আমি বাংলায় বেশি করে কথা বলব। ক্ষমতা থাকলে আমাকে ডিটেনশন ক্যাম্পে আগে রাখো। রাজপথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দুপুর দুটো নাগাদ কলেজ স্কোয়ার থেকে শুরু মিছিল ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত। মিছিল শেষে বক্তব্য মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমোর। মিছিলের কারণে কড়া নিরাপত্তায় মোড়া এলাকা। রাস্তায়র দুপাশে পাহারায় ১৫০০ পুলিশ কর্মী। জেলায় জেলায়ও কর্মসূচি তৃণমূলের। ওড়িশা, দিল্লির জয়হিন্দ কলোনি থেকে শুরু করে একাধিক রাজ্যে লাগাতার বাঙালিদের হেনস্তার অভিযোগ উঠছে। বাংলা বললেই নাকি অত্যাচারিত হতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জলের সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হচ্ছে। দিন কয়েক আগে এক্স হ্যান্ডেলে এবিষয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিলোত্তমার এই মিছিলে হাওড়া, ভাঙড়, দমদম ও সল্টলেকের তৃণমূলের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা শামিল। একইদিনে দুপুর দুটো থেকে জেলায় জেলায় প্রতিবাদ কর্মসূচি। দিল্লিতেও প্রতিবাদ কর্মসূচি করেছে তৃণমূল। উল্লেখ্য, দিন কয়েক আগে ভিনরাজ্যে বাঙালি হেনস্তার প্রতিবাদে এক হ্যান্ডেলে সোচ্চার হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। লিখেছিলেন, ‘নয়াদিল্লির বসন্তকুঞ্জের জয় হিন্দ কলোনি থেকে উঠে আসা একের পর এক ভয়ঙ্কর হেনস্তার ঘটনার খবর শুনে আমি গভীরভাবে মর্মাহত ও বিচলিত।’ প্রতিবাদে পথে মুখ্যমন্ত্রী কলেজ স্ক্যোয়ার চত্বরে। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য-সহ তৃণমূলের প্রথম সারির নেতা-নেত্রীরা। বৃষ্টি মাথায় নিয়েই মিছিলে হাঁটেন মমতা এবং অভিষেক। কলেজ স্ক্যোয়ার থেকে এসএন ব্যানার্জি রোড হয়ে মিছিল হিন্দ সিনেমা লেনিন সরণী, চাঁদনি মার্কেট হয়ে ডোরিনা ক্রসিংয়ে তৃণমূলের মঞ্চে। বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থার অভিযোগ তুলে রাস্তায় নেমেছেন মমতা-অভিষেকরা।

২১ জুলাইয়ের সমাবেশের জন্য সকলকে আমন্ত্রণ জানিয়ে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ আজকেই আমি সব বলব না। ২১ জুলাই আপনাদের আসতে হবে। ২১ জুলাইয়ের আমন্ত্রণ সকলকে আমি এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে করে গেলাম। কলকাতায় জল কম জমে। একটি দু’টি ওয়ার্ড ছাড়া। আগে একটু বৃষ্টি হলেই পুরো জল জমে যেত। এখন ৯৯ শতাংশ কভার করা হয়েছে। যেটুকু বাকি রয়েছে ২০২৬ সালের মধ্যে টোটালটাই কমপ্লিট করে দেওয়া হবে। ডিভিসির জলে, পাঞ্চেতের জলে প্রায় ২৭ হাজার লক্ষ কিউবিক মিটার জল ছেড়েছে এ বারে। তার মধ্যে বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বর্ধমানের কিছুটা, হুগলি, হাওড়া, নদিয়ার কিছুটা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ সারা বাংলায় অনেকে প্লাবিত হয়েছেন। তাঁদের জন্য গতকাল আমরা মিটিং করেছি। আমরা যা যা করার করব। আপনারাও সকলে তাঁদের সকলে থাকবেন।আমি অত্যন্ত লজ্জিত, ব্যথিত, দুঃখিত, মর্মাহত ভারত সরকার এবং বিজেপির এই আচরণে। ভারত সরকার একটি নোটিফিকেশন করেছে। সেটি আমরা চ্যালেঞ্জ করব। লুকিয়ে লুকিয়ে (নোটিফিকেশন) করে যেখানে বিজেপি আছে সেখানে পাঠিয়েছে। সেখানে পরিষ্কার বলা হয়েছে, যাকেই সন্দেহ হবে, বাংলায় কথা বলে, তাঁকে অ্যারেস্ট করবে, ডিটেনশন ক্যাম্পে রেখে দেবে। কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গেলেও (এমন হচ্ছে)। বিজেপি কি দেশের জমিদারি পেয়ে গিয়েছে? যাকে ইচ্ছা জেলে পাঠিয়ে দিচ্ছে। বাংলা ভাষায় কথা বললে বাংলাদেশি রোহিঙ্গা বলে দিচ্ছে। বাংলাদেশ তো আলাদা দেশ। রোহিঙ্গা তো মায়ানমারের। তাতে আমাদের এখানে কি! পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকদের কাছে আধার কার্ড, প্যান কার্ড রয়েছে। আমাদের ২২ লক্ষ বাংলার মজদুর আছে। তাঁরা বাংলায় থাকলে অনেক ভাল থাকতে পারেন। তাঁদের দিয়ে কাজ করাবে, আর বাংলায় কথা বললেই তাঁকে জেলে নিয়ে যাবে, ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যাবে। কেন? কোন অধিকারে? পশ্চিমবঙ্গ কি ভারতের অঙ্গ নয়? বাঙালিদের উপর এত রাগ কেন? কী করেছে বাঙালিরা আপনাদের? রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাখিবন্ধন করেছিলেন। ভারত এবং বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা। জনগণমণ অধিনায়ক কি একজন বাঙালি লেখেননি? তখন তো দেশ একজোট ছিল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে সিআইএসএফ, সিআরপিএফ আছে। বিমানে কেউ এলে, সেটিও কেন্দ্রের অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক দেখে। আমি বিহারে শুনেছি ৩০.৫ লক্ষ ভোট বাদ দিয়ে দিয়েছে। এ সব করে মহারাষ্ট্রে বিজেপি জিতেছে। না হলে জিততে পারত না। দিল্লিতেও এই সব করেই জিতেছে। বিহারেও সেই পরিকল্পনা করছে। তারাও আমাদের ভাই-বোন। বাংলাতেও পরিকল্পনা করছে। আমরা ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়াই করব। বিনা যুদ্ধে এক ইঞ্চি জমিও আমরা ছাড়ব না। কেউ কাজ করলে তাঁকে হঠাৎ গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। নথিপত্র দেখানোর পরেই জেলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাঁর বয়স্ক মা, স্ত্রী, বাচ্চাগুলোকেও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কী অপরাধ করেছে তারা? বাংলা ভাষায় কথা বলেছে। কেন্দ্রের মনে রাখা উচিত, আমাদের রাজ্যেও দেড় কোটির বেশি পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছেন। আমরা তাঁদের সঙ্গে কখনও এমন করি না। আমরা ইজ্জত দিই, আর আপনারা বেইজ্জত করেন। মহারাষ্ট্রে মতুয়াভাষীদের উপর অত্যাচার হয়েছে। নির্বাচনের সময় মতুয়াদের বাড়ি গিয়ে ভোটভিক্ষা করেন। অন্য সময় অত্যাচার করেন। উদয়ন জানেন কতজন রাজবংশীকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়েছে এবং তাঁদের জেলে রাখা হয়েছে।” কেন্দ্রের থেকে এর জবাব চান মমতা।

নদিয়ার লোকেদের ছত্তীসগঢ়ে আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন মমতা। দিল্লিতে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দাদের জলের লাইন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর। তিনি বলেন, “তাঁদের অন্ধকূপে রেখে দেওয়া হয়েছে। কোচবিহারের বাসিন্দাদের অসম সরকার নোটিস পাঠিয়েছে। তাদের কী অধিকার আছে? যত স্বাধীনতা সংগ্রামীরা রয়েছেন, তাঁদের নামের মধ্যে ৭০ শতাংশ বাংলার লোক আছেন। যাঁরা বাংলা ভাষায় কথা বলেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন পঞ্জাবিরা। যাঁরা দেশ স্বাধীন করেছেন, যাঁরা জাতীয় সঙ্গীত দিয়েছেন, যাঁরা জনগণমন অধিনায়ক গেয়েছেন, যাঁরা জয় হিন্দ স্লোগান দিয়েছেন, আজ তাঁদের উপর অত্যাচার? আজ এনআরসির নামে তাঁদের বাদ দেওয়া হচ্ছে? “যাকেই সন্দেহ হবে জেলে নিয়ে এক মাস রেখে দিতে পারো। বিনা বিচারে এক মাস রেখে দেবেন? এটা কী! এ তো জরুরি অবস্থার থেকেও বেশি। ইন্দিরা গান্ধীকে গালাগাল দিয়ে সুপার ইমার্জেন্সি ডে পালন করলেন। তা হলে আপনারা কী রয়েছেন! এ তো জরুরি অবস্থার থেকেও বেশি কিছু। অবৈধ ভাবে আইন করেছে, যে আইনের মানে বোঝে না। আমি বাংলায় বেশি করে কথা বলব। ক্ষমতা থাকলে আমাকে ডিটেনশন ক্যাম্পে আগে রাখো।”

ক্ষোভ উগড়ে দিলেন ডিভিসির বিরুদ্ধে। বারবার না জানিয়ে জল ছাড়ায় এই পরিস্থিতি দাবি মমতার। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছে, তিনি নিজে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বারবার এই বিষয়ে জানিয়েছেন। তারপরও কোনও কাজ হয়নি। পাশাপাশি বাংলাকে আর্থিক দিক থেকে বঞ্চনার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। লাগাতার বৃষ্টিতে বাংলার একাধিক জায়গায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে খারাপ অবস্থা ঘাটালের। বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায়। এই পরিস্থিতে আজ, মঙ্গলবার নবান্নে আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি জানান, ডিভিসি জুন মাসের ১৮ তারিখ থেকে লাগাতার জল ছাড়ছে। এখনও পর্যন্ত ২৭ লক্ষ হাজার কিউসেক মিটার জল ছাড়া হয়েছে। ডিভিসি কারও কথা শুনছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, “আমি নিজে প্রধানমন্ত্রীকে বারবার চিঠি লিখেছি। তারপরও কোনও কাজ হচ্ছে না। না জানিয়ে জল ছাড়ছে ডিভিসি।” তাঁর আরও অভিযোগ অসম বন্যা মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সাহায্য পেলেও বাংলা সেই বঞ্চিতই।বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য প্রশাসনকে সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্থানীয় প্রশাসন থেকে উচ্চ আধিকারিকদের নজর রাখতে বলেছেন তিনি। জানিয়েছেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় যেখানে অবস্থা খারাপ, সেখানে তিন সচিব স্থানীয় ডিএম, এসপি নজর রাখবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় খোলা হচ্ছে কন্ট্রোলরুম। নিজে নজরদারি চালাবেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যার সময় অনেক রোগ দেখা যায়। মোকাবিলায় দুর্গত এলাকাগুলিতে ওষুধ পাঠাবে স্বাস্থ্যদপ্তর। খোলা হয়েছে ত্রাণ শিবির। নজর রাখবেন স্থানীয় এসপি, ডিএমরা। ঘাটাল, খানাকুল, ঝাড়গ্রামে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে বলেন, “আশা করছি আগামী ২ বছরের মধ্যে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ শেষ হয়ে যাবে। আপনাদের আর দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হবে না। দলমত, নির্বিশেষে পাশে দাঁড়ান, প্রশাসনের কাজে বাধা সৃষ্টি করবেন না। পজিটিভ খবর করুন। গুজব ছড়াবেন না।”

ডিভিসি আবার জল ছাড়ল। পাঞ্চেত ও মাইথন জলাধার থেকে প্রায় ৪৮ হাজার কিউসেক জল ছাড়া চলছে। পাঞ্চেত থেকে প্রায় ৩৫ হাজার কিউসেক এবং মাইথন থেকে প্রায় ১৩ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে । ফলে দামোদর নদী তীরবর্তী এলাকায় দেখা দিয়েছে বন্যার আশঙ্কা। ঝাড়খণ্ডে টানা বৃষ্টির কারণে জলাধারে জলের চাপ বেড়েছে। সে কারণেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানায় দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন। ছেড়ে দেওয়া এই বিপুল পরিমাণ জল দামোদর নদ বেয়ে পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর ব্যারেজ হয়ে হাওড়া, হুগলি এবং পূর্ব বর্ধমানের দিকে প্রবাহিত হবে। ডিভিসি-র জল ছাড়ার ফলে ইতিমধ্যেই হুগলির খানাকুল, আরামবাগ এবং হাওড়ার আমতা, উদয়নারায়ণপুরের মতো এলাকাগুলি প্রায় প্লাবিত হওয়ার মুখে। রাজ্যের সেচ দফতরের তরফে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলির বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ডিভিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগ, ধানবাদ, বোকারো-সহ উচ্চ দামোদর উপত্যকায় টানা বৃষ্টির জেরে পাঞ্চেত ও মাইথনে জলস্তর বেড়ে গিয়েছে। এই অতিরিক্ত জল কমানোর জন্যই জল ছাড়া হচ্ছে। সেচ দফতরের এগজ়িকিউটিভ ইঞ্জিনিয়াররা জানিয়েছেন, দুর্গাপুর ব্যারেজে জলের চাপ বাড়লে সেখান থেকেও জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়তে পারে। ফলে আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে পরিস্থিতি। তবে, ডিভিসির এই পদক্ষেপ নিয়ে আবারও রাজ্য সরকারের সঙ্গে পূর্ব আলোচনা না করার অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। উল্লেখ্য, অতীতেও একাধিক বার ডিভিসির এ ভাবে জল ছাড়ার সমালোচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বন্যাকে ‘ম্যানমেড’ বলেও অভিহিত করেছিলেন তিনি। মঙ্গলবার নবান্নে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক-শেষে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি ডিভিসি-র একতরফা ভাবে জল ছাড়ার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। যদিও ডিভিসির তরফে এক কর্তা জানিয়েছেন, তাঁরা যে পরিমাণ জল ছাড়ার জন্য নির্দেশ পান, সেটুকু জলই ছাড়া হয়। যে কমিটি এই নির্দেশ দেয়, তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকার, ঝাড়খণ্ড সরকার এবং ডিভিসি কর্তৃপক্ষ-সহ কেন্দ্রীয় জল কমিশনের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। এই কমিটি জলাধারে জলের পরিমাণ এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বিচার করে সিদ্ধান্ত নেয় কোন জলাধার থেকে কতটা জল ছাড়া হবে। সেই সিদ্ধান্তের কথা ডিভিসিকে জানালে ডিভিসি শুধুমাত্র জল ছাড়ার কাজ করে। ফলে এই ভাবে দোষারোপ কোন যুক্তি নেই! নবান্নের একটি সূত্র জানাচ্ছে, ইতিমধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় নদীর জল বাড়তে শুরু করেছে। জল ঢুকছে চাষের জমি ও জনবসতিতে। ফলে পরিস্থিতির মোকাবিলায় তৎপর হয়েছে রাজ্য প্রশাসন। শুরু হয়ে গিয়েছে হাওড়া, হুগলি এবং পূর্ব বর্ধমানের নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াও। পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নিতে জেলাভিত্তিক প্রশাসনিক দায়িত্বও ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। দশ জেলার প্রশাসনকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখার নির্দেশ।

সম্প্রতি ৪৪৭ জন বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিককে ওড়িশা সরকার আটক করেছিল। তাঁদের মধ্যে থেকে অধিকাংশকেই ছেড়ে দেওয়া হয়। বাংলাদেশি ভেবে পশ্চিমবঙ্গের যে সব পরিযায়ী শ্রমিকদের আটক করা হয়েছিল তাদের। ছাড়া পাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদের বেশিরভাগই বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ ২৪ পরগনার। এদের আটক করেছিল ওড়িশার ঝাড়সুগুড়ার পুলিশ। তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার নাম করে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের বেআইনিভাবে আটক করে বিজেপি শাসিত ওড়িশা সরকার। আটক শ্রমিকদের পরিবারগুলি দাবি করে যে তাদের কাছে আধার কার্ড এবং ভোটার আইডি কার্ডের মতো সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি ছিল। এই আবহে বাংলার ক্ষমতাসীন দল আটক শ্রমিকদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছিল। পরে নিজেদের ‘ভুল’ শুধরে নেয় ওড়িশা। ভিনরাজ্যে বাংলাভাষীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে যখন পথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক তখনই পালটা রোহিঙ্গা মুসলমানদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবিতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর অভিযান করলেন বিজেপি বিধায়করা। বুধবার দুপুরে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিধানসভা থেকে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর পর্যন্ত মিছিল করেন বিজেপি বিধায়করা। তবে মিছিলে ছিল না কোনও দলীয় পতাকা। জাতীয় পতাকা ও ব্যানার প্ল্যাকার্ড হাতে মিছিল করেন। কমিশনের দফতরে পৌঁছে শুভেন্দু বলেন, ‘মহিলাদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশ্রয় দিতে চান। ভুয়ো আধার কার্ড, ভুয়ো এপিক বানিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গোটা ভারতকে শেষ করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমাদের দাবি বিহারের মতো পশ্চিমবঙ্গতেও ভোটার তালিকা থেকে সমস্ত রোহিঙ্গা মুসলমানের নাম বাদ দিতে হবে। বিহারে যদি ৩০ লক্ষ বেরোয় এখানে ৯০ লক্ষ বেরোবে। আমরা কোনও ভারতীয় বিরুদ্ধে নই। আমরা হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রীষ্টান, জৈন, পারসিক, বৌদ্ধ কারও বিরুদ্ধে নই। কিন্তু এই বাংলায় কোনও রোহিঙ্গা মুসলমানকে আমরা ভোটার তালিকায় থাকতে দেব না। আনসারউল বাংলার সাদ শেখ ৩ বার তৃণমূলকে ভোট দিয়েছে।’




