মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব এবং ডায়মন্ড হারবার এফসি। এবারের ডুরান্ডে বাংলা থেকে খেলবে চার দল। ২৩ জুলাই কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে শতাব্দী প্রাচীন এই ফুটবল টুর্নামেন্টের কিক অফ। প্রথম ম্যাচে নামতে চলেছে ইস্টবেঙ্গল। লাল-হলুদের প্রতিপক্ষ সাউথ ইউনাইটেড এফসি। ১৩৪তম ডুরান্ড কাপের আনুষ্ঠানিকভাবে সূচি ঘোষণা। টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী ২৪টি দলকে ছ’টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। গ্রুপ ‘এ’-তে ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে রয়েছে সাউথ ইউনাইটেড এফসি, নামধারী, ইন্ডিয়ান এয়ারফোর্স। গ্রুপ ‘বি’তে মোহনবাগান। সবুজ-মেরুনের সঙ্গে একই গ্রুপে রয়েছে মহামেডান স্পোর্টিং, ডায়মন্ড হারবার এফসি, বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স। দু’টি গ্রুপের সমস্ত ম্যাচ আয়োজিত হবে সল্টলেক এবং কিশোরভারতী স্টেডিয়ামে। মোট ৬টি ভেন্যুতে ম্যাচগুলি হবে। কলকাতায় দু’টি(বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন এবং কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গন), ইম্ফল(খুমান লম্পক স্টেডিয়াম), রাঁচি(মোরহাবাদি স্টেডিয়াম), জামশেদপুর (জেআরডি টাটা স্পোর্টস কমপ্লেক্স), শিলং(জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়াম), কোকরাঝাড়(সাই স্টেডিয়াম) ম্যাচগুলি হবে। বিদেশি দল হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার আর্মিকে রাখা হতে পারে। গতবারের চ্যাম্পিয়ন নর্থইস্ট ইউনাইটেড খেতাব ধরে রাখার লক্ষ্যে ডুরান্ডে নামতে চলেছে ২ আগস্ট। যদিও তাদের প্রতিপক্ষ এখনও নির্ধারণ হয়নি। গত বছর মোট ১২টি আইএসএল দল ডুরান্ডে অংশগ্রহণ করেছিল। কিন্তু এবার ডুরান্ড খেলবে ছ’টি আইএসএল দল। মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, নর্থইস্ট ইউনাইটেড, পাঞ্জাব এফসি, জামশেদপুর এফসি, মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। আই লিগ থেকে ডুরান্ড খেলবে ডায়মন্ড হারবার এফসি, শিলং লাজং এবং নামধারী এফসি। মোহনবাগান ডুরান্ডে প্রথম ম্যাচ খেলবে ৩১ জুলাই। প্রতিপক্ষ মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। এরপর ৪ আগস্ট সবুজ-মেরুনের খেলা বিএসএফ ফুটবল টিমের সঙ্গে। ৯ আগস্ট ডায়মন্ড হারবার এফসি’র মুখোমুখি হবে মোহনবাগান। ২৩ জুলাইয়ের পর লাল-হলুদের ম্যাচ ৬ আগস্ট, নামধারীর বিরুদ্ধে। ১০ আগস্ট ইস্টবেঙ্গলের প্রতিপক্ষ ইন্ডিয়ান এয়ারফোর্স। ডুরান্ডের কোয়ার্টার ফাইনালের চারটি ম্যাচ ১৬ এবং ১৭ আগস্ট। দু’টি সেমিফাইনাল হবে যথাক্রমে ১৯ ও ২০ আগস্ট। ফাইনাল রয়েছে ২৩ আগস্ট। তবে, নকআউট পর্বের ম্যাচ এবং ফাইনালের ভেন্যু এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

‘নীল বাঘিনী’দের সাফল্য থাইল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে এশিয়ান কাপে যোগ্যতা অর্জন ব্লু টাইগ্রেসদের। এএফসি মহিলা এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে তাঁদের অসাধারণ পারফরম্যান্সে খুশি অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন। সিনিয়র ভারতীয় মহিলা জাতীয় দলের জন্য ৫০,০০০ মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে। মহিলাদের এশিয়ান কাপের যোগ্যতা নির্ণয় পর্বে জয়যাত্রা অব্যাহত রেখেছিল ভারতীয় মহিলা দল। প্রথম ম্যাচে মঙ্গোলিয়াকে ১৩-০ গোলে হারিয়ে অভিযান শুরু করে ভারত। দ্বিতীয় ম্যাচে তিমুর লেস্তেকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেন ভারতের মেয়েরা। ইরাককে ৫-০ গোলে হারিয়ে থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে নেমেছিলেন সঙ্গীতা বাসফোর, মনীষা কল্যাণরা। ফাইনাল ম্যাচে শক্তিশালী থাইল্যান্ডকে হারায় ভারত। সামনে বছর অস্ট্রেলিয়ায় হতে চলা এশিয়ান কাপের মূলপর্বে খেলার ছাড়পত্র পেয়ে যায় ভারতীয় মহিলা দল। স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার সহযোগিতায় মহিলা ফুটবলের উন্নয়নে এগিয়ে এসেছে এআইএফএফ। তৃণমূল এবং যুব কাঠামোকে শক্তিশালী করার জন্য বেশ কয়েকটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ফেডারেশন। অস্মিতা অর্থাৎ এএসএমআইটিএ মহিলা ফুটবল লিগ ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সারা দেশে অনূর্ধ্ব-১৩, অনূর্ধ্ব-১৫ এবং অনূর্ধ্ব-১৭ স্তরে ১৫৫টি লিগ সফলভাবে পরিচালনা করেছে। ২০২৩-২৪ সংস্করণে ৬,৩০৫ জন জুনিয়র মহিলা ফুটবলার অংশ নিয়েছিলেন। ২০২৪-২৫ সালে সেই সংখ্যাটা বেড়ে হয় ৮,৬৫৮। এই ধরনের উদ্যোগের ফলে গত বছরের তুলনায় ভারতে রেজিস্ট্রীকৃত মহিলা ফুটবলারের সংখ্যা ২৩২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এএফসি মহিলা এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের জন্য বেঙ্গালুরুতে ৫৩ দিনের প্রস্তুতি শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। এই সময় ভারত কেবল নিজেদের মধ্যে অনুশীলন ম্যাচ নয়, খেলেছে উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে দু’টি ফিফা মহিলা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচও। এশিয়ান কাপের মূলপর্বে উঠে বহুদিনের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে ‘নীল বাঘিনী’দের। ২০২৬ সালের মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান কাপ। লড়াই আরও কঠিন। ফেডারেশনের লক্ষ্য থাকবে, তার আগে প্রস্তুতিতে কোনও রকম ফাঁক না রাখার। এরজন্য উচ্চমানের আন্তর্জাতিক শিবির, প্রয়োজন একাধিক প্রস্তুতি ম্যাচ খেলারও। এশীয় সেরাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলার জন্য ভারতীয় মেয়েদের প্রস্তুত করার দিকে নজর দিতে হবে ফেডারেশনকে। তাহলেই এশিয়ান কাপের মতো কঠিন প্রতিযোগিতায় সাফল্য আসবে। ২০০৩ সালে শেষবার যোগ্যতার ভিত্তিতে মহিলা এশিয়ান কাপে যোগ্যতা অর্জন করেছিল। ২০২২ সালে আয়োজক দেশ হিসেবে এশিয়ান কাপ খেলে ভারত। এশিয়ান কাপের মূলপর্বে খেলতে দেখা যাবে ব্লু টাইগ্রেসদের। দেশে ফিরেছেন ভারতীয় ফুটবলাররা। নয়াদিল্লিতে জমকালোভাবে স্বাগত জানানোর বন্দ্যোবস্থ।




