ইডেন গার্ডেন্সে চলছে বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগ। হাজির বলিউডের দুই তারকা অদিত্য কাপূর ও সারা আলি খান। ইডেনে চাঁদের হাট! আইপিএলের দৌলতে ক্রিকেটের সঙ্গে মিলে গিয়েছে বিনোদন। ক্রিকেট ম্যাচে বলিউডের তারকাদের উপস্থিতি নতুন নয়। বাংলার ক্রিকেট সংস্থার সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় ও তাঁর ভাই তথা ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক ও বোর্ড সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় তাঁদের স্বাগত জানান। বৃহস্পতি সন্ধ্যায় ইডেনে যান আদিত্য ও সারা। স্নেহাশিস ও সৌরভ ছাড়াও বাংলার ক্রিকেট সংস্থার অন্য কর্তারাও সেখানে ছিলেন। সৌরভ ও স্নেহাশিসের সঙ্গে কিছু ক্ষণ কথা বলেন আদিত্য ও সারা। দুই তারকার হাতে ফুলের তোড়া ও ইডেনের বিশেষ স্মারক তুলে দেওয়া হয়। ১৯৩৪ সাল থেকে ইডেনে হওয়া প্রতিটা আন্তর্জাতিক ম্যাচের তালিকা রয়েছে ইডেনের বিশেষ স্মারকে।

৪ জুলাই মুক্তি পেতে চলেছে অনুরাগ বসুর ছবি ‘মেট্রো ইন দিনো।’ ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘লাইফ ইন এ মেট্রো’র সিক্যুয়েল এটি। সেই ছবিতে জুটে বেঁধেছেন আদিত্য ও সারা। তারই প্রচারে শহরে এসেছেন তাঁরা। প্রচারের মাঝেই ইডেনে হাজির হলেন দুই তারকা। সারার সঙ্গে ক্রিকেটের যোগ রয়েছে। ঠাকুরদা মনসুর আলি খান পতৌদী ছিলেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক। ইডেনে পটৌদীর অনেক স্মৃতি রয়েছে। সারার সঙ্গে বাংলার যোগও রয়েছে। সারার ঠাকুরমা শর্মিলা ঠাকুর বাংলারই মেয়ে। ছবির প্রচারে এসে ইডেন ঘুরে গেলেন সারা।

তখন রাত সোয়া ন’টা। বেহালার বীরেন রায় রোডের মা মঙ্গল চন্ডী ভবনের সামনে বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভিড়। আগে নিজের কালো গাড়িতে বাংলার ‘মহারাজ’, তার একটু পরেই সাদা বিএম ডাবলু-তে দুই বলিউড তারকা। পাশেই সৌরভের স্ত্রী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের বাবার বাড়ি। তখন জোর কদমে নাচের মহড়ায় ‘দীক্ষা মঞ্জরী’র ছাত্রীরা। নৃত্য প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার এবং ওড়িশি নৃত্য শিল্পী ডোনার নির্দেশে শেষ মুহূর্তের প্রশিক্ষণে ব্যস্ত সবাই। ‘মেট্রো…. ইন দিনো’ ছবিতে চার জোড়া দম্পতির গল্প বলেছেন পরিচালক অনুরাগ বসু। তাঁদের অন্যতম জুটি সারা-আদিত্য। মুখ খুললেন আদিত্য, “দাদা মানেই ক্রিকেট। ২২ গজের অনেক গল্প শুনলাম। শুনতে শুনতে গায়ে কাঁটা দিচ্ছিল।” তাঁকে প্রায় জোর করে থামিয়ে দিলেন সারা!বললেন, “আমার ঠাকুরদা ক্রিকেটার। ক্রিকেট আমার রক্তে। আজ ইডেনে গিয়েছিলাম। এই স্মৃতি মনে থেকে যাবে।” পরিচালক অনুরাগের সঙ্গে কাজের স্মৃতি? “অসাধারণ! অনুরাগদার মতো এত বড় মাপের পরিচালক আমাদের বেছেছেন, আমরা কৃতজ্ঞ”, উভয়ে বললেন। ‘মহারাজ’-এর জীবনীছবি আসছে। সারা, আদিত্যকে কি সুযোগ দেবেন? এই প্রশ্ন করা হয়েছিল সৌরভকে। হাসিমুখে জবাব দিলেন, “কাজ এগোচ্ছে। দেখা যাক, পরিচালক বিক্রম মোতওয়ানে কী বলেন।“ উৎসাহ লুকিয়ে রাখতে পারলেন না আদিত্য। জানালেন, তিনিও এই ছবির কথা শুনেছেন। অভিনয়ে অংশ নিতে পারলে গর্ব অনুভব করবেন। সঙ্গে সঙ্গে মাথা দুলিয়ে সায় সারার। মিষ্টি হেসে ছোট্ট উত্তর দিলেন, আমিও আছি।”

হতেই পারত ‘মাছ, মিষ্টি মোর’। মাছ ছিল। সারা বলেন, ‘আমাদের এত ভালবেসে, এত কিছু খাইয়েছেন.. কিছু জিনিসের তো নামও জানি না। আলুপোস্ত খাইয়েছেন, আর মাছটাও দুর্দান্ত ছিল। উনি তো আমায় আমার ঠাকুরদা ঠাকুমার প্রেমের এমন সব গল্প বললেন, যেগুলো আমি নিজেই জানতাম না। আমার ঠাকুমা নাকি ট্যাক্সি নিয়ে স্পোর্ট বাসের পিছনে পিছু করতেন! দুর্দান্ত একটা অভিজ্ঞতা!বাকি মেনুতে সামান্য বদল ঘটিয়ে যোগ হয়েছে আলুপোস্ত আর আম! ঘড়িতে রাত ১১টা। বৃহস্পতিতে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়িতে নৈশভোজ সেরে বেরোলেন সারা আলি খান, আদিত্য রায় কপূর। উপলক্ষ, তাঁদের আসন্ন ছবি ‘মেট্রো…. ইন দিনো’-র প্রচার। গঙ্গোপাধ্যায় বাড়ির আতিথেয়তায় মুগ্ধ দুই বলি তারা। ঝলমল করছে তাঁদের মুখ। “দাদার বাড়ির রান্না যেমন ভাল তেমনি ভাল পরিবারের প্রত্যেকে। ওঁর কাছ থেকে আমার ঠাকুমা শর্মিলা ঠাকুর, দাদু মনসুর আলি খান পতৌদির ভালবাসার গল্প শুনলাম। মন ভরে গেল” একপাশে হাসিমুখে সৌরভ। অন্য পাশে আদিত্য। মেট্রো ইন দিনো ছবিতে সারা ও আদিত্য ছাড়াও রয়েছেন, ফতিমা সানা শেখ, পঙ্কজ ত্রিপাঠী, কঙ্গনা সেনশর্মা, আলি ফজল, নীনা গুপ্তা, অনুপম খের, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় ও একাধিক অভিনেতা অভিনেত্রী। অনুরাগ বসুর পরিচালনায়, চলতি বছরের আগামী ৪ জুলাই বড়পর্দায় মুক্তি পেতে চলেছে এই ছবি।

গত কয়েক মরশুম ধরেই বাংলার কোচের দায়িত্বে রয়েছেন লক্ষ্মীরতন শুক্লা। তাঁর কোচিংয়ে বাংলা রনজি ফাইনাল খেলেছে। যদিও গত বছরটা খুব একটা ভালো যায়নি বাংলার। সামনের মরশুমেও কোচ লক্ষ্মীর উপরই আস্থা রাখছে সিএবি। লক্ষ্মীই যে বাংলার কোচ হবেন, সেটা কার্যত ঠিক হয়ে গিয়েছে। বুধবার সিএবি প্রেসিডেন্ট স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “সিনিয়র টিমে কোনও কোচ বদল হবে না। গতবার যিনি কোচ ছিলেন, এবারও তিনি কোচ থাকছেন।” প্রেসিডেন্টের কথাতে পরিষ্কার, এবছরও বাংলার টিমের কোচের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে লক্ষ্মীকে। ৩১ মে পর্যন্ত সমস্ত কোচেদের সঙ্গে চুক্তি ছিল সিএবির। লক্ষ্মীর সঙ্গে সেই চুক্তি আরও বাড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেই সিএবি সূত্রে খবর। আগামী সপ্তাহে সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে যেতে পারে। বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগ এই সপ্তাহে শেষ হচ্ছে। শনিবার ফাইনাল। আগামী সপ্তাহের শুরুতে বাংলার কোচ সংক্রান্ত বিষয়টা চূড়ান্ত করে ফেলতে চাইছে সিএবি। কারণ সামনের মরশুমের প্রস্তুতিও শুরু করে দিতে হবে। বোর্ডের তরফে ঘরোয়া মরশুমের সূচি ইতিমধ্যেই দিয়ে দেওয়া হয়েছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি শুরু হয়ে যাচ্ছে রনজি ট্রফি। তার আগে প্রস্তুতির জন্য দুই থেকে তিন মাস প্রয়োজন। অবশ্য এটা লক্ষ্মী যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও, তাঁকে পাওয়া যায়নি। বাংলার বাকি টিমগুলোর কোচিং স্টাফও মোটামুটি একই থাকছে। শুধু বদল আসছে অনূর্ধ্ব-২৩ দলে। অনুর্ধ্ব-২৩ বাংলার টিমের কোচ হিসেবে ঋদ্ধিমান সাহা মোটামুটি নিশ্চিত। সিএবি একপ্রস্থ কথাও বলে ফেলেছে ঋদ্ধির সঙ্গে।

ইডেনে পুরুষদের প্রথম সেমিফাইনালে অ্যাডামস হাওড়ার মুখোমুখি লাক্স শ্যাম কলকাতা টাইগার্স। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হারবার ডায়মন্ডস ও মুর্শিদাবাদ কিংস। অন্যদিকে যাদবপুর ক্যাম্পাস মাঠে মেয়েদের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি মুর্শিদাবাদ কুইন্স ও লাক্স শ্যাম কলকাতা টাইগার্স। দ্বিতীয় সেমিফাইলালে সবিসকো স্ম্যাশারস মালদার মেয়েরা প্রতিদ্বন্দিতা করবেন হারবার ডায়মন্ডসের বিরুদ্ধে। পুরুষ ও মহিলা দুই বিভাগের ফাইনাল ২৮ জুন ইডেনেই।




