Saturday, April 25, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বাধাহীন খাওয়াদাওয়ায় নিয়মকানুন?‌ ডায়েট পিছনের সারিতে, পরিমিতিবোধ গুরুত্ব পায় না?‌

দিনভর কাজের শেষে বাড়ি ফিরে পেটপুরে খেয়েই সোজা বিছানায়- আধুনিক ব্যস্ত জীবনে এই অভ্যাস আমাদের অনেকেরই। আপাতদৃষ্টিতে এই অভ্যাসকে অস্বাভাবিক না মনে হলেও, চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এটি শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। রাতের খাবার খাওয়ার পরেই ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস অম্বল বা বদহজম থেকে শুরু করে হৃদরোগের মতো গুরুতর সমস্যার ঝুঁকিও বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের শরীর একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে। খাবার খাওয়ার পর হজম প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য শরীরের কিছুটা সময় প্রয়োজন। কিন্তু খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়লে সেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি হয়, যা থেকে নানা শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। খাওয়ার পরেই শুয়ে পড়লে আমাদের পরিপাকতন্ত্র সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। অভিকর্ষের বিপরীতে থাকায় পাকস্থলীর অ্যাসিড এবং হজম না হওয়া খাবার খুব সহজে খাদ্যনালীর উপরের দিকে চলে আসতে পারে। এর ফলে বুক জ্বালা, চোঁয়া ঢেকুর এবং অস্বস্তি দেখা দেয়, যা ‘গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ’ বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের অন্যতম প্রধান কারণ। দীর্ঘ দিন ধরে এই সমস্যা চলতে থাকলে খাদ্যনালীতে ক্ষতও হতে পারে। ঘুমন্ত অবস্থায় আমাদের শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক হার অনেকটাই কমে যায়। ফলে, রাতের খাবারে গ্রহণ করা ক্যালোরি সঠিকভাবে ব্যবহৃত না হয়ে স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাট হিসেবে শরীরে জমতে শুরু করে। এটি ওজন বৃদ্ধি এবং স্থূলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি: রাতের ভারী খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। খাওয়ার পর হালকা হাঁটাচলা বা শারীরিক সচলতা এই শর্করাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়লে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ন্ত অবস্থাতেই থেকে যায়। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এই অভ্যাস অত্যন্ত বিপজ্জনক। ভরা পেটে ঘুমাতে গেলে অনেকেই অস্বস্তির কারণে ঠিকমতো ঘুমাতে পারেন না। বদহজম, পেট ফাঁপা বা বুক জ্বালার কারণে বার বার ঘুম ভেঙে যেতে পারে। এর ফলে ঘুমের মান খারাপ হয় এবং পরদিন সকালে শরীর ক্লান্ত ও অবসন্ন লাগে। কিছু গবেষণা অনুযায়ী, রাতের খাবার খেয়েই ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং রক্তে শর্করার মাত্রায় বিপজ্জনক পরিবর্তন আনতে পারে। ফলে দীর্ঘ মেয়াদে স্ট্রোক বা হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে, আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, সুস্থ থাকতে রাতের খাবার এবং ঘুমের মধ্যে অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টার ব্যবধান রাখা উচিত। এই সময়ে বসে বই পড়া, পরিবারের সঙ্গে গল্প করা বা বাড়ির হালকা কাজ করা যেতে পারে। খাওয়ার অন্তত আধ ঘণ্টা পর ১০-১৫ মিনিটের জন্য হালকা হাঁটাচলা হজম প্রক্রিয়াকে ভাল রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি, রাতের খাবার যতটা সম্ভব হালকা ও সহজপাচ্য হওয়াই বাঞ্ছনীয়। সুস্থ থাকতে গেলে শুধু কী খাচ্ছেন, তা-ই নয়, কখন খাচ্ছেন এবং তার পর কী করছেন, সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। দৈনন্দিন জীবনে এই ছোট পরিবর্তনটিই আপনাকে অনেক বড় শারীরিক সমস্যা থেকে দূরে রাখতে পারে।

অবসাদ বা মানসিক চাপের কারণে পেট ভরা থাকলেও খেতে থাকেন অনেকে। এক বার শুরু হলে নিজেকে থামানো খানিক কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এভাবেই তৈরি হয় অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা। পেট ভরে গেলেও খাওয়া বন্ধ হয় না? অতিরিক্ত আহার থেকে বিরত থাকতে ৫ কৌশল। বাধাহীন খাওয়াদাওয়া। নিয়মকানুন, ডায়েট ইত্যাদি সব পিছনের সারিতে জায়গা পায়। পরিমিতিবোধ তখন গুরুত্ব পায় না। কিন্তু সারা বছরই কি অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস? কখনও কখনও খিদে না পেলেও মুখ চলতে থাকে? অবসাদ বা মানসিক চাপের কারণে পেট ভরা থাকলেও খেতে থাকেন অনেকে। এক বার শুরু হলে নিজেকে থামানো খানিক কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এ ভাবেই তৈরি হয় অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা। কিন্তু অল্প কিছু অভ্যাস বদলেই এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসা যায়। মনোযোগী হয়ে খাবার খাওয়া শিখতে হবে। খাওয়ার আগে এক মুহূর্ত থেমে ভেবে নিতে হবে। নিজের শরীরকে প্রশ্ন করতে হবে, সত্যিই কি খিদে পেয়েছে, না কি কেবল বিরক্তি বা মানসিক চাপের প্রতিক্রিয়া? প্রতি বারই যদি এমনটা করা অভ্যাস করা যায়, তা হলে অপ্রয়োজনীয় খাওয়া অনেকখানি কমে যেতে পারে। খাওয়ার আগে এক গ্লাস জল খেয়ে নিতে পারেন। শরীর অনেক সময় খিদে আর তৃষ্ণার পার্থক্য বুঝতে পারে না। ফলে খিদে পেয়েছে ভেবে খেতে শুরু করে। খাওয়ার আগে জল খেলে অতিরিক্ত খাওয়ার সম্ভাবনা কমে। ছোট থালা ব্যবহার করা শুরু করুন। মন আদপে চোখকে বিশ্বাস করে। ছোট থালায় খাবার রাখলে মনে হয় পরিমাণে বেশি, অথচ বাস্তবে তা নয়। এতে ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ হয় সহজেই। পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম হলে মানসিক চাপ কমবে। ঘুম কম হলে চাপ বাড়বে। আর তাতে শরীরে কর্টিসল, অর্থাৎ স্ট্রেস হরমোন বাড়তে থাকবে, যা খিদে বাড়ায়। নিয়মিত ঘুম, যোগাসন বা ধ্যান অভ্যাস করলে এই প্রবণতা কমে যায়। চোখের সামনে থেকে জাঙ্ক ফুড সরিয়ে ফেলতে হবে। কাজের টেবিলে বা বিছানার পাশে বিস্কুট, চিপ্‌স বা মিষ্টি রাখলে হাত নিশপিশ করতে পারে। মুখ চালানোর ইচ্ছে। জাঙ্ক ফুডের বদলে বরং ফল, দই বা বাদাম রাখতে পারেন, যা অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া থেকে বিরত রাখবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles