দিঘার জগন্নাথ ধামে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করা। বিজেপিতে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়েছিল। দিলীপ ঘোষকে সাম্প্রতিককালে মোদীর জনসভা দেখা যায়নি। শমীক ভট্টাচার্যকে রাজ্য সভাপতি ঘোষণার দিনও তাঁকে দলীয় কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। শমীক দায়িত্বে এসে কি দিলীপকে ফেরাবেন? দিলীপ ঘোষ তৃণমূলে যেতে পারেন বলে জল্পনা চললেও তিনি নিজে ক্রমাগত তৃণমূল কংগ্রেসকে একাধিক ইস্যুতে বিঁধে এসেছেন সাম্প্রতিককালে। প্রশ্ন, বিজেপিতে সক্রিয়া না থাকা দিলীপ ঘোষ কি তবে রাজনীতি থেকেই বিদায় নিতে বাধ্য হবেন? নাকি বিধানসভা ভোটের আগে তাঁকে ফের সক্রিয় ভাবে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে দেখা যাবে? দিলীপ ঘোষ ইস্যুতে বিজেপির নয়া রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে প্রশ্ন করা হলে অবশ্য তিনি বলেন, ‘দিলীপ ঘোষ কোথায় গিয়েছেন যে ফিরে আসবেন। দিলীপ ঘোষ বিজেপিতে ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। দিলীপ ঘোষকে নিয়ে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার দল নেবে। দিলীপ ঘোষকে যেখানে কাজে লাগানোর কথা, সেখানে তিনি যাবেন। দিলীপ ঘোষ কোনও বিক্রিযোগ্য পণ্য নয়। দিলীপ ঘোষ অন্য কোথাও যাবেন না। যেতে পারবেন না। শমীকের রাজ্য সভাপতি হওয়ার পরে দল বদলের জল্পনা নিয়ে দিলীপ ঘোষকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি বলেছিলেন। ‘কল্পনা করতে তো পয়সা লাগে না। অনেকেই করছে। ২১ জুলাই তৃণমূলের শহিদ দিবস পর্যন্ত কল্পনার ডেট দেওয়া হয়েছে। তারিখ পে তারিখ। কিছু একটা মার্কেটে থাকে। দিলীপ ঘোষ মার্কেটে আছে।’
সুকান্ত জমানায় এতকাল রাজ্যসভাপতির সঙ্গে বিজেপির ফ্লেক্সে সমান গুরুত্ব দেওয়া হত বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। শমীক ভট্টাচার্য দলের রাজ্য সভপতি হতেই মুরলীধর সেন স্ট্রিটের অফিসের গেট থেকে সরল শুভেন্দুর ফ্লেক্স। বদলে বসল শমীক ভট্টাচার্যের একার ছবি। এদিকে গেটের অপরদিকে অবশ্যই মোদী-নড্ডার ছবি। এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জবাবও দিলেন শমীক। বিজেপির দফতরে এতদিন সাংবাদিক সম্মেলনের জায়গায় ব্যাকড্রপে ফ্লেক্সেও এদিকে থাকতেন মোদী-নড্ডা, অপরদিকে সুকান্ত-শুভেন্দু। তবে শমীক সাংবাদিক সম্মেলন করার সময় তাঁর পিছনে যে ফ্লেক্স লাগানো ছিল, তাতে শুধুই দলের প্রতীক। এই সব বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শমীকের স্পষ্ট জবাব, ‘নেতার থেকে দল বড়। দলের থেকে দেশ বড়। এটাই বিজেপির স্লোগান। আর ব্যাকড্রপটা তারই প্রতিফলন।’ মুরলীধর সেন স্ট্রিটের অফিসের বাইরের গেট থেকে ‘ছবি উধাও’ প্রসঙ্গে শমীক বলেন, ‘বাইরের গেটে বিরোধী দলনেতার ছবি উধাও, এটা আমি বিশ্বাস করি না। বিরোধী দলনেতার ছবি তো শুধু বিজেপির হৃদয়ে প্রতিষ্ঠিত নয়। তৃণমূলের হৃদয়েও প্রতিষ্ঠিত। তৃণমূল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিরোধী দলনেতাকে স্মরণ করে। রাতে ঘুম ভেঙে গেলেও শুভেন্দু শুভেন্দু বলে জল খেয়ে আবার ঘুমোয়। আবার সকাল থেকে শুভেন্দু ভজনা শুরু হয়। উনি তো সবার হৃদয়ে। মুখ্যমন্ত্রীর পরবর্তী পোস্ট তো বিরোধী দলনেতা। দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার পরে অবশেষে নতুন রাজ্য সভাপতি পেয়েছে বিজেপি। রাজ্যে দলের প্রধান হয়েছে রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। এবং দায়িত্ব গ্রহণের পরেই তিনি ভোটের অঙ্ক কষতে শুরু করে দিয়েছেন। কারণ এমনিতেও তাঁর হাতে বেশি সময় নেই। এই আবহে গত ৪ জুলাই তিনি সল্টলেকে দলীয় কার্যালয়ে দলের বিভিন্ন মোর্চার সঙ্গে বৈঠক কেন। কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল ও মঙ্গল পাণ্ডে উপস্থিত ছিলেন সেই বৈঠকে। লোকসভা ভোটের পর থেকেই বাংলায় রাজ্য সভাপতি বদল নিয়ে গুঞ্জন ছিল বিজেপির অন্দরে। কারণ সুকান্ত মজুমদারকে করা হয়েছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এই আবহে ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতি অনুসরণ করা বিজেপি যে রাজ্যে সভাপতি বদল করবে, তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তবে সুকান্তই দিল্লিতে মন্ত্রিত্বের পাশাপাশি রাজ্য সামলাচ্ছিলেন। এই আবহে মনে করা হয়েছিল, ভোটের কয়েক মাস আগে হয়ত সুকান্তকে রাজ্য সভাপতি পদ থেকে সরানো হবে না। যদিও শমীককে রাজ্য সভাপতি করে দলের অন্দরে ভারসাম্যের বার্তা দিয়েছে বিজেপি।




