কলকাতায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একের পর এক মৃত্যু। মঙ্গল সকালে একবালপুরের হোসেন শাহ রোডে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু এক প্রৌঢ়ের। নেতাজিনগর এবং বেনিয়াপুকুরেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু দু’জনের। গড়িয়াহাটেও এক জনের দেহ উদ্ধার। গড়ফাতেও এক সাইকেল আরোহীর দেহ উদ্ধার হয়েছে। নেতাজিনগর বাসস্ট্যান্ডের কাছে একটি ফলের দোকান রয়েছে কলকাতার ৯৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রশান্ত কুন্ডুর। মঙ্গল সকালে দোকান খুলতে নেতাজিনগর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছোন সাইকেলে চেপে। বাসস্ট্যান্ডের কাছে একটি বাতিস্তম্ভের গায়ে সাইকেলটি হেলান দিয়ে রাখতে গিয়েই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু। প্রায় ঘণ্টা দেড়েক পরে দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একবালপুর থানা এলাকার হোসেন শাহ রোডে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় জীতেন্দ্র সিংহ নামে ৬০ বছর বয়সি এক প্রৌঢ়ের। ভোর ৫টা নাগাদ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। বেনিয়াপুকুরেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় এক জনের। গড়িয়াহাট এবং গড়ফাতেও জল জমা এলাকা থেকেও এক জনের দেহ উদ্ধার। সোম রাত থেকে নাগাড়ে বৃষ্টি কলকাতা এবং শহরতলিতে। একটানা বৃষ্টির জেরে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে কলকাতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। উত্তর থেকে দক্ষিণ। গোটা শহরেই একই পরিস্থিতি। বিভিন্ন গলিপথও জলমগ্ন। শহরের বিভিন্ন এলাকায় জল জমেছে। বহু বাড়ি ও গাড়ি জলের নীচে। কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যে সব রাস্তায় আগে কখনও জল জমেনি, সেই রাস্তাও জলের তলায়। ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ, এসএসকেএম হাসপাতালের একাংশে জল জমে।

মেডিক্যাল কলেজের ল্যাবরেটরির সামনে জল পাম্প চালিয়ে বার করে দেওয়ার চেষ্টা। পরিষেবা স্বাভাবিক রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ক্যালকাটা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের এক্স-রে রুমে হাঁটু সমান জল। নীলরতন সরকার এনআরএস হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ড এবং জরুরি বিভাগে হাসপাতালের ভিতরের রাস্তায় জল জমে। এনআরএস-এর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অনেক কর্মীই রাস্তায় আটকে পড়েছেন। তাই রাতের ডিউটিতে থাকা কর্মীদের আপাতত কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। আরজি কর হাসপাতালের তিনটি প্রধান ফটকই জলমগ্ন। হাসপাতালের ভিতরে পার্কিং, ক্যান্টিন-সহ নিচু এলাকাগুলিতে জল। হাসপাতালগুলির বক্তব্য, আশপাশের এলাকা জলমগ্ন থাকায় জল বার করার চেষ্টা করা হলেও বিশেষ লাভ হচ্ছে না। ফের জল ঢুকছে নানা অংশ দিয়ে। বহির্বিভাগগুলিতে চিকিৎসা পরিষেবা চালু হলেও সেখানে রোগীর সংখ্যা খুব কম।




