Thursday, July 23, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘সাহসিনী’ দুই কন্যার বিবাহ!‌ অভিষেকের আশির্বাদ!‌ রিয়া এবং রাখীর প্রেম পরিণতি!‌ লিঙ্গসমতা ও প্রান্তিক যৌন পরিচিতি

“তোমাদের ভালবাসা যেন আরও গভীর হয়, আরও দৃঢ় হয়। তোমাদের জীবন যেন আনন্দে, সম্মান, সম্প্রীতি ও শান্তিতে ভরে ওঠে।” দক্ষিণ ২৪ পরগনার রামেশ্বরপুর গাববেড়িয়া গ্রামটি এই মুহূর্তে অনেকের নজরেই অ-সাধারণ। এই গ্রামে মানুষজন সম্প্রতি দাঁড়িয়ে থেকে বিয়ে দিয়েছেন সেখানকার বাসিন্দা রাখী নস্কর ও রিয়া সর্দার নামের দুই নারীর। এ দেশে সমলিঙ্গের বিবাহ আইনি স্বীকৃতি পাবে কি পাবে না, এই নিয়ে লিঙ্গসমতা ও প্রান্তিক যৌন পরিচিতির মানুষদের নিয়ে আন্দোলনরত ব্যক্তি ও সংগঠনের এখনও সংশয় কাটেনি। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের একটি গ্রামের মন্দিরে, বিনা বাধায় দুই কন্যার চার হাত এক করার এই ঘটনাটি এলাকার বাসিন্দাদেরও সারা দেশের থেকে খানিক ‘আলাদা’ হিসেবে চিহ্নিত করছে। রিয়া এবং রাখী, দু’জনেই পেশাগত ভাবে নৃত্যশিল্পী। তাঁরা নৃত্য পরিবেশনের ডাক পান সাধারণত পাশের রাজ্য বিহার থেকে। বিয়ের আসরে নৃত্য পরিবেশন করতে তাঁদের মঝেমধ্যেই দূর-দূরান্তে পাড়ি দিতে হয়। এমন যাপনের মধ্যে খানিক ঝুঁকি, খানিক অনিশ্চয়তা রয়েছেই। তার উপরে এই সমলিঙ্গের সম্পর্ক। কতখানি জটিলতা পার হতে হয়েছে দু’জনকে? প্রশ্ন করায় রিয়া ফিরে গেলেন তাঁদের সম্পর্কের শুরুর দিনগুলিতে।

তাঁদের আলাপ ফোনে। মাধ্যম এক বান্ধবী। তাঁর কাছ থেকেই রিয়ার ফোন নম্বর নিয়ে রাখী জানিয়েছিলেন, “ভালবাসি”। বিভিন্ন জায়গায় এর পর দেখা হতে শুরু করে। দু’জনে একসঙ্গে নাচের অনুষ্ঠান করতেও যান। এ ভাবেই প্রেম ঘনায়। দিন যায়। কিন্তু এই সম্পর্কের পরিণতি কী? রিয়া জানালেন, প্রথমে বিহারের এক মন্দিরে তাঁরা বিয়ে করেন। ফিরে এসে একসঙ্গে বাসও করতে শুরু করেন। গোড়ার দিকে রাখীর বাড়ির দিক থেকে তেমন সমস্যা ছিল না। সাত মাস রিয়া থেকেছেন রাখীর বাড়িতে। সেখান থেকেই নাচের অনুষ্ঠান করেছেন। কিন্তু ক্রমে দেখা যায়, রাখীর মায়ের ব্যবহার কঠোর হয়ে উঠছে। রাখীদের বাড়ি অন্য গ্রামে। জয়নগর জামতলা। রিয়ার অভিযোগ, সেখানে তাঁদের সম্পর্কের কথা জানাজানি হতে কেউ মেনে নেননি। এমনকি, গ্রামের ক্ষমতাবান কেউ রিয়ার গায়ে হাত পর্যন্ত তোলেন। এর পরেই রিয়া বাড়ি ফিরে আসেন। রামেশ্বরপুরের মানুষ তাঁদের প্রতি সহৃদয়ই ছিলেন। বিহারে মন্দিরে বিয়ের কথা রিয়া বাড়িতে জানালে, তাঁর বাড়ির লোকেরা মেনে নেন। তার পরের ঘটনা ইতিমধ্যেই সংবাদের পাতায়। স্থানীয় এক ক্লাবের সহায়তায় এক মন্দিরে আবার বিয়ের আয়োজন। চার হাত এক করে গ্রামের মানুষ ভালবাসাকে উদ্‌যাপন করেন।

গল্প যেন রূপকথার। কিন্তু এমন এক রূপকথা যেখানে রাজপুত্তুর নেই, রয়েছেন দুই রাজকন্যে। তাঁদের ‘হ্যাপিলি এভার আফটার’ জীবনের জন্য পথের কাঁটাগুলো ফুলে ফুলে ঢেকে দিচ্ছেন গ্রামের সাধারণ মানুষ, যাঁদের বক্তব্য, এমন বিয়ে মোবাইলে দেখেছেন, সামনে থেকে এই প্রথম। কী ভাবে সম্ভব হল এই বিয়ে? উত্তর কি সেই ‘মোবাইল’ শব্দটিতেই নিহিত? হাতের মুঠোয় যখন দুনিয়া, তখন ‘প্রাইড’ শব্দটি থেকে বহু দূরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ওই গ্রামটিতে রামধনু ছাতার মতো নিজেকে মেলে ধরল! শহরের পথে যে আত্মপরিচয়কে ব্যক্ত করতে স্লোগানে, ব্যানারে, পতাকায় ভূষিত হয়ে পথে নামতে হয় প্রান্তিক যৌন পরিচিতির মানুষদের, সেখানে এক প্রত্যন্ত গ্রাম শুধু মোবাইল থেকে জেনে গেল, এমন বিয়েও ‘অ-স্বাভাবিক’ নয়! রিয়া জানালেন, এমন সম্পর্কে তাঁদের জানাশোনা ৫-৭ জন জুটি রয়েছেন। বিয়ে না করলেও তাঁরা একত্রবাস করছেন এবং ভালই আছেন। এক বামপন্থী রাজনৈতিক নেত্রী রিয়া-রাখীর কাহিনিকে ছবি সমেত তাঁর সমাজমাধ্যমের পাতায় পোস্ট করেছেন। বহু লাইক আর শেয়ার হয়েছে সেই পোস্ট। মন্তব্য-বাক্সে দুই কন্যেকে সাবাসি দিয়েছেন বহু জনে। তার মাধ্যমে সমলিঙ্গে বিয়ের খবরটি দিকে দিকে ছড়িয়ে যায়। কিন্তু তার মধ্যেও যে বেসুর শোনা যায়নি, তা নয়। বেশ কিছু কটুকাটব্য সেখানে রয়েছে। ‘কুছ তো লোগ কহেঙ্গে’-ই। কিন্তু তার পর? রিয়া জানালেন, তার আর ‘পর’ নেই। নিজেদের পায়ে দাঁড়ানো আর নতুন সংসারকে গুছিয়ে তোলাই এখন লক্ষ্য দু’জনের। সঙ্গটি রাখা হল কলকাতার ‘সাফো ফর ইক্যুয়ালিটি’-র মুখপাত্র লিঙ্গসমতা ও প্রান্তিক যৌন পরিচিতির মানুষদের অধিকার নিয়ে কর্মরত মীনাক্ষী সান্যালের কাছে। প্রশ্ন ছিল, শহর থেকে দূরে কী ভাবে সম্ভব হল এ হেন গণচৈতন্যের, যেখানে দু’জন সমলিঙ্গের মানুষের বিয়ে দিতে এগিয়ে এলেন গ্রামবাসীরা? দীর্ঘ ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে মীনাক্ষী জানালেন, এমন ক্ষেত্রে শহর বা গ্রাম, অর্থাৎ এক কথায় ভৌগোলিক অবস্থান কোনও বড় বিষয় নয়। শহর মানেই যে সেখানকার মানুষ মুক্তমনা হবেন আর গ্রামের ক্ষেত্রে উল্টোটা, এমন ভাবাও একটা নির্মাণ মাত্র। ক্ষমতার নির্মাণ। মীনাক্ষীর কথায়, “আসল ব্যাপার হল, কী ভাবে আপনি ভালবাসাকে দেখছেন। শহরবাসী উচ্চবর্গের, তথাকথিত উচ্চবর্ণের মধ্যে কি নিজস্ব সামাজিক অবস্থানগত অহমিকাবোধ নেই? সেই অহমিকা কি কার্যত একটা সরু, অন্ধকার গলির ভিতরে ঠেলে নিয়ে যায় না মানসিকতাকে?” গ্রাম মানেই ‘অজ্ঞতা’— এমন ধারণা মনের মধ্যে পুষে রাখাটাই মস্ত বড় ভুল। রিয়ার গ্রামের মানুষেরা মীনাক্ষীর ভাষায়, “অনেক ঊর্ধ্বে গিয়ে ভেবেছেন।” দু’জন মানুষের ভালবাসার মর্মকে তাঁরা মর্যাদা দিয়েছেন।

দ্বিতীয় প্রসঙ্গটি ছিল ‘বিয়ে’ নিয়ে। সামাজিক প্রতিষ্ঠানের ছক ভাঙতে চাওয়া দু’জন মানুষ কেন নত হবেন ‘বিয়ে’ নামে আর একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠানের কাছে। রিয়ার কথা থেকে বার বার উঠে এসেছে এমন আভাস, যা থেকে বোঝা যায়, ‘বিয়ে’ ব্যাপারটা তাঁদের কাছে অনেক কিছু। তা আচার, হোম-যজ্ঞ ইত্যাদির অনেকটাই উপরে থাকা একটা প্রতিশ্রুতি। নিশ্চয়তার প্রতিশ্রুতি, নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি। মীনাক্ষীর মতে, বিয়ে নেহাতই একটা সামাজিক সিলমোহর। রিয়া-রাখী এটুকু ভেবেছেন যে, বিয়ে নামের ঘটনাটি ঘটে গেলে তাঁদের আর কেউ আলাদা করতে পারবে না। এখানে আইন বড় কথা বলে না, বলে সমাজ। পরে যেন কেউ জোর করে তাঁদের কাউকে অন্য কারও সঙ্গে (অবশ্যই পুরুষের) বিয়ে দিতে না পারেন, সেই নিশ্চয়তাটুকু এই বিয়ে দিয়েছে। এর জন্য গ্রামের মানুষকে অভিনন্দন জানালেন মীনাক্ষী। এমনিতেও তো তার বেশি কিছু নেই। কারণ, সমলিঙ্গের বিবাহ আইনি স্বীকৃতি এখনও পায়নি এ দেশে। কবে পাবে, তারও কোনও নিশ্চয়তা নেই। অবশ্যই ‘মোবাইলে দেখা এমন বিয়ে’-র উদাহরণ তাঁদের সামনে ছিল বলেই গ্রামের মানুষ এই উদারতাটুকু দেখাতে পিছপা হননি। মীনাক্ষীর মতে, গ্রামবাসীরা যে নতুন নজির সৃষ্টি করলেন, তার মধ্যে কোথাও যেন ভারতের নারী ক্রিকেট দলের বিশ্বজয়ের স্পিরিটটি লুকিয়ে আছে। যে কোনও জয়কে ‘জয়’ হিসেবে যে নিক্তিটি নির্ধারণ করে দেয়, তা অবশ্যই জনমতের স্বীকৃতি। স্টেডিয়াম ভর্তি মানুষের হর্ষোল্লাস সে দিন দক্ষিণ ২৪ পরগনার গ্রামটির মন্দিরে শোনা যায়নি। কিন্তু উলুধ্বনি বা জাগ্রত অগ্নির সামনে মালাবদলরতা দুই মানবীর ব্যবধানহীনতার অন্তরালে কোথাও সেই হর্ষ ছিলই।

সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামের রিয়া এবং রাখীকে বিবাহের শুভেচ্ছা জানালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গত সপ্তাহেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার মন্দিরবাজার থানা এলাকার রিয়া সর্দার এবং কুলতলি ব্লকের বকুলতলার বাসিন্দা রাখী নস্কর। সোমবার তাঁদের এই সাহসী পদক্ষেপের জন্য দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলিতে এক সংবর্ধনা সভার আয়োজন করেছিল তৃণমূল। সেই সভা চলাকালীনই ফোনে দুই তন্বীকে শুভেচ্ছা জানান তৃণমূলের নেতা অভিষেক। বলেন, “সুন্দরবনের মাটি থেকে এক অনন্য ইতিহাস রচিত হয়েছে।” সমলিঙ্গ বিবাহ নিয়ে সমাজের ছুতমার্গের ঊর্ধ্বে ওঠার জন্যও সুন্দরবনবাসী তথা গোটা রাজ্যবাসীকে বার্তা দেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক। তিনি বলেন, “আমাদের সমাজের চেনা ছকের বাইরে গিয়ে ভালবাসার সত্যিকারের অর্থকে সামনে এনেছে রিয়া ও রাখী। তারা প্রমাণ করেছে, ভালবাসা কখনও কোনও বন্ধনে বা কোনও সীমারেখার মধ্যে আটকে থাকে না। ভালবাসা কোনও বাধা মানে না। না ধর্মের, না লিঙ্গের, না জাতির, না সমাজের, না নিয়মের।” সুন্দরবনের নববিবাহিত যুগলকেই শুভেচ্ছা জানানোর জন্যই নয়। সেটি উপলক্ষ মাত্র। লক্ষ্য বিজেপি। লক্ষ্য সমলিঙ্গ বিবাহ নিয়ে তৃণমূলের দলীয় অবস্থানও। বস্তুত, সমলিঙ্গ বিবাহ নিয়ে রাজ্যের শাসকদলের শীর্ষনেতৃত্বের প্রকাশ্যে এমন ‘বলিষ্ঠ’ অবস্থান সাম্প্রতিক অতীতে এই প্রথম। বিজেপি বা বিজেপি-ঘেঁষা দলগুলি এ বিষয়ে সামাজিক অবস্থান অনেকটাই ‘রক্ষণশীল’। এ বিষয়ে তাদের ছুতমার্গ বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যেও এসেছে। এমনকি, সংসদেও বিজেপি সদস্যেরা সমলিঙ্গ বিবাহের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের নেতা বুঝিয়ে দিতে চাইলেন, তাঁরা এই ‘গোঁড়ামি’তে বিশ্বাসী নন। অভিষেকের কথায়, ‘‘রিয়া এবং রাখীর সাহস, একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা, নিষ্ঠা এবং ভালবাসা আগামী কয়েক প্রজন্মের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তাঁরা গোটা সমাজকে বুঝিয়ে দিয়েছেন, ভালবাসা মানেই মানবতা এবং মানবতাই হল সমাজের আসল পরিচয়।’’

যুগলকে অভিষেক বলেন, “তোমাদের ভালবাসা যেন আরও গভীর হয়, আরও দৃঢ় হয়। তোমাদের জীবন যেন আনন্দে, সম্মান, সম্প্রীতি ও শান্তিতে ভরে ওঠে।” ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ ভাবে অভিষেকের শুভেচ্ছাবার্তার নির্যাস হল— ভালবাসার মধ্যে ধর্ম বা জাতি বা লিঙ্গ কোনও প্রতিকূলতা তৈরি করতে পারে না। উত্তর ভারতের হিন্দিবলয়ে, বিশেষত বিজেপিশাসিত উত্তরপ্রদেশে প্রায়শই ভিন্‌ধর্মে বা ভিন্‌জাতে বিয়ে করার জন্য হেনস্থার শিকার হওয়ার অভিযোগ ওঠে। অনেকেই মনে করছেন, সমলিঙ্গ বিবাহকে দলীয় ‘স্বীকৃতি’ দেওয়ার পাশাপাশি ভিন্‌ধর্মে বা ভিন্‌জাতে বিবাহ প্রসঙ্গেও তৃণমূল তাদের অবস্থান দৃঢ় ভাবে বুঝিয়ে দিল। আঞ্চলিক স্তরে তৃণমূলের তরফে রিয়া-রাখীর সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। কুলতলির বিধায়ক গণেশচন্দ্র মণ্ডল, মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার এবং অন্য স্থানীয় নেতৃত্বেরা নববিবাহিত যুগলকে সংবর্ধনা দেন। এ-ও ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ যে, আঞ্চলিক স্তরের একটি কর্মসূচিতে ফোন করে শুভেচ্ছা জানালেন অভিষেক। সেই শুভেচ্ছাবার্তার ভিডিয়ো নিজের সমাজমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেন তিনি। পরে ওই সংবর্ধনা সভার বেশ কিছু ছবি-সহ একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। কুলতলিবাসীর উদ্দেশে ফোনে অভিষেক জানান, শীঘ্রই তিনি ওই গ্রামে যাবেন। গ্রামবাসীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেবেন। ওই গ্রামের উন্নয়নের জন্য যা কিছু প্রয়োজন, সব পদক্ষেপ করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।

যা থেকে স্পষ্ট যে, আঞ্চলিক এক সংবর্ধনা সভাকে এ ভাবে প্রচারের আলোয় নিয়ে এসে সামাজিক তো বটেই, রাজনৈতিক স্তরেও ‘বার্তা’ দিতে চেয়েছেন অভিষেক। তৃণমূল যে সমলিঙ্গ বিবাহকে আরও আপন করে নিয়ে ‘রক্ষণশীল’ পদ্মশিবিরের বিপরীতে একটি ‘উদার’ রাজনৈতিক মঞ্চ এই প্রান্তিক শ্রেণির জন্য খুলে দিতে চায়, সেই বার্তাই দেওয়া হয়েছে। গত বছর আরজিকর আন্দোলনের সময়ে পথে নেমেছিলেন প্রান্তিক লিঙ্গের একটি বড় অংশের মানুষ। তাঁদের অনেকেই রাজনৈতিক ভাবে ‘বামঘেঁষা’। সোমবারের ফোনে সেই প্রান্তিক লিঙ্গের মানুষদের প্রতিও তৃণমূলের অবস্থানও বোঝানোর উদ্যোগ রয়েছে। রিয়া-রাখীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে অভিষেক ফোনে বলেন, “দু’জনেই হয়তো জানত, কাজটা খুব সহজ হবে না। সমাজ থেকে নানা রকম বাধাবিপত্তি, প্রতিকূলতা আসবে। কটাক্ষ আসবে। তা-ও তারা একসঙ্গে থাকার লড়াই থেকে পিছিয়ে আসেনি। আমি তাদের কুর্নিশ জানাই।”ওই যুগলের পাশে থেকে তাঁদের উৎসাহিত করার জন্য গ্রামবাসীদেরও ধন্যবাদ জানান অভিষেক। তাঁর কথায়, এটি শুধু কুলতলি বা দক্ষিণ ২৪ পরগনা বা বাংলার গর্ব নয়, এটি গোটা দেশের গর্ব। গ্রামবাসীদের উদ্দেশে অভিষেক বলেন, “আপনারা সমাজের পুরনো মানসিকতার গণ্ডি ভেঙে ভালবাসার এই যাত্রায় রিয়া এবং রাখীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। এটি কেবল দু’টি মানুষের বিবাহ নয়। এটি আমাদের গ্রামের গর্ব। কুলতলির গর্ব। দক্ষিণ ২৪ পরগনার গর্ব। বাংলার গর্ব এবং দেশের গর্ব। এটা বাংলার প্রত্যেক মানুষের মানবিকতা এবং ভালবাসার জয়। আমরা গর্বিত যে এই গ্রামের মানুষ এই ভালবাসাকে উৎসাহিত এবং হ়ৃদয় থেকে গ্রহণ করেছেন। পুরনো ধ্যানধারণা ভেঙে আপনারা মানবিকতার পাশে দাঁড়িয়েছেন। আপনারা প্রমাণ করেছেন, সুন্দরবনের মানুষ শুধু প্রকৃতির সন্তান নয়, হৃদয়ের দিক থেকেও অনেক বড় মানুষ।” সুন্দরবন থেকে এই ইতিহাস তৈরি করার জন্য গ্রামবাসীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তৃণমূলের অন্যতম শীর্ষনেতা বলেন, রিয়া এবং রাখীর এই সাহস, মানবতা এবং ভালবাসা যাতে গোটা বাংলার প্রতিটি কোনায় ছড়িয়ে পড়ে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles