ক্যানসারের প্রকোপ ক্রমশ বাড়ছে। ক্যানসার সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। কোলন ক্যানসার। অধিকাংশ সময় মলাশয়ের ক্যানসারের উপসর্গ বুঝতে বুঝতেই অনেকটা দেরি হয়ে যায়। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এই রোগ। সাম্প্রতিক কিছু গবেষণা অনুযায়ী এই ভয়াবহ রোগের প্রতিরোধে খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব অপরিসীম। এমনই একটি গবেষণায় টক দইয়ের মতো প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে পারে বলে ইঙ্গিত। ‘আমেরিকান জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন’-এ প্রকাশিত সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত টক দই খেলে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে। গবেষকরা মনে করছেন, টক দইতে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া, বিশেষত ল্যাকটোব্যাসিলাস এবং বাইফিডোব্যাকটেরিয়াম এই প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকার নেপথ্যে। এই ব্যাকটেরিয়াগুলি অন্ত্রে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ব্যাহত করে। পাশাপাশি এই ব্যাকটেরিয়াগুলি প্রদাহ কমাতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে। দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ কোলন ক্যানসারের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এছাড়া টক দইয়ে থাকে প্রোবায়োটিক উপাদান যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে টক দই অন্ত্রের মধ্যে কিছু নির্দিষ্ট রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করতে সাহায্য করে, যা ক্যানসার সৃষ্টিকারী কোষের বিভাজন এবং বিস্তারকে বাধা দিতে পারে। বিউটিরেট নামক একটি শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড, যা টক দইয়ের ব্যাকটেরিয়া দ্বারা অন্ত্রে তৈরি হয়, তা মলাশয়ের কোষের স্বাস্থ্য রক্ষায় এবং ক্যানসার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মনে করা হয়। মাথায় রাখতে হবে শুধুমাত্র টক দই খেয়ে কোলন ক্যানসার সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। বরং সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার অংশ হিসেবে নিয়মিত টক দই খাওয়া যেতে পারে, যা এই রোগের ঝুঁকি কমাতে একটি সহায়ক পদক্ষেপ।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ক্যানসারের মতো মারণ রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে। আর এই পথেই এক অভাবনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে বিশ্বের অন্যতম খ্যাতনামা চিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্ঠান মায়ো ক্লিনিক। শুনতে অবাক লাগলেও, মায়ো ক্লিনিকের গবেষকরা মানব মল বা বিষ্ঠা থেকেই ক্যানসারের চিকিৎসা খুঁজে বের করার জন্য যুগান্তকারী গবেষণা চালাচ্ছেন। গবেষণার মূল কেন্দ্রবিন্দু হল মানুষের অন্ত্রে বসবাসকারী কোটি কোটি অণুজীব, যা সম্মিলিতভাবে ‘গাট মাইক্রোবায়োম’ নামে পরিচিত। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, এই মাইক্রোবায়োম আমাদের হজম প্রক্রিয়া, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উপর গভীর প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিককালে, ক্যানসারের বৃদ্ধি ও চিকিৎসার কার্যকারিতার সঙ্গেও গাট মাইক্রোবায়োমের নিবিড় যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। মায়ো ক্লিনিকের গবেষকরা মূলত খতিয়ে দেখছেন, কীভাবে অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়াকে কাজে লাগিয়ে ক্যানসারের বিরুদ্ধে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে তোলা যায়। এর একটি অন্যতম দিক হল ‘ফিক্যাল মাইক্রোবায়োটা ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন’ (এফএমটি) বা মল প্রতিস্থাপন থেরাপি। এই পদ্ধতিতে একজন সুস্থ ব্যক্তির মল থেকে উপকারী ব্যাকটেরিয়া সংগ্রহ করে ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর অন্ত্রে প্রতিস্থাপন করা হয়। প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কিছু বিশেষ ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসায়, বিশেষত কেমোথেরাপি বা ইমিউনোথেরাপির কার্যকারিতা বাড়াতে এই পদ্ধতি সহায়ক হতে পারে। মায়ো ক্লিনিকের ‘সেন্টার ফর ইন্ডিভিজুয়ালাইজড মেডিসিন’-এর গবেষকরা এই বিষয়ে একাধিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালাচ্ছেন। তাঁদের লক্ষ্য, নির্দিষ্ট ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে মলের নমুনা বিশ্লেষণ করে তাঁদের গাট মাইক্রোবায়োমের গঠন বোঝা এবং সেই অনুযায়ী চিকিৎসার রূপরেখা তৈরি করা। উদাহরণস্বরূপ, যে সকল রোগীর অন্ত্রে নির্দিষ্ট প্রকারের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার অভাব রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এফএমটি বা নির্দিষ্ট প্রোবায়োটিক সাপ্লিমেন্টের মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণ করে চিকিৎসার কার্যকারিতা বাড়ানো সম্ভব। গবেষকরা মলের নমুনা থেকে এমন কিছু ‘বায়োমার্কার’ বা জৈব নির্দেশক শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন, যা ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় করতে বা চিকিৎসার প্রতি রোগীর শরীর কেমন সাড়া দেবে, তা আগাম জানাতে সাহায্য করবে। গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট এবং ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা এই গবেষণার ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। তাঁদের মতে, গাট মাইক্রোবায়োমকে কাজে লাগিয়ে ক্যানসারের চিকিৎসা এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে, যা প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির সীমাবদ্ধতাগুলি অতিক্রম করতে সহায়ক হবে। এর ফলে, ক্যানসারের চিকিৎসা আরও বেশি ‘পার্সোনালাইজড’ বা ব্যক্তিভিত্তিক ও কার্যকর হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ক্যানসার ফিরে আসার আশঙ্কা কমাতে পারে এক বিশেষ ‘ওষুধ’, আর তা পাওয়া যাবে বিনামূল্যেই! ক্যানসার নিরাময়ের কয়েক বছর পরে রোগীর শরীরে ক্যানসার ফিরে আসা এবং তা থেকে মৃত্যুর ঘটনা বিরল নয়। তবে সেই আশঙ্কা কমানোর চাবিকাঠি হাতেই। ক্যানসার হওয়ার পরে অস্ত্রোপচার। নানা ধরনের চিকিৎসা করিয়ে সুস্থও হয়ে উঠা। অথচ এত কিছুর পরেও ক্ষীণ আশঙ্কা থেকে গেল সেই ক্যানসার আবার ফিরে আসার! যাকে চিকিৎসার পরিভাষায় বলা হয় রেকারেন্স। বহু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে এই রেকারেন্সের পরে চিকিৎসা করিয়েও রোগীকে আর ফেরানো যায়নি। তবে একটি সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, ক্যানসারের ফিরে আসার ঝুঁকি কমানো যেতে পারে। আর সেই ওষুধ রয়েছে সাধারণের হাতেই। এমনকি, তার জন্য কানাকড়িও খরচ করতে হবে না! গবেষণা সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিনে। শুধু তা-ই নয়, ওই গবেষণালব্ধ ফলের কথা ঘোষণা করা হয়েছে শিকাগোয় আয়োজিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্যানসার সম্মেলন ‘আমেরিকান সোসাইটি অফ ক্লিনিক্যাল অঙ্কোলজি অ্যান্যুয়াল মিটিং’-এও। গবেষণাপত্রে বলা হচ্ছে, ক্যানসারের রোগীদের শরীরে ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি অনেকটাই কমতে পারে যদি তাঁরা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন। অর্থাৎ, এক্ষেত্রে শরীরচর্চাই হল ক্যানসারের রোগীদের দীর্ঘদিন সুস্থ থাকার ওষুধ। গবেষণাটি করেছেন কানাডা, আমেরিকা, ব্রিটেন এবং অস্ট্রেলিয়ার গবেষকেরা। ইউনিভার্সিটি অফ অ্যালবার্টা, সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়, টরোন্টো বিশ্ববিদ্যালয়, বেল ফাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়-সহ ২৫টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ওই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গবেষণাটি করা হয়েছিল আমেরিকা, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, কানাডা এবং ইজ়রায়েলের কোলন ক্যানসারের রোগীদের উপর। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তাঁদের ক্যানসারের চিকিৎসা, অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি এবং তদপরবর্তী সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়াতে নজর রাখা হয়। এঁদের মধ্যে কিছু রোগীকে নিয়মিত নির্দিষ্ট কিছু শরীরচর্চা করানো হয়েছিল। বাকিদের করানো হয়নি। দেখা যায় যাঁরা নিয়মিত ভাবে শরীরচর্চা করেছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি বাকিদের থেকে ২৮ শতাংশ কমেছে। এমনকি, ক্যানসার থেকে মৃত্যুর আশঙ্কাও কমেছে ৩৭ শতাংশ।
যে কোনও বড় অস্ত্রোপচার বা দীর্ঘ মেয়াদী রোগের চিকিৎসার পরে রোগীকে আবার আগের মতো সুস্থ করে তুলতে শরীরচর্চা করতে বলেন চিকিৎসকেরা। ক্যানসারের অস্ত্রোপচারের পরেও নানা ধরনের ব্যায়াম করতে বলা হয় রোগীদের। নিউ ইংল্যান্ড জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা পত্রটিতে প্রতিবেদক লিখেছেন, নিয়মিত শরীরচর্চা করলে তা কোষের বিভাজন এবং বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতেই পারে। উল্লেখ্য, ক্যানসার যখন কারও শরীরে বাসা বাধে, তখন কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হতে থাকে। গবেষকেরা মনে করছেন, শরীরচর্চা তা নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করতে পারে। শরীরচর্চা করলে শরীরে বিপাকের হার বাড়ে, বাড়তি মেদ কমায়, যা টিউমার তৈরি বা তার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। বহু গবেষণাতেই দেখা গিয়েছে, শরীরে ইনসুলিনের বর্ধিত মাত্রা স্তন ক্যানসার, প্রস্টেট ক্যানসার, কিডনির ক্যানসার এবং মলাশয় বা কোলনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। শরীরচর্চা করলে নিয়ন্ত্রণে থাকে ইনসুলিনের মাত্রাও।
ক্যানসারের চিকিৎসায় যুগান্তকারী সাফল্য! বিশ্বের প্রথম মূত্রাশয় প্রতিস্থাপন করলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত চিকিৎসক! বিশ্বে প্রথমবার সফলভাবে মূত্রাশয় প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম হলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরচিকিৎসকেরা। লস অ্যাঞ্জেলেসের ৪১ বছর বয়সি অস্কার লারাইনজারের দেহে প্রতিস্থাপিত হল এই মূত্রাশয়। চিকিৎসকদের দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তো বটেই, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এ এক অভাবনীয় সাফল্য। এই অস্ত্রোপচার মারাত্মক অঙ্গবৈকল্যে (অর্গান ফেলিওর) আক্রান্ত হাজার হাজার রোগীর জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করবে বলেও দাবি চিকিৎসকদের। মার্কিন সংবাদ সংস্থা নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই যুগান্তকারী অস্ত্রোপচারের নেপথ্যে রয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মূত্ররোগ বিশেষজ্ঞ (ইউরোলজিস্ট) ইন্দরবীর গিল। অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসক জানান, রোগী ট্র্যাকিয়াল অ্যাডেনোকার্সিনোমা নামের এক বিরল ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। চার বছর আগে টিউমার অপসারণের অস্ত্রোপচারের পর তাঁর মূত্রাশয়ের কার্যক্ষমতা কার্যত পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। স্বাভাবিক মূত্রাশয় যেখানে ৩০০ ঘন সেন্টিমিটারের বেশি তরল ধারণ করতে পারে সেখানে তিনি মাত্র ৩০ ঘনসেমি মূত্র ধারণ করতে পারতেন। অর্থাৎ তার প্রস্রাব আটকানোর কোনও ক্ষমতাই ছিল না। এই অস্ত্রোপচারের পর তিনি স্বাভাবিকভাবে শৌচাগার ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছেন। গিল আরও বলেন, “এতে কোনও সন্দেহ নেই যে, এই প্রতিস্থাপন রোগীদের জন্য এমন একটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত করল যা আগে ছিল না। অঙ্গ প্রতিস্থাপন একটি জীবন রক্ষাকারী অস্ত্রোপচার। বহু ক্ষেত্রেই রোগীর প্রাণ বাঁচাতে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এই পদ্ধতি একান্ত জরুরি হয়ে পড়ে। এখন সেই তালিকায় মূত্রাশয় প্রতিস্থাপনকেও যুক্ত করা যেতে পারে।”
গঙ্গা নদী থেকে ধরা রুই মাছ খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে বিপজ্জনক হতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিজ্ঞানীরা। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, গঙ্গার জল দূষিত হওয়ার ফলে মাছের শরীরে বিপজ্জনক মাত্রায় জিঙ্ক, সীসা, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম ও তামার মতো ভারী ধাতু জমা হচ্ছে। গবেষকরা জানাচ্ছেন, রুই মাছের ত্বক, যকৃত, কিডনি, পেশি ও মস্তিষ্কে এই ধাতুগুলির উপস্থিতি মিলেছে। দীর্ঘদিন ধরে এই মাছ খেলে কিডনি, লিভার ও হাড়ের ক্ষতি হতে পারে। এছাড়া দেখা দিতে পারে স্নায়বিক রোগ, পাচনতন্ত্রের সমস্যা এবং ক্যানসারের ঝুঁকিও। মাছে থাকা ভারী ধাতুর প্রভাব বোঝার জন্য ‘টার্গেট হ্যাজার্ড কোশিয়েন্ট’ (THQ) ও ‘হ্যাজার্ড ইনডেক্স’ (HI)-এর মতো সূচক ব্যবহার করে ঝুঁকির মাত্রা বার করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রুই মাছ জনপ্রিয় হলেও গঙ্গার মতো দূষিত জায়গা থেকে ধরা মাছ খাওয়ার আগে তার উৎস সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি।
মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভাল না থাকলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্মৃতিভ্রংশ বা অ্যালঝাইমার্স-এর মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই কীভাবে মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখা যায়, তাই নিয়ে নিরন্তর গবেষণা চলতেই থাকে। তেমনই একটি গবেষণা প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞান পত্রিকা সায়েন্স-এ। গবেষকরা দেখেছেন সহজ একটি কাজই সক্রিয়ভাবে মস্তিষ্ককে রূপান্তরিত করতে পারে, যা মনোযোগ ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করে এবং মানসিক চাপ কমায়। কাজটি হল কেবল কয়েকদিন নীরব থাকা। অদ্ভুত শোনালেও নীরবতার উপর করা একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে যে, তিন দিনের ইচ্ছাকৃত নীরবতা মস্তিষ্কের কার্যকরী ও শারীরিক পুনর্গঠন শুরু করে। এই পরিবর্তনগুলি কয়েক মাসের ধ্যান বা জ্ঞানীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত ফলাফলের সঙ্গে তুলনীয়। গবেষকরা আরও দেখেছেন, যাঁরা নিয়মিত কোলাহলের মধ্যে থাকেন তাঁদের উপর এর প্রভাব আরও বেশি সুস্পষ্ট। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, যাঁরা শব্দের কারণে মানসিক চাপে ভোগেন, তাঁরা একটি নীরব অবসরের (সাইলেন্ট রিট্রিট) মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হতে পারেন। নেপথ্যে রয়েছে মস্তিষ্কের একটি বিশেষ অংশ। যে অংশে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন দেখা গিয়েছে সেটি হল হিপোক্যাম্পাস, যা মস্তিষ্কের স্মৃতির জন্য দায়ী একটি অংশ। একটানা তিন দিন নীরবতার পর, অংশগ্রহণকারীদের হিপোক্যাম্পাসে নতুন কোষের বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে। আর তাতেই হিপোক্যাম্পাসের স্বাস্থ্য ভাল হয়। আগে ধারণা করা হত, দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা ছাড়া এটি সম্ভব নয়। নতুন গবেষণা সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করল বলেই মত গবেষকদের।




