Sunday, July 12, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বুধবার রাতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মহারণ!‌ সেমিফাইনালে মেসিরা, সুইসদের হারিয়ে সামনে ইংরেজদের দল

আর্জেন্টিনা – ৩ (অ্যালিস্টার, আলভারেজ, মার্তিনেজ) সুইৎজারল্যান্ড – ১ (এনদোয়ে)

RK NEWZ বুধবার রাতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মহারণ। বুধবার রাতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মহারণ। দিনের শেষের শেষ হাসিটা হাসল আর্জেন্টিনাই। আলভারেজের ম্যাজিক গোলে অতিরিক্ত সময়ে সুইজারল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে মেসিরা। ১০ জনের সুইৎজ়ারল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে চলে গেল আর্জেন্টিনা। তবে লিয়োনেল মেসিদের ফুটবল মন ভরাতে পারল না। তাঁদের ধীর গতির খেলা সমস্যায় ফেলতে পারে স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ডের মতো দলের বিরুদ্ধে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে চলে গেল আর্জেন্টিনা। ১০ জনের সুইৎজ়ারল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারালেন লিয়োনেল মেসিরা। আর্জেন্টিনা-সুইৎজ়ারল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনালে হল কৌশলের লড়াই। সুইসদের দ্রুতগতির ফুটবলের জবাবে মেসিরা বার বার চেষ্টা করলেন খেলার গতি কমিয়ে দিতে। যদিও কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার খেলা মন ভরাতে পারল না। বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও বেশ ভাল ফুটবল খেলল সুইৎজ়ারল্যান্ড। টানা দু’টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠলেন মেসিরা। শুরু থেকে আগ্রাসী ফুটবল খেললেও সুইৎজ়ারল্যান্ডকে সমস্যায় ফেলল ফিনিশিংয়ের সমস্যা। আর্জেন্টিনার রক্ষণকে একাধিক বার চাপে ফেলেও আসল কাজটাই করতে পারলেন না জ়াকা, এমবোলোরা। সুইৎজ়ারল্যান্ডে প্রায় গোটা দল উঠে-নেমে খেলল। আট-ন’জন মিলে যেমন রক্ষণ সামলালো, তেমনই ছ’-সাত জন মিলে আক্রমণে উঠল। বলের কাছাকাছি নীল-সাদা জার্সির থেকে লাল জার্সিই দেখা গিয়েছে বেশি। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণও সুইসদের দখলেই ছিল অধিকাংশ সময়।

আর্জেন্টিনা মূলত পেশাদার পার্সেন্টেজ ফুটবল খেলার চেষ্টা করেছে। ম্যাচের ১০ মিনিটে মেসির কর্নারে মাথা ছুঁইয়ে দলকে এগিয়ে দেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। তাঁর নিখুঁত এবং হেডের নাগাল পাননি সুইৎজ়ারল্যান্ডের গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল। এই গোল ছাড়া প্রথমার্ধে দু’এক বার গোল করার কাছাকাছি জায়গায় পৌঁছোতে পেরেছে আর্জেন্টিনা। বরং সুইৎজ়ারল্যান্ডকে অনেক বেশি ইতিবাচক দেখিয়েছে গোটা ম্যাচেই। বল দখলে রাখার চেষ্টা করেছে, দ্রুত আক্রমণে উঠেছে বা রক্ষণে লোক বাড়িয়েছে। মাঝ মাঠ নিয়ন্ত্রণ করেছে। নিজেদের মধ্যে পাস খেলার চেষ্টা করেছে। আর্জেন্টাইন রক্ষণকে উপরে টেনে এনে ভাঙার চেষ্টা করেছে। প্রতিপক্ষের বক্সে বেশ কয়েক বার বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তা-ও অ্যাটাকিং থার্ডের দুর্বলতায় আটকে গিয়েছে। সুইৎজারল্যান্ডের দুই স্ট্রাইকার ড্যান এনদোয়ে, ব্রিল এমবোলোর গতি বেশ সমস্যায় ফেলেছে লিয়োনেল স্কালোনির দলকে। ফ্রান্স, স্পেন বা ইংল্যান্ডের মতো দলের বিরুদ্ধে এই ফুটবল খেলে ম্যাচ বের করা কঠিন হবে আর্জেন্টিনার পক্ষে। সুইসদের আক্রমণের চাপে যে কোনও সময় আর্জেন্টিনার ডিফেন্স ভেঙে পড়তে পারে মনে হচ্ছিল। ঠিক তাই হল ৬৭ মিনিটে। গোল করে দিলেন এনদোয়ে। রিকার্ডো রদ্রিগেজের সাথে চমৎকার ওয়ান-টু পাস খেলে বক্সে ঢুকে পড়েন। মাথা ঠান্ডা রেখে মার্তিনেজ়কে পরাস্ত করে বল জড়িয়ে দেন জালে। সবচেয়ে বড় ভুলটা করে ফেললেন এমবোলো! প্লে অ্যাকটিং করে মাঠে ছিটকে পড়ে যাওয়ার অভিনয় করলেন। তাঁর নাটক ধরে ফেলল ‘ভার’। হলুদ কার্ড দেখালেন রেফারি। আগেই একটি ফাউলের জন্য হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। ফলে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হল এমবোলোকে। এই লাল কার্ডে বিতর্কের জায়গা নেই। দলের অন্যতম প্রধান স্ট্রাইকারকে হারিয়ে চাপে পড়ে যায় সুইৎজ়ারল্যান্ড। ৭২ মিনিট থেকে ১০ জনে খেলতে হয় তাদের। এমবোলে মাঠ ছাড়ার পর কৌশল বদলায় সুইৎজারল্যান্ড। বলা ভাল, বদলাতে বাধ্য হয়। পুরো রক্ষণাত্মক হয়ে যায়। সুযোগ কাজে লাগিয়ে আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ান মেসিরা। সুইসেরাও বাড়তি পরিশ্রম করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। কোনও কোনও সময় দেখে বোঝাই যায়নি, তারা এক জন কম নিয়ে খেলছে! এই সময় মেসি একাই এক জোড়া গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। সংযুক্ত সময়ে বক্সের মাথা থেকে নেওয়া লিয়োর ডান পায়ের শট অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। এক বার দলের প্রায় নিশ্চিত পতন রোখেন কোবেল। তবে আর্জেন্টিনীয়দের শট মারার জায়গা প্রায় দিচ্ছিলেনই না সুইৎজ়ারল্যান্ডের ফুটবলারেরা। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা চারটি ম্যাচে এগিয়ে গিয়েও গোল হজম করেছিল। সমতা ফিরিয়েছিল বিপক্ষ দল। শুরুটা হয়েছিল সৌদি আরবের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ফাইনালেও আর্জেন্টিনা ২-০ এগিয়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে ২-২ হয় এবং আর্জেন্টিনা টাইব্রেকারে জিতে ট্রফি হাতে তোলে। সেই একই জিনিস দেখা গিয়েছে কাবো ভার্দে এবং মিশরের বিরুদ্ধেও। সুইৎজ়ারল্যান্ডও মেসিদের দুর্বলতা দেখিয়ে দিল। যা বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে উদ্বেগ বাড়াতে পারে স্কালোনির। কাটাতে হবে অতিরিক্ত মেসি নির্ভরতাও। ১০ জনের সুইস ডিফেন্স না ভাঙতে পেরে এক সময় বেশ চাপে পড়ে যায় আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময়ে অকারণ ফাউল করে হলুদ কার্ডও দেখেন থিয়াগো আলমাডা এবং লাউতারো মার্তিনেজ়। অতিরিক্ত সময়ের ২২ মিনিটে স্বস্তি ফেরে আর্জেন্টিনা শিবিরে। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শটে গোল করেন আলভারেজ়। প্রথমে মেসির বাঁ পায়ের শট আটকে দেন সুইস গোলরক্ষক। ফিরতি আক্রমণ থেকে দুরন্ত গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আলভারেজ়। অতিরিক্ত সময়ের সংযুক্ত সময় গোল করে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করেন মার্তিনেজ়। নিজেদের অর্ধে বল কেড়ে নেওয়ার পর আলমাডা দ্রুতগতিতে এগিয়ে যান। আরডন জাশারিকে কাটিয়ে গেলেও কোবেলের কাছে বাধা পান। ফিরতি বল চলে যায় মার্তিনেজ়ের কাছে। তিনি ভুল করেননি। তবে সুইৎজারল্যান্ডকে হারাতে মেসিরা যে রকম হিমশিম খেলেন, তা স্কালোনির দলের পক্ষে ইতিবাচক ইঙ্গিত নয়। এল এম টেনের দ্বিতীয়বার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন বাস্তবতায় রূপ দিতে সেমিতে ইংল্যান্ডের মতো কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles