RK NEWZ দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের নামের আগে ধাম লেখা নিয়ে প্রথম থেকে আপত্তি ছিল বিভিন্নমহলে। অনেক তর্ক বিতর্কের পর মন্দির তৈরি হল বটে, কিন্তু ক্ষমতা থেকেই চলে গেলেন মন্দির তৈরির মূল উদ্যোক্তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগেরবার রথে নিজে রাস্তা ঝাঁট দিয়ে রথের রশি টেনেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক বছরের মধ্যেই পালটে গিয়েছে সব! ক্ষমতা যেতেই ধীরে ধীরে দলের রশিই চলে যাচ্ছে মমতার হাত থেকে। আর এহেন পরিস্থিতির জন্য মমতার অহংকারই দায়ী বলে সুর চড়ালেন পুরীর জগন্নাথদেবের মুখ্য পানিগ্রাহী জগন্নাথ দয়িতাপতি। তাঁর কথায়, প্রভু কারও অহংকার সয় না। তার জন্যই সরকার টেকেনি। পুরীর জগন্নাথ ধামের জগন্নাথদেবের মুখ্য পানিগ্রাহী জগন্নাথ দয়িতাপতি বলছেন, ”কোনও রাজনীতি আমি করি না। যেটা লিগাল, সেটি বলি।” এরপরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তোপ দেগে জগন্নাথ দয়িতাপতির বক্তব্য, ”আমার কথা কিছু শোনেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধাম লিখে দেওয়া হল দিঘায়। পাথরের মূর্তি করা হল। ধাম লিখে লাভ কী আছে। ধাম একমাত্র পুরী। হাজার হাজার এমন মন্দির তৈরি হচ্ছে।” তাঁর কথায়, প্রভু কারও অহংকার সয় না। এই জন্যই সরকার উল্টালো বলেও মন্তব্য জগন্নাথ দয়িতাপতির। দিঘার মন্দির থেকে ‘ধাম’ শব্দ সরিয়ে নেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসাও শোনা যায় পুরীর জগন্নাথদেবের মুখ্য পানিগ্রাহীর বক্তব্যে। তিনি বলেন, ”শুভেন্দুও শিষ্য আমার। ও সঙ্গে সঙ্গে ধামটা কেটে দিল।” শুধু জগন্নাথ দয়িতাপতিই নন, এর আগে ধাম নিয়ে সুর চড়িয়েছিলেন পুরীর প্রধান পুরোহিত রাজেশ দয়িতাপতিও। দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা পুরোহিত ছিলেন তিনি। রাজেশ দয়িতাপতির মন্তব্য ছিল, ”আমি দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করেছি। তবে কয়েকটি ভুল ছিল। তখনই অমি বলেছিলাম। কিন্তু আমার কথা শোনা হয়নি।” পাথরের জগন্নাথ মূর্তিতে যে প্রাণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়েছিলেন বলেও দাবি করে দয়িতাপতি বলেন, ”প্রথমে পাথরের জগন্নাথ মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বলে জানাই। তারপরেই নিমকাঠের মূর্তি বানানো হয়। পাশাপাশি “জগন্নাথ ধাম” নামটি বাদ দেওয়ার কথা বলেছিলাম। কারণ, চার ধামের অন্যতম ধাম হল ‘পুরীর জগন্নাথ ধাম’। তারপরেও ধাম শব্দটি রেখে দেওয়া হয়। যা নিয়ে মনের মধ্যে ক্ষোভ ছিল বলেও মন্তব্য করেন পুরীর প্রধান পুরোহিত। এবার ধাম নিয়ে মুখ খুললেন জগন্নাথদেবের মুখ্য পানিগ্রাহী জগন্নাথ দয়িতাপতিও।
রাস্তা ঝাট দিয়ে কলকাতা ইসকনের রথযাত্রার সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। রাস্তা পরিষ্কার করে কলকাতা ইসকনের রথযাত্রার সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইসকনের রথযাত্রায় উপস্থিত থেকে পুজোয় অংশগ্রহণ করলেন। বললেন, “রথযাত্রায় উপস্থিত থাকতে পেরে আমি ধন্য।” পাশাপাশি ইসকনকে মিড ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে বললেন, “অন্যান্য রাজ্যে ইসকন এই দায়িত্ব পালন করছে। ১ আগস্ট থেকে স্কুলে মিড-ডে মিল দেবে ইসকন।” আগামীতে ভারত সেবাশ্রম ও রামকৃষ্ণ মিশনের সঙ্গেও রাজ্য সরকার কাজ করবে বলে জানিয়েছেন। রথযাত্রা উপলক্ষ্যে সকাল থেকেই ভিড় কলকাতা ইসকনে। নির্দিষ্ট সময়ে সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। সকলের সঙ্গে কথা বলার পর পুজোয় অংশগ্রহণ করেন তিনি। তারপর রাস্তা পরিষ্কার করে রথযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তারপর রথের দড়িতেও টান দেন মুখ্যমন্ত্রী। জগন্নাথদেবকে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করতেও দেখা যায় তাঁকে। এ দিন রথযাত্রায় উপস্থিত থেকে তিনি বলেন, “গীতার অমোঘ বাণীগুলিকে নিজের চলার পথের অংশ করে সমাজ, জাতিকে কলুষিত মুক্ত করে অশুভর বিরুদ্ধে শুভর লড়াই চলুক প্রার্থনা করব।” এরপরই তিনি বলেন, “আপনারা জানলে খুশি হবেন ইসকনের সঙ্গে রাজ্য সরকার যৌথ ভাবে কাজ শুরু করেছে। আমরা ছাত্রছাত্রীদের পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কলকাতা মহানগরে ১ আগস্ট থেকে এই কাজ করবে। আমরা ইসকন, ভারত সেবাশ্রম ও রামকৃষ্ণ মিশনের সঙ্গে কাজ করবে। এই রথযাত্রা শুভ হোক।”




