আট দলের প্রতিযোগিতা। ৬১ ম্যাচ। আট ফ্র্যাঞ্চাইজি। চার স্টেডিয়াম। বেঙ্গল সুপার লিগের পথ চলা শুরু। শুরু হতে চলেছে বাংলার আইএসএল। বাংলার ফুটবলের বাণিজ্যিকীকরণ। মঙ্গলে আনুষ্ঠানিকভাবে বেঙ্গল সুপার লিগের শুভসূচনা। শহরের একটি পাঁচতারা হোটেলে টুর্নামেন্টের লোগো উন্মোচন হয়। বেল বাজিয়ে লিগের শুভ সূচনা। আইএফএ এবং শ্রাচী স্পোর্টস যৌথভাবে এই লিগ পরিচালনা করবে। আইএফএর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাটন তুলে দেওয়া হয় শ্রাচী স্পোর্টসের হাতে। কলকাতা লিগে অংশ নেয় শহরের ক্লাবগুলো। বেঙ্গল সুপার লিগে ফোকাস করা হবে রাজ্য স্তরে। বিভিন্ন রাজ্য থেকে মোট আটটি ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে শুরু হবে বিএসএল। খেলা হবে চার স্টেডিয়ামে। প্রাথমিকভাবে কয়েকটা স্টেডিয়াম শর্টলিস্ট করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম, দুর্গাপুরের ভগত সিং স্টেডিয়াম, ব্যারাকপুর স্টেডিয়াম, বহরমপুর স্টেডিয়াম, নৈহাটি স্টেডিয়াম, কৃষ্ণনগর স্টেডিয়াম, ডিএসএ মালদা, হলদিয়ায় দুর্গাচক স্টেডিয়াম এবং বারাসাত স্টেডিয়াম। এগুলোর মধ্যে থেকে চারটে স্টেডিয়াম বেছে নেওয়া হবে। পাহাড় থেকে সুন্দরবন। রাজ্যের সব প্রান্ত থেকে নতুন নতুন ফুটবল প্রতিভা তুলে আনতে শুরু হচ্ছে বেঙ্গল সুপার লিগ। জেলাগুলিকে আটটি জোনে ভাগ করে হবে প্রতিযোগিতা। শুরু হতে চলেছে বেঙ্গল সুপার লিগ বিএসএল। গ্রাম বাংলা থেকে পেশাদার ফুটবলার তুলে আনাই লক্ষ্য নতুন এই প্রতিযোগিতার। ইন্ডিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আইএফএ অনুমোদিত এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ হবে জেলা স্তরে। প্রধান উদ্যোক্তা শ্রাচী স্পোর্টস। এই প্রতিযোগিতায় আটটি জোনে ভাগ করা হবে জেলাগুলিকে। হোম অ্যান্ড আওয়ে ভিত্তিতে খেলা হবে। সেমিফাইনাল হবে দুই পর্বে। সব মিলিয়ে ৬১টি ম্যাচ হবে বিএসএলে। প্রতি দলে ২৫ জন করে ফুটবলার থাকবে। আগামী অক্টোবরে শুরু হবে প্রতিযোগিতা। ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে লিগ। প্রথম বার জেলার অন্তত ৪টি করে স্টেডিয়ামে খেলা হবে। খেলাগুলি সম্প্রচার হবে ‘জি বাংলা সিনেমা’ চ্যানেলে। প্রথম জোনে থাকবে জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং কালিম্পং। দ্বিতীয় জোনে থাকবে মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর। তৃতীয় জোনে থাকবে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম। চতুর্থ জোনে থাকবে উত্তর ২৪ পরগনা এবং নদিয়া। পঞ্চম জোনে থাকবে হাওড়া, হুগলী। ষষ্ঠ জোনে থাকবে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম। সপ্তম জোনে থাকবে পূর্ব এবং পশ্চিম মেদিনীপুর। অষ্টম জোনে থাকবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা। তৃণমূল স্তরের ফুটবলারদের উন্নয়ন, নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করা, আগামী দিনের তারকা তৈরির করার মতো নির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্য নিয়ে শুরু হচ্ছে প্রতিযোগিতা।

প্রাথমিকভাবে আট দল নিয়ে শুরু হবে বিএসএল। মোট ৬১টি ম্যাচ। হোম এবং অ্যাওয়ে ফরম্যাটে ৫৬টি ম্যাচ হবে। দুটো সেমিফাইনাল হবে হোম এবং অ্যাওয়ে ভিত্তিক। একটা ফাইনাল। প্রত্যেক দলে অন্তত ২৫ জন ফুটবলার রাখতে হবে। একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক জেলার ফুটবলার রাখা বাধ্যতামূলক। দুই মাস ধরে চলবে এই লিগ। দিওয়ালির পর শুরু হবে বেঙ্গল সুপার লিগ। আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত বলেন, ‘বাংলার ফুটবল কলকাতা ভিত্তিক, আমরা জেলাতে পৌঁছতে পারিনি। পাশ্ববর্তী জেলায় কলকাতা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ দেখা যায়। কিন্তু শুধু কলকাতার কাছাকাছি জেলা নিয়ে করলে হবে না। পুরুলিয়া, মুর্শিদাবাদ, দার্জিলিং এবং অন্যান্য জায়গাও আছে। জেলার মানুষদের মধ্যে ফুটবলপ্রীতি বেশি। সেখান থেকেই বেঙ্গল সুপার লিগ। আশা করছি এটা সেতু হিসেবে কাজ করবে। জেলা লিগের ফুটবলাররা নিজেদের তুলে ধরতে পারবে বাংলার মানুষের কাছে। বাংলার ফুটবল জেলার প্লেয়াররা এগিয়ে নিয়ে চলেছে। জেলার ভাল প্লেয়ারদের একটা মঞ্চ করে দেবে নিজেদের পারদর্শিতা তুলে ধরার। জেলার দলগুলো লড়াইয়ে নামলে জেলার মানুষরা দল বেঁধে মাঠ ভরাবে। সেটাই মূলত বেঙ্গল ফুটবল হবে। জেলার ফুটবলারদের সঠিক মঞ্চ আমরা দিতে পারিনি। এই লিগ বাংলার ফুটবলকে অনেকটা এগিয়ে নিয়ে যাবে।’ লিগের অফিসিয়াল ব্রডকাস্টিং পার্টনার জি স্পোর্টস। চ্যানেলের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সম্রাট ঘোষ এবং ভবেশ জানওয়ালকার। বেঙ্গল সুপার লিগের আনুষ্ঠানিকভাবে পথ চলার দিন চাঁদের হাট। আটের দশকের ফুটবলার থেকে শুরু করে বর্তমান প্রজন্ম, সবাই হাজির ছিলেন এক ছাদের তলায়। এই তালিকায় ছিলেন ভাস্কর গাঙ্গুলি, সাব্বির আলি, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, শ্যাম থাপা, সমরেশ চৌধুরী, প্রশান্ত ব্যানার্জি, বিকাশ পাজি, মিহির বসু, মানস ভট্টাচার্য, বিদেশ বসু, জামশিদ নাসিরি, বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য, সুমিত মুখার্জি, রহিম নবি, অ্যালভিটো ডি কুনহা, দুলাল বিশ্বাস, দীপঙ্কর রায়, অসীম বিশ্বাস প্রমুখ। সবাইকে সংবর্ধিত করা হয়। আইএফএর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি অজিত ব্যানার্জি, চেয়ারম্যান সুব্রত দত্ত, সচিব অনির্বাণ দত্ত সহ অন্যান্য কর্তারা। শ্রাচী স্পোর্টের পক্ষ থেকে ছিলেন দুই ডিরেক্টর রাহুল টোডি এবং তমাল ঘোষাল। শ্রাচী স্পোর্টসের কর্ণধার রাহুল টোডি বলেন, ‘বাংলার এবং ভারতীয় ফুটবলের ঐতিহাসিক দিন। পুরো বাংলার ফুটবল মহল এখানে হাজির। আমি সবসময় এমন সব প্রজেক্ট চেয়েছি যেখানে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করা যাবে। বিএসএলের লক্ষ্য শুধু বাংলা নয়, ভারত থেকে প্রতিভা তুলে আনা।’ জেলার মানুষদের মধ্যে ফুটবল জনপ্রিয়। আগ্রহ বেশি। জেলাগুলির কথা ভেবেই বেঙ্গল সুপার লিগের ভাবনা শুরু।

শুরু হয়ে গেল সুব্রত মুখার্জি কাপ। কসবার গীতাঞ্জলি স্টেডিয়ামে স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টের ঢাকে কাঠি পড়ল। মঙ্গলবার ৬৪তম আন্তঃ বিদ্যালয় সুব্রত মুখার্জি কাপ ফুটবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। উপস্থিত ছিলেন আইএএস বিনোদ কুমার (শিক্ষা সচিব, পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তর), রামানুজ গাঙ্গুলি (সভাপতি, ওয়েস্ট বেঙ্গল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন), চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য (সভাপতি, হায়ার সেকেন্ডারী কাউন্সিল), এমএলএ ও প্রাক্তন ফুটবলার বিদেশ বসু এবং প্রাক্তন ফুটবলার মেহতাব হোসেন। উদ্বোধনী ম্যাচে ঝাড়গ্রাম জেলার মানিকপাড়া হাইস্কুল ২-১ গোলে হারায় কালিম্পংয়ের কুমুদিনী হোমস হাইস্কুলকে। মানিকপাড়া হাইস্কুলের হয়ে গোল করেন বুদ্ধ মুর্মু এবং লক্ষ্মণ টুডু। কুমুদিনী হোমসের পক্ষে গোল করেন অর্ণব তামাং। এই বছরের সুব্রত মুখার্জি কাপে ২৬টি জেলার অংশগ্রহণকারী বিদ্যালয় এবং খেলোয়াড়দের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। সাব ডিভিশন এবং জেলাস্তরে ১০ই জুন থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় অনূর্ধ্ব-১৫ বালক এবং অনূর্ধ্ব-১৭ বালক ও বালিকা নিয়ে মোট ১৫৬৪ বিদ্যালয়ের ৪০,৪৬৪ জন ফুটবলার এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে। এবার টুর্নামেন্টে প্রতিযোগীদের সংখ্যা বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় ৪০৬টির বেশি বিদ্যালয় এবং ১০০০০ এর বেশি খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করছে। অনূর্ধ্ব-১৫ বালক বিভাগে আটটি দল, অনূর্ধ্ব-১৭ বালক এবং বালিকা বিভাগে আটটি করে দল রাজ্য পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে। এই প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন দলগুলো দিল্লিতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সুব্রত মুখার্জি কাপ ফুটবল প্রতিযোগিতায় বাংলার প্রতিনিধিত্ব করবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের সূত্রে এমনই জানানো হয়েছে।




