RK NEWZ ‘আপনারা কারা? না, না শুধু ‘লেবার’ বা ‘শ্রমিক’ বললে তো হবে না। পরিযায়ী, অতিথি নাকি…?’ কখনও কখনও এমন বেয়াড়া প্রশ্ন ছিটকে এলেও দয়া করে অবাক হবেন না। জানেনই তো, দেশ, দশ, নেতা-মন্ত্রী, সরকার সকলেই আপনাদের নিয়ে সর্বক্ষণ ভেবে ভেবে অস্থির হয়ে পড়েন। আর পড়েন বলেই তো ভোটের ঠিক আগে আগে আপনাদের কাছে ফোন যায়। যেমনটা গিয়েছিল এ বারেও, ‘শুধু ভোটটা দিয়ে যা বাবা। চাইলে যাতায়াত ভাড়াও দিয়ে দেবো। সব্বাই গুছিয়ে চলে আয়। মাথায় রাখবি, এ বারের ভোটটা কিন্তু অন্য ভোটের চেয়ে বিলকুল আলাদা।’ কখনও কখনও প্রশাসন কিংবা নির্বাচন কমিশন গণতান্ত্রিক উৎসবে শামিল হতে আপনাদের আমন্ত্রণ জানায়, ‘আসুন, আসুন শ্রমিকভাই, ভোট দিয়ে যান।’ টুং-টাং আওয়াজ তুলে মোবাইলে ঢুকতে থাকে এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপ। আপনারা ভয় পান কিংবা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ভেবে আনন্দ পান। তারপরে লোটাকম্বল গোছগাছ করে বাড়ির পথে রওনা দেন। যেমনটা দিয়েছেন এ বারেও। কিন্তু দিনকয়েকের জন্য বাড়ি ফিরেও কি শান্তিতে দু’দণ্ড থাকতে পারছেন? সকালে লাল, দুপুরে গেরুয়া আর বিকেলে সবুজ কড়া নাড়ছে বাড়ির দরজায়। সব দলের একটাই আবদার, ‘ভোটটা কিন্তু আমাদেরই দিও। আর তোমাকে নতুন করে কী বলব, তুমি তো আমাদেরই ছেলে।’ কী, নিজেকে বেশ ‘কেউকেটা’ মনে হচ্ছে? চোখের পাতা যখন লেগে আসছিল, তখনও সকলেই ভেবেছিলেন, ট্রেন তো বন্ধ। কিন্তু মালগাড়ি যে চলছে, সে কথা কারও মাথায় আসেনি। কাকভোরে ১৬ জন ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত, ক্ষুধার্ত শ্রমিকের উপর দিয়ে চলে গিয়েছিল একটা খালি মালগাড়ি। আড়মোড়া ভেঙে সূর্য তখনও ধাতস্থ হয়নি। ইঞ্জিনের গর্জন আর চাকার ঘড়ঘড়ানিতে ঢাকা পড়ে গেল গোঙানি, কান্না, হাহাকার। জীবন ও মৃত্যুর মতো সমান্তরাল ভাবে বয়ে চলা রেললাইনের পাথরের উপরে পড়ে ছিল রুটির টুকরো, ছেঁড়া চটি, গামছা, দাঁতন, সস্তার মাস্ক আর ছিন্নভিন্ন দেহ।
কাজ বন্ধ। জমানো টাকা শেষ। পেটে দানাপানি নেই। মাথার উপরে চৈত্রের রোদ। পা আর চলতে চাইছিল না। তবুও আপনারা হেঁটেছেন। হেঁটেই চলেছেন। সেই জীবন-মরণের সীমানা পেরোতে পেরোতে আপনাদের চোখে ভেসেছে গাঁয়ের বাড়ি, কাঁঠাল গাছের মিঠে ছায়া, টলটলে পুকুর আর গরম ভাত। দু’বেলা সেই নিশ্চিত ভাত আর সংসারে একটু গতি আনতেই তো বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন আপনি, আপনারা। গ্রামে কাজ নেই। থাকলেও উপযুক্ত পারিশ্রমিক নেই। এ দিকে খরচের বহর ক্রমেই বেড়ে চলে। সে সব সামাল দেওয়া কি মুখের কথা! যেখানে পারিশ্রমিক বেশি সেখানেই শ্রমিকেরা যাবেন। এটাই সহজ সত্যি। সেই কারণেই অভাবের সংসারে প্রায়ই শুনতে হয়, ‘আর কত দিন এ ভাবে চলবে? এ বার অন্তত বাইরে কোথাও কাজের চেষ্টা করো।’ বাইরে বলতে অন্য রাজ্যে। ফলে ভিড় বাড়তে থাকে ট্রেনে। কেরল, দিল্লি, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান— গন্তব্যের নামগুলো শুধু বদলে যায়।
ভিন্রাজ্যে কষ্ট আছে। কিন্তু টাকাও আছে। গাঁয়ের থেকে বেশি মজুরি। ওভারটাইম করলে আরও। বাড়ি থেকে ফোন যায়। ফোনের ও-প্রান্ত থেকে আপনারা আশ্বাস দেন, ‘কিচ্ছু ভেবো না। সব ঠিক হয়ে যাবে।’ সেই আশ্বাসে আপনার স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়ে টিউশন নিতে যায়। শৌচাগারের ছাদ পোক্ত হয়। উদ্ধার হয় গিন্নির বন্ধক রাখা গয়না। বাড়ির দেওয়াল ঘেঁষে জমতে থাকে ইট। পাকা হয় বোনের বিয়ে। বৃদ্ধা বাবা-মায়ের জন্য কেনা হয় ওষুধ। বিদেশ-বিভুঁইয়ে পড়ে থাকা আপনারা বিপদে পড়লে সবার আগে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন আপনাদের বাবা-মা-পরিবার। তাঁরা কাঁদতে কাঁদতে ফোন করেন, ‘টাকা-পয়সার দরকার নেই। ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আয়। তোর জন্য চিন্তায় মরে যাচ্ছি।’ কিন্তু ‘ফিরব’ বললেই কি ফেরা যায়? তখন তো ভোট থাকে না। আপনাদের কথাও কারও মনে থাকে না। রাষ্ট্রও ব্যস্ত হয়ে পড়ে তার অজস্র জরুরি কাজ নিয়ে। আর তাই তো বারাণসী থেকে ক্যানিংয়ের উদ্দেশে হাঁটতে শুরু করেন কোনও শ্রমিক। বলেন, ‘মা কাঁদছে ঘরে। বারবার ফোন করছে। তাই আর থাকতে পারিনি ওখানে। টানা পাঁচ দিন হাঁটছি।’ আপনারা হাঁটেন। আপনারা কাজ করেন। আপনাদের ঘামে ভেজা অর্থেই চাঙ্গা হয় স্থানীয় অর্থনীতি। প্রত্যন্ত গ্রামেও মাথা তুলে দাঁড়ায় বস্ত্র, হার্ডওয়্যার ও আরও কত নতুন নতুন দোকান। পুজো ও ইদের সময়ে শুধু পরিবারই নয়, অপেক্ষায় থাকে আপনার এলাকার বাজারও। সেই পরবের মুখে বাজার কেমন, জানতে চাইলে উত্তর আসে, ‘কেরল-পার্টি সবে ফিরতে শুরু করেছে। ওরা ফিরলেই বাজার পুরোপুরি জমে যাবে।’ তখন আপনাদের খুব কদর। কিন্তু, আপনারা জড়িত থাকুন বা না থাকুন, কিছু একটা অঘটন ঘটলেই শুরু হয় অনর্থ। খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পরে পরেই মালদহ, মুর্শিদাবাদের বহু শ্রমিককেই ট্রেনে যাতায়াত করার সময়ে শুনতে হয়েছে, ‘ওই যে, চলল সব! বাইরে থেকে দেখে মনে হয় সাধারণ শ্রমিক। কিন্তু ভিতরে ভিতরে সব এক একটা পাক্কা জঙ্গি!’ করোনার সময়েও যেমন অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, ভিন্ রাজ্য থেকে আপনাদের মতো যাঁরা আসছেন তাঁরা সকলেই মূর্তিমান করোনা ভাইরাস! এ সব মন্তব্য, ধরে নেওয়ার জন্য কোনও পরীক্ষা, রিপোর্ট, তথ্য, পরিসংখ্যানের দরকার হয় না। স্রেফ দাগিয়ে দিতে পারলেই হলো! কোথাও কোথাও তো মজুত করে রাখা হয়েছিল জীবাণুনাশক রাসায়নিকও। গ্রামে শ্রমিকরা ঢুকতেই তাঁদের শরীরে স্প্রে করে দেওয়া হয় সেই জীবাণুনাশক স্প্রে। বারবার আকারে, ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল, করোনার সংখ্যাগরিষ্ঠ বাহক আসলে ওই শ্রমিকরাই! ওঁরা এলাকায় ঢুকলেন মানেই সব শেষ! এক বারও কেউ ভাবেননি এমন সঙ্কটের দিনে পরিস্থিতির শিকার হতে পারেন যে কেউ। সেখানে হরিপদ কেরানি, আমলাপুত্র ও নজিমুদ্দিন সকলেই এক। অথচ, প্রকট বৈষম্যকে সাক্ষী রেখেই করোনা ও করুণা বদলে ফেলেছিল তাদের নিজস্ব গতি কিংবা ভাবনাপথ!
হুজুগে আমজনতার কথা বাদ দিন, প্রশাসন কিংবা সরকারও কি আপনাদের কোনও তথ্য বা পরিসংখ্যান রাখে? শ্রম আইন মেনে কতটাই বা আপনাদের স্বার্থ দেখা হয়? শুধু কখনও প্রাকৃতিক বিপর্যয় কিংবা বড় কোনও অঘটন ঘটে গেলে হইহই শুরু হয়। নিরাপত্তা, সুরক্ষা, বিমা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। প্রশাসন ব্যস্ত হয়ে পড়ে। মৃত্যু কিংবা জখম হলে ক্ষতিপূরণ মেলে। শুরু হয় অনুদানের রাজনীতি। কখনও কখনও পাশে থাকার বার্তা দিতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে গাজরের মতো সামনে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় যৎসামান্য ভাতা।
আবার প্রহসনও কিছু কম হয় না। ২০১৯-এ কাশ্মীরের আপেল বাগানে কাজ করতে গিয়ে সন্ত্রাসবাদীদের গুলিতে মৃত্যু হয় বাংলার পাঁচ শ্রমিকের। ওই পাঁচ জনই ছিলেন মুর্শিদাবাদের বাহালনগরের বাসিন্দা। ওই ঘটনার পরে সাগরদিঘি ব্লক প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, এলাকাতেই আপেল চাষ হবে! তা হলে ওই এলাকার শ্রমিকদের আর কাশ্মীরে যাওয়ার দরকার হবে না। বলাই বাহুল্য, সেই জ্ঞানবৃক্ষের ফল এখনও পুষ্ট হয়নি। ওই এলাকার বহু শ্রমিকের গন্তব্য আজও সেই কাশ্মীরই! করোনাকালে কেরল সরকারের তরফে আপনাদের নামের আগে ‘পরিযায়ী’ শব্দটির বদলে ব্যবহার করা হয়েছিল ‘অতিথি’। এ বঙ্গে অবশ্য এখনও আপনাদের পরিচয় পরিযায়ীই। শীতে বাংলার আনাচকানাচে ভিড় করে পরিযায়ী পাখির দল। আর আপনারা বছরভর ছুটতে থাকেন ভিন্রাজ্যে। ভোটটা মিটলেই ফের যেমন ছুটবেন। কিন্তু সসম্মানে সুদিন কবে আসবে? উঁহু, ভুলেও কখনও রাষ্ট্রকে এ প্রশ্নটা করবেন না!
আচ্ছা, বছর ছয়েক আগের সেই করোনার কথা মনে আছে তো? আপনার মতো লক্ষ লক্ষ শ্রমিক আটকে পড়েছিলেন ভিন্রাজ্যে। ভিডিয়ো কলে ঘুরেফিরে শোনা গিয়েছিল একটাই আর্তি— ‘খেতে পাচ্ছি না। ত্রাণ পাচ্ছি না। প্রশাসন আমাদের ফোন ধরছে না। নেতারা আমাদের সাহায্য করছেন না। আমাদের বাঁচান।’ সত্যি করে বলুন তো, তখন রাজনীতির ক’জন দাদা-দিদি আপনাদের পাল্টা ফোন করে বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সহযোগিতার হাত? আপনাদের মতোই নিরুপায় হয়ে মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদের জলনা থেকে ২০ জন শ্রমিক বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। চড়া রোদে কষ্ট হবে বলে যাত্রা শুরু করেছিলেন সন্ধেয়। হাঁটা শুরু হয়েছিল বাসরাস্তা ধরে। কিন্তু নাকা-ঝামেলা এড়াতে তাঁরা বেছে নিয়েছিলেন রেললাইন। টানা ৪০ কিলোমিটার হাঁটার পরে শরীর আর চলছিল না। হাঁটতে হাঁটতে পায়ে ফোস্কা পড়ে গিয়েছিল বলে এক শ্রমিক পিছিয়ে পড়েছিলেন। ১৬ জন শুয়ে পড়েছিলেন বদনাপুর ও কারমাডের মাঝামাঝি এলাকার রেললাইনেই। আর তিন জন ছিলেন রেললাইন থেকে একটু দূরে।
সকালে চার ঘণ্টার এই ছোটাছুটির পরে অবশ্য এলাকার তৃণমূল কর্মীরা একেবারে চাঙ্গা হয়ে যান। ততক্ষণে শুভেন্দু যে সব জায়গায় যাচ্ছেন, সেই সব জায়গাতে শুরু হয়েছে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ। শুভেন্দুর কনভয় নানা এলাকায় ঢুকতেই শোনা যাচ্ছে তৃণমূল বাহিনীর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। দিনের শেষে নিজের ডেরা থেকে বেরিয়ে ভোট দিতে যান মমতা। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে ভোট দিয়ে বেরিয়ে দু আঙুল তুলে ‘ভিকট্রি সাইন’ দেখান। তারপর আরও এক দফায় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, ‘দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে সরকার গড়বে তৃণমূল।’ যদিও দিনভর মমতার এই তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। সিপিএম প্রার্থী শ্রীজীব বিশ্বাসের কথায়, ‘অঘটন ঘটার মতো ভোট তো হয়নি। আমি জানি না আপনারা কোন অঘটনের কথা ভাবছেন, তবে আমাদের কাছে মমতা জিতলে সেটাও তো একটা অঘটনই।’ মমতা যখন অসীমের ফ্ল্যাটে রয়েছেন, নীচে তখন ধুন্ধুমার কাণ্ড। কারণ ঠিক তাঁর ফ্ল্যাটের নীচেই তখন উপস্থিত শুভেন্দু অধিকারী। এলাকা ঘিরে ফেলেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কিন্তু শুভেন্দু এলাকা ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মমতা বেরিয়ে আসেন। অসীমকে নিজের গাড়িতে বসিয়ে একাধিক এলাকা চষে ফেলতে শুরু করেন। তারপর বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে ১১টা বাজতে না বাজতেই নিজের বাড়িতে ঢুকে পড়েন তৃণমূল নেত্রী। সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলে যান, ‘তোমরা এবার তোমাদের মতো কাজ করো।’ সকাল সাড়ে ৭টা বাজার আগেই নিজের কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের পাড়া চেতলায় ছুটে যান মমতা। সেখানে খানিকক্ষণ কাটানোর পরে নিজেই মোবাইল বের করে সাংবাদিকদের দেখান কী ভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁর এলাকায় ‘সন্ত্রাস’ চালাচ্ছে। একটা সময়ে রিগিংয়ের অভিযোগ তুলতেও শোনা যায়। পরে অবশ্য সে বিষয়ে তেমন আর মুখ খোলেননি তিনি। চেতলা থেকে বেরিয়ে কলকাতা পুরসভার ৭০ নম্বর ওয়ার্ডেও যান মমতা। সেখানে দলীয় কাউন্সিলার অসীম বসুর বাড়ি এবং নির্বাচনী কার্যালয়ে সময় কাটান মুখ্যমন্ত্রী। দলীয় কর্মীদের সঙ্গে গভীর আলোচনা করতে দেখা যায় তাঁকে। অসীমের অভিযোগ ছিল, কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁর বাড়িতে এসে হুমকি দিয়েছে। তখন তিনি বাড়িতে ছিলেন না। স্ত্রী ও পরিবারের লোকজনকে শাসিয়ে গিয়েছে বাহিনী। মমতাও সেই অভিযোগ করতে থাকেন সমানে। ২০২১–এ শুভেন্দু-গড় নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। এবার সেই শুভেন্দু অধিকারীই বিজেপির হয়ে ভবানীপুরে তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী। সে বার নন্দীগ্রামেও মমতাকে সকাল থেকে এমন ভাবে ভোট করাতে দেখেননি কেউ। দুপুরের পরে নন্দীগ্রামের বয়ালে একটি ভোটকেন্দ্রে যান মমতা। সেখানেই কয়েক ঘণ্টা বসে থাকেন। অভিযোগ ছিল, বিজেপি ওই বুথে ভোট লুঠ করছে। তারপর ফের নন্দীগ্রামে নিজের অস্থায়ী ঠিকানায় ঢুকে পড়েন তৃণমূল সুপ্রিমো। কিন্তু এবার লড়াই তো তাঁর নিজের পাড়ায়, মহল্লায়। তারপরেও মমতা কেন এত তৎপর? প্রশ্নটা ছিল ভবানীপুরের বাসিন্দাদের মধ্যে, এমনকী কর্মীদের মধ্যেও। ভবানীপুরের এখনও ইতিউতি ছড়িয়ে রয়েছে ‘সার’-এর সময়ে হওয়া তৃণমূলের ভোট রক্ষা কেন্দ্রগুলি। কিন্তু এ দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত গড় রক্ষার মতো করেই প্রথমার্ধে ঘুরলেন পুরো এলাকা। আর কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে কড়া অভিযোগ জানিয়ে আরও যেন চাগিয়ে দিলেন নিজের বাহিনীকে। যদিও বেলা ১২টার আগেই সেই তৎপরতায় পড়ল দাঁড়ি। মমতা যেন তখন অনেকটা নিশ্চিন্ত। গাড়ি ঘুরিয়ে সেই যে ঢুকলেন নিজের বাড়ি, তারপর ফের বেরোলেন বিকেল চারটে নাগাদ—ভবানীপুর মিত্র ইনস্টিটিউশনে নিজের ভোট দেওয়ার জন্য। তাঁর দাবি, তিনি খবরগুলো পাচ্ছিলেন ভোটের আগের দিন রাত থেকেই। তাই ভোট শুরু না হতেই নজিরবিহীন তৎপরতা শুরু করলেন সকাল থেকে। কখনও বুথে বুথে ঘুরলেন, কখনও ঠায় বসে থাকলেন বুথ ক্যাম্পে, কখনও আবার চরকির মতো পাক খেলেন এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত, কেবলই ভোট কেমন হচ্ছে তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে। তিনি ভবানীপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বহু বিশেষজ্ঞই জানাচ্ছেন, বৃহস্পতিবার ভোটের দিন তাঁর এমন রণং দেহি চেহারা গত তিন দশকে দেখা যায়নি। রীতি মেনে দুপুর-বিকেলের দিকে একবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট দেওয়াটাই দস্তুর ছিল মমতার। কিন্তু এ বার সেই ছক নিজেই ভাঙলেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার অভিযোগ, ‘বুধবার রাত থেকে আমাদের কর্মীদের হুমকি দিচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কাউন্সিলার থেকে নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হানা দিচ্ছে। মারধর করেছে। রক্তাক্ত করেছে। এত টেররিজ়ম চলছে। এ ভাবে কি ভোট হয়?’




