Friday, April 24, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

কলকাতায় এই বৃষ্টি কী আসলে মেঘভাঙা বৃষ্টি? বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর দায় সরকারের?‌ মমতা দায় চাপালেন সঞ্জীব গোয়েঙ্কাকে?‌

মৃত্যুর জন্য সরাসরি সিইএসসিকে দায়ী করলেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌এর দায় সিইএসসি-কে নিতে হবে। এখনই তারা জরুরি ভিত্তিতে কর্মীদের নামাক। এখানে ব্যবসা করছে। আর পরিকাঠামো আধুনিকীকরণের কাজ করছে রাজস্থানে। আর এখানে আধুনিকীকরণের কাজ করছে না। বলতে বলতে আমার মুখ ব্যথা হয়ে গিয়েছে।’‌ এদিকে মৃতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিকে মমতা দাবি করেন, মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে সিইএসসি-কে। এদিকে মৃতদের পরিবারের সদস্যকে চাকরিও দিতে হবে বলে সিইএসসির উদ্দেশে বার্তা মমতার। সারারাত অবিরাম বৃষ্টিতে কলকাতা বিপর্যস্ত। এই বিপর্যয়ে একের পর এক মৃত্যু ঘটেছে শহরে। রিপোর্ট অনুযায়ী, নেতাজিনগরে, কালিকাপুরে, বালিগঞ্জ প্লেস, বেনিয়াপুকুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে পথ চলতি মানুষেরা। পরিস্থিতি এমনই, বেশ কিছু জায়গায় মৃতদেহ উদ্ধারও করা যাচ্ছে না জল জমে থাকার কারণে। জমা জলের ওপরেই পড়ে থেকেছে দেহ। এই আবহে জায়গায় জায়গায় খোলা মিটার বক্স বা ল্যাম্পপোস্ট থেকে ছেঁড়া তার আতঙ্ক বাড়াচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে। নেতাজিনগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক সাইকেল আরোহী ফল বিক্রেতার। তাঁর দেহ রাস্তায় জমা জলের ওপরে পড়ে থাকে দীর্ঘক্ষণ। শর্ট সার্কিট হয়ে থাকায় দমকল সেখানে ঢুকতে পারেনি দেহ উদ্ধার করতে। এই আবহে সিইএসসি-কে খবর দেওয়া হয় এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য। এদিকে নেতাজিনগর ছাড়াও বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে কালিকাপুর, বালিগঞ্জ প্লেস, বেনিয়াপুকুরেও। বেনিয়াপুকুরে একটি নামী মিষ্টির দোকানের সামনে থেকে উদ্ধার হয় মৃত ব্যক্তির দেহ। হরিদেবপুর কবরডাঙ্গায় মৃত্যু হয়েছে এক ব্যক্তির। বেহালা ও গড়িয়াহাটেও প্রাণ গিয়েছে ২ জনের। রাতভর নাগাড়ে বৃষ্টিতে কলকাতার বিভিন্ন রাস্তা এবং এলাকা এখন জলমগ্ন। এজেসি বোস রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যস্ত সড়কে হাঁটু জল। সেখানে ট্যাক্সি বা ছোট কোনও যানবাহন চলতেই পারছে না। অবশ্য শুধু কলকাতা নয়, গোটা দক্ষিণবঙ্গ জুড়েই গতকাল রাতে অবিরাম বৃষ্টি হয়েছে। আর সেই বৃষ্টির ‘ফলাফল’ দেখা যাচ্ছে সকালের আলো ফোটার পরে। কলকাতার বহু অঞ্চলে মানুষের বাড়িতে জল পর্যন্ত ঢুকে গিয়েছে। সোমবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার ভোর ৪টে পর্যন্ত নিকাশি পাম্পিং স্টেশন ভিত্তিক বৃষ্টিপাতের পরিমাপ অনুযায়ী, মানিকতলায় বৃষ্টি হয়েছে ১৪৭ মিমি, কামডহরি এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ ২৪৫ মিমি। তপসিয়া, বালিগঞ্জ বৃষ্টির পরিমাণ ২৪০ মিমির ওপরে। উল্টোডাঙা, কাঁকুড়গাছি এলাকাও জল থৈ থৈ অবস্থা।

প্রবল বৃষ্টিতে কার্যত জলের তলায় গোটা মহানগর। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টিপাতের অঙ্ক আকাশছোঁয়া। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসছে একের পর এক মৃত্যুর খবর। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কলকাতায় এই বৃষ্টি কী আসলে মেঘভাঙা বৃষ্টি? এই প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এই ক্লাউড বার্স্ট নয়। নিম্ন চাপের প্রভাবেই অতিবৃষ্টি হয়েছে কলকাতায়। ভোর রাত তিনটে থেকে চারটে পর্যন্ত সর্বোচ্চ আটানব্বই(৯৮) মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত, কোনও একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ১ ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টি হলে, সেটাকে ক্লাউড বার্স্ট বলা হয়ে থাকে। কিন্তু সামান্য বৃষ্টি কম হওয়ার কারণে এই বৃষ্টিকে মেঘভাঙা বৃষ্টি বলা হচ্ছে না। তবে বৃষ্টির জেরে এখনও জলমগ্ন রাজ্যের বহু এলাকা। শুধু কলকাতা নয়, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরেও রেকর্ড বৃষ্টি হয়েছে। মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত সোনাপুর এলাকায় বৃষ্টিপাত হয়েছে প্রায় ২৪৭ মিলিমিটার। প্রবল বর্ষণে বিপর্যস্ত জনজীবন। এত বিপুল পরিমাণ বৃষ্টির জলে রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। জল নামানোর জন্য একাধিক জায়গায় পাম্প চালানো হলেও, জল নামতে আরও ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগবে। অতি ভারী বৃষ্টির জেরে জলে ভাসছে কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম। বিপর্যস্ত ট্রেন, মেট্রো পরিষেবা। কয়েকটি সরকারি বাস চললেও, বেসরকারি বাসের দেখা নেই। দীর্ঘ ২০ বছরের এমন কলকাতার এমন জলমগ্ন অবস্থা দেখেনি তিলোত্তমা, এমনটাই দাবি বাসিন্দাদের। শুধুই যে রাস্তাঘাট, ট্রেনলাইন জলের তলায় তা নয়, কলকাতার প্রায় সব সরকারি হাসপাতালে এবং বেশ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যেও ঢুকেছে জল।বর্তমানে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভাগ জলমগ্ন। সুপারের অফিসের ভিতরেও এক হাঁটু সমান জল। অ্যানাটমি বিভাগ, প্যাথলজি বিভাগ, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সামনে কোমর সমান জল। যার জেরে ব্লাড টেস্ট-সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, শিয়ালদহ এনআরএস হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগ, সার্জারি, চেস্ট বিভাগের সামনে হাঁটুর উপরে জল উঠে গিয়েছে। আউটডোর পরিষেবাও বিপর্যস্ত।
আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ বিভাগ, সার্জারি ডিপার্টমেন্ট, কার্ডিওলজি ডিপার্টমেন্ট, মেডিসিন বিভাগের সামনে হাঁটু জল। কোনও রকমে আউটডোর পরিষেবা চলছে। পার্ক সার্কাস ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আউটডোর পরিষেবা সম্পূর্ণ স্তব্ধ। ইমারজেন্সি থেকে গাইনি ডিপার্টমেন্ট কোমর সমান জল। এসএসকেএম হাসপাতাল ও প্রসূতি যোগ বিভাগের সামনে হাঁটু সমান জল। হৃদরোগ বিভাগের আউটডোর ভবন, ইএনটি অর্থোপেডিক সংস্থা বিভাগের সামনে হাঁটু সমান জল। পার্ক সার্কাস ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক্স রে রুমে জল থৈথৈ। জরুরি বিভাগ থেকে গাইনি বিভাগে রোগীকে ভয়াবহ অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে নাজেহাল অবস্থা রোগী এবং পরিবারের সদস্যদের। কলকাতা যখন কার্যত জলের তলায় চলে গিয়েছে, তখন দিঘায় জারি হয়েছে বিশেষ সতর্কতা। হাই টাইডের কারণে মঙ্গলবার উত্তাল সমুদ্র। সঙ্গে দোসর হয়েছে প্রবল বৃষ্টি। এই পরিস্থিতিতে সতর্ক করছে প্রশাসন। সমুদ্রের পার ধরে চলছে মাইকিং। এমনকী উপকূল এলাকার বাসিন্দাদের জরুরি জিনিস গুছিয়ে রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপ ক্রমেই স্থলভাগের দিকে এগিয়ে আসছে। রাজ্যের উপকূল-সহ বেশ কিছু জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এই নিয়ে সতর্ক করে মাইকে প্রচার চলছে দিঘায়। মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্র থেকে ফিরে আসতে বলা হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার রামনগর-১ ব্লক প্রশাসনের তরফে দিঘা-সহ সৈকত লাগোয়া এলাকাগুলিতে সতর্ক করে প্রচার চালানো হয়েছে। মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্র থেকে ফিরে আসতে বলা হয়েছে। উপকূল এলাকার বাসিন্দাদের জরুরি কাগজপত্র গুছিয়ে রাখতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে মোবাইল, ইমার্জেন্সি লাইট চার্জ দিয়ে রাখতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, এদিনও বহু পর্যটক দিঘার সমুদ্রে স্নান করতে নামেন। রামনগর-১ ব্লকের পদিমা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তথা দিঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুশান্তকুমার পাত্র জানান, জেলা প্রশাসনের তরফে চরম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভরা জোয়ারের সময়ে পর্যটকদের সমুদ্রে নামতে নিষেধ করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles