আষাঢ়-শ্রাবণ মাস রথযাত্রা এবং মহাদেবের উৎসব। দুটি ভিন্ন উৎসবের সময়। আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়, যা ভগবান জগন্নাথ, শুভদ্রা এবং বলরামের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত। অন্যদিকে, শ্রাবণ মাস শিবের মাস হিসেবে পরিচিত এবং এই মাসে শিবের পূজা ও ব্রত পালন করা হয়। নিজের ও সংসারের সুখের নিমিত্তে কিছু নিয়ম মেনে চলতেই হয়। পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক মিথ্যে কথা বলা যাবে না। মহাদের মিথ্যে কথা বলা একদম পছন্দ করেন না। শ্রাবণ মাস হিন্দুধর্মের পবিত্র মাস। ভগবান শিবের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত। এই মাসে শিবের পূজা, মন্ত্র পাঠ এবং ব্রত পালনের মাধ্যমে ভক্তরা আশীর্বাদ ও আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য চেষ্টা করেন। বিশেষ করে শ্রাবণ মাসের প্রতিটি সোমবার শিবের পূজা করা হয় এবং এটিকে “সোমেশ্বর ব্রত” বলা হয়। রথযাত্রা আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে অনুষ্ঠিত হয়। এটি ভগবান জগন্নাথ, শুভদ্রা এবং বলরামের উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ উৎসব। এই দিনে তিনটি বিশাল রথ তৈরি করা হয় এবং দেবতারা তাঁদের মন্দির থেকে বের হয়ে নগর ভ্রমণে বের হন। উৎসবটি বাংলা এবং ওড়িশা রাজ্যে বিশেষভাবে পালিত হয়। আষাঢ় মাস রথযাত্রার মাস, এবং শ্রাবণ মাস শিবের মাস। দুটি উৎসবই আলাদা সময়ে এবং ভিন্ন দেবতাকে উৎসর্গীকৃত. স্নানযাত্রায় স্নানের পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রভু শ্রীজগন্নাথ দাদা বলরাম ও বোন সুভদ্রাকে নিয়ে অনসরকাল কাটান। স্নানযাত্রায় স্নান করার পর প্রভু শ্রীজগন্নাথদেব অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেই কারণে ভক্তগণের থেকে নিভৃতে অনসরকালে চিকিৎসকের অধীনে চিকিৎসাধীন থেকে এক পক্ষকাল যাবৎ চিকিৎসা এবং সেবায় সুস্থ হয়ে ওঠেন। সুস্থ হয়ে প্রথমেই মাসির বাড়ি বেড়াতে যান। বেড়াতে যাওয়ার উৎসবই হল শুভ রথযাত্রা।
রথযাত্রার দিন প্রভু জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রা বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে শোভাযাত্রা সহকারে নিজের বাড়ি থেকে সপ্তাহকালের জন্য মাসির বাড়ি বেড়াতে যান। আগামী ২৭ জুন, ১২ আষাঢ়, শুক্রবার হল রথযাত্রা উৎসব। রথযাত্রা হিন্দুধর্মের, বিশেষত প্রভু শ্রীজগন্নাথের ভক্তদের কাছে একটি পুণ্য উৎসব এবং পুণ্য তিথিও। এই পুণ্য তিথিতে জগন্নাথধাম পুরী ছাড়াও, পশ্চিমবঙ্গ-সহ সমগ্র ভারতে জাঁকজমকের সঙ্গে রথযাত্রা পালিত হয়। এমনকি ভারতের বাইরে পৃথিবীর অন্যান্য স্থানে মহাসমারোহের সঙ্গে পুণ্য রথযাত্রা পালিত হয়। শাস্ত্রমতে, রথের দড়ি টানলে পুণ্য লাভ করা যায়। অমাবস্যার তিথি পালনে জীবন থেকে দূর হবে সমস্যার অমানিশা, তবে ভুলেও করা যাবে না চার কাজ, তা হলেই সর্বনাশ! বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসারে ১২ আষাঢ়, ২৭ জুন, শুক্রবার। বেলা ১১ টা ২০ মিনিট পর্যন্ত দ্বিতীয়া তিথি, পরে তৃতীয়া। অমৃতযোগ সকাল ১২টা ৫ মিনিট গতে ২টো ৪৫ মিনিটের মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ সকাল ৫টা ৫১ মিনিট গতে ৬টা ৪৪ মিনিটের মধ্যে। পুনরায় সকাল ৯টা ২৫ মিনিট গতে ১০টা ১৮ মিনিটের মধ্যে। উল্টোরথ ২০ আষাঢ়, ৫ জুলাই, শনিবার। উল্টোরথের কোনও নির্দিষ্ট সময় হয় না। সেই দিন যে কোনও সময় রথ বার করা যেতে পারে। মন্দির ও অঞ্চলবিশেষে ভিন্ন ভিন্ন দিনে উল্টোরথ পালনের প্রথা।
২২ জুন অম্বুবাচীর প্রবৃত্তি এবং ২৫ জুন অম্বুবাচীর নিবৃত্তি। অর্থাৎ, রবিবার শুরু হচ্ছে অম্বুবাচী তিথি এবং শেষ হবে বুধবার। এই সময়কালকে ধরিত্রীমাতার ঋতুমতী হওয়ার সময়কাল হিসাবে মনে করা হয়। এর অর্থ হল, এই সময় সমস্ত দেবী রজস্বলা থাকেন। কামাখ্যা মন্দিরে এই দিনগুলি অত্যন্ত আড়ম্বরের সঙ্গে পালন করা হয়। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে এই সময় কামাখ্যায় ভক্তেরা আসেন। এই সময় দেবীর পুজো বন্ধ রাখা হয়। এই সময়টিকে দেবীর বিশ্রামকাল হিসাবে মনে করা হয়। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, অম্বুবাচীর সময় বিশেষ কিছু নিয়ম পালন করলে দেবীর আশীর্বাদ লাভ করা যায়। আবার এমন কিছু কাজ আছে, যা এই সময় একেবারেই করতে নেই। এই সময় বাড়িতে থাকা সকল দেবীমূর্তি লাল কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। এ ছাড়া মন্ত্র উচ্চারণ করে, ফুল ও জলখাবার দিয়ে দেবীমূর্তির পুজো করা যাবে না। শুধুমাত্র ধূপ-দীপ দেখিয়ে প্রণাম করতে হবে। অম্বুবাচী নিবৃত্তির দিন, অর্থাৎ শেষ দিনের পর ঠাকুরের পুরনো সাজ বদলে ফেলতে হবে। সিংহাসনে পাতা পুরনো কাপড়ও তুলে ফেলতে হবে। ঠাকুর ও সিংহাসনকে নতুন সাজে সজ্জিত করতে হবে। এই সময় খুব জরুরি দরকার না থাকলে বাড়ি থেকে দূরে কোথাও ভ্রমণ করতে নেই। অম্বুবাচী তিথি শুরু হওয়ার আগে তুলসীগাছের গোড়ায় নতুন করে মাটি দিয়ে সেটিকে একটু উঁচু করে দিতে হবে। এই সময় কুমারী মেয়েদের উপহার দিন এবং তাঁদেরকে পছন্দমতো খাবার খাওয়ান। অম্বুবাচী তিথি চলাকালীন যে কোনও এক দিন স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে উপবাস রাখতে পারলে খুব ভাল হয়। এতে সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় হবে, নিজেদের মধ্যে ভালবাসা বৃদ্ধি পাবে। অম্বুবাচী শেষ হওয়ার পর বাড়ির সদর দরজায় লাল সুতো বাঁধুন এবং কামাখ্যা মায়ের কাছে আশীর্বাদ প্রার্থনা করুন। এই সময় মানুষকে গরিব নিজের সাধ্যমতো যে কোনও ফল দান করতে পারলে খুব উপকার পাওয়া যায়। এই তিন দিন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে স্নান করে নিন। তার পর শুদ্ধ বস্ত্রে নিজের ইষ্টমন্ত্র জপ করুন। অম্বুবাচীর সময় বাড়িতে কোনও শুভ কাজ করা যাবে না।
ভগবান শিবকে সন্তুষ্ট করা সহজ। আমরা প্রায় সকলেই সেটা জানি। কিন্তু মহাদেব যেমন অল্পেই খুশি হন, তেমনই তিনি অল্পেই কুপিতও হন। তবে শিবের আশীর্বাদ যদি এক বার আপনার উপর বর্তায়, তখন স্বয়ং শনিদেবও আপনার ক্ষতি করতে পারবেন না। যে কোনও কাজেই সফল হবেন। রোগব্যধির চিন্তাও দূর হবে। তবে কেবল মহাদেবের পুজো করলেই তিনি খুশি হয়ে যাবেন না। তাঁকে খুশি করার জন্য আরাধনার সঙ্গে সঙ্গে আরও কয়েকটি সহজ পন্থা মেনে চলতে হবে। প্রতি দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ধ্যান করতে পারলে খুব ভাল হয়। এতে মহাদেব তুষ্ট হন। জীবনের নানা বাধা-বিপত্তিও দূর হয়। প্রতি দিন স্নানের পর এক মনে ‘‘ওম নমঃ শিবা’’ মন্ত্রটি উচ্চারন করতে হবে। মহাদেব খুশি হবেন। এটি করার সময় অন্য কোনও দিকে মন দেওয়া যাবে না। নিয়মিত মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র পাঠ করতে পারলে খুব ভাল হয়। তবে সঠিক নিয়ম মেনে এই মন্ত্র পাঠ করতে হবে, নচেৎ নয়। প্রতি সোমবার নিরামিষ আহার গ্রহণ করতে হবে। ধুতরো, আকন্দ, অপবাজিতা ও বেলপাতা সহযোগে মহাদেবের পুজো করতে হবে। মহাদেবের মাথায় যে জল বা দুধ ঢালেন, তাতে ঘি ও মধু মেশাতে পারলে খুব ভাল হয়। বস্তুগত জিনিসের প্রতি মোহমায়া ত্যাগ করতে হবে। গরীবদুঃখীদের সাধ্যমতো দান করতে পারলে খুব ভাল হয়। তারই সঙ্গে পশুপাখির প্রতিও দয়াবান হতে হবে। পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক মিথ্যে কথা বলা যাবে না। মহাদের মিথ্যে কথা বলা একদম পছন্দ করেন না।
অমাবস্যা মানেই যে সব কিছু খারাপ, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। পূর্ণিমার মতোই অমাবস্যার সঙ্গেও আধ্যাত্মিক গুণের সম্পর্ক রয়েছে। কোনও কোনও অমাবস্যা তিথিতে মা কালীকে বিশেষ এক একটি রূপে পুজো করা হয়। অমাবস্যাকে নতুন চান্দ্রমাসের সূচনা বলে মনে করা হয়। বিশেষ এই তিথিতে নানা উপায় মেনে চললে খুব ভাল ফল পাওয়া যায়। তেমনই কয়েকটি নির্দিষ্ট কাজ রয়েছে যেগুলি এই দিন করতে নেই। অমাবস্যার তিথিকে মা কালীর তিথি হিসাবে গণ্য করা হয়। তাই এই দিন যে কোনও কালী মন্দিরে বা বাড়িতে মা কালীকে লাল জবার মালা নিবেদন করুন। অপরাজিতার মালাও নিবেদন করা যেতে পারে। তারই সঙ্গে পাঁচ রকমের মিষ্টি ও নিজের হাতে ভোগ রান্না করে দিতে পারলে খুব ভাল হয়। এতে মা কালী আপনার উপর তুষ্ট হবেন। অমাবস্যার দিন উপবাস রাখতে পারেন। তবে নির্জলা উপবাস রাখার দরকার নেই, বদলে ধান থেকে তৈরি জিনিস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন। এই দিন গরিবদের সাধ্যমতো দান করতে পারলে খুব ভাল ফল পাওয়া যেতে পারে। আমাবস্যার দিন নিরামিষ আহার গ্রহণে ভাল ফল পাওয়া যায়। এই তিথিতে সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে গঙ্গাস্নান করতে পারলে খুবই ভাল ফল পাওয়া যায়। স্নানের সময় সূর্যদেবকে মনের ইচ্ছা জানাতে ভুলবেন না। এই দিন ভুল করেও তুলসীপাতা ছিঁড়বেন না। অমাবস্যা তিথিতে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা উচিত নয় বলে মনে করা হয়। এতে মনের উপর নেগেটিভ প্রভাব পড়তে পারে। বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে এই দিন কোনও মতে খারাপ ব্যবহার করা যাবে না। তাঁদের সঙ্গে উঁচু গলায় কথাও বলা যাবে না। অমাবস্যার দিন বাড়ির জন্য চাল-ডাল, অর্থাৎ কোনও শস্য জাতীয় উপাদান কেনা যাবে না।
আষাঢ় মাস উৎসব ও উৎসব। গায়ত্রী দেবী নবরাত্রি এবং মা শাকম্বরী দেবী নবরাত্র। আষাঢ় নবরাতি বা গুপ্ত নবরাত্র। গায়ত্রী দেবী নবরাত্রি এবং মা শাকম্বরী নবরাত্র ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে আষাঢ় মাসে পালন করা হয়। যেহেতু এই নবরাত্রি উৎসব আষাঢ় মাসে হয়, তাই এই নবরাত্রিকে আষাঢ় নবরাত্রিও বলা হয়। আষাঢ় নবরাত্রি দেবী বারাহি দেবীকে উত্সর্গীকৃত। আষাঢ় নবরাত্রি তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। যারা দেবী বারাহিকে উপাসনা করেন, সপ্ত মাতৃকা সপ্তমাতার মধ্যে একজন যিনি দেবীকে শুম্ভ এবং নিশুম্ভ রাক্ষস বধে সাহায্য করেছিলেন। আষাঢ় নবরাত্রির সময়, দেবী গায়ত্রী দেবীকে তার নবদুর্গা রূপে ৯টি অবতার প্রধান দেবতা হিসেবে পূজা করা হয়। কিছু কিছু অঞ্চলে মা শাকম্বরী দেবীকে পরম ভক্তি সহকারে নয়টি উৎসবের রাতে পূজা করা হয়। বিজয়ওয়াড়া কনাক দুর্গা মন্দিরে, ওয়ারঙ্গলের অন্ধ্রপ্রদেশ ভদ্রকালী মন্দিরে শাকম্বরী নবরাত্রগুলি আনন্দের সাথে পালিত হয়। আষাঢ় নবরাত্রি হিমাচল প্রদেশে গুহ্য নবরাত্রি হিসাবে পালিত হয়। আষাঢ় নবরাত্রির সময় অনুসৃত সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান দুর্গা নবরাত্রির উৎসবের মতোই। পাণ্ডারিপুরায় আষাঢ় একাদশী। এটি পাণ্ডারিপুরা মহারাষ্ট্র রাজ্য এর একটি বিশেষ দিন। এই দিনে শহরটি কোটি কোটি ভক্তে পরিপূর্ণ থাকে। নিকটবর্তী গ্রাম থেকে আসা সাধুরা ঝান্ডা পতাকা হাতে এক মাস আগে পায়ে হেঁটে পাণ্ডারিপুরের দিকে যাত্রা শুরু করেন। পুরো পথ জুড়ে তারা ভগবান পাণ্ডুরঙ্গের প্রশংসা গান করেন এবং নৃত্য করেন।
রথযাত্রা গাড়ি উৎসব। ‘নন্দিঘোষ’ নামে পরিচিত ভগবান জগন্নাথের রথটি ২৩ হাত উঁচু এবং ১৮টি চাকা বিশিষ্ট। বলভদ্রের রথটি, যার উচ্চতা ২২ হাত এবং ১৬টি চাকা বিশিষ্ট, তার নাম ‘তালদ্বাজ’। সুভদ্রার রথ ‘দেবদলন’, যার উচ্চতা ২১ হাত এবং ১৪টি চাকা বিশিষ্ট। আষাঢ় মাসের শুভ্র পক্ষের দ্বিতীয় দিনে জুন-জুলাই গাড়ি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এটি ৯ দিন ধরে অর্থাৎ আষাঢ় মাসের শুভ্র পক্ষের দ্বিতীয় দিন থেকে শুভ্র পক্ষের দশম দিন পর্যন্ত চলে। দ্বিতীয় দিনটিকে শ্রী গুন্ডিচা বলা হয়, যখন দেবতাদের প্রধান মন্দির থেকে পাহাড়ি নামে একটি শোভাযাত্রায় গাড়িতে আনা হয় এবং ভক্তরা তাদের গুন্ডিচা মন্দিরে টেনে নামিয়ে আনেন। দশম দিনে ভক্তদের মূল মন্দিরে ফিরিয়ে আনা হয়। গুন্ডিচা মন্দির থেকে মন্দিরের মূর্তিগুলিকে তাদের নিজ নিজ গাড়িতে করে শোভাযাত্রায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যাকে বাহুদা বলা হয়। যে দেবতারা যে গাড়িতে ভ্রমণ করেন তাদের গাড়িগুলি একটি নির্দিষ্ট স্টাইলে ডিজাইন করা হয়। প্রতি বছর গাড়ি তৈরির জন্য দাসপল্লা বন থেকে নতুন কাঠের কাঠ সংগ্রহ করা হয়। বৈশাখের মে শুভ্র পক্ষের তৃতীয় দিন থেকে নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং গাড়ি উৎসবের একদিন আগে সম্পন্ন হয়। এগুলি একটি নির্দিষ্ট দক্ষ ছুতার দল দ্বারা নির্মিত, যারা তাদের পারিবারিক ঐতিহ্য অনুসারে সুপ্রশিক্ষিত। প্রতি বছর আষাঢ় শুক্ল দ্বিতীয়া অর্থাৎ আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে জুন-জুলাই এই উৎসব পালিত হয়। এই উৎসব শ্রীগুন্ডিচা যাত্রা এবং ঘোষা যাত্রা নামেও পরিচিত। প্রচলিত ঐতিহ্য অনুসারে, গুন্ডিচ ছিলেন প্রথম মন্দিরের কিংবদন্তি নির্মাতা রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের রাণী। তিনিই এই মহামহিম মন্দিরের সূচনা করেছিলেন। হিন্দুধর্মের বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ উৎসব এই সময়েই অনুষ্ঠিত হয়। চতুর্মাসের প্রথম মাস, শ্রাবণ মাস ভগবান শিবের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত, বিশেষ করে সোমবার। পরের মাস ভাদ্রপদ, গণেশ চতুর্থী এবং কৃষ্ণ অষ্টমী সহ উৎসবের মাস। অশ্বয়ুজ মাস এবং গুরুত্বপূর্ণ উৎসবগুলির মধ্যে রয়েছে, দুর্গাপূজা, নবরাত্রি, দীপাবলি ইত্যাদি। অবশেষে, কার্তিক মাস, দীপাবলি উদযাপন এই মাসেই শেষ হয়, হিন্দুরাও এই সময়কালে বিভিন্ন ব্রত এবং উপবাস পালন করে।




