Friday, July 17, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

কিংবদন্তি ক্রিকেটার একাধিক কেক কাটতে কাটতে ক্লান্ত!‌ জন্মদিনের অনেকগুলো কেক কেটেছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়

৮ই জুলাই। বাংলার গর্ব সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্মদিন। ৫৩তম জন্মদিন। বাঙালির প্রিয় দাদার জন্মদিন বলে কথা। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্মদিনে উৎসবের আবহ ছিল সিএবি-তে। সামনের রাস্তায় বেশ কয়েকটি কাট-আউট দিয়ে সাজানো। ভেতরে বড় একটি পোস্টারে লেখা ছিল, ‘‘হ্যাপি বার্থডে। সৌরভ: ৫৩।’’ তারই সামনে সিএবি কর্তাদের পাশে দাঁড়িয়ে কেক কাটলেন সৌরভ। ‌এবারের জন্মদিনের অনুষ্ঠান মঙ্গলবারের বদলে বুধবার করবেন মহারাজ। মঙ্গলবার বেহালার বীরেন রায় রোডের বাড়িতে সম্পূর্ণ নিরামিষ। মা মঙ্গলচন্ডী সৌরভের বাড়িতে রয়েছেন। মঙ্গলবার বাড়িতে কোনওরকম আমিষ‌ খাবার প্রবেশ করে না।

বুধবার আর পাঁচটা বাঙালির মতোই পাঁচ রকম ভাজা সহযোগে সৌরভের জন্মদিনের অনুষ্ঠান পালন করা হবে। মেনুতে সৌরভের পছন্দের মাছ। মিষ্টি। মায়ের হাতের পায়েস বুধবার খাবেন সৌরভ। কন্যা সানা গঙ্গোপাধ্যায়কে ছাড়া এ বারই জন্মদিন পালন করলেন সৌরভ। বাবার জন্মদিনে এ বার থাকতে পারেননি সানা। কাজে ব্যস্ত তিনি। সৌরভের কিছুটা মন খারাপ। বলছিলেন, ‘‘সানা ছাড়াই জন্মদিন পালন করলাম। ও এ বার থাকতে পারল না। উপহার দিয়েছে কিন্তু ও থাকলে আরও ভাল লাগত।’’ কিংবদন্তি ক্রিকেটারের জন্য আনা হয়েছিল একাধিক কেক। যা কাটতে কাটতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন সৌরভ। বলছিলেন, ‘‘কাল রাত থেকে কেক কেটে চলেছি। আমাকে আর কেক খাইও না।’’ কিন্তু তাঁর কথা কে শোনে? উৎসবের দিনে সৌরভের এই বারণ শোনার লোক ছিল না।

কেক কেটে উদ্‌যাপন শেষে ভারত-ইংল্যান্ড সিরিজ নিয়ে কথা বলতে রাজি হন সৌরভ। বাংলার আকাশ দীপের সাফল্যে তিনি খুশি। এজবাস্টনে সুযোগ পেয়ে ১০ উইকেট নিয়েছেন। জানিয়ে দেন, এখনও তিনটি টেস্ট বাকি। ভবিষ্যদ্বাণী তিনি করতে চান না। সৌরভ বলছিলেন, ‘‘ক্রিকেট খেলায় কিছু বলা যায় না। এখনও তিনটি টেস্ট বাকি। বর্তমানে সিরিজ় ১-১। ভারত ভাল খেলে সমতা ফিরিয়েছে। হেডিংলেতে হারলেও সেখানে ভাল খেলেছে। পরের টেস্টে শূন্য থেকেই শুরু করতে হবে। পিচ সবুজ হলে ভারতের সুবিধে। আমাদের ২০টি উইকেট তোলার মতো বোলার আছে। পিচে ঘাস থাকলে এগিয়ে থাকব আমরাই। অনেক কিছু শুনি। অনেক নেতিবাচক বক্তব্য পড়ি। বাঙালি ছেলে নয়, অবাঙালি ছেলে। আমি যেমন বাংলার ছেলে, ও এবং মুকেশও এখানেরই। ওরা বাংলায় যখন এসেছে, তখন ওদের কিছুই ছিল না। মহম্মদ শামির কাহিনিও একই রকম। ওরা পরিশ্রম করে ভারতীয় দলে সুযোগ পেয়েছে। প্রথম টেস্টের পরে ওকে নিয়ে টুইট করেছিলাম। অসাধারণ ব্যাট করেছে। ওর ব্য়াটিংয়ে আমি বিস্মিত নই। শুভমন এ রকমই ক্রিকেটার। নেতৃত্বের জীবনটা ওর খুব ভাল শুরু হল। যত দিন যাবে, ও চাপ অনুভব করতে শুরু করবে। ভারতীয় অধিনায়ক হলে চাপ থাকবেই। কুলদীপকে ১০০ শতাংশ খেলানো উচিত। বুমরা ফিরবে। এক জনকে বাদ দিতে হবে। একদম সবুজ পিচ হলে চার পেসার খেলানো যায়। তবে শুকনো হলে কুলদীপ দলে আসুক। ইংল্যান্ডে গত সপ্তাহে খুব গরম ছিল। লন্ডনে যদি তাপমাত্রা এ রকমই থাকে। পিচ শুকনো হবে।’’

বাংলার পেসার আকাশ দীপ। ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে বুমরার অভাব ঢেকেছেন তিনি। এই সাফল্যে স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীরা। বাংলার তারকা পেসার মহম্মদ সামি সুযোগ না পেলেও আকাশ দীপের এই পারফর্ম্যান্সে মুখ উজ্জ্বল হয়েছে বাংলার। মঙ্গলবার অর্থাৎ ৮ জুলাই ৫৩ বছরে পা দিলেন সৌরভ। সিএবি-তে সাড়ম্বরে পালিত হয় তাঁর জন্মদিন। ভারতীয় ক্রিকেটে আজ স্পেশাল দিন। দেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্মদিন। ক্রিকেট প্রেমীদের কাছে এই দিনটা বাড়তি গুরুত্ব রাখে। দেশজুড়েই ক্রিকেট প্রেমীরা জন্মদিন পালন করেন। শুভেচ্ছার বন্যায় ভেসে যায় সোশ্যাল মিডিয়া। ঘুরে ফিরে আসে সৌরভের নানা দুর্দান্ত মুহূর্তের ছবি। বিশেষ করে লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সেই জার্সি ওড়ানোর মুহূর্ত।

ইংল্যান্ড সফরে রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দল। এজবাস্টনে ভারত-ইংল্যান্ড দ্বিতীয় টেস্টে হাজির ছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। শুভমন গিলের স্পেশাল ইনিংসের সাক্ষী ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ও। গত বার জন্মদিন পালন করেছিলেন লন্ডনেই। সেখানেও তাঁর বাড়ি রয়েছে। এ বার অবশ্য বেশ কয়েক ভাগে কেক কাটা হল। ইংল্যান্ড থেকে ফেরার পথে দুবাই বিমানবন্দরে কেক কাটা হয়। সঙ্গে ডোনা এবং কাছের বন্ধুরা ছিলেন সৌরভের সঙ্গে। এখানেই শেষ নয়। বেহালায় মহারাজের বাড়িতেও জন্মদিন পালন হল। খুদে ভক্তরাও হাজির হয়েছিলেন। সৌরভ তাদের সামনেই কেক কাটেন। খুদে ভক্তদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের ভালো খেলার পরামর্শ দেন। বাড়িতে সৌরভের কেক কাটার সময়ই হাজির বাটার। সৌরভের পোষ্য রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘বাটার’। কেক কাটার মুহূর্তে উচ্ছ্বাসে ভাসছে সেও। সৌরভের জীবনে জন্মদিনের এই মুহূর্ত বারবার ফিরে আসুক, ভারতীয় ক্রিকেট প্রেমীদের সেটাই প্রার্থনা।

ভূতের কবলে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়? রীতিমত ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন সৌরভ। ‘দাদাগিরি’র সঞ্চালনা করার সময় এক প্রতিযোগীকে এই গল্প বলেছিলেন সকলের প্রিয় ভারতীয় ক্রিকেট টিমের প্রাক্তন অধিনায়ক। ভূতে কম বেশি অনেকেই বিশ্বাস রাখেন। কেউ কেউ আবার তা নিজে চোখে দেখেছেন বলেও দাবি করেন। তবে সেই উপলব্ধি হয়েছিল সৌরভেরও। ‘দাদাগিরি’-র মঞ্চে দাঁড়িয়ে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বলেছিলেন, “২০০৫ ইংল্যান্ডে লামলে ক্যাসেল নামে একটি হোটেলে আমি ছিলাম। সাধারণত ইংল্যান্ডে পুরোনো ক্যাসেলগুলোকেই হোটেল তৈরি করা হয়। সেখানেই একটি বড় ঘরে আমায় থাকতে দেওয়া হয়। ইংল্যান্ডে তারপরের দিন ডে-নাইট খেলা ছিল। আমি সাধারণত আলো জালিয়ে ঘুমতে পারি না। ফলে সমস্ত আলো বন্ধ করে আমি ঘুমিয়ে পড়েছি। হঠাৎ রাত ১১টায় দেখি বাথরুমের সব কলগুলো খুলে গেল।”সৌরভের কথায়, “প্রথমে ভাবি তাড়াহুরোতে আমি হয়তো বন্ধ করতে ভুলে গিয়েছি। তাই সব জল পড়ে যাচ্ছে। আলো জালিয়ে বাথরুমে গিয়ে সমস্ত কল বন্ধ করে দিয়ে এসে আমি ঘুমিয়ে পড়ি। আবার রাত চারটের সময় ঘুম ভেঙে যায়। দেখি সমস্ত কল খোলা। আমি এবার উঠলাম। প্রথমেই দেখলাম কলগুলো আলগা কি না, দেখলাম, নাহ, সবই তো ঠিকই আছে। তখন হোটেলের রিসেপশনে ফোন করলাম। ভোর চারটের সময়ই। সবটা জানিয়ে জিক্ষেস করলাম, কল কি খারাপ, নাকি অন্য কোনও সমস্যা রয়েছে? কল খুলে যাচ্ছে কেন? ফোনের ওপার থেকে জানান হল, নানা, সব ঠিক আছে। রাতে জলের একটু অভার ফ্লো থাকে, তাই হয়তো খুলে যাচ্ছে। আমি এসে ঘুমিয়ে পড়েছি। তারপর সকাল হয়েছে, আমি একটু দেরি করে উঠেছি। রাতে ভাল ঘুম হয়নি। ব্রেকফাস্ট টেবিলে বসে আছি, ডিউটি ম্যানেজার এলেন, বললেন, স্যার আপনার ঘরটা কি পাল্টে দেব? আমি বললাম কেন, এটা বড়ঘর। ভাল ঘর। আমার লাগবে না। তখন বলছেন, আমরা এই ঘরটা কাউকে দিই না। আসলে হোটেল ভর্তি ছিল। আর ঘর ছিল না। আপনি ক্যাপটেন, তাই আপনাকে দিলাম, টিম মিটিং হয়, দরকার পড়তে পারে।১৪ বছর আগে এখানের মালিক এই ঘরেই মারা গিয়েছিলেন। আমি ওর দিকে কিছুক্ষণ তাকালাম। ভাবলাম, ও কি বোকা, জানে এখানে ভূত, একটা মানুষকে থাকতে দিয়ে দিলেন…।” সবটা শুনে রীতিমতো অবাক হয়ে গিয়েছিলেন সৌরভ। যদিও সেদিন রাতেই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে অন্য ঘর দিয়ে দেওয়া হয়।

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ভারতীয় ক্রিকেটে সকলের ‘দাদা’। মহারাজ। প্রিন্স অব ক্যালকাটা। গড অব অফসাইড। নানা বিশেষণই যোগ করা হয় তাঁর নামের সঙ্গে। সেই কিংবদন্তি ক্রিকেটারের আজ জন্মদিন। এমন একটা সময় নেতৃত্বের হাল ধরেছিলেন, যখন ভারতীয় ক্রিকেটে অন্ধকার মুহূর্ত। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো সহজ ছিল না। একঝাঁক তরুণ ক্রিকেটার দলে। সঙ্গে সচিন-দ্রাবিড়-কুম্বলের মতো অভিজ্ঞরা। ঘুরে দাঁড়িয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট। যার ফসল মিলেছে বছরের পর বছর। সেই মহারাজের জন্মদিনে ফিরে দেখা তাঁর এমন কিছু রেকর্ড, যা এখনও অক্ষত।

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় একমাত্র ক্রিকেটার যিনি টানা চারটি ওয়ান ডে আন্তর্জাতিক ম্যাচে সেরার পুরস্কার জিতেছেন।
ওয়ান ডে ক্রিকেটে ভারতের তৃতীয় সর্বাধিক রান সংগ্রাহক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ই।
বিশ্বকাপের মঞ্চে ১৮৩ রানের ইনিংস। ১৯৯৯ সালে টনটনে ওয়ান ডে বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে এই ইনিংস খেলেছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। যা বিশ্বকাপে ভারতীয়দের মধ্যে সর্বাধিক।
ভারতের প্রথম ক্যাপ্টেন হিসেবে পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জিতেছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।


ওয়ান ডে বিশ্বকাপের মঞ্চে রাহুল দ্রাবিড়ের সঙ্গে ৩১৮ রানের জুটি গড়েছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারতীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং বিশ্ব ক্রিকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পার্টনারশিপ এটিই।
টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের বাঁ হাতি ব্যাটারদের মধ্যে সর্বাধিক স্কোরের রেকর্ড এখনও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের দখলেই। ২০০৭ সালে বেঙ্গালুরু টেস্টে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ২৩৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়।
কয়েক মাসও হয়নি, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছে ভারত। তবে একটা রেকর্ড এখনও কেউ ভাঙতে পারেননি। ২০০০ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ফাইনালে ১১৭ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ফাইনালের মঞ্চে সেই রেকর্ড অক্ষত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles