Thursday, July 16, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

মহাকাশ থেকে মাতৃভূমির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান শুভাংশু!‌ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং দেশবাসীর সঙ্গে কথা বলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন

মহাকাশ থেকে দেশবিদেশের সীমানা দেখা যায় না। দেখা যায় না কাঁটাতার। কোনও ভেদাভেদ নয়, বরং মহাকাশ জাগিয়ে তোলে ঐক্য এবং মানবতার অনুভূতি! শুভাংশু উত্তর। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানতে চেয়েছিলেন, মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে কেমন দেখতে লাগে? শুভাংশুই ভারতের প্রথম নভশ্চর। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন আইএসএস-‌এ পা রেখেছেন। অ্যাক্সিয়ম-৪ অভিযানে শুভাংশু ছাড়াও রয়েছেন আরও তিন নভশ্চর। ১০ দিন কাটিয়েও ফেলেছেন তাঁরা। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষানিরীক্ষা করেই দিন কাটছে। আইএসএস থেকে মা-বাবা-বোনকে ভিডিয়ো কলও করেছেন শুভাংশু। মহাকাশ থেকে সূর্যোদয় কেমন লাগে, পৃথিবীকেই বা কেমন দেখায়, সে সব দেখিয়েছেন পরিবারকেও। শুভাংশুর বাবা শম্ভুদয়াল শুক্লর কথায়, ‘‘এই সূর্যোদয়ের তুলনা হয় না। পাহাড়-চূড়া থেকে নয়, বিমান থেকে নয়, পৃথিবী থেকে অনেক অনেক মাইল দূরে মহাকাশ কেন্দ্রের জানলা থেকে সূর্যোদয়!’’

মহাকাশ স্টেশনের আইকনিক ‘কুপলা’ থেকে চোখ পৃথিবীর দিকে। মহাকাশে গগনচারী শুভাংশু। মহাকাশ স্টেশনের জানলা দিয়ে সূর্যোদয় দেখলেন ভারতীয় মহাকাশচারী। ৪১ বছর পর অন্তরীক্ষে পাড়ি দিয়ে ইতিহাস তৈরি করেছেন ভারতীয় নভশ্চর শুভাংশু শুক্লা। স্পেসএক্স-এর তৈরি ড্রাগনে চেপে আমেরিকার ফ্লোরিডা থেকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশে রওনা দেন শুভাংশু-সহ চার মহাকাশচারী। ২৫ জুন রাকেশ শর্মার পর দ্বিতীয় ভারতীয় হিসাবে অ্যাক্সিয়ম-৪ অভিযানের অংশ হয়ে মহাকাশ পৌঁছান গ্রুপ ক্যাপটেন শুক্লা। ১৪ দিন আইএসএসে থাকবেন শুভাংশু এবং অন্য মহাকাশচারীরা। বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষা চালাবেন। নাসা এবং ইসরোর যৌথ উদ্যোগে দলটি এই কাজ করবে। ২৬ জুন বিকেল চারটে নগাদ ‘ডকিং’ প্রক্রিয়া’ সম্পূর্ণ হয় ড্রাগন নাম্নী মহাকাশযানের। তারপরই আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে পা রাখেন শুভাংশু। বার্তা দেন, ‘গর্বের মুহূর্ত’। অভিযানে তাঁর সঙ্গে রয়েছে মুখরোচক ভারতীয় খাবার। এবং প্রিয় গান—শাহরুখ খানের স্বদেশ ছবির ‘ইউঁ হি চলা চল রাহি’। রাকেশ শর্মা মহাশূন্যে ভেসেছিলেন ৭ দিন ২১ ঘণ্টা। ৩ জুলাই, ২০২৫-এই এই রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেছেন শুভাংশু! সেসময় তাঁর মহাকাশে থাকার মেয়াদ ৭ দিন ২১ ঘণ্টা। মহাকাশ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং দেশবাসীর সঙ্গে কথা বলেন শুভাংশু। প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, ভারত থেকে দূরে কিন্তু ভারতীয়দের হৃদয়ে আপনি। পালটা মাতৃভূমির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান গ্রুপ ক্যাপ্টেন। মহাকাশ থেকে ভারতের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলার সময় মজা শুভাংশু বলেন, “মাধ্যকর্ষণহীন মহাকাশ স্টেশনে ঘুমানোর সময় নিজের স্লিপিং ব্যাগ কোথাও বেঁধে রাখতে ভুলে গেলে পরের দিন ঘুম ভাঙলে নিজেকে অন্য কোনও জায়গায় আবিষ্কার করতে হবে।”

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের আইকনিক গম্বুজাকৃতির ‘কুপলা’ অংশে আছেন তিনি। ‘কুপলা’র একাধিক আকৃতির জানলা দিয়ে দেখা যাচ্ছে নীল মহাকাশ। শুভাংশুর মুখে একগাল হাসি। নাসা ও ইসরো সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতীয় নভশ্চর সুস্থ আছেন। ২৬ জুন স্পেসএক্সের ‘ড্রাগন’ মহাকাশযানে চড়ে আইএসএসের উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছিলেন চার নভশ্চর। ক্রু-কমান্ডার পেগি হুইটসন, মিশন বিশেষজ্ঞ স্লাওস উজানস্কি-উইজ়নিউস্কি, টিবর কাপু এবং পাইলট শুভাংশু চার জন আইএসএস-এ ১০ দিন কাটিয়ে ফেলেছেন। আসার পর থেকে বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং প্রচারমূলক কাজেই সময় কাটছে তাঁদের। গত ৩ এবং ৪ জুলাই বেঙ্গালুরুর তিরুঅনন্তপুরম এবং লখনউয়ের দুই স্কুলের পড়ুয়াদের সঙ্গে কর্মসূচিতেও অংশ নেন শুভাংশু, যেখানে ৫০০-রও বেশি পড়ুয়ার সঙ্গে সরাসরি কথা হয়েছে ভারতীয় নভশ্চরের। মহাকাশের প্রতি শিশুদের কৌতূহল জাগানোই ছিল কর্মসূচির লক্ষ্য। একগুচ্ছ গবেষণাও করছেন শুভাংশুরা। এর মধ্যে অন্যতম হল মায়োজেনেসিস। মাধ্যাকর্ষণের অনুপস্থিতি কী ভাবে পেশিক্ষয়কে ত্বরান্বিত করে, তা খতিয়ে দেখাই এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য। টার্ডিগ্রেড্‌স নিয়েও গবেষণা করছেন। পৃথিবীর এই আনুবীক্ষণিক সামুদ্রিক জীব গভীর সমুদ্রের প্রতিকূল অবস্থায় বেঁচে থাকতে পারে। মহাকাশের মাধ্যাকর্ষণশূন্য পরিবেশেও এরা বেঁচে থাকবে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখছেন শুভাংশুরা। মাইক্রোঅ্যালগি নামক ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র শৈবাল ও সায়ানোব্যাক্টিরিয়া সালোকসংশ্লেষে সক্ষম ব্যাক্টিরিয়া মহাকাশে কেমন আচরণ করে দেখানোর চেষ্টা করেন। বিজ্ঞানীদের দাবি, দীর্ঘ মহাকাশ অভিযানে অভিযাত্রীদের খাবারের জোগান, প্রয়োজনীয় পুষ্টি সুনিশ্চিত করা, প্রতিকূলতার মধ্যে জীবনধারনের উপায় বের করতেই গবেষণা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles