Thursday, July 16, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

মনে পড়ে অভিশপ্ত সেই দিন?‌ অভয়া কাণ্ডের এক বছর!‌ ৯ আগস্ট নবান্ন অভিযানের ডাক দিলেন নির্যাতিতা চিকিৎসকের মা-বাবা

মনোজিৎ মিশ্র বলুন বা সন্দীপ ঘোষ, রাজনীতির প্রচ্ছন্ন হাত থাকে এদের মাথায়। ৯ আগস্ট নবান্ন অভিযানের ডাক। নির্যাতিতা চিকিৎসকের মা-বাবা বিচার চেয়ে আবার ডাক দিলেন। সোদপুরে উলটোরথের অনুষ্ঠানে যান রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সন্ধ্যায় জি করের নির্যাতিতা তরুণীর বাড়িতেও দেখা করেন। শুভেন্দুকে পাশে নিয়েই নবান্ন অভিযানের ডাক দেন নির্যাতিতার বাবা। ফের ১৪ আগস্ট রাত দখলেরও আহ্বান জানিয়ে বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মস্থলে আমার মেয়ের নির্মম পরিণতি হয়েছে। এর দায় সরকার কখনোই এড়াতে পারে না। আগামী ৯ আগস্ট সেই ঘটনার এক বছর হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আমরা ন্যায় বিচার পাইনি। একই সঙ্গে আদালতে রাজ্য সরকারের যে ভূমিকা আছে, তার প্রতিবাদে ও ন্যায়বিচার ছিনিয়ে আনতে আমরা নবান্ন অভিযানের ডাক দিচ্ছি। সমস্ত রাজ্যবাসীকে আমরা উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করছি। গত ১৪ আগস্ট কোটি কোটি মানুষ রাত দখলে নেমেছিলেন। আমি বলব, সমাজকে পরিবর্তন করতে আবার আগামী ১৪ আগস্ট মানুষ যেন পুনরায় রাত দখলে রাস্তায় নামেন। সরকারকে বুঝিয়ে দিতে হবে অন্যায় করছে। সরকারের উপর চাপ না রাখলে এরকম ঘটনা ঘটতেই থাকবে। কসবার ল-কলেজের নির্যাতিতা ছাত্রীর আমরা পাশে আছি। প্রয়োজনে আইনি অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেব।”

নির্যাতিতা চিকিৎসকের বাবার এই আহ্বানকে সমর্থন জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, “আমি আগেই প্রকাশ্যে বলেছিলাম ৯ আগস্ট ভয়ঙ্কর ঘটনার এক বছরের দিন নির্যাতিতা বোনের মা-বাবা যদি নবান্ন অভিযানের ডাক দেন তাহলে দলীয় পতাকা সরিয়ে রেখে আমরা সবাই আন্দোলন সংগঠিতও করব, অংশগ্রহণও করব। ওঁরা জানিয়েছেন ৯ তারিখও হোক, ১৪ আগস্ট রাত দখলের কর্মসূচি পালিত হোক। মা-বাবা দুজনেই থাকবেন। এক মাসের বেশি হাতে সময় থাকল। এই কর্মসূচি সফল করতে শুধু রাজনৈতিক সাথীদেরই নয়, সমস্ত শুভানুধ্যায়ী, বিগত আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে সম্মিলিতভাবে সংগঠিত করব।”

আরজি করে ধর্ষণ ও খুন হওয়া চিকিৎসকের মা বলেন, ‘পর পর ৯ তারিখ আসতেই থাকে। আমরা সেই ৯ আগস্ট যেখানে ছিলাম, আজও সেখানেই আছি। ৯ তারিখ রাতেই ধরা পড়েছিল সিভিক ভলান্টিয়ার। তার পর আর মামলার উন্নতি দেখতে পাইনি। অনেকেই বলছেন, আমরা বিচার পেয়ে গিয়েছি। আমি মনে করি, তদন্ত আদৌ শুরুই হয়নি। কারণ আমার মেয়ে তো মারা যায়নি, দুর্ঘটনা ঘটেনি, কাজের জায়গায় তাকে খুন করা হয়েছিল, ধর্ষণ করা হয়েছিল। সেটা একটা সুরক্ষিত জায়গা। ভিতরের লোক জড়িত না থাকলে, বাইরের কেউ এসে এই কাজ করেনি। ভিতরের কোনও তদন্তই হয়নি এখনও। সেই ৯ আগস্টের মতোই কসবার কলেজেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নগ্ন হাল ফুটে উঠল। মনোজিৎ মিশ্র বলুন বা সন্দীপ ঘোষ, রাজনীতির প্রচ্ছন্ন হাত থাকে এদের মাথায়। সন্দীপ, মনোজিৎরা বেপরোয়া। তারা দুর্নীতি করতে কোনও ভয় পায় না। তারা কলেজে কলেজে দাপিয়ে বেড়ায়। এখন ভালোভাবেই দেখতে পাচ্ছি। প্রত্যেক কলেজে থ্রেট কালচার দেখা যায়। এই থ্রেট কালচারেরই বলি হয়েছে আমার মেয়ে। আমার মেয়ের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা আর কারও সঙ্গে ঘটেনি। ইতিহাসে ঘটেনি এমন ঘটনা। আমার মেয়ে অন ডিউটি ছিল। ওর অধীনে ৭০-৮০ রোগী ভর্তি ছিল। সেখানে তাকে মেরে ফেলা হল। ও নাকি সারারাত নাকি ঘুমিয়ে ছিল? এটা কেউ মেনে নিতে পারে। ঘুমিয়ে থাকলে ডিউটি কেন ছিল? কসবায় মেয়েটিকে আটকে রাখা হয়েছিল, বেরোতে দেওয়া হয়নি। জোর করা হয়েছে। আমার মেয়েকে আটকে রাখতে হয়নি, ডিউটিতে খুন করা হয়েছে। ‘দু’টি কিছুতেই এক ঘটনা নয়, দু’টি আলাদা ঘটনা। কিন্তু থ্রেট কালচারের জায়গাটা মিলে গিয়েছে। কলেজে কলেজে যে থ্রেট কালচার চলছে, তার বলি হতে হচ্ছে। তামান্না তো বাড়িতে মারা গিয়েছে! সেটাকেও থ্রেট কালচার বলব। জিতেছে বলে বোমাবাজি করতে হবে কেন? আমার মেয়ের পর এমন শতাধিক ঘটনা ঘটেছে।’

কসবায় আইন কলেজে ২৫ জুন সন্ধ্যায় নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন দু’জন রক্ষী। তাদের মধ্যে একজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে দ্বিতীয় রক্ষীর বিষয়ে এখনও কী জানা গেল? রিপোর্ট অনুযায়ী, সাউথ ক্যালাটা ল কলেজে সেই সন্ধ্যায় দায়িত্বরত দ্বিতীয় নিরাপত্তারক্ষীকে আটক করেছে পুলিশ। তার ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। দাবি, জাইব আহমেদ যখন নির্যততিার জন্য ইনহেলার কিনতে বেরিয়েছিল, তখন সেই দ্বিতীয় নিরাপত্তারক্ষীও ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যায়। সে সন্ধ্যায় অন্ততপক্ষে ৮টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত দায়িত্বে ছিল। তিন মূল অভিযুক্তের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের ফোনে কোনও বার্তা বিনিময় বা কথা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই দ্বিতীয় নিরাপত্তারক্ষী বিকেল ৪টে থেকে ৮টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত কী করেছিল, তা নিয়ে বেশি আগ্রহী পুলিশ। কলেজের সেই দ্বিতীয় নিরাপত্তারক্ষীকে লালবাজারে তলব করে জেরা করা হচ্ছে। ধৃত পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো এই নিরাপত্তারক্ষীও চুক্তিভিত্তিক কর্মী বলে জানা গিয়েছে। এদিকে কলেজের একমাত্র স্থায়ী নিরাপত্তারক্ষী হলেন বরুণ মহালি। তিনি ২৫ জুন অনুপস্থিত ছিলেন। জামিনের আবেদন করে আদালতে ধৃত নিরাপত্তারক্ষী বলেন, ‘আমি পরিস্থিতির স্বীকার। আমি মাসে মাত্র ১২ হাজার টাকা মাইনে পাই। আমি কিছু কিছু সীমা পার করতে পারি না। লিখিত অভিযোগে আমার নামে কোনও অভিযোগ করা হয়নি। আমি একজন কলেজের কর্মীকে ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য করতে পারতাম না। আমি যদি কলেজের কর্মী হিসেবে এই মামলায় অভিযুক্ত হই, তাহলে প্রিন্সিপাল এং ভাইস প্রিন্সিপাল সমান দায়ে দায়ী। আমি এই অপরাধের ঘটনায় বরং একজন সাক্ষী হতে পারি।’ তবে এই যুক্তিতেও নিরাপত্তারক্ষীর জামিন খারিজ করেছে আদালত। ২৫ জুন সন্ধ্যায় সেই ছাত্রীকে গণধর্ষণ করার পর নাকি এই তিনজন অভিযুক্ত কলেজ চত্বরে নিরাপত্তারক্ষীর ঘরেই মদ্যপান করেছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘণ্টাখানেক মদ্যপান করার পর তিন অভিযুক্তই ইএম বাইপাসের একটি ধাবায় রাতের খাবার খেতে যায়। পরদিন সকালে তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যায়।

কসবা গণধর্ষণকাণ্ড জুড়ে চর্চায় মনোজিৎ। কসবা গণধর্ষণের পর থেকেই সর্বত্র চর্চা টিএমসিপি নেতা তথা অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্রকে নিয়ে। এই ঘটনায় আরও দুই অভিযুক্ত থাকলেও ঘটনায় মূল অভিযুক্ত এই মনোজিৎ। রোজ রোজ তার পুরনো সব কীর্তি নতুন করে সামনে আসছে। তা নিয়েই তর্ক, বিতর্ক, আলোচনা তুঙ্গে। তবে এই সবের মাঝে কসবা কাণ্ডের সেই নির্যাতিতা ছাত্রী কেমন আছেন? এই নিয়ে মুখ খুললেন তাঁর বাবা। নির্যাততিার বাবা জানিয়েছেন, তিনি মেয়েকে আপাতত একটি গোপন স্থানে পাঠিয়ে দিয়েছেন। মেয়ে এখনও আমার ট্রমায় আছেন। মনোজিতের বিরুদ্ধে নির্যাতিতার বাবার বক্তব্য, ‘আমরা চাই দোষীর কঠিনতম সাজা হোক। মেয়েকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এখন তাঁর পরিস্থিতি এমনিতে স্থিতিশীল। সে ধীরে ধীরে রিকভার করছে। নির্যাতিতার আঙ্কেল বলেন, গত ২৫ জুন রাত ১১টার সময় ও ওর বাবাকে ফোন করে বলে, ও খুব বড় সমস্যায় আছে। আমাদের ক্যাম্পাসে ডাকে ও। আমি ওর বাবার সঙ্গে ক্যাম্পাসে গিয়েছিলাম। সেখানে সে আমাদের জানায় যে ওর সাথে কী হয়েছে। আমরা রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ ওকে বাড়ি ফিরিয়ে আনি। পরদিন আমরা বিকেল ৫টা নাগাদ পুলিশে অভিযোগ দায়ের করি। নির্যাতিতার মা জানান, এই ঘটনার আগে মেয়ে কখনও তাকে বলেনি যে মনোজিৎ তাঁকে উত্তক্ত করেছে বা কিছু। ২৫ জুনের ঘটনার অভিযোগ দায়েরের পরপরই মনোজিৎ মিশ্র সহ তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তদন্তে নেমে সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজের কসবা ক্যাম্পাস থেকে পুলিশ ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করেছে একধিক প্রমাণ। যে কমন রুমে সেই নির্যাতিতা মারধরের অভিযোগ করেছিলেন, সেখানে রক্তের দাগ পেয়েছে পুলিশ। সেখান থেকে নমুনাও সংগ্রহ করেছেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। এদিকে কলেজ থেকে হকিস্টিকও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অভিযোগ, হকি স্টিক দিয়ে নির্যাতিতাকে মারধর করা হয়েছিল। নির্যাতিতাকে জোর করে গার্ডের ঘরে ঢোকানো হয়, যেখানে তিন অভিযুক্ত তাকে যৌন নির্যাতন করে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মেয়েটির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তাতে তিন অভিযুক্ত, নিরাপত্তারক্ষী ও নির্যাতিতার গতিবিধি দেখা যাচ্ছে। মূল অভিযুক্তের মোবাইল ফোন থেকে দেড় মিনিটের একটি ভিডিয়ো ক্লিপও উদ্ধার করা হয়েছে। ভিডিয়োটির ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য পাঠিয়েছিল পুলিশ। এছাড়া আরও এক অভিযুক্তও নাকি ঘটনার ভিডিয়ো করেছিল নিজের ফোনে। জেরায় সে কথা উঠে এসেছে।

কসবা গণধর্ষণকাণ্ড সামনে আসতেই কলেজের ‘দাদাগিরির’ বিষয়টি সামনে এসেছে। এই আবহে মনোজিৎ মিশ্রের বিরুদ্ধে উঠছে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ। কলেজ প্রাক্তনী তথা বহিষ্কৃত অস্থায়ী কর্মী ছিল এই মনোজিৎ। গত ২৫ জুন এক কলেজ ছাত্রীকে সে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। সেই ঘটনায় তাকে ‘সাহায্য’ করেছিল জাইব আহমেদ ও প্রতিম মুখোপাধ্যায়। এই মনোজিতের বিরুদ্ধে এবার অভিযোগ, সে নাকি যখন তখন ক্লাস থেকে মেয়েদের উঠিয়ে নিয়ে যেত। ইউনিয়ন রুমে নাকি সে বসিয়ে রাখত সেই মেয়েদের। মনোজিতের বিরুদ্ধে একাধিক শ্লীলতাহানি, যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, পুলিশ সব জেনেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। আর এখন আবার পুলিশ বলছে, মনোজিতের বিরুদ্ধে কারও কোনও অভিযোগ থাকলে যেন তারা পুলিশের দ্বারস্থ হন। এরই মাঝে মনোজিতের একের পর এক কীর্তি ফাঁস হচ্ছে মিডিয়ার সামনে। এই মনোজিৎকে নিয়ে এক ছাত্রী বলেন, ‘ও শুধু হাতের ইশারা করত। টিচাররা ওখানেই দাঁড়িয়ে বলত, তোমাকে ডাকছে, তুমি চলে যাও। কেউ কোনও কথাও বলত না।’

কসবা কলেজে গণধর্ষণকাণ্ডে ধৃত মনোজিৎ মিশ্রের বিরুদ্ধে এবার আর্থিক অনিয়মের তদন্তও শুরু করতে পারে কলকাতা পুলিশ। এই বিষয়ে গোয়েন্দা সূত্রকে উদ্ধৃত করে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই টিএমসিপি নেতা কীভাবে কলেজের অস্থায়ী কর্মী হল, তা খতিয়ে দেখার কথা ভাবা হচ্ছে। উল্লেখ্য, মনোজিতের সঙ্গে প্রভাবশালী যোগ আছে, এই বিষয়টি জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। আরজি করে চিকিৎসক ধর্ষণ-খুন কাণ্ডেও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সিবিআই, ইডি সেই ঘটনার তদন্তে নেমেছিল। আর এবার মনোজিতের সিন্ডিকেট এবং তোলাবাজি নিয়ে অভিযোগ সামনে আসছে একের পর এক। এর আগে নাকি মনোজিতের বিরুদ্ধে পুলিশে একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। তবে পুলিশ নাকি তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেনি। তবে কসবা কাণ্ড নিয়ে তোলপাড় শুরু হতেই তৎপর হয়েছে পুলিশ। ২৫ জুন রাতে অপরাধ করার পর ওই তিনজন নিরাপত্তারক্ষীর ঘরে মদ্যপান করে এবং নিরাপত্তারক্ষী পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই ঘটনার ব্যাপারে মুখ বন্ধ রাখতে বলে। সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজে আইনের ছাত্রীকে ধর্ষণের পরদিনই কলকাতার দেশপ্রিয় পার্কে এক ‘প্রভাবশালী’ ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে মনোজিৎ। মনোজিৎ যাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, সে আগেও নাকি তাঁকে সাহায্য করেছিলেন। তবে এবার পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ওই ব্যক্তি তাঁকে পিছু হটতে বলেন। কোনওরকমে পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে সাহায্যের খোঁজে তাঁর ‘মেন্টরদের’ কাছে যায় মনোজিৎ। তাদের সঙ্গে দেখা করতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেরায় সে। তদন্তকারী পুলিশের কথায়, রাসবিহারী, দেশপ্রিয় পার্ক, গড়িয়াহাট, ফার্ন রোড, বালিগঞ্জ স্টেশন রোড-সহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে মেন্টরদের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করে মনোজিৎ। মোবাইল টাওয়ারের তথ্যও সেদিকেই ইঙ্গিত করছে। তদন্তে উঠে এসেছে, মনোজিৎ ও বাকি দুই অভিযুক্ত বেশ কিছুদিন আগে পরিকল্পিতভাবে এই ধর্ষণকাণ্ড ঘটিয়েছিল। কল লগ অনুসারে, ২৫ জুন অপরাধের আগের দিনগুলিতে তিনজনের মধ্যে একাধিক কথোপকথন হয়েছিল। মনোজিতের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ এই প্রথম নয়। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে কমপক্ষে ১১টি ফৌজদারি মামলা ঝুলছে, যার মধ্যে অন্তত চারটি শ্লীলতাহানি সংক্রান্ত।

কসবায় আইন কলেজে গণধর্ষণের ঘটনায় তিন অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র, প্রমিত মুখোপাধ্যায় ও জাইব আহমেদের পাশাপাশি গ্রেফতার করা হয়েছে নিরাপত্তারক্ষী পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। পিনাকীর আইনজীবী এবার আদালতে সওয়াল করলেন, যদি তাঁর মক্কেলের এই ঘটনায় দায় থাকে, তাহলে কলেজের প্রিন্সিপাল এবং ভাইস প্রিন্সিপালেরও দায় আছে। এই যুক্তিতেও নিরাপত্তারক্ষীর জামিন খারিজ করেছে আদালত। এই বিষয়ে আদালতে নিরাপত্তারক্ষী বলেন, ‘আমি পরিস্থিতির স্বীকার। আমি মাসে মাত্র ১২ হাজার টাকা মাইনে পাই। আমি কিছু কিছু সীমা পার করতে পারি না। লিখিত অভিযোগে আমার নামে কোনও অভিযোগ করা হয়নি। আমি একজন কলেজের কর্মীকে ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য করতে পারতাম না। আমি যদি কলেজের কর্মী হিসেবে এই মামলায় অভিযুক্ত হই, তাহলে প্রিন্সিপাল এং ভাইস প্রিন্সিপাল সমান দায়ে দায়ী। আমি এই অপরাধের ঘটনায় বরং একজন সাক্ষী হতে পারি। কলকাতার কসবায় কলেজ ধর্ষণ মামলার মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র এবং তার দুই সঙ্গী প্রমিত মুখোপাধ্যায় ও জাইব আহমেদ ২৫ জুন রাতে কী করেছিল গণধর্ষণের পর? ২৪ বছরের এক ছাত্রীকে গণধর্ষণ করার পর নাকি এই তিনজনে কলেজ চত্বরে গার্ড রুমেই মদ্যপান করে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘণ্টাখানেক মদ্যপান করার পর তিন অভিযুক্তই ইএম বাইপাসের একটি ধাবায় রাতের খাবার খেতে যায়। পরদিন সকালে তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যায়। কসবা গণধর্ষণকাণ্ডের পরের দিনই সকালে আইন কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ডঃ নয়না চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে মনোজিতের কথোপকথনের প্রমাণ পায় কলকাতা পুলিশের নয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। এমনই দাবি করা হয়েছিল সাম্প্রতিক রিপোর্টে। তদন্তকারীরা তিন অভিযুক্তেরই মোবাইল ফোনের কল ডিটেলস রেকর্ড ক্রস চেক করছে। আমরা দেখতে পাই ঘটনার পরদিন সকালে মনোজিতের নম্বর থেকে কলেজের ভিপিকে ফোন করা হয়। তাঁদের কথোপকথনের খুঁটিনাটি জানতে দু’বার ভিপিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। এই ঘটনার পরে মনোজিৎ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালীর শরণাপন্ন হন বলে দাবি করছে পুলিশ সূত্র। দক্ষিণ কলকাতার একাধিক জায়গায় ঘুরে ঘুরে প্রভাবশালীদের সঙ্গে দেখা করেছিল মনোজিৎ।

দেশপ্রিয় পার্কের প্রভাবশালী আগে একাধিকবার বাঁচিয়েছে কসবা কাণ্ডে ধৃত মনোজিৎকে। কলকাতার কসবায় কলেজ ধর্ষণ মামলার মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র এবং তার দুই সঙ্গী প্রমিত মুখোপাধ্যায় ও জাইব আহমেদ ২৫ জুন রাতে কী করেছিল গণধর্ষণের পর? ২৪ বছরের এক ছাত্রীকে গণধর্ষণ করার পর নাকি এই তিনজনে কলেজ চত্বরে গার্ড রুমেই মদ্যপান করে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘণ্টাখানেক মদ্যপান করার পর তিন অভিযুক্তই ইএম বাইপাসের একটি ধাবায় রাতের খাবার খেতে যায়। পরদিন সকালে তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যায়। অপরাধ করার পর ওই তিনজন নিরাপত্তারক্ষীর ঘরে মদ্যপান করে এবং নিরাপত্তারক্ষী পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই ঘটনার ব্যাপারে মুখ বন্ধ রাখতে বলে। সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজে আইনের ছাত্রীকে ধর্ষণের পরদিনই কলকাতার দেশপ্রিয় পার্কে এক ‘প্রভাবশালী’ ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে মনোজিৎ। মনোজিৎ যাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, সে আগেও নাকি তাঁকে সাহায্য করেছিলেন। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ওই ব্যক্তি তাঁকে পিছু হটতে বলেন। পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে সাহায্যের খোঁজে তাঁর ‘মেন্টরদের’ কাছে যায় মনোজিৎ। তাদের সঙ্গে দেখা করতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেরায় সে। তদন্তকারী পুলিশের কথায়, রাসবিহারী, দেশপ্রিয় পার্ক, গড়িয়াহাট, ফার্ন রোড, বালিগঞ্জ স্টেশন রোড-সহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে মেন্টরদের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করে মনোজিৎ। মোবাইল টাওয়ারের তথ্যও সেদিকেই ইঙ্গিত করছে। মনোজিৎ ও বাকি দুই অভিযুক্ত বেশ কিছুদিন আগে পরিকল্পিতভাবে এই ধর্ষণকাণ্ড ঘটিয়েছিল। কল লগ অনুসারে, ২৫ জুন অপরাধের আগের দিনগুলিতে তিনজনের মধ্যে একাধিক কথোপকথন হয়েছিল। মনোজিতের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ এই প্রথম নয়। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে কমপক্ষে ১১টি ফৌজদারি মামলা ঝুলছে, যার মধ্যে অন্তত চারটি শ্লীলতাহানি সংক্রান্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles