বীরভূমের মাটিতে তাঁর শৈশব কেটেছে। গরমের ছুটিতে মামাবাড়ি যেতেন। পুকুরে সাঁতার থেকে মাঠে ঘোরা, দারুণ কেটেছে দিনগুলো। সিউড়ির সভায় জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বলেন, ‘‘উজ্জ্বল প্রার্থী নয় এখানে। প্রার্থী আমি। তৃণমূলের নেতৃত্বে সরকার চাইলে ২৯৪ আসনে আমি প্রার্থী। মোদীজি বলছেন, উনি ২৯৪টি আসনের প্রার্থী। ঠিক আছে। তা হলে আপনি প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দিন। দিয়ে বলুন, আমি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হব। আমাকে ২৯৪ আসনে ভোট দিন। দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন, না বাংলার মুখ্যমন্ত্রী? বলে দিন। আপনি তো বাংলায় বহিরাগত। তোমরা ১২ বছর ধরে আমাকে জ্বালাচ্ছ। আগে সিপিএম ছিল। তার পর এরা রোজ মানুষের সব অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে খাচ্ছে। বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলার নাম করে ‘মন কি বাত’-এর নামে বাচ্চাদের মাথা খাচ্ছে। এদের ধর্ম মানে বিষবৃক্ষ। মানুষের মাথায় বিষ ঢালা এদের ধর্ম! কিছু আরএসএসের নেতা আছে। খেয়েদেয়ে হোদল কুতকুত হচ্ছে। মোদীবাবুকে জিজ্ঞাসা করুন, কর্মসংস্থানের কী হল। আপনারও তো ১২ বছর হল। ২ কোটি চাকরি কোথায় গেল? আর আমদের প্রশ্ন? আমরা শূন্যপদ পূরণ করতে গেলেই কোর্টে কেস দেয়। যাতে চাকরিগুলো আটকে যায়। এখন চাকরির কথা! এ সব ছলনা আর বাংলার মানুষের সঙ্গে করো না। যারা বাংলায় কথা বললে মারো, তারা কী ভাবে ভোট চাও এখানে? এত বড় জুমলা এর আগে হয়নি। ভোটার কাটার ষড়যন্ত্র। কেউ বিজেপিকে ভোট দেবেন না। তৃণমূলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছ? তোমার নেতারা হলদিয়া বন্দর থেকে কত টাকা তোলে? কত টাকা যায় দিল্লি? সৌজন্যের খাতিরে আর বলছি না। ইশারাই কাফি… বুঝে নাও। বিজেপি দেবে চাকরি? রেলে গ্যাংমান নিয়েছে? সেনায় পদ খালি। তার পরেও বলছে চাকরি দেবে! চাকরি দেব আমরা। কাল একজন বলেছেন, উত্তরপ্রদেশের মতো এখানে বুলডোজ়ার চলবে। মানেটা কী? আমি বুলডোজ়ার-রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। ভালবাসার নীতিতে বিশ্বাস করি। বিজেপির কাছ থেকে টাকা নেবেন না। ভুল করবেন না। আমার কাজ আপনাদের সতর্ক করা। অ্যাকাউন্ট বানিয়ে টাকা দেবে বলে কালোটাকা দিয়ে দেবে। তার পর ইডি-সিবিআইয়ের মামলা করবে। আগের বার নির্বাচনে বলেছিলাম লক্ষ্মীর ভান্ডার দেব। ৫০০ টাকা দিয়ে শুরু করেছিলাম। আমরা ভোটের প্রতিশ্রুতিতে ভাঁওতা দিই না। বিহারে ভোটের আগে আট হাজার টাকা দিয়ে পরে ফেরত নিচ্ছে। আমি ভিডিয়ো দেখাতে পারি। তিন হাজার দেবে বলছে। কখনও এক হাজার টাকা দিয়েছো?’’





