Friday, July 17, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘‌মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হননি’‌ মুখ্যামন্ত্রীর আশেপাশের লোকেরা দাগি, অনেকেরই বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা রয়েছে :‌ দিলীপ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে কোনও দুর্নীতির মামলা নেই। মন্তব্য বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতির। দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘মমতার আশেপাশে যাঁরা ছিলেন বা রয়েছেন, তাঁরা বরং দাগি।’’ দলের সর্বভারতীয় সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিব প্রকাশের সঙ্গে সাক্ষাৎ সেরে বেরোনোর পরেও দিলীপের বক্তব্যে টালমাটাল রাজ্য বিজেপির অনেকেই। মঙ্গলে বিধাননগরের বিজেপি দফতরে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির নতুন সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে শুভেচ্ছা জানান দিলীপ। দু’জনের মধ্যে দু’দফায় আধ ঘণ্টা কথাও হয়। কথোপকথনের মাঝেই এক বার বাইরে বেরিয়ে এসে দলীয় দফতরের নীচে জড়ো হওয়া কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণ দেন শমীক। তাঁর সে বক্তব্যের সার কথা ছিল, দিলীপ দলেই থাকছেন এবং দল নতুন-পুরনোয় ভেদাভেদ করবে না। শমীকের সঙ্গে বৈঠকের পরের দিন অর্থাৎ বুধ সকালেই দিলীপ দিল্লি যান। সর্বভারতীয় নেতৃত্বের কয়েক জনের সাক্ষাৎ। বিজেপির সর্বভারতীয় সদর দফতরে গিয়ে যুগ্ম সংগঠন সম্পাদক শিব প্রকাশের সঙ্গে সস্ত্রীক দেখা করেন দিলীপ। দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গের দফতরে ঘণ্টাখানেক ছিলেন। বেরিয়েই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে মন্তব্য। দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনে হাজির ছিলেন। দলের একাংশের আক্রমণের মুখে পড়েছিলেন। মমতা সম্পর্কে বলেন, মমতার নামে কোনও দুর্নীতির মামলা নেই। বরং যাঁরা মমতার সমালোচনা করছেন, তাঁদের অনেকের নামে দুর্নীতির মামলা রয়েছে বলেই খোঁচা দেন। খোঁচা কি শুভেন্দু অধিকারীর দিকে?‌

দিল্লিতে দিলীপ। দলবদল করছেন না। যাবতীয় জল্পনায় ইতি টানলেন বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বুধবার শিবপ্রকাশের সঙ্গে সাক্ষাতের পর দিলীপ বলে দিলেন, “যে পার্টি দাঁড় করিয়েছে, সে কেন দল ছাড়বে?” দিলীপের মুখে রামনাম, মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অন্তত দুর্নীতির কোনও অভিযোগ নেই। দিলীপ ঘোষ অভিমানী। বেশ কিছুদিন দলের কর্মসূচিতে দেখা যায় নি। দলের কোনও বড় নেতা এলে ডাক পান নি। সাংগঠনিক বৈঠকে ডাকা হত না। এমনকী কোথাও গেলে স্থানীয় কর্মীদের সহযোগিতা পেতেন না। দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে গিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা করেন। একুশের মঞ্চে থাকবেন না, জোর গলায় বলেননি। দিলীপ ঘোষ যেন আচমকায় বদলে গেলেন। দিল্লিতে তলব পেয়ে হাবেভাবে আমূল বদল। দলবদলের প্রশ্ন আর নেই। সকলের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে চাইছেন। অভিমান এখনও আছে বিজেপির ‘শৃঙ্খলাবদ্ধ’ সৈনিকের। দিল্লিতে শিবপ্রকাশের সঙ্গে দেখা করার পর দিলীপ বলেন, “আগে থেকেই অনেক কিছু ঘটছে। পার্টির মিটিংয়ে আমায় চেয়ার দেওয়া হত না। আমি তো কাজ করেছি। দল ছেড়ে তো চলে যাইনি। একজন-দু’জন আমায় দলছাড়া করতে চেয়েছিল। তারা চেষ্টা করেছিল। যে পার্টি দাঁড় করিয়েছে, সে কেন দল ছাড়বে?” কারা দল থেকে তাড়ানোর চেষ্টা করছিল? সে প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি ঘুরিয়ে শুভেন্দু-সুকান্ত জুটিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। লোকসভায় তাঁকে মেদিনীপুর থেকে সরিয়ে দুর্গাপুরে পাঠানোর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল সেটা যে ঠিক নয়, মনে করিয়ে দেন দিলীপ। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, “সবার প্রশংসা করি। কারও বিরুদ্ধে বিনা কারণে কিছু বলতে দেখেছেন কিছু? প্রশংসা করব না কেন? প্রশংসা এই কারণে করেছি যে যাঁরা তাকে নিয়ে এত বড়বড় কথা বলছে, তাঁদের নামে কেস আছে। যাঁকে নিয়ে এত চর্চা, তার নামে কেস নেই কেন? আর যার নামে কেস নেই, চোর ডাকাত বলে কেউ প্রমাণ করেনি তার সঙ্গে যদি বসি, আমি খারাপ হয়ে গেলাম?” মমতার প্রশংসা করায় দলীয় কর্মীরা কি অস্বস্তিতে পড়েছিল? দিলীপের জবাব, “কর্মীরা নয়, কিছু লোক অস্বস্তিতে পড়েছিল। সমস্যা হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমায় এত গুরুত্ব দিয়েছে কেন? এই জন্যই দলের অনেকে অস্বস্তিতে পড়েছিল।” তাঁর নিশানা যে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দিকে, সেটা বলতে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার পড়ে না। দিল্লিতে দিলীপের এই মন্তব্য দলের অন্দরের জল আবার খানিকটা ঘোলা করে তুলল বলে বিজেপির একাংশের।

খড়গপুরকেই রণক্ষেত্র হিসাবে বাছতে চাইছেন। বিধানসভায় লড়তে চান? বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতির কথায়, “রাজ্যে নির্বাচন আসছে। দল যদি মনে করে দায়িত্ব দেবে, তা করব।” ২০১৬ সালে খানিকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা জ্ঞান সিং সোহনপালকে হারিয়ে খড়্গপুর থেকে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। অপ্রত্যাশিত সেই জয় দিলীপ ঘোষের প্রাসঙ্গিকতা রাজ্য রাজনীতিতে অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছিল। ঘটনাচক্রে সেই জয়ের ৯ বছর বাদে দিলীপ কিছুটা কোণঠাসা। আবারও প্রাসঙ্গিকতা খুঁজছেন। সেই লড়াইয়ে খড়গপুরকেই রণক্ষেত্র হিসাবে বাছতে চাইছেন। বিধানসভায় লড়তে চান? দিলীপের সাফ কথা, “আগেও হয়েছি। তারপর দল লোকসভায় প্রার্থী করল, হলাম। আবার যা দায়িত্ব দেবে, তাই করব।” তাঁর পছন্দের আসন যে খড়গপুর সেটাও গোপন করেননি বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি। তাঁর কথায়, “আমার নিজের জায়গা খড়গপুর। লড়তে হলে সেখানেই লড়ব। লোকসভায় দল বলল বর্ধমান যাও। গেলাম। লাভ-ক্ষতি কী হল, পার্টি দেখেছে, সবাই জানে।” উনিশের লোকসভায় মেদিনীপুর থেকে লড়ে সাংসদ হয়েছিলেন দিলীপ। কিন্তু চব্বিশে নিজের কেন্দ্রে তাঁকে টিকিট দেয়নি দল। দিলীপের অনুগামীরা বলেন, সেই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কলকাঠি নেড়েছেন বঙ্গ বিজেপির নেতারা। ঘটনাচক্রে মেদিনীপুর এবং দুর্গাপুর দুই আসনেই হারে বিজেপি। দিলীপ এদিন খোঁচা দিয়ে সে কথাও মনে করালেন। তাঁর স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদারও নির্বাচনে দাঁড়াতে চান। রিঙ্কুও এই মুহূর্তে দিলীপের সঙ্গে দিল্লিতে। তিনি বলছেন, “এখনও কিছু ভাবিনি এসব নিয়ে। যদি বলে, তখন ভাবব। তবে হারার জন্য কোথাও দাঁড়াব না। যদি বুঝি জেতার পরিস্থিতি আছে বা পারব, তবেই দাঁড়াব।”

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করতে চন্দ্রশেখরন কলকাতায়। নবান্নে তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে স্বাগত জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুজোর পর ফের বঙ্গে বাণিজ্য সম্মেলন। রাজ্যের শিল্পবান্ধব পরিবেশের টানে বহু শিল্পপতির নতুন প্রকল্পে আগ্রহ। কিন্তু এখনও শিল্পের দেখা নেই?‌ অভিমত জনগনের। আবারও সম্মেলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। কলকাতা এলেন দেশের অন্যতম বড় শিল্প সংস্থা টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন। নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকের কথা জানা যায় সোশাল মিডিয়ায় সর্বভারতীয় তৃণমূলের পোস্টে। বাংলায় ফের টাটার হাত ধরে নতুন শিল্প হতে চলেছে? একদা যে জমি জটিলতায় সিঙ্গুরে ন্যানো কারখানা তৈরি করতে এসেও বিদায় নিয়েছিল, সেই জমি নীতি সরল হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে। বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন নিজে আসতে না পারলেও প্রতিনিধিকে পাঠিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি ফোনে কথাও বলেন। এবার তাঁরা একান্তে বৈঠক করেন।

নীতি আয়োগের রিপোর্টে বিহার হয়ে গেল বাংলা। সরকারি রিপোর্টে এত বড় ভুল কীভাবে হয়, সেই নিয়ে প্রশ্ন তুললেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। বুধবার নিজের সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ এই সংক্রান্ত একটি পোস্ট করে তিনি নিন্দা করেছেন পুরো বিষয়টির। পাশাপাশি নীতি আয়োগে এই ভুল সংশোধনের কথা জানিয়ে চিঠিও লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান সুমন বেরিকে চিঠি পাঠানো হয়েছে নবান্ন থেকে। মমতার চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে এই ভুল একটি ছোটখাটো প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়। নীতি আয়োগ ভারত সরকারের একটি নীতি-নির্ধারণকারী সংস্থা। এটি যোজনা কমিশনকে প্রতিস্থাপন করে ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি গঠিত হয়েছিল। কিন্তু ঠিক কী ভুল করেছে নীতি আয়োগ? চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে সেই ভুল। নীতি আয়োগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। সেই রিপোর্টটি পশ্চিমবঙ্গ বিষয়ক নানা তথ্য সম্বলিত রিপোর্ট। কিন্তু রিপোর্টের সঙ্গে থাকা ম্যাপটিতে দেখা যাচ্ছে বিহারের সীমানা। বিহারকে হাইলাইট করা হয়েছে ওই ম্যাপে। ভুল নিয়েই সরব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। চিঠির প্রথমাংশেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। নীতি আয়োগের মতো একটি সরকারি রিপোর্টে এমন ভুল কী করে হয়, এই নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর কথায়, এই ধরনের ভুল শুধুমাত্র একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়। বরং এই ভুল রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের মর্যাদাকেও ক্ষুণ্ণ করে। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী আরও লেখেন, এই ধরনের ভুল একই সঙ্গে অধ্যাবসায়ের অভাব ও রাজ্যের প্রতি অবজ্ঞার দৃষ্টিভঙ্গিকে চিহ্নিত করছে। দেশের মানুষ এই তথ্যের জন্য বিভ্রান্ত হতে পারেন বলে জানান। আগেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরব হয়েছিলেন নীতি আয়োগের প্রসঙ্গে। একাধিকবার তিনি নীতি আয়োগ বন্ধ করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। বদলে যোজনা কমিশনকে ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালে তাঁকে নীতি আয়োগের সভায় ঠিকভাবে কথা বলতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ তুলেছিলেন। অভিযোগ ছিল, তাঁর কথা বলার সময় বারবার মাইক বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছিল। এই বছর মুখ্যমন্ত্রী নীতি আয়োগের বৈঠকে অংশ নেননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles