Saturday, April 25, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

আক্রান্ত বিধায়ক শঙ্কর!‌ ‘দিদি দিদি’ স্লোগান তুলে হামলা?‌ মৃত পরিবারকে ৫ লাখ ও চাকরির ঘোষণা, উত্তরবঙ্গে ম্যান মেড বন্যা :‌ মমতা!

‘দিদি দিদি’ বলে স্লোগান তুলে হামলা। তৃণমূলের দিকেই আঙুল আক্রান্ত বিধায়ক শঙ্করের। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ভয়ঙ্করভাবে বিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গ। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ ও বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু। জলপাইগুড়ির নাগরাকাটায় তাঁদের গাড়ি ঘিরে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা, ভাঙচুর, শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ। শঙ্কর ঘোষের অভিযোগ, হামলাকারীরা ‘দিদি দিদি’ বলে স্লোগান তুলে হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে রাজনীতিতে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, সকাল থেকেই দুই নেতা নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিপর্যস্ত এলাকা ঘুরে দেখছিলেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার সময় হঠাৎই কিছু লোক ‘দিদি দিদি’ বলে চিৎকার করতে করতে এগিয়ে আসে। মুহূর্তের মধ্যে শুরু হয় উত্তেজনা। গাড়ির চারদিক থেকে হামলা শুরু হয়, লাঠি-বাটাম দিয়ে আঘাত হানা হয় তাঁদের কনভয়ে। কাচ ভেঙে যায়, গাড়ির ভিতরেই রক্তাক্ত হয়ে পড়েন সাংসদ খগেন মুর্মু। বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের শেয়ার করা ভিডিয়োয় দেখা যায়, রক্তাক্ত অবস্থায় রয়েছেন খগেন মুর্মু। তাঁকে গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা ‘দিদি দিদি’ বলে স্লোগান তুলছিল। তাঁর দাবি, এটা কোনও স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া নয়, বরং পরিকল্পিত আক্রমণ। শঙ্করের ভিডিয়ো পোস্টে দেখা গিয়েছে, রক্তাক্ত অবস্থায় গাড়ির মধ্যে বসে আছেন সাংসদ খগেন মুর্মু। তাঁর সাদা পাঞ্জাবী রক্তে ভিজে গেছে, ভাঙা কাচে ছড়িয়ে আছে রক্তের দাগ। বিজেপি নেতৃত্ব বলছে, এটা শুধু একটি হামলা নয়, বরং উত্তরবঙ্গে বিরোধী কণ্ঠকে ভয় দেখানোর প্রচেষ্টা। স্থানীয় প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে বিজেপির অভিযোগ, প্রশাসনের ভূমিকা ‘নিষ্ক্রিয়’। তাঁদের বক্তব্য, উত্তরবঙ্গে বিপর্যস্ত মানুষকে সাহায্য করতে গেলেও বিরোধীদের ওপর এমন হামলা প্রমাণ করে, রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। জানা যাচ্ছে, বামনডাঙায় ঢোকার আগে বিক্ষোভের মুখে পড়েন তাঁরা। লাঠি, জুতো নিয়ে তাঁদের উপর চড়াও হন কয়েকশো মানুষ। নদী থেকে পাথর তুলে তাঁদের গাড়ি লক্ষ করে হামলা চালানো। সেই পাথর লেগে মাথা ফেটে যায় খগেনের। তাঁদের ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হয়। এমনকি, জুতো ছোড়ার অভিযোগ।

উত্তরবঙ্গে ‘ম্যান মেড বন্যা’ হয়েছে বলে অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গে রওনা দেওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, উত্তরবঙ্গের বিপর্যয়ে আপাতত ২৩ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে। মৃতদের পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। সেইসঙ্গে পরিবারের একজন সদস্যকে হোমগার্ডের চাকরি দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, শনিবার থেকেই উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতির উপরে নজর রাখছেন। ভুটান এবং অসম থেকে জল ঢুকেছে উত্তরবঙ্গে। ভুটানের ছাড়া জলে নাগরাকাটা ভেসে গিয়েছে। মুখে মুখে বাঁধ বলা হয়। কিন্তু কাজের কাজ হয় না বলে অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেছেন, সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিরিক এবং নাগরকাটা। মিরিক-কালিম্পঙে ১৮ জন এবং নাগরাকাটায় পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। মমতা দাবি করেছেন, জীবনের কখনও বিকল্প হতে পারে না টাকা। কিন্তু সামান্য সামাজিক কর্তব্য হিসেবে মৃতদের পরিবারপিছু পাঁচ লাখ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। যাতে কারও মুখাপেক্ষী না হয়ে থাকতে হয়, তাই পরিবারের একজন সদস্যকে স্পেশাল হোমগার্ডের চাকরি দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, একটি মহলের তরফে দাবি করা হয়েছে যে উত্তরবঙ্গের বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যে ২৮ ছুঁয়ে ফেলেছে। (ছবি সৌজন্যে পিটিআই)
বিষয়টি নিয়ে পালটা রাজ্য সরকারকে আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। বঙ্গ বিজেপির নেতা রাহুল সিনহা দাবি করেছেন, এটা ‘ম্যান মেড বন্যা’ নয়, এটা ‘শি (মমতা) মেড বন্যা’। একইসুরে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ দাবি করেছেন, মমতা সরকারের কারণেই উত্তরবঙ্গে এরকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে আগেই ধূপগুড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। ময়দানে নেমেছেন গৌতম দেবও। তিনি উত্তরবঙ্গে পৌঁছে প্রথমে যাবেন হাসিমারা। সেখান থেকে সোমবারই নাগরকাটার দিকে যাবেন। যত দূর যাওয়া সম্ভব, তত দূর যাওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন মমতা। সঙ্গে রয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles