Thursday, April 23, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

আবার চ্যাম্পিয়ন লাল হলুদ!‌ ৪১তম লিগ খেতাব জিতল ইস্টবেঙ্গল!‌

কলকাতা লিগ জিতল ইস্টবেঙ্গল। নিজেদের মাঠে চ্যাম্পিয়নশিপ রাউন্ডের শেষ ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল ২-১ গোলে হারিয়ে দিল ইউনাইটেড স্পোর্টসকে। গত বার লিগ জেতার পর এ বার সেটা ধরে রাখল ইস্টবেঙ্গল। সব মিলিয়ে ৪১তম লিগ খেতাব জিতল। এ দিন লিগ জেতার জন্য ড্র করলেই চলত ইস্টবেঙ্গলের। তবে তিন পয়েন্ট নিয়ে অপরাজিত থেকেই লিগ জিতল। এ দিন ম্যাচ শুরু হওয়ার আগেই আইএফএ-র তরফে গত বারের কলকাতা লিগের ট্রফি তুলে দেওয়া হয় ইস্টবেঙ্গলের হাতে। কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম ট্রফি তুলে দেন। কলকাতা হাই কোর্ট শুক্রবারই জানিয়েছিল, গত বারের লিগ চ্যাম্পিয়ন হিসাবে ইস্টবেঙ্গলের নাম ঘোষণা করতে বাধা নেই। শনিবার আইএফএ-র লিগ কমিটির বৈঠকের পর ইস্টবেঙ্গলকে আনুষ্ঠানিক ভাবে গত বারের লিগের চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে দেওয়া হয়। শনিবারের পর সোমবার, অর্থাৎ তিন দিনের ব্যবধানে দু’বার কলকাতা লিগ জিতল ইস্টবেঙ্গল।

ইস্টবেঙ্গলকে এ দিন ড্র করলেই চলত। তবে ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ড্র করার চিন্তা মাথায় নিয়ে নামেইনি ইস্টবেঙ্গল। শুরু থেকেই ভাল খেলতে থাকে। আগ্রাসী খেলতে থাকেন লাল-হলুদ ফুটবলারেরা। গোল পেতে অবশ্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ডেভিড লালানসাঙ্গা প্রথমার্ধে এগিয়ে দেন ইস্টবেঙ্গলকে। তার মাঝে একের পর এক সুযোগ নষ্ট করেছেন ইস্টবেঙ্গলের ডেভিড, সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়েরা। ইউনাইটেডের গোলকিপার অঙ্কন ভাল কিছু সেভ করেন। দেবীপক্ষের শুরুতেই ট্রফি ঢুকল লাল হলুদ তাঁবুতে। এক মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল। সাত গোলে জেতার ম্যাচে কষ্টার্জিত জয় ইস্টবেঙ্গলের। একদিনে জোড়া ট্রফি। পরপর দু’বার চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল। আগের মরশুমের ট্রফি পাওয়ার দিনই আরও একবার কলকাতা লিগ জয় লাল হলুদের। ইউনাইটেড কলকাতা ক্লাবকে ২-১ গোলে হারিয়ে ঘরের মাঠে সমর্থকদের উপস্থিতিতে ৪১তম ঘরোয়া লিগ জিতল বিনো জর্জের দল। ময়দানে প্রিয় দলের জয় দেখতে মাঠ ভরায় সমর্থকরা। সপ্তাহের প্রথম দিন হলেও হাজার দশেক সাপোর্টার হাজির ছিল। চ্যাম্পিয়ন হওয়া শুধুই সময়ের অপেক্ষা ছিল। ইউনাইটেড কলকাতা স্পোর্টস ক্লাব এবং ডায়মন্ড হারবারের বিরুদ্ধে জয়ের পর এদিন মাত্র এক পয়েন্ট প্রয়োজন ছিল ইস্টবেঙ্গলের। দুই ম্যাচে কলকাতার প্রধানের পয়েন্ট ছিল ৬। সেখানে ইউনাইটেডের পয়েন্ট ছিল ৪। অর্থাৎ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য তাঁদের প্রয়োজন ছিল জয়। কিন্তু বিপক্ষের মাঠে প্রথমার্ধে পুরোপুরি কোণঠাসা। প্রথম ৪৫ মিনিটেই শেষ হয়ে যেতে পারত ম্যাচ। প্রায় হাফ ডজন গোলে এগিয়ে যেতে পারত ইস্টবেঙ্গল। হ্যাটট্রিক মিস করেন পিভি বিষ্ণু এবং সায়ন ব্যানার্জি।

ঘরের মাঠে দাপুটে শুরু লাল হলুদের। একাই তিন থেকে চার গোল মিস বিষ্ণুর। তিন মিনিটের মাথায় সাইড নেটে মারেন বিষ্ণু। তার দু’মিনিটের মধ্যে আবার সুযোগ। আমনের শট গোল লাইন থেকে ফেরত পাঠান সুখচাঁদ কিস্কু। এক মিনিটের মধ্যে আবার গোলের সুযোগ নষ্ট। নাসিবের হেড থেকে বিষ্ণুর মাইনাস। আমনের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। প্রথমার্ধে পুরোপুরি একপেশে ফুটবল। কোনওরকম প্রতিরোধ গড়তে পারেনি ইউনাইটেড। বিরতির আগেই ৫-০ হতে পারত স্কোরলাইন। প্রথম কোয়ার্টারের শেষে সায়নের পাস থেকে বিষ্ণুর সাইড ভলিতে গোল মিস। তার এক মিনিটের মধ্যে আমনের সিটার নষ্ট। মুহুর্মুহু সুযোগ নষ্টে ম্যাচটাকে কঠিন করে ফেলে ইস্টবেঙ্গল। সায়ন, বিষ্ণুর যুগলবন্দিতে প্রথমার্ধেই খেলা শেষ হয়ে যেতে পারত। হ্যাটট্রিক মিস দুই তরুণ ফুটবলারের।

ম্যাচের ২০ মিনিটে বিষ্ণুর শট বাঁচায় ইউনাইটেডের গোলকিপার রওনক। তার ১২ মিনিটের মধ্যে সায়নের মাইনাস থেকে বিষ্ণুর শট পোস্টের ওপর দিয়ে ভেসে যায়। ম্যাচের ৩৮ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের প্রথম গোল। সায়নের শট বাঁচায় ইউনাইটেডের গোলকিপার। ফিরতি বলে ডেভিডের জোরালো শটে গোল। ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। বিরতির ঠিক আগে সায়নের শট পোস্টে লাগে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোল মিস ইস্টবেঙ্গলের। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে ইউনাইটেড। বিরতির পর কিছুটা ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে তাঁরা। ম্যাচের ৬৯ মিনিটে শ্রীনাথের শট বাঁচায় ইস্টবেঙ্গল কিপার গৌরব। তার কিছুক্ষণ পরই ভিকি থাপাকে বক্সের মধ্যে ফাউল করে বিক্রম প্রধান। পেনাল্টির দাবি করে ইউনাইটেডের ফুটবলাররা। কিন্তু রেফারি পেনাল্টি দেয়নি। ম্যাচের ৮৮ মিনিটে ১-১। ডানদিক থেকে শ্রীনাথের ক্রস। হেডে গোল অমিত বসাকের। কিন্তু বিনোর কপালে ভাঁজ পড়ার আগেই তাঁকে চিন্তামুক্ত করে ফুটবলাররা।‌ এক মিনিটের মধ্যে আবার এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচের ৮৯ মিনিটে গুইতের শট বাঁচায় ইউনাইটেডের কিপার। ফিরতি শটে গোল পরিবর্ত ফুটবলার শ্যামল বেসরার। রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর পরেই মাঠে ঢুকে পড়েন রিজ়‌ার্ভ বেঞ্চে থাকা কোচ এবং ফুটবলারেরা। গ্যালারির দিকে জ্বলে ওঠে মশাল। তিন দিনের ব্যবধানে দু’বার লিগ জেতার উৎসবে মাতে লাল-হলুদ জনতা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles