Thursday, April 23, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

কেউ হুমকি দিচ্ছে? ভয় দেখাচ্ছে? পৃথক টোল ফ্রি নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানাতে পারবেন কমিশনকে!

RK NEWZ কমিশন জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলাজনিত যে কোনও সমস্যার কথা সংশ্লিষ্ট টোল ফ্রি নম্বরে ফোন করে জানাতে পারবেন ভোটারেরা। চাইলে কমিশনকে ইমেলও করতে পারেন তাঁরা। কমিশন জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলাজনিত যে কোনও সমস্যার কথা সংশ্লিষ্ট ওই টোল ফি নম্বরে ফোন করে জানাতে পারবেন ভোটারেরা। চাইলে কমিশনকে ইমেলও করতে পারেন তাঁরা। হুমকি দেওয়া, ভয় দেখানো, মারধর-সহ নিজের এলাকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কোনও অভিযোগ থাকলে তা কমিশনকে সরাসরি জানানোর সুযোগ মিলবে ভোটারদের। ভোটের সময় কেউ হুমকি দিচ্ছেন? কেউ ভয় দেখাচ্ছেন? অভিযোগ থাকলে এ বার তা সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে জানাতে পারবেন ভোটারেরা! অশান্তি বা আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোনও সমস্যা থাকলে ভোটারেরা যাতে কমিশনকে জানাতে পারেন, সে জন্য পৃথক টোল ফ্রি নম্বর চালু করা হল। শুধু টোল ফ্রি নম্বর নয়, একটি পৃথক ইমেল আইডি-ও চালু করেছে কমিশন। নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার সময়েই কমিশন জানিয়েছিল, অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট করতে সব রকম পদক্ষেপ করবে তারা। ইতিমধ্যেই তারা বিভিন্ন পদক্ষেপ করতে শুরু করেছে। ভোটের অনেক আগে থেকেই পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছে কমিশন। ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি দূর করতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় রুটমার্চ করছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা, ভোটের পশ্চিমবঙ্গে কোনও ধরনের অশান্তি চায় না তারা। অভিযোগ উঠলেই তা দ্রুত খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করছে কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ অগ্রবাল এ ব্যাপারে বলেন, ‘‘নির্বাচন প্রায় এসেই গিয়েছে। এখন আমাদের কাছে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত অভিযোগ আসে। সেই কারণে আমরা পৃথক একটি টোল ফ্রি নম্বর এবং ইমেল আইডি চালু করলাম। যে কোনও সময় সেখানে অভিযোগ জানাতে পারবেন ভোটারেরা। অভিযোগ পাওয়ার পরে আমরা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব।’’ কমিশন জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলাজনিত যে কোনও সমস্যার কথা সংশ্লিষ্ট ওই টোল ফি নম্বরে ফোন করে জানাতে পারবেন ভোটারেরা। চাইলে কমিশনকে ইমেলও করতে পারেন তাঁরা। হুমকি দেওয়া, ভয় দেখানো, মারধর-সহ নিজের এলাকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কোনও অভিযোগ থাকলে তা কমিশনকে সরাসরি জানানোর সুযোগ মিলবে ভোটারদের। ইতিমধ্যেই কমিশনের একটি টোল ফ্রি নম্বর রয়েছে। ১৯৫০ নম্বরে ফোন করে ভোটারেরা কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। তবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের জন্য পৃথক টোল ফ্রি নম্বর চালুর কথা জানিয়েছে কমিশন। ১৮০০৩৪৫০০০৮— এই টোল ফ্রি নম্বরে ফোন করে ভোটারেরা কমিশনকে অভিযোগ জানাতে পারবেন। যে পৃথক ইমেল আইডি চালু করেছে, সেটা হল wbfreeandfairpolls@gmail.com। সোমবার থেকেই এই পৃথক টোল ফ্রি নম্বর এবং ইমেল আইডি চালু করল কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ভোটারদের আশ্বস্ত করতে সাংবাদিক বৈঠক করলেন রাজ্যের জেলা সকল নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও) তথা জেলাশাসকেরা। সেখানে কী কী জানাতে হবে তা-ও ঠিক করে দিয়েছিল কমিশন। সেই মতো সোমবার জেলাগুলিতে সাংবাদিক বৈঠক করেন ডিইও-রা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন পুলিশ সুপার এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকেরাও। ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট করাতে কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে তাঁরা জানান। ভোটারদের আশ্বাস দিয়ে জানানো হয়েছে, জেলায় জেলায় এখনও পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কেমন বন্দোবস্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলায় কত কেন্দ্রীয়বাহিনী রয়েছে। তারা কী ভাবে কাজ করবে। এ ছাড়াও জানানো হয়েছে, বিধানসভা প্রতি কতগুলি বুথ রয়েছে। সেখানে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, ছাপ্পা, বুথ জ্যামিং এবং হুমকির মতো ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করা হবে। সাংবাদিক বৈঠকে ডিইও-রাও ওই সব বিষয়ে জানান। ভোটের দিন যাতে লোডশেডিং না-হয় তা নিশ্চিত করতে বিদুৎ সরবরাহকারী সংস্থাগুলিও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান ডিইও-রা। এ ছাড়া জানানো হয়েছে, বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে পুলিশ এবং বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা কতটা সক্রিয় ভাবে কাজ করেছে। এখনও পর্যন্ত কাদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং কত টাকার বেআইনি সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এ ছাড়াও জানানো হয়, ভোটের দিন ভয়, হুমকির মতো যে কোনও ঘটনায় ভোটারেরা ১৯৫০ টোল ফ্রি নম্বরে ফোন করতে পারবেন। টাওয়ার লোকেশন ধরে সংশ্লিষ্ট বিধানসভার কল সেন্টারে ফোন চলে যাবে। আরও জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যে বিবেচনাধীন তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটাররা ট্রাইবুনালে আপিল করছেন। অনলাইন এবং অফলাইনে দু’ভাবেই আবেদন করা যাচ্ছে। অফলাইনে জেলাশাসকের দফতরে আপিল জমা পড়ছে। এখনও পর্যন্ত কত আপিল জমা পড়েছে অনেক জেলা থেকে সেই তথ্যও জানানো হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক জানিয়েছেন, কমিশন নির্দেশিত আটটি বিষয় নিয়েই এই নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ভোটারেরা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন। আইনশৃঙ্খলার কোনও অবনতি না ঘটে। কেউ যে কাউকে প্রভাবিত করতে না পারেন। বুথ জ্যামিংয়ের মতো ঘটনা যাতে না ঘটে সেটা নজরে রাখা হবে। বাঁকুড়ার জেলাশাসক সাংবাদিক বৈঠক করে জানান, বাঁকুড়ায় সোমবার পাঁচ কোম্পানী কেন্দ্রীয় বাহিনী এসেছে। মোট ২৪ কোম্পানী কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। প্রত্যেক বিধানসভায় নাকা তল্লাশি চলছে। সেখানে সিএপিএফও থাকছে। তিনি জানিয়েছেন যে বিষয়গুলি তাঁদের নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে, সেগুলি হল— ভয়মুক্ত ভোট। হিংসামুক্ত ভোট। কেউ যেন প্রভাবিত করতে না পারে, কোনও প্রলোভন যেন কেউ না দেন, সেটা সুনিশ্চিত করতে হবে। ছাপ্পা ভোটিং যেন না হয়। বুথ জ্যামিং না হয়। কোনও সোর্স জ্যামিং না হয়। ভোটের কাজে যুক্ত সরকারি কর্মীরা যেন ভোটের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত না করেন। যদি করেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরুলিয়ার জেলাশাসক সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন, জেলায় ৩০ কোম্পানী কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। প্রত্যেক বুথে পাঁচ থেকে ছয় বার পরিদর্শন করা হয়েছে। বুথের যাবতীয় তথ্যও সময়ে সময়ে রিপোর্ট দিচ্ছে তারা। তিনিও কমিশনের আটটি পয়েন্টের কথা সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন। বাকি জেলাশাসকেরাও কমিশনের আট পয়েন্টের কথা সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছেন। জেলায় কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে তা-ও উল্লেখ করেছেন।

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন। ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পরই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। আর সোমবার কলকাতা উত্তরের ডিইও, কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর কর্তা সাংবাদিক বৈঠকেও সেই কথাই বললেন। জানিয়ে দিলেন, কলকাতা উত্তরে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে নানা পদক্ষেপ করা হচ্ছে। কলকাতা উত্তরে কতগুলি অতি স্পর্শকাতর বুথ রয়েছে, তারও এদিন হিসেব দিলেন তাঁরা। কলকাতা উত্তরের ডিইও জানান, জোড়াসাঁকোর ৭৩ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৪টি অতি স্পর্শকাতর। চৌরঙ্গিতে ২২২ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬০টি অতি স্পর্শকাতর। শ্যামপুকুরে ২৬৪ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৮০টি অতি স্পর্শকাতর। এন্টালিতে ৯৩ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৭টি অতি স্পর্শকাতর। কাশীপুর -বেলগাছিয়ার ১৪৫ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৮টি অতি স্পর্শকাতর। বেলেঘাটার ১১৭ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩২টি অতি স্পর্শকাতর। আর মানিকতলার ৪০ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৩টি অতি স্পর্শকাতর। কলকাতা উত্তরের ডিইও স্মিতা পান্ডে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ। কেন্দ্রীয় বাহিনীর শীর্ষ আধিকারিক মনোজ কুমার। তাঁরা জানান, কলকাতা উত্তরের ৪৮ শতাংশ বুথ অতি স্পর্শকাতর। কলকাতা উত্তরে মোট সাতটি বিধানসভা রয়েছে। জোড়াসাঁকো, চৌরঙ্গি, শ্যামপুকুর, এন্টালি, কাশীপুর – বেলগাছিয়া, বেলেঘাটা এবং মানিকতলা। সাতটি বিধানসভায় মোট বুথ ১৮৩৫টি। মোট ভোটকেন্দ্র ৫৮৩টি। অতি স্পর্শকাতর বুথ রয়েছে ৮৩৭টি। অতি স্পর্শকাতর ভোট কেন্দ্র রয়েছে ২৬৪টি। সাতটি বিধানসভায় মোট ভোটার ১০ লক্ষ ৭১ হাজার ৮১০। কলকাতা উত্তরের ডিইও জানান, জোড়াসাঁকোর ৭৩ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৪টি অতি স্পর্শকাতর। চৌরঙ্গিতে ২২২ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬০টি অতি স্পর্শকাতর। শ্যামপুকুরে ২৬৪ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৮০টি অতি স্পর্শকাতর। এন্টালিতে ৯৩ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৭টি অতি স্পর্শকাতর। কাশীপুর -বেলগাছিয়ার ১৪৫ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৮টি অতি স্পর্শকাতর। বেলেঘাটার ১১৭ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩২টি অতি স্পর্শকাতর। আর মানিকতলার ৪০ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৩টি অতি স্পর্শকাতর। কলকাতা উত্তরে মোট কেন্দ্রীয় বাহিনী বর্তমানে রয়েছে ৪০ কোম্পানি। গোটা কলকাতায় কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে ৯৭ কোম্পানি। কলকাতা উত্তর থেকে ট্রাইব্যুনালে এখনও পর্যন্ত আবেদন জমা পড়েছে ১৪২৮টি। ডিইও স্মিতা পান্ডে জানিয়েছেন, নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মূল কমান্ড সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। যেখান থেকে ওয়েব কাস্টিংয়ের মাধ্যমে বুথগুলোতে নজরদারি করা হবে। এতদিন বেলেঘাটা বিধানসভার অন্তর্গত এলাকাতেও একটি আবাসনে ভোটকেন্দ্র ছিল। যেখানে বিগত নির্বাচনগুলিতেও ভোট হয়েছে। নতুন করে আরও তিনটি আবাসন যুক্ত হল। যেখানে ভোটকেন্দ্র তৈরি করা হবে। মোট চারটি আবাসনে ভোটকেন্দ্র থাকছে কলকাতা উত্তরে। এবার আরও তিনটি ভোটকেন্দ্র তৈরি হচ্ছে বেলেঘাটার একটি আবাসনে এবং এন্টালির দুটি আবাসনে। এদিন, কলকাতা উত্তরের ডিইও, কলকাতার পুলিশ কমিশনার ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কর্তা ভোটারদের আশ্বাস দেন, অবাধ নির্বাচনের জন্য সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles