেই। ঋষভ পন্থ ফেরায় জুরেলের সম্ভাবনা কমেছে। একমাত্র সাই সুদর্শনের জায়গায় তাঁকে নেওয়া যেতে পারে। একসময় দেশের ফুটবলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন সৌরভ। আইএসএলের দল অ্যাটলেটিকো কলকাতায় তাঁর মালিকানা ছিল। বর্তমানে আইএসএলর ভবিষ্যৎ বিশ বাঁও জলে। দেশের একনম্বর লিগ হবে কিনা সন্দেহ। এই প্রসঙ্গে কিছু বলতে চাননি সৌরভ। শুধু বলেন, ‘আমি সবটাই দেখেছি। দেখা যাক আগামী সপ্তাহে কী হয়।’ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সোমবার বিকেলে সরাসরি ইডেনের উদ্দেশে রওনা দেন সৌরভ। ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট শুরু হতে মাত্র তিনদিন বাকি। তার আগে নিজে পিচ পর্যবেক্ষণ করবেন সিএবি সভাপতি।
কলকাতায় গৌতম গম্ভীর। শুক্রবার থেকে শুরু টেস্ট। মঙ্গলবার কালীঘাটে পুজো দিতে যেতে পারেন। তার আগে বোর্ডের ওয়েবসাইটে গম্ভীর বলেছেন, শুধু ব্যাটিংয়েই নয়, বোলিংয়েও আগ্রাসন চান। অভিষেক শর্মারা ব্যাট করতে নেমেই ঝড় তুলছেন। গম্ভীর বুঝিয়ে দিয়েছেন, বোলিংয়েও ওরকম আক্রমণাত্মক মানসিকতা চান তিনি। বলেছেন, ‘অনেকেই আমাদের টি–টোয়েন্টি দলকে দেখে আগ্রাসী ব্যাটিং দল বলে। আমার মনে হয় পাওয়ার প্লে–তে বুমরাকে দিয়ে তিন ওভার বল করানোও আগ্রাসনের একটা ধরন। আমরা এমন দল হতে চাই না যেখানে শুধু ব্যাটিংয়ের আগ্রাসনটাই লোকের নজরে পড়ে। সামগ্রিকভাবে যাতে গোটা দলকে আগ্রাসী লাগে সেই কাজ করতে চাই।’ বুমরাকে শুরুতেই তিন ওভার বল দেওয়া কেন আগ্রাসনের অঙ্গ সে সম্পর্কে গম্ভীরের ব্যাখ্যা, ‘আমরা দেখতে চাই ব্যাপারটা কেমন হচ্ছে। ভবিষ্যতে আমাদের দলের কৌশল ঠিক করতেও সেটা সাহায্য করবে। এশিয়া কাপে এই কৌশল ভালই কাজ করেছে। বেশির ভাগ ম্যাচেই পাওয়ার প্লে আমরা কাজে লাগাতে পেরেছি।’ গম্ভীরের সংযোজন, ‘মাঝের দিকে উইকেট নেওয়ার জন্য বরুণ এবং কুলদীপ তো রয়েছেই। শুরুটা ভাল হলে ওরা স্বাধীনভাবে মাঝের ওভারগুলোতে বল করতে পারে। ফলে গোটা ম্যাচ জুড়ে উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা তৈরি হবে আমাদের। এটা আগ্রাসী কৌশল তো বটেই।’ গম্ভীরের আমলে দলে আট ব্যাটারের থাকা প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে। তবে ভারতের কোচ জানিয়েছেন, দলে সাত•জন বোলার রাখাও দরকার। এ কারণেই ভবিষ্যতে অলরাউন্ডারদের গুরুত্ব আরও বাড়তে চলেছে। গম্ভীরের কথায়, ‘যত বেশি অলরাউন্ডার থাকবে তত ভাল। কম বিকল্পের থেকে বেশি বিকল্প থাকা ভাল। অতীতে বহু বার দলে ছ’জন বোলার থাকার ব্যাপারে ভেবেছি। এই টি–টোয়েন্টি দলটায় সাত–আট জন বল করতে পারে। বছরের পর বছর ধরে আমরা এমন ক্রিকেটার খুঁজে গিয়েছি যে দু’ওভার বল করে দিতে পারে। সেটা টি–টোয়েন্টি হোক বা ৫০ ওভারের ম্যাচ। এখন এমন বোলারদের তৈরি করার চেষ্টা চলছে যারা মাঝের দিকে ব্যাট করতে পারে, আবার দরকারে বলও করে দিতে পারে।’ দুই ক্রিকেটার হলেন ওয়াশিংটন সুন্দর এবং অক্ষর প্যাটেল। গম্ভীরের আশা, বিশ্বকাপে দু’জনেই ভাল খেলবেন। বলেছেন, ‘শুধু উপমহাদেশের ক্রিকেটে নয়, ওরা যে মানের ক্রিকেটার তাতে বেশির ভাগ জায়গাতেই সফল হবে। গত সাত–আট মাসে ভারতের সাফল্যের পিছনে অনেকাংশে দায়ী ওয়াশির বোলিং। অক্ষর পাঁচে ব্যাট করে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করেছে। কঠিন ওভার বল করেছে।’




