Friday, July 17, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ইলিশের আকাল, চিন্তায় ভোজনরসিক বাঙালিরা!‌ আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় মাথায় হাত মৎস্যজীবীদের

ইলিশের আকাল। হতাশ মৎস্যজীবীরা। ৬১ দিন ছুটি কাটিয়ে ১৫ জুন থেকে সমুদ্রে মাছ ধরা শুরু। কেটে গিয়েছে ২৩ দিন। ইলিশের দেখা নেই। প্রথমের দিকে এক দু’দিন ইলিশ উঠলেও তারপর আর রূপোলি শষ্য ওঠেনি। কোনও ট্রেলারে নামমাত্র ইলিশ উঠলেও, দাম আকাশছোঁয়া। বড় ইলিশের দেখা মেলেনি। যে ইলিশ উঠেছে, তা মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। আষাঢ় মাসে ইলিশের স্বাদ না পেয়ে মন খারাপ ভোজনরসিক বাঙালির। মাথায় হাত ব্যবসায়ীদেরও। ২০১৬ সালে ইলিশ মাছের যে জোগান ছিল, তারপর আর সেরকম জোগান দিঘার বাজারে দেখা যায়নি। কারণ, আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা। ইলিশেগুঁড়ি বৃষ্টি না হওয়া ও সমুদ্রে দূষণের জোড়া ফলায় ইলিশের দেখা মেলা দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শংকরপুর ও পেটুয়াঘাট মৎস্যবন্দর থেকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ ট্রলার এবার সমুদ্রে মাছের খোঁজে পাড়ি দিয়েছিল। মূলত, ইলিশের খোঁজেই প্রতিবার ট্রলার সমুদ্রে পাড়ি দিয়ে থাকে। প্রতিবার ইলিশ সেভাবে দেখা না দিলেও পমফ্রেট, তেলিয়া ভোলা কিংবা অন্যান্য প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ওঠায় ট্রলারের খরচ উঠে যায়। ইলিশ মাছের আকালের পাশাপাশি অন্যান্য মাছেরও ঘাটতি দেখা দিয়েছে। মৎস্যজীবীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। মৎস্যজীবীদের দাবি, কমপক্ষে ৭ দিনের জন্যে ৯-১১ জন মৎস্যজীবী নিয়ে ট্রলার সমুদ্রে পাড়ি দিতে খরচ প্রায় লক্ষাধিক টাকা। কিন্তু এবার মাছ না ওঠায় সেই খরচ তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ট্রলার মালিকদের। দিঘা ফিশারম্যান অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শ্যামসুন্দর দাস বলেন, “এই মুহূর্তে ইলিশের দেখা নেই। প্রথমের দিকে ১৫ টন মতো ইলিশ মাছ উঠেছিল। তারপর আর আসেনি। তবে আবহাওয়া বারবার খারাপ হওয়ার কারণে ট্রলার ফিরে আসতে হয়েছে। পাঁচদিন সব ট্রলার ফিরে এসে বসে আছে। মাছ না থাকায় ট্রলার চালানোর খরচ উঠছে না। মৎস্যজীবীদের হতাশার কারণ।”

নিম্নচাপ সরলেও সক্রিয় মৌসুমী ও পূর্ব-পশ্চিম অক্ষরেখা। ফলে আপাতত কয়েকদিন দিনভর চলবে ভারী ও অতিভারী বৃষ্টি। পশ্চিমের চার জেলায কার্যত ভাসবে। হাওয়া অফিস সূত্রের খবর, নিম্নচাপ সরে ঝাড়খণ্ড ও সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে। সক্রিয় মৌসুমী অক্ষরেখা ও পূর্ব-পশ্চিম অক্ষরেখার প্রভাবেই লাগাতার বৃষ্টি চলছে বাংলায়। দফায় দফায় বৃষ্টি শুরু একাধিক জেলায়। যার জেরে তাপমাত্রা নেমেছে অনেকটাই। হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, মৌসুমী অক্ষরেখা প্রয়াগরাজ ডালটনগঞ্জ হয়ে বাংলা, ঝাড়খণ্ডের নিম্নচাপের উপর দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এগিয়ে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। একটি অক্ষরেখা উত্তর-পূর্ব আরবসাগর থেকে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের নিম্নচাপ এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, ছত্রিশগড় এবং ঝাড়খণ্ডের উপরে রয়েছে। পশ্চিমের চারজেলায় বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং ঝাড়গ্রাম জেলা কার্যত ভাসবে। বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোর বেশ কিছু এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। শুক্রবার দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোর কিছু এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা। শনিবার ও রবিবার দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোর বেশ কিছু এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। সোমবার দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোর বেশিরভাগ এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে বলেই খবর। উত্তরবঙ্গের দু-এক জায়গায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। রবিবার পর্যন্ত চলবে বৃষ্টি।

টানা বৃষ্টি হয়েই চলেছে। নাজেহাল রাজ্যবাসী। কবে থামবে এই বৃষ্টি?‌ এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে আমজনতার মনে। রাতভর বৃষ্টিতে ফের জল জমার ছবি ধরা পড়ল শহর কলকাতা জুড়ে। কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় জলযন্ত্রণার ছবি ধরা পড়েছে। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের কারণে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের কারণে আগেই বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। রাত থেকেই ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী জেলাজুড়ে। এদিন সকালে ব্যাপক অফিস টাইমে কমে গিয়েছে যানবাহনের সংখ্যাও। ব্যাপক বৃষ্টির কারণে জল জমেছে টেকনোপলিস, নিউটাউন বাস স্ট্যান্ড এলাকাতেও। ট্রাফিকের ভয়াবহ অবস্থা। স্টেশন চত্বরে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ডানলপগামী লেন অধিকাংশটাই জলের তলায়। জল জমে গিয়েছে গোটা হাওড়া জুড়ে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সমস্যায় পড়েছেন লোকাল ট্রেনের নিত্যযাত্রীরা। রাতভর এবং ভোরের দিকেও ভারী বৃষ্টির ফলে শিয়ালদহ শাখার বেশ কিছু স্টেশনে লাইনে জল জমার ঘটনা ঘটেছে। তার মধ্যেও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য ময়দানে নেমেছেন রেলের কর্মীরা। শিয়ালদহ মেইন শাখায় বেশির ভাগ জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় রেললাইনে বিভিন্ন জায়গায় জল জমার সমস্যা তৈরি হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও পরিষেবার মান বজায় রাখতে রেলওয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং, সিগন্যাল-টেলিকম, অপারেটিং ও অন্যান্য বিভাগের কর্মীরা নেমেছেন ময়দানে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের ওপর থেকে নিম্নচাপ বর্তমানে ঝাড়খণ্ডের দিকে সরছে। বুধবার রাতেই বাংলার ওপর থেকে নিম্নচাপের প্রভাব সরেছে। গাঙ্গেয় পশ্চিমাঞ্চলের জেলার ওপর থেকেও নিম্নচাপ ক্রমশ সরছে। বৃহস্পতিবারও দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে ভারী বৃষ্টি হবে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম বর্ধমানে। এই জেলাগুলিতে কমলা সতর্কতা জারি হয়েছে। সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বাকি সব জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা। মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস, আগামী সপ্তাহে সোমবারের আগে দক্ষিণবঙ্গে আবহাওয়ার উন্নতির সম্ভাবনা নেই। বৃহস্পতিবার দিনভর মেঘলা আকাশ থাকবে। সেইসঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত চলবে। ১৪ জুলাইয়ের পর থেকে আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে শুরু করবে। দক্ষিণের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, কোচবিহারে বজ্রবিদ্যুৎ সহ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও বাকি জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা। সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। উত্তরেও রবিবার অবধি চলবে বৃষ্টি। আগামী সপ্তাহে সোমবার থেকে আবহাওয়ার পরিবর্তন হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles